১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬

১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ খুঁজলে কোনগুলো সত্যিই ভ্যালু দিচ্ছে, কোনগুলো শুধু নামেই হাইপ সব পরিষ্কার বুঝতে পারবেন। বাজেট কম, কিন্তু ভালো ফোন চান? ভুল মডেল নিলে পারফরম্যান্স, ব্যাটারি আর ক্যামেরা সব দিকেই হতাশা পেতে পারেন।

১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন১২ হাজার টাকার বাজেটে কিছু ফোন আছে যেগুলো দৈনন্দিন কাজ, গেমিং, ছবি তোলা সবকিছুতেই মোটামুটি সন্তুষ্টি দেয়। আসলে এই রেঞ্জে এখন ৫জি, বড় ব্যাটারি আর স্মুথ ডিসপ্লে সবই পাওয়া যাচ্ছে, শুধু সঠিকটা বেছে নিতে হবে। চলুন শুরু করা যাক।

পোস্ট সূচিপত্র ঃ ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬

১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ এ কোন মডেলগুলো সেরা?

১২ হাজার টাকাই ২০২৬ সালে কোন মডেলগুলো সেরা? সত্যি বলতে এই বাজেটে এখন আর শুধু নামমাত্র ফোন পাওয়া যায় না, বরং কয়েকটা মডেল এমনভাবে বেরিয়েছে যেগুলো দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে লাইট গেমিং বা ভিডিও দেখা সবকিছুতেই মোটামুটি সন্তুষ্টি দেয়। আমি নিজে বাজার ঘুরে আর অনলাইন রিভিউ দেখে যেটা বুঝলাম তা হলো Samsung Galaxy M05, Realme C63, Infinix Smart 9 আর Poco C65 5G এই চারটা এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। 

এদের মধ্যে Samsung এরটা যারা লং টার্ম সফটওয়্যার সাপোর্ট চান তাদের জন্য আদর্শ, আর Realme আর Poco তে পারফরম্যান্স আর স্পিড একটু বেশি। Infinix টা আবার ডিজাইন আর ব্যাটারিতে এগিয়ে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে তোমার কী কী কাজে বেশি ফোন ব্যবহার করো তার ওপর। যদি তুমি একজন সাধারণ ইউজার হও যে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ আর মাঝে মাঝে ছবি তুলে তাহলে Realme C63 বা Samsung Galaxy M05 নিয়ে কোনো দ্বিধা করার দরকার নেই। 

এই দুটোতেই ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে যা দিনের আলোয় বেশ শার্প ছবি দেয়, আর ব্যাটারি ৫০০০ মিলিএমপিএইচের ওপরে থাকায় একদিন সহজেই চলে যায়। আমার এক বন্ধু Samsung M05 নিয়ে বলছিল যে সফটওয়্যার আপডেট পাওয়া যায় লম্বা সময়, তাই ফোনটা দুই-তিন বছর পরেও পুরনো লাগে না। কিন্তু যদি একটু গেম খেলো বা মাল্টিটাস্কিং করো তাহলে Poco C65 এর প্রসেসরটা একটু বেশি স্মুথ ফিল দেয়, যদিও গরমের দিনে একটু গরম হয়ে যায় মাঝে মাঝে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ডিসপ্লে আর চার্জিং।
১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন
এই রেঞ্জের ফোনগুলোতে এখন ৯০ হার্জের ওপরের রিফ্রেশ রেট প্রায় সবগুলোতেই পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে স্ক্রল করা বা ভিডিও দেখা একদম ফ্লুইড লাগে। Infinix Smart 9 এর কথা বললে এটার ডিজাইনটা দেখতে একদম প্রিমিয়াম, হাতে ধরে ভালো লাগে আর চার্জিংও তুলনামূলক দ্রুত। তবে যারা খুব বেশি আউটডোরে থাকেন বা রোদে ছবি তুলতে চান তাদের জন্য Realme এর মডেলগুলোর ব্রাইটনেসটা একটু ভালো কাজ করে। 

