অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন? ৮ কারণ ও সমাধান

অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন? হঠাৎ পরিষ্কার পানি দুধের মতো সাদা হয়ে গেলে দুশ্চিন্তা হওয়াই স্বাভাবিক। অনেক সময় ছোট একটি ভুলেই পানির স্বচ্ছতা নষ্ট হয়, আর মাছগুলোও অস্বস্তিতে পড়ে। কেন পানি ঘোলা হচ্ছে, কারণ বুঝলেই ঘোলা পানির সমাধান সহজ।
অ্যাকুরিয়ামের-পানি-ঘোলা-হলে-কি-করবেন
কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন, পানি পরিষ্কার রাখতে কী করবেন, জানুন সহজ ভাষায়। ঘরোয়া যত্ন থেকে নিয়মিত পানি বদলানো-সব দরকারি টিপস একসঙ্গে পাবেন এই গাইডে। মাছের ছোট্ট ঘরটাকে আবার ঝকঝকে করতে আজই জেনে নিন সহজ সমাধানগুলো।

পোস্ট সূচিপত্রঃ অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন

অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন? ৮ কারণ ও সমাধান

আপনার অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন? এটা যে শুধুমাত্র দেখতে খারাপ লাগে তাই নয়, এর পেছনে লুকিয়ে থাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ যা আপনার মাছের স্বাস্থ্য নিয়ে সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এই সমস্যাটা আসলে অনেক নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম প্রেমীদের সাথেই ঘটে, এবং চিন্তা করবেন না-এটা সমাধান করা কঠিন কিছু নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৮টি কারণ এবং কীভাবে আপনি সেগুলো মোকাবেলা করতে পারেন। পানির ফিল্টার সিস্টেম যখন ঠিকমতো কাজ করে না, তখনই সবচেয়ে প্রথমে সমস্যাটা দেখা যায়। আপনার ফিল্টারে ময়লা বা ডেব্রিস জমা হয়ে যাওয়ার কারণে এটা ব্লক হয়ে যেতে পারে। এখানে করার কাজ খুবই সহজ-আপনাকে শুধুমাত্র ফিল্টারটা পরিষ্কার করে দিতে হবে অথবা মিডিয়াটা বদলে দিতে হবে। নিয়মিত চেক করলে এই সমস্যাটা আর কখনো আসবে না।

অ্যাকুয়ারিয়ামে যখন বায়োলজিক্যাল লোডিং বেড়ে যায়, তখন ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য দেখা দেয়। এটা সাধারণত তখনই ঘটে যখন আপনি অনেক বেশি খাবার দিয়ে দিচ্ছেন বা পানি পরিবর্তন নিয়মিত করছেন না। মাছদের জন্য যা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি খাবার তাদের বর্জ্য বৃদ্ধি করে। সমাধানটা হলো আপনার খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া এবং প্রতি সপ্তাহে ২০-৩০ শতাংশ পানি পরিবর্তন করা। নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম সাজানোর সময় আপনি যদি ধৈর্য না রাখেন, তাহলে সাইকেলিং প্রক্রিয়া ঠিকমতো সম্পন্ন না হওয়ার কারণেও পানি ঘোলা হতে পারে। নাইট্রোজেন সাইকেল সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাকটেরিয়া ফুটে বেরোয় এবং পানিকে মেঘলা করে দেয়। এই পর্যায়ে ধৈর্য রাখুন এবং মাছ না রেখে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করুন, অথবা কিছু বেনিফিশিয়াল ব্যাকটেরিয়া স্টার্টার যোগ করে দিন।
অ্যাকুরিয়ামের-পানি-ঘোলা-হলে-কি-করবেন
অ্যাকুয়ারিয়ামের মাটিতে বা সাজসজ্জায় জমা হওয়া অতিরিক্ত খাবার এবং মাছের বর্জ্য ক্রমাগত পানিকে দূষিত করে চলে। এই জমানো ধ্বংসাবশেষগুলো শুধুমাত্র পানিই ঘোলা করে না, বরং অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইট বাড়িয়ে দেয়। আপনি একটি সাইফন ব্যবহার করে নিয়মিত নিচের মাটি পরিষ্কার করে দিন এবং এমন খাবার পরিমাণ রাখুন যা মাছরা পাঁচ মিনিটে শেষ করতে পারে। অ্যালগি ব্লুম তৈরি হয় যখন আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামে অতিরিক্ত আলো এবং পুষ্টি থাকে। এটা আসলে সাধারণ শৈবাল যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পানিকে সবুজ বা বাদামি করে তুলে দেয়। দিনে ৮-১০ ঘণ্টার বেশি আলো দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ লাগান যা অতিরিক্ত পুষ্টি শোষণ করবে।

