চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা
ঘরে বসে লেখালেখি করেই আয় করতে চান? জানুন চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে
আয় করা শুরু করার বাস্তব কৌশল ও সুযোগ। ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং থেকে ক্লায়েন্ট
পাওয়া পর্যন্ত-স্মার্ট প্রম্পট, কাজের ধরন আর আয়ের রোডম্যাপ এক গাইডেই।
আমার লক্ষ্য হলো এটাকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন এবং
নিজে প্রয়োগ করতে পারেন, কারণ অনেক সময় থিয়োরি পড়ে লাভ হয় না যদি না
প্র্যাকটিক্যাল টিপস থাকে। চলুন, সরাসরি বিষয়ে ঢুকে পড়ি এবং দেখি কীভাবে এটা
আপনার জীবনে কাজে লাগতে পারে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা । একটি বাস্তবসম্মত গাইড
চ্যাটজিপিটি কী এবং কেন এটা কনটেন্ট রাইটিংয়ের জন্য উপযোগী?
চ্যাটজিপিটি হলো ওপেনএআইয়ের তৈরি একটা শক্তিশালী এআই টুল যা টেক্সট জেনারেট করার
কাজ করে, মানে আপনি এটাকে কোনো প্রশ্ন বা নির্দেশ দিলে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেখা
তৈরি করে দেয়। এটা শুধু একটা চ্যাটবট নয়, বরং একটা সম্পূর্ণ লেখার সহায়ক যা
বিভিন্ন ভাষায় কাজ করতে পারে, যেমন বাংলা, ইংরেজি বা অন্যান্য, এবং বিভিন্ন
স্টাইলে লিখতে সক্ষম, যেমন ফর্মাল রিপোর্ট, কনভার্সেশনাল ব্লগ পোস্ট বা
ক্রিয়েটিভ স্টোরি। এর মূল প্রযুক্তি হলো জেনারেটিভ প্রি-ট্রেইন্ড ট্রান্সফরমার,
যা বিপুল পরিমাণ ডেটা থেকে শিখে এমন লেখা তৈরি করে যা মানুষের লেখার মতো লাগে।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বলেন "একটা কবিতা লেখো প্রকৃতি নিয়ে", তাহলে এটা মিনিটের
মধ্যে একটা সম্পূর্ণ কবিতা তৈরি করে দেবে, এবং এটা ক্রমাগত আপডেট হচ্ছে যাতে আরও
স্মার্ট হয়, যেমন এখন এটা ইমেজ জেনারেট করতে বা কোড লিখতেও পারে। আমার মতে, এটা
এমন একটা টুল যা নতুনদের জন্যও সহজ, কারণ ইন্টারফেসটা ইউজার-ফ্রেন্ডলি এবং কোনো
কোডিং জানার দরকার নেই, শুধু ভালো প্রশ্ন করতে হবে।
কনটেন্ট রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি বিশেষভাবে উপযোগী কারণ এটা দ্রুত
আইডিয়া জেনারেট করে এবং লেখার প্রক্রিয়াকে স্পিড আপ করে, যেমন যদি আপনি একটা
ব্লগ পোস্ট লিখতে চান তাহলে এটা আপনাকে আউটলাইন তৈরি করে দিতে পারে, পুরো ড্রাফট
লিখে দিতে পারে বা এমনকি গ্রামার এবং স্টাইল ঠিক করে দিতে পারে যাতে আপনার সময়
বাঁচে। উদাহরণ দিই, ধরুন আপনি একটা প্রোডাক্ট রিভিউ লিখছেন-আপনি চ্যাটজিপিটিকে
বলুন "একটা স্মার্টফোনের রিভিউ লেখো যাতে প্রোস, কনস এবং ইউজার অভিজ্ঞতা থাকে",
এবং সে একটা ভালো স্টার্টিং পয়েন্ট দিয়ে দেবে যা আপনি পরে এডিট করে নিজের করতে
পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটা কোনো ম্যাজিক নয়-এটা শুধু একটা টুল, এবং শেষমেষ
আপনাকে নিজের ব্যক্তিগত টাচ যোগ করতে হবে যাতে লেখাটা আসল লাগে এবং ক্লায়েন্টরা
সন্তুষ্ট হয়, না হলে তারা বুঝতে পারবে যে এটা পুরোপুরি এআই দিয়ে লেখা।
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা যায় বলে অনেকে এটাকে ব্যবহার
করেন, কারণ এটা আইডিয়ার অভাব দূর করে এবং আপনাকে আরও প্রোডাকটিভ করে তোলে, বিশেষ
করে ডেডলাইনের মধ্যে কাজ করার সময়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটা নতুন রাইটারদের