এখানে একটা ছোট নুয়ান্স আছে Samsung এর ফোনগুলোতে ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স একটু বেশি, তাই বৃষ্টির দিনে বা হাত ধোয়ার সময় একটু নিরাপদ বোধ হয়। ১২ হাজার টাকার মধ্যে এই মডেলগুলো বেছে নেওয়ার সময় শুধু স্পেক দেখে নয়, নিজের আসল ইউজেজটা বুঝে নাও। 

যদি তুমি স্টুডেন্ট হয়ে থাকো আর বাজেট টাইট তাহলে Samsung বা Realme এর দিকে ঝোঁকো কারণ সার্ভিস সেন্টার সব জায়গায় আছে। আর যদি স্টাইল আর স্পিড চাও তাহলে Infinix বা Poco। আমি দেখেছি অনেকে তাড়াহুড়ো করে কিনে পরে আফসোস করে, তাই দোকানে গিয়ে হাতে নিয়ে দেখে নাও, রিভিউ পড়ো আর তারপর ডিসিশন নাও। এভাবে করলে ঠকার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

এই বাজেটে ডিসপ্লে আর স্মুথনেস কেমন পাবেন?

এই বাজেটে ডিসপ্লে আর স্মুথনেস কেমন পাবেন? ভাই, সত্যি বলতে ১২ হাজার টাকার মধ্যে এখনকার ফোনগুলোতে ডিসপ্লের কোয়ালিটি আগের তুলনায় অনেকটা উন্নত হয়েছে। বেশিরভাগ মডেলেই ৬.৫ থেকে ৬.৭ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন পাবেন, আর রিফ্রেশ রেট ৯০ হার্জ থেকে শুরু করে ১২০ হার্জ পর্যন্ত চলে যায়। এর মানে হলো স্ক্রল করতে গেলে বা অ্যাপ সুইচ করতে গেলে একদম ফ্লুইড লাগবে, চোখে কোনো ঝাঁকুনি অনুভব করবেন না। তবে রেজোলিউশনটা সাধারণত HD+ বা ফুল এইচডি প্লাস হয়, তাই যদি তুমি খুব বেশি শার্প ছবি বা টেক্সট চাও তাহলে একটু কম্প্রোমাইজ করতে হবে। 

আমার এক বন্ধু Realme এর একটা মডেল নিয়ে বলছিল যে দৈনন্দিন ইউজে এতটাই স্মুথ যে পুরনো ফোনের সাথে তুলনা করলে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আর স্মুথনেসের কথা যদি বলি তাহলে এই বাজেটে এখন গেম খেলা বা ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই হয়। ৯০ হার্জের ওপরের রিফ্রেশ রেট থাকায় টিকটক বা ইউটিউব স্ক্রল করতে গেলে হাতের আঙুল যেন স্লাইড করে চলে যায়, কোনো ল্যাগ ফিল হয় না।
তবে হ্যাঁ, যদি তুমি হেভি গেমিং করো যেমন BGMI বা Free Fire তাহলে প্রসেসরের সাথে ডিসপ্লের সমন্বয়টা দেখে নিতে হবে। কিছু ফোনে গেমিং মোড থাকে যেটা স্মুথনেস আরো বাড়িয়ে দেয়। আমি নিজে কয়েকটা ফোন হাতে নিয়ে দেখেছি যে Infinix বা Poco এর মডেলগুলোতে স্ক্রিনের টাচ রেসপন্সটা বেশ দ্রুত, যার কারণে টাইপ করা বা সোয়াইপ করা একদম আরামদায়ক লাগে। কিন্তু গরমের দিনে যদি ফোনটা বেশি গরম হয় তাহলে স্মুথনেস একটু কমে যেতে পারে, এটা একটা ছোটখাটো নুয়ান্স। 