হোয়াইট ক্লাউড ডিজিজ আসলে ফাঙ্গাল বা প্যারাসাইট সংক্রমণের কারণে হয়। এটা খুব বিরল নয়, তবে পানি ঘোলা করে এবং মাছদের অসুস্থ করে দেয়। এই সমস্যায় আপনাকে অ্যাকুয়ারিয়াম ওষুধ ব্যবহার করতে হতে পারে এবং সম্ভব হলে সংক্রমিত মাছটি আলাদা করে দিতে হবে। নিয়মিত পানি পরিবর্তন এবং পরিচ্ছন্নতা এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। ক্যেমিক্যাল ইম্ব্যালেন্স যেমন pH, GH, বা KH এর সমস্যা থেকেও পানি ঘোলা হতে পারে। এই অবস্থায় ক্যালসিয়াম বা অন্যান্য মিনারেল জমা হয়ে মেঘলা পানি তৈরি করে। আপনাকে একটি জল পরীক্ষার কিট দিয়ে নিয়মিত এই প্যারামিটারগুলো চেক করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করতে হবে। কন্ডিশনার বা রিমিনারালাইজার ব্যবহার করে পানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনুন।

অ্যাকুরিয়ামের পানি হঠাৎ ঘোলা হওয়ার কারণ কী

অ্যাকুয়ারিয়ামের পানি হঠাৎ ঘোলা হওয়ার কারণ কী এটা বুঝতে গেলে আপনাকে দেখতে হবে আপনি সম্প্রতি কী কী করেছেন। হঠাৎ করে পানি ঘোলা হওয়া মানে এর পেছনে কোনো না কোনো তাৎক্ষণিক কারণ আছে যা আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামের পরিবেশকে নাড়া দিয়ে দিয়েছে। যদি আপনি গত দুই-তিন দিনে নতুন মাছ যোগ করেছেন, তাহলে ব্যাকটেরিয়া স্পাইক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম তখনো এত বেশি ব্যাকটেরিয়া হ্যান্ডল করতে প্রস্তুত নয়, তাই পরিমাপ ছাড়াই খাবার দেওয়া বা বড় পানি পরিবর্তনও এই সমস্যা তৈরি করতে পারে।
অনেক সময় দেখা যায় আপনার ফিল্টার হঠাৎ করে খারাপ হয়ে গেছে অথবা পাওয়ার চলে গেছে-এতেও অবিলম্বে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় এবং পানি ঘোলা হয়ে যায়। কখনো কখনো নতুন সাজসজ্জা বা অলংকার যোগ করা বা পাথর পরিবর্তন করাও পানিকে মিনারেল দিয়ে পূর্ণ করে দেয়, যা পানিকে দুধের মতো সাদা করে তুলে দেয়। সোজা কথায় বলতে গেলে, আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামে যা কিছু পরিবর্তন হয়েছে সেটাই সম্ভবত পানি ঘোলার কারণ, এবং সেটা খুঁজে বের করা পর্যন্ত আপনি সঠিক সমাধানে পৌঁছাতে পারবেন না।