ডিসপ্লের ব্রাইটনেস আর কালার কোয়ালিটি নিয়েও বলতে গেলে এই রেঞ্জে বেশিরভাগ ফোনেই ৪৫০ থেকে ৬০০ নিটস পর্যন্ত ব্রাইটনেস পাওয়া যায়। রোদের আলোয় বাইরে ব্যবহার করলে অসুবিধা হয় না, কিন্তু সরাসরি সূর্যের নিচে একটু কষ্ট হতে পারে। রঙের অ্যাকুরেসি বেশ ভালো, বিশেষ করে Samsung বা Realme এর ফোনে। তুমি যদি ছবি এডিট করো বা সিনেমা দেখো তাহলে এই ডিসপ্লে তোমাকে হতাশ করবে না। 

তবে কিছু সস্তা মডেলে কালারটা একটু ওভার স্যাচুরেটেড লাগতে পারে, যেটা কারো কারো পছন্দ হয় আবার কারো না-ও হয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি তুমি বেশি সময় ভিডিও কনটেন্ট দেখো তাহলে ১২০ হার্জের অপশনটা বেছে নাও, চোখের আরাম অনেক বেশি হবে। এই বাজেটে ডিসপ্লে আর স্মুথনেসের মধ্যে বেশ ভালো ব্যালেন্স পাবে ঠিকই, কিন্তু সব ফোন একরকম নয়। কোনোটাতে স্ক্রিনটা বেশি ব্রাইট কিন্তু টাচ একটু লেগি, আবার কোনোটাতে স্মুথনেস দারুণ কিন্তু রঙটা একটু ফ্যাকাশে। 

তাই কেনার আগে দোকানে গিয়ে নিজে হাতে নিয়ে দেখে নাও, কয়েকটা অ্যাপ খুলে স্ক্রল করো আর ভিডিও চালিয়ে দেখো। আমি দেখেছি যে যারা এভাবে চেক করে কেনে তারা পরে খুব কম অভিযোগ করে। যদি তোমার ইউজেজ বেশি আউটডোর হয় তাহলে ব্রাইটনেসের দিকে নজর দাও, আর যদি ঘরে বেশি ব্যবহার করো তাহলে স্মুথনেস আর কালারের দিকে। এভাবে বুঝে নিলে এই বাজেটেই একটা দারুণ ডিসপ্লে পেয়ে যাবে যেটা লং টার্মে তোমাকে সন্তুষ্ট রাখবে।

ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং স্পিড নিয়ে আলোচনা

ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং স্পিড নিয়ে আলোচনা করলে প্রথমেই বলতে হয় যে ১২ হাজার টাকার এই বাজেটে এখনকার ফোনগুলোতে ব্যাটারির পারফরম্যান্স সত্যি একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। সাধারণত ৫০০০ মিলিএমপিএইচের ব্যাটারি এখন স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে, যার কারণে সকালে ফুল চার্জ করে বের হলে সারাদিন অফিস, কলেজ, ফেসবুক স্ক্রল আর ইউটিউব দেখা সব মিলিয়ে সহজেই চলে যায়। আমার এক বন্ধু যে রোজ মেট্রোতে যাতায়াত করে সে বলছিল যে তার Infinix মডেলটা হেভি ইউজেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০-৪০ শতাংশ ব্যাকআপ রেখে দেয়। 

তবে হ্যাঁ, যদি তুমি লাইট গেম খেলো বা একসাথে অনেক অ্যাপ চালাও তাহলে খরচটা একটু বেশি হয়, কিন্তু সেটা এই দামের ফোনের জন্য খুবই স্বাভাবিক। আসলে ব্যাটারি অপটিমাইজেশনটা কোম্পানিগুলো এখন ভালোই করছে, তাই পুরনো ফোনের তুলনায় অনেকটা আরাম পাবে। ১২ হাজার টাকার মধ্যে এই মডেলগুলো সেরা? চার্জিং স্পিডের দিক দিয়ে দেখলে এই রেঞ্জে এখন ১৮ ওয়াট থেকে শুরু করে ৩৩ বা এমনকি ৪৫ ওয়াট পর্যন্ত চার্জার পাওয়া যাচ্ছে, যা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত।
১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন
যেমন Realme বা Poco এর কিছু মডেলে ৩০ ওয়াট চার্জার দিয়ে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ হয়ে যায়, যেটা অফিস ব্রেকে বা বাসায় ফিরে দ্রুত চার্জ করার জন্য খুব সুবিধা দেয়। আমি নিজে দেখেছি যে Samsung এর মডেলগুলোতে চার্জিং একটু ধীর কিন্তু সেফ, কোনো অতিরিক্ত গরম হয় না। তবে যারা ব্যস্ত জীবন কাটান তাদের জন্য ফাস্ট চার্জিং অপশনটা বেছে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ সকালে চার্জ কম থাকলেও অল্প সময়ে আবার রেডি হয়ে যায়। 

এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই দৈনন্দিন ইউজে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। আরেকটা ব্যাপার হলো লং টার্ম ব্যাটারি হেলথ নিয়ে। এই বাজেটের ফোনগুলোতে এখন স্মার্ট চার্জিং ফিচার থাকে যেটা অটোমেটিক্যালি চার্জিং স্পিড কমিয়ে দেয় যাতে ব্যাটারি ফুল চার্জ হয়ে গেলে ওভারচার্জ না হয়। তাই দুই-তিন বছর পরেও ব্যাটারি খুব বেশি ডিগ্রেড হয় না। তবে গরমের দিনে বা হেভি গেম খেলার সময় ফোনটা একটু গরম হয়ে যেতে পারে, যেটা চার্জিং স্পিডকে সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। 

আমার পরামর্শ হলো কেনার সময় চেক করে নাও যে চার্জারটা অরিজিনাল কিনা, আর যদি সম্ভব হয় তাহলে ২৫ ওয়াটের ওপরের অপশন বেছে নাও। এভাবে করলে ব্যাটারি লাইফ আর চার্জিং নিয়ে আর কোনো টেনশন থাকবে না, ফোনটা সত্যি তোমার দৈনন্দিন সঙ্গী হয়ে উঠবে।

ক্যামেরা পারফরম্যান্স কতটা ভালো হবে?

ক্যামেরা পারফরম্যান্স কতটা ভালো হবে? এই প্রশ্নটা অনেকের মনে আসে যখন তারা ১২ হাজার টাকার মধ্যে ফোন খুঁজতে যায়। সত্যি কথা বলতে এই বাজেটে ক্যামেরা এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। বেশিরভাগ ফোনে ৫০ মেগাপিক্সেল বা তার কাছাকাছি মেইন সেন্সর দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দিনের আলোয় বা ভালো আলোতে ছবি তোলার সময় বেশ ভালো ডিটেইল এবং রঙ পাওয়া যায়। 

আমি কয়েকটা মডেল হাতে নিয়ে দেখেছি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার জন্য এই দামের ফোনের ক্যামেরা একদম চলার মতো।  তবে প্রত্যাশা খুব বেশি রাখলে হতাশ হতে পারো, কারণ এটা প্রিমিয়াম ফোনের মতো প্রফেশনাল লেভেলের ছবি দেয় না। রাতের ছবি বা লো লাইট কন্ডিশনে পারফরম্যান্স একটু কমে যায়। নয়েজ দেখা যায় এবং ছবি একটু সফট হয়ে যায়। তবে কিছু মডেলে নাইট মোড থাকায় সেটা অনেকটা সামলে নেয়। সেলফি ক্যামেরা সাধারণত ৮ থেকে ১৬ মেগাপিক্সেলের হয়, যা দৈনন্দিন সেলফি আর ভিডিও কলে ভালোই কাজ করে। 

ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ১০৮০পি ফুল এইচডি স্টেবল ভিডিও পাওয়া যায়, কিন্তু ৪কে এক্সপেক্ট করা উচিত না এই রেঞ্জে। আমার এক বন্ধু Realme এর ফোন নিয়ে বলছিল যে দিনের আলোয় তার ছবিগুলো দেখে অনেকেই প্রশংসা করে। ক্যামেরা পারফরম্যান্স নির্ভর করে তোমার কী ধরনের ছবি তোলো তার ওপর। যদি তুমি মূলত দিনের বেলা ছবি তোলো এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ব্যবহার করো তাহলে এই বাজেটের ফোনগুলো তোমাকে সন্তুষ্ট করবে।
Samsung এর ফোনগুলোতে কালার প্রসেসিং ভালো, আর Infinix বা Realme এর কিছু মডেলে ডিটেইল একটু বেশি পাওয়া যায়। কেনার আগে অবশ্যই দোকানে গিয়ে স্যাম্পল ছবি তুলে দেখে নিও। এতে পরে আফসোস করতে হবে না।

Samsung এর ফোনগুলো এই রেঞ্জে কেমন?

Samsung এর ফোনগুলো এই রেঞ্জে কেমন? ভাই, এই ১২ হাজার টাকার বাজেটে Samsung এর ফোন নিলে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নির্ভরযোগ্যতা আর লং টার্ম সাপোর্ট। বিল্ড কোয়ালিটি বেশ মজবুত, হাতে ধরে প্রিমিয়াম ফিল হয় আর সফটওয়্যার আপডেটের ব্যাপারে তারা অন্য ব্র্যান্ডের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকে। আমি অনেক ইউজারের সাথে কথা বলে দেখেছি যে যারা দুই-তিন বছর একই ফোন চালাতে চান তারা প্রায়ই Samsung এর দিকে ঝোঁকেন, কারণ সার্ভিস সেন্টার সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে এবং ফোনটা পুরনো হলেও স্মুথ থাকে।
১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন
তবে হেভি গেমিং বা খুব ফাস্ট পারফরম্যান্স চাইলে এখানে একটু কম্প্রোমাইজ করতে হয়। ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ এ কোন মডেলগুলো সেরা? এই প্রশ্নের উত্তরে Samsung এর Galaxy M05 বা F05 সিরিজের মডেলগুলো অনেকের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে। এগুলোতে ব্যাটারি ব্যাকআপ দারুণ, ডিসপ্লে স্মুথ এবং ক্যামেরাও দৈনন্দিন ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট ভালো কাজ করে। অনেকেই বলেন যে Samsung নিলে মনে একটা শান্তি থাকে কারণ রিসেল ভ্যালু ভালো থাকে আর সিকিউরিটি আপডেট নিয়মিত পাওয়া যায়। 

সার্বিকভাবে Samsung এর ফোন এই রেঞ্জে যারা সেফ চয়েস চান তাদের জন্য এখনো অনেক ভালো অপশন। চাইনিজ ব্র্যান্ডের মতো ফাস্ট চার্জিং বা অতিরিক্ত স্পিড না পেলেও নিরাপদ ব্যবহারের জন্য এগুলো অনেকের কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে। নিচে এই রেঞ্জের জনপ্রিয় Samsung মডেলগুলোর

একটা সংক্ষিপ্ত তুলনামূলক টেবিল দিলাম যাতে সহজে বোঝা যায়ঃ
মডেল ডিসপ্লে প্রসেসর ব্যাটারি/চার্জিং ক্যামেরা সেরা জন্য কাদের
Galaxy M05 6.7" 90Hz Helio G85 5000mAh, 25W 50MP লং টার্ম ইউজার
Galaxy F05 6.6" 90Hz Exynos 1330 5000mAh, 25W 50MP ভালো বিল্ড চান
Galaxy A06 6.7" 90Hz Helio G85 5000mAh, 25W 50MP সাধারণ দৈনন্দিন কাজ

এই টেবিল দেখে তুমি নিজের ইউজেজ অনুযায়ী সহজেই বেছে নিতে পারবে।

Realme আর Poco থেকে কী কী অপশন আছে

Realme আর Poco থেকে কী কী অপশন আছে? ভাই, এই বাজেটে Realme আর Poco দুটো ব্র্যান্ডই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকে কারণ এদের ফোনে পারফরম্যান্স, স্টাইল আর দৈনন্দিন ইউজের জন্য দরকারি ফিচারগুলো বেশ ভালো ভাবে ব্যালেন্স করা হয়। Realme এর ফোনগুলো সাধারণত দেখতে স্লিম আর মডার্ন, ডিসপ্লে স্মুথ আর ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোয় ছবি তোলা বেশ মজার লাগে। Poco তে আবার প্রসেসর শক্তিশালী থাকে যাতে লাইট গেম খেলা বা একসাথে অনেক অ্যাপ চালানো সহজ হয়। 