নতুন অ্যাকুরিয়ামে পানি ঘোলা হয় কেন

নতুন অ্যাকুয়ারিয়ামে পানি ঘোলা হয় কেন এটা আসলে একটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটাকে আপনি "নিউ ট্যাঙ্ক সিন্ড্রোম" নামেও চিনতে পারবেন। যখন আপনি একটি নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম সাজাবেন, তখন আপনার পানিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া অনুপস্থিত থাকে যা মাছের বর্জ্য এবং বিষাক্ত উপাদান পরিষ্কার করার দায়িত্ব নেয়। আপনি যখন মাছ ছেড়ে দেন বা খাবার দিতে শুরু করেন, তখন অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইট দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। এই বৃদ্ধির ফলে পানিতে বিভিন্ন ধরনের অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে শুরু করে এবং এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর উপস্থিতি পানিকে ঘোলা, দুধের মতো বা হালকা সবুজাভ রঙের করে তোলে। এই প্রক্রিয়াটা কত দিন চলবে তা নির্ভর করে আপনি কীভাবে আপনার ট্যাঙ্ককে সামলাচ্ছেন তার উপর-সাধারণত তিন থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। 

আপনি যদি ধৈর্যসহকারে অপেক্ষা করেন এবং নিয়মিত পানি পরিবর্তন করেন, তাহলে এই ব্যাকটেরিয়া কলোনিগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং সিস্টেমটা স্থিতিশীল হয়ে যাবে। এই সময়ে আপনার করার কাজ হলো খাবার খুব বেশি না দেওয়া, প্রতি সপ্তাহে নিয়মমাফিক পানি পরিবর্তন করা এবং অবশ্যই মাছগুলোকে যথাসম্ভব কম চাপে রাখা। কিছু মানুষ বেনিফিশিয়াল ব্যাকটেরিয়া স্টার্টার ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়াটা দ্রুততর করার চেষ্টা করেন, আর এটা সত্যিই কাজ করে অনেক সময়। যাই হোক না কেন, মনে রাখবেন এটা একটি ক্ষণস্থায়ী সমস্যা এবং প্রতিটি নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম মালিকদেরই এই পর্যায়টা পেরিয়ে যেতে হয়।

অতিরিক্ত খাবার দিলে পানি কেন নোংরা হয়

আপনি যখন আপনার মাছদের অতিরিক্ত খাবার দিয়ে দেন, তখন যা ঘটে সেটা খুবই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুতর। আপনার মাছ যা খাবার খেতে পারে না, সেটা পানিতে ডুবে থেকে পচতে শুরু করে এবং ব্যাকটেরিয়াল ফেস্টিভাল শুরু হয়ে যায়। এই পচনশীল খাবার শুধু পানিকে ঘোলা করে না, বরং বিষাক্ত অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইট তৈরি করে যা আপনার মাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আপনার মাছ যত বেশি খায়, তত বেশি বর্জ্য তারা তৈরি করে, এবং আপনার ফিল্টার যদি সেই বর্জ্য সামলাতে না পারে তাহলে অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন সেটা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।
অ্যাকুরিয়ামের-পানি-ঘোলা-হলে-কি-করবেন
আসল কথা হলো, আপনার মাছগুলো যা পাঁচ মিনিটে খেতে পারে শুধু সেটাই খাবার দেওয়া উচিত। অনেক নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম প্রেমী মনে করেন বেশি খাবার মানে বেশি সুখী মাছ, কিন্তু বাস্তবে এটা ঠিক উল্টোটাই সত্য। আপনি যখন খাবার কমিয়ে দেবেন এবং নিয়মিত পানি পরিবর্তন করবেন, তখনই আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম সুস্থ এবং পরিষ্কার থাকবে।

অ্যাকুরিয়ামে অতিরিক্ত মাছ থাকলে কী সমস্যা হয়

যখন আপনি আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামে অতিরিক্ত মাছ ঠেসে দিয়ে দেন, তখন আপনার সিস্টেমটা চাপের মধ্যে পড়ে যায়। প্রতিটি মাছ মানে প্রতিদিন আরও বেশি বর্জ্য, আরও বেশি অক্সিজেনের চাহিদা, এবং আপনার ফিল্টারের জন্য আরও বেশি কাজ। আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম যত বেশি ভিড়ের মধ্যে থাকে, অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন সেটা তত বড় সমস্যা হয়ে উঠে কারণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা অনেক সহজ হয়। আপনার মাছগুলো একে অপরের উপর চাপ অনুভব করতে থাকে, তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, এবং এই স্ট্রেসের কারণে তারা অসুখী হয়ে পড়ে। অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়, পানি খুব দ্রুত দূষিত হয়ে যায়, এবং আপনার ব্যাকটেরিয়া ফিল্টার সবকিছু সামলাতে পারে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যত কম মাছ, তত বেশি নিরাপদ এবং সুখী অ্যাকুয়ারিয়াম-এটাই আসল নিয়ম।

ফিল্টার ঠিকমতো কাজ না করলে পানির কী হয়

ফিল্টার ঠিকমতো কাজ না করলে পানির কী হয় এটা বুঝতে গেলে আপনাকে জানতে হবে ফিল্টার আসলে কী করে। আপনার ফিল্টার হলো অ্যাকুয়ারিয়ামের ফুসফুস-এটি মাছের বর্জ্য, খাবারের ধ্বংসাবশেষ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থগুলো বের করে দেয়। যখন ফিল্টার খারাপ হয়ে যায়, তখন এই সব কিছু পানিতেই থাকে এবং সেখানেই পচতে থাকে। আপনার পানি দ্রুত গতিতে ঘোলা হয়ে যায়, বাদামি বা সবুজ রঙ ধারণ করতে পারে, এবং সেটা শুধু নান্দনিকভাবে খারাপ নয়। অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রাইটের মাত্রা আকাশ ছোঁয়ায় পৌঁছে যায়, যা আপনার মাছের জন্য সরাসরি বিষ।
আপনার মাছগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই অসুস্থ হতে শুরু করবে, তারা শ্বাস নিতে পারবে না, এবং অবস্থা ভয়াবহ হতে পারে। এই কারণেই আপনাকে নিয়মিত ফিল্টার পরীক্ষা করতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে যে সেটা সাউন্ড করছে, এবং মিডিয়াটা পরিষ্কার এবং সক্ষম রয়েছে। ফিল্টার একবার বন্ধ হলে গুরুতর ক্ষতি হতে খুব বেশি সময় লাগে না, তাই এটা আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পানি বদলানোর ভুলে অ্যাকুরিয়াম ঘোলা হতে পারে

পানি বদলানোর ব্যাপারে অনেক মানুষ ভুল ধারণা রাখেন-কেউ মনে করেন বেশি বদলাবেন, কেউ মনে করেন কম বদলাবেন। আপনি যদি পানি বদলানো নিয়মিত না করেন, তাহলে আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামে টক্সিন জমা হতে থাকে এবং পানিটা ধীরে ধীরে দূষিত হয়। অন্যদিকে, আপনি যদি একবারে অনেক বেশি পানি বদলে ফেলেন, তাহলে আপনার উপকারী ব্যাকটেরিয়া হারিয়ে যায় এবং পানির রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যখন এই ধরনের ভুল হয়, অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন এটা আরও বড় সমস্যা হয়ে উঠে কারণ আপনার সিস্টেম আগে থেকেই দুর্বল। আসল কথা হলো, আপনাকে প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পানি বদল করতে হবে-না বেশি, না কম। এটাই সেই মধ্যপথ যা আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামকে সুস্থ এবং স্থিতিশীল রাখে।

অ্যাকুরিয়ামের পানি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাখার সহজ উপায়