আমি নিজে কয়েকটা মডেল হাতে নিয়ে দেখেছি, যারা স্টুডেন্ট বা অফিস যাত্রী তাদের জন্য এগুলো একদম পারফেক্ট দাম অনুযায়ী ফিচার বেশি পাওয়া যায়। তবে গরমের দিনে মাঝে মাঝে একটু হিটিং হয়, যেটা অনেকের কাছে ছোটখাটো অসুবিধা। এখনকার বাজারে Realme থেকে C63, Narzo N63 আর C61 এর মতো মডেলগুলো ভালো চলছে, আর Poco থেকে C75 5G বা C81x এর মতো অপশন আছে।
১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন
এগুলোতে ৯০-১২০ হার্জ ডিসপ্লে, ৫০০০ মিলিএমপিএইচের ব্যাটারি আর ৩০-৪৫ ওয়াট চার্জিং পাওয়া যায় যা এই দামে সত্যি আকর্ষণীয়। যারা স্টাইল আর ক্যামেরা চায় তারা Realme নিতে পারে, আর যারা র এ পারফরম্যান্স আর স্পিড চায় তাদের জন্য Poco ভালো। 

নিচে এই দুই ব্র্যান্ডের কয়েকটা জনপ্রিয় মডেলের তুলনামূলক টেবিল দিলাম যাতে তুমি সহজেই বুঝতে পারো কোনটা তোমার জন্য বেশি উপযুক্তঃ
মডেল ডিসপ্লে প্রসেসর ব্যাটারি/চার্জিং ক্যামেরা সেরা জন্য কাদের
Realme C63 6.74" 90Hz Unisoc T612 5000mAh, 45W 50MP স্টাইল ও ব্যাটারি চান
Realme Narzo N63 6.7" 120Hz Helio G85 5000mAh, 33W 50MP স্মুথ ডিসপ্লে প্রেমী
Poco C75 5G 6.88" 120Hz Snapdragon 4 Gen 2 5160mAh, 18W 50MP পারফরম্যান্স চান
Poco C81x 6.7" 90Hz Helio G99 5000mAh, 33W 50MP ভ্যালু ফর মানি

Infinix এবং Tecno এর স্টাইলিশ চয়েস

Infinix এবং Tecno এর স্টাইলিশ চয়েস নিয়ে কথা বললে বলতে হয় যে এই দুই ব্র্যান্ড এখন ১২ হাজার টাকার বাজেটে সবচেয়ে বেশি স্টাইলিশ আর আকর্ষক ডিজাইনের ফোন দিচ্ছে। Infinix এর ফোনগুলো দেখতে একদম প্রিমিয়াম লাগে পিছনের গ্লাসি ফিনিশ, স্লিম বডি আর রঙের অপশন এত সুন্দর যে হাতে নিলেই চোখে লেগে যায়। Tecno তেও একইরকম স্টাইলের ছোঁয়া আছে, বিশেষ করে তাদের Spark সিরিজে LED লাইটিং বা ইউনিক কালার গ্রেডিয়েন্ট দিয়ে ফোনটা যেন একটা ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে যায়। 

আমি নিজে কয়েকটা মডেল দোকানে হাতে নিয়ে দেখেছি, যারা ছবি তুলতে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ তাদের জন্য এগুলো সত্যি মজার অপশন। তবে শুধু লুকস নয়, ব্যাটারি আর ডিসপ্লেও বেশ ভালো কাজ করে যাতে দৈনন্দিন ইউজে কোনো অসুবিধা না হয়। ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ এ কোন মডেলগুলো সেরা? এই প্রশ্নের উত্তরে Infinix Smart 9 আর Tecno Spark 20 এর মতো মডেলগুলো অনেকের লিস্টে উপরে থাকে কারণ এদের ডিজাইনটা এতটাই আকর্ষক যে পকেট থেকে বের করলেই লোকে জিজ্ঞাসা করে কোন ফোন।
১২-হাজার-টাকার-মধ্যে-ভালো-ফোন
Infinix এর সিরিজে ক্যামেরা সেটআপ আর ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ভালো, যাতে রোদে বাইরে থেকেও ছবি তুলতে বা ভিডিও দেখতে আরাম হয়। Tecno তে আবার স্টাইলের সাথে সাউন্ড কোয়ালিটিও বেশ ভালো, তাই মিউজিক শোনা বা ভিডিও কল করার সময় আলাদা ফিল পাওয়া যায়। আসলে এই দুই ব্র্যান্ডের ফোন যারা স্টাইল আর ভ্যালু দুটোই চায় তাদের জন্য এখনো সেরা চয়েস। 