অ্যাকুয়ারিয়ামের পানি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাখার সহজ উপায়গুলো আসলে খুবই বেসিক, শুধু আপনাকে সেগুলো নিয়মিত করতে হবে। প্রথমত, আপনার ফিল্টারটা হাতে-কলমে পরীক্ষা করুন এবং নিশ্চিত করুন যে এটা সঠিকভাবে চলছে-এটাই হলো সবকিছুর ভিত্তি। আপনার ফিল্টার মিডিয়া মাসে একবার ট্যাঙ্কের পানিতে ধুয়ে নিন, কারণ এটা ধুলা এবং ডেব্রিসে ভরে যায়। দ্বিতীয়ত, প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পানি বদল করুন-এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি এবং আপনি এটা এড়িয়ে যেতে পারবেন না। তৃতীয়ত, আপনার ট্যাঙ্কের নিচে জমা হওয়া খাবার এবং বর্জ্য একটি সিফন বা গ্রাভেল ভ্যাকুয়াম দিয়ে নিয়মিত বের করে দিন। চতুর্থত, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন-শুধুমাত্র যা আপনার মাছ পাঁচ মিনিটে খেতে পারে সেটাই দিন।
অ্যাকুরিয়ামের-পানি-ঘোলা-হলে-কি-করবেন
পঞ্চমত, আপনার ট্যাঙ্কে কোনো মরা পাতা বা ক্ষতিগ্রস্ত খাবার রেখে দেবেন না, সেগুলো তাৎক্ষণিক বের করে দিন। ষষ্ঠত, আপনার অ্যাকুয়ারিয়ামের আলোর সময় সীমিত রাখুন-দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা যথেষ্ট, কারণ বেশি আলো শৈবাল ফুটতে উৎসাহ দেয়। সপ্তমত, আপনার পানির প্যারামিটারগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে সমন্বয় করুন। এই সব কিছুই করলে আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম সবসময় স্ফটিক স্বচ্ছ এবং সুস্থ থাকবে-কোনো জটিলতা নেই, শুধু ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

ঘোলা পানি পরিষ্কার হতে কত সময় লাগে

অ্যাকুরিয়ামের পানি ঘোলা হলে কি করবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করার সময় একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। সত্যি বলতে গেলে, সময়টা নির্ভর করে আপনার ঘোলা পানির কারণের উপর এবং আপনি কী করছেন তার উপর। আপনি যদি কোনো পদক্ষেপ না নেন শুধু অপেক্ষা করেন, তাহলে নতুন ট্যাঙ্কের ব্যাকটেরিয়া ব্লুম ৩ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন-নিয়মিত পানি বদল করেন, ফিল্টার পরিষ্কার করেন এবং খাবার কমিয়ে দেন-তাহলে আপনি ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই পরিষ্কার পানি দেখতে পাবেন।
ফিল্টার সমস্যার কারণে ঘোলা হলে সেটা আরও দ্রুত সমাধান হয়-ফিল্টার পরিষ্কার করলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়। আলগা শৈবাল বা ক্যেমিক্যাল ইম্ব্যালেন্সের কারণে হলে সেটা ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। সোজা কথায় বলতে গেলে, আপনি যত দ্রুত সমস্যাটা চিহ্নিত করবেন এবং যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন, আপনার পানি তত দ্রুত পরিষ্কার হবে।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

আপনার অ্যাকুয়ারিয়াম রক্ষা করা আসলে কোনো বিজ্ঞান নয়, এটা একটি শিল্প এবং আমি বলব দায়িত্বশীলতা। আমরা যখন এই ছোট্ট জলের জগতে মাছ ছেড়ে দিই, তখন আমরা তাদের যাবতীয় চাহিদার দায়িত্ব নিয়ে নিই। ঘোলা পানি মানে আমাদের অ্যাকুয়ারিয়াম কিছু বলতে চাইছে, এবং আমাদের কাজ হলো সেই বার্তা শোনা এবং সাড়া দেওয়া। নিয়মিত ফিল্টার চেক করুন, প্রতি সপ্তাহে পানি বদল করুন, খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখুন-এই তিনটা জিনিস করলে আপনার ৯০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। আপনার মাছগুলো আপনার উপর নির্ভর করে, তাই একটু যত্ন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের একটি সুস্থ বাসস্থান দিন। সবকিছু পরিকল্পনা ছাড়াই সংগঠিত হয় না, এবং এটাও তার ব্যতিক্রম নয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।