Samsung বা Realme এর মতো সার্ভিস সেন্টার যতটা বিস্তৃত না হলেও, এদের ফোনগুলো দাম অনুযায়ী ফিচারে এত এগিয়ে যে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে নেয়। তবে কেনার আগে অবশ্যই হাতে নিয়ে দেখে নিও, কারণ ডিজাইনের সাথে হাতের আরামটাও গুরুত্বপূর্ণ। নিচে Infinix আর Tecno এর এই রেঞ্জের জনপ্রিয় কয়েকটা মডেলের তুলনামূলক টেবিল দিলাম যাতে তুমি সহজেই বেছে নিতে পারোঃ

মডেল ডিসপ্লে প্রসেসর ব্যাটারি/চার্জিং ক্যামেরা সেরা জন্য কাদের
Infinix Smart 9 6.7" 90Hz Helio G81 5000mAh, 18W 50MP স্টাইল ও ব্যাটারি প্রেমী
Infinix Spark 20 6.6" 120Hz Unisoc T603 5000mAh, 33W 50MP ফ্যাশনেবল ডিজাইন চান
Tecno Spark 20 6.78" 90Hz Helio G85 5000mAh, 25W 50MP সাউন্ড ও স্টাইল চান
Tecno Pop 9 6.56" 90Hz Helio G36 5000mAh, 18W 50MP বেসিক ইউজ ও লুকস চান

৫জি সাপোর্ট আর অন্যান্য ইউজফুল ফিচার

৫জি সাপোর্ট আর অন্যান্য ইউজফুল ফিচার নিয়ে কথা বললে প্রথমেই বলতে হয় যে ১২ হাজার টাকার মধ্যে এখন অনেক ফোনেই ৫জি সাপোর্ট চলে এসেছে, যেটা আগের বছরগুলোতে এই বাজেটে খুব একটা পাওয়া যেত না। এখন যারা ভবিষ্যতের জন্য ভাবছেন তাদের জন্য ৫জি সাপোর্টযুক্ত ফোন নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আগামী কয়েক বছরে ৪জি নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে কমে আসবে আর ৫জি আরো বেশি ছড়িয়ে পড়বে। 

Realme, Poco, Infinix এবং কিছু Samsung মডেলেও এখন এই ফিচারটা পাওয়া যাচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, শুধু ৫জি সাপোর্ট থাকলেই হয় না, নেটওয়ার্ক কভারেজ আর প্রসেসরের সাথে কতটা ভালো কাজ করে সেটাও দেখতে হয়। ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ এ কোন মডেলগুলো সেরা? এই প্রশ্নের সাথে জড়িয়ে অন্যান্য ইউজফুল ফিচারগুলোও দেখে নেওয়া দরকার। 

এখন বেশিরভাগ ফোনেই সাইড মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর বা ফেস আনলক আছে, যা ফোন আনলক করতে অনেক সুবিধা দেয়। কিছু মডেলে ডেডিকেটেড মেমরি কার্ড স্লট থাকে যাতে স্টোরেজ বাড়ানো যায়, আবার কিছুতে স্টেরিও স্পিকার দেওয়া হয় যা মিউজিক বা ভিডিও দেখার সময় আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়। এছাড়া ইউএসবি টাইপ সি পোর্ট, জি সেন্সর, প্রক্সিমিটি সেন্সর ইত্যাদি ছোট ছোট ফিচারও এখন স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গেছে। ৫জি সাপোর্ট আর এইসব ইউজফুল ফিচার দেখে ফোন বাছাই করলে আপনি লং টার্মে ভালো সার্ভিস পাবেন।
আমার পরামর্শ হলো শুধু স্পেক দেখে নয়, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার প্রায়োরিটি দিন। যদি আপনি প্রায়ই ইন্টারনেটে থাকেন তাহলে ৫জি সাপোর্টযুক্ত মডেল বেছে নিন, আর যদি স্টোরেজ বেশি লাগে তাহলে মেমরি কার্ড সাপোর্ট আছে কিনা চেক করুন। এভাবে করলে এই বাজেটেও একটা ভালো এবং ফিউচার প্রুফ ফোন পেয়ে যাবেন।

ফোন কেনার আগে যা যা খেয়াল রাখবেন

ফোন কেনার আগে যা যা খেয়াল রাখবেন তা সত্যি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ১২ হাজার টাকার মধ্যে ফোন কিনলে একবার ভুল হলে পরে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। প্রথমেই নিজের আসল ইউজেজটা বুঝে নিন যদি শুধু কল, মেসেজ আর ফেসবুক করেন তাহলে বেসিক মডেলই যথেষ্ট, কিন্তু গেম খেলা বা ভিডিও এডিটিং করলে প্রসেসর আর র‍্যামের দিকে নজর দিন। দোকানে গিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে দেখুন, ওজন কেমন লাগে, গ্রিপ কতটা আরামদায়ক অনেক সময় স্পেক দেখে কিনে পরে হাতে ধরে অস্বস্তি হয়। 

ওয়ারেন্টি কার্ড, সার্ভিস সেন্টারের লোকেশন আর রিটার্ন পলিসি অবশ্যই চেক করুন। আমার এক বন্ধু তাড়াহুড়ো করে কিনে পরে সার্ভিস সেন্টার দূরে পেয়ে খুব ঝামেলায় পড়েছিল। আর অনলাইনে কিনলে রিভিউগুলো ভালো করে পড়ুন, কারণ কিছু ফোনে হিটিং ইস্যু বা সফটওয়্যার বাগ থাকে যেটা রিভিউতে উঠে আসে। ১২ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ফোন ২০২৬ এ কোন মডেলগুলো সেরা? এই প্রশ্নটা মাথায় রেখে আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখবেন যে ফোনের রিসেল ভ্যালু কেমন Samsung নিলে পরে বিক্রি করতে সুবিধা হয়, আর Realme বা Infinix এর ক্ষেত্রে একটু কম। 

ব্যাটারি হেলথ চেক করুন, চার্জার অরিজিনাল কিনা দেখুন আর যদি সম্ভব হয় তাহলে কয়েকটা ফোন পাশাপাশি রেখে ডিসপ্লে, স্পিকার আর ক্যামেরা টেস্ট করে নিন। গরমের দিনে হিটিং কেমন হয় সেটাও জিজ্ঞাসা করুন দোকানদারের কাছে। শেষে নিজের বাজেট আর প্রয়োজন মিলিয়ে ডিসিশন নিন, তাহলে পরে আফসোস করতে হবে না।

আমার পছন্দের সেরা ফোন কোনটা এবং কেন

আমার পছন্দের সেরা ফোন এই বাজেটে হলো Realme C63। ভাই, সবকিছু মিলিয়ে এটাই আমার কাছে সবচেয়ে ব্যালেন্সড লাগে কারণ ডিসপ্লে স্মুথ, ব্যাটারি সারাদিন চলে, চার্জিংও দ্রুত আর দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে লাইট গেমিং সবকিছুতেই হতাশ করে না। যারা স্টাইলের সাথে সাথে কাজের ফোন চান তাদের জন্য এটা এখনো সেরা অপশন বলে মনে হয়, তবে শেষ সিদ্ধান্তটা তোমার নিজের ইউজেজ দেখে নিও। এমন আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে ইনফোনেস্টইন এর সাথেই থাকুন। ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন নিরাপদে থাকুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।