জন্য একটা দারুণ সাহায্যকারী, কারণ এটা সময় বাঁচায় এবং আপনাকে ফোকাস করতে দেয়
ক্রিয়েটিভ অংশে, যেমন কনটেন্টকে আরও ইউনিক বানানো।
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করার বেসিক ধাপসমূহ
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা শুরু করার জন্য প্রথম ধাপ হলো
চ্যাটজিপিটিতে একটা অ্যাকাউন্ট খোলা। এটা সম্পূর্ণ ফ্রি এবং খুব সহজ, শুধু
ওপেনএআইয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে সাইন আপ করুন। কিন্তু যদি আপনি আরও ভালো ফিচার
চান, যেমন লম্বা রেসপন্স বা দ্রুত প্রসেসিং, তাহলে প্রিমিয়াম ভার্সন নেয়া
ভালো হবে, যা মাসিক ফি দিয়ে পাওয়া যায়। এরপর আপনাকে ক্লায়েন্ট খুঁজতে হবে,
আর সেটা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্ম যেমন আপওয়ার্ক,
ফাইভার বা ফ্রিল্যান্সার ডট কমে প্রোফাইল তৈরি করা। আপনার প্রোফাইলটা এমনভাবে
সাজান যাতে আপনি নিজেকে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে দেখান এবং উল্লেখ করুন যে আপনি
এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত এবং ভালো মানের কনটেন্ট দিতে পারেন, যাতে
ক্লায়েন্টরা আকৃষ্ট হয়। শুরুতে প্রোফাইলটা ভালোভাবে কমপ্লিট করুন, যেমন আপনার
স্কিলস, অভিজ্ঞতা এবং কিছু স্যাম্পল কাজ যোগ করুন, এমনকি যদি সেগুলো নিজের
প্র্যাকটিস থেকে হয়। এভাবে আপনি প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন
এবং ধীরে ধীরে নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন।
পরের ধাপ হলো প্রম্পট লেখা শেখা, কারণ চ্যাটজিপিটির আউটপুট সম্পূর্ণভাবে নির্ভর
করে আপনার প্রম্পটের মানের উপর। একটা ভালো প্রম্পট স্পেসিফিক হয়, যেমন যদি
ক্লায়েন্ট একটা প্রোডাক্ট রিভিউ চান তাহলে বলুন "একটা বিস্তারিত রিভিউ লেখো
যাতে প্রোডাক্টের ফিচার, প্রাইসিং, ইউজার অভিজ্ঞতা এবং প্রোস-কনস কভার হয়,
টোনটা পজিটিভ কিন্তু বাস্তবসম্মত রাখো এবং ৮০০ ওয়ার্ডের মধ্যে শেষ করো"। এভাবে
প্রম্পট দিলে চ্যাটজিপিটি একটা ভালো ড্রাফট দেবে যা আপনার কাজকে সহজ করে। তারপর
আপনাকে সেই ড্রাফট এডিট করতে হবে-এখানে আপনার নিজের রিসার্চ যোগ করুন, যেমন
গুগলে সার্চ করে ফ্যাক্টস চেক করুন বা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পার্সোনাল টাচ যোগ
করুন যাতে লেখাটা ইউনিক হয় এবং প্লেজিয়ারিজম থেকে দূরে থাকে। এডিটিংয়ের সময়
বাক্যের লেন্থ পরিবর্তন করুন, কিছু প্রশ্ন যোগ করুন বা পাঠককে এনগেজ করার জন্য
টোন অ্যাডজাস্ট করুন। যদি কনটেন্টটা ওয়েবসাইটের জন্য হয় তাহলে এসইও কীওয়ার্ড
যোগ করুন যাতে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো র্যাঙ্ক করে, কিন্তু অতিরিক্ত না করে যাতে
ন্যাচারাল লাগে। এই ধাপটা প্র্যাকটিস করে শিখুন, কারণ এটাই আপনার কনটেন্টকে
প্রফেশনাল করে তোলে।
শেষ ধাপ হলো ক্লায়েন্টকে কনটেন্ট ডেলিভারি দেয়া এবং ফিডব্যাক নেয়া। ফাইনাল
ভার্সন রেডি হলে এটাকে চেক করুন যাতে কোনো ভুল না থাকে, তারপর ক্লায়েন্টকে
পাঠান এবং তাদের অপিনিয়ন জিজ্ঞাসা করুন যাতে পরবর্তী কাজে উন্নতি করতে পারেন।
শুরুতে ছোট প্রজেক্ট নিন, যেমন ৫০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেল বা সোশ্যাল মিডিয়া
পোস্ট, যাতে আপনি দ্রুত কমপ্লিট করতে পারেন এবং রিভিউ পান। এভাবে আপনার
পোর্টফোলিও তৈরি হবে যা নতুন ক্লায়েন্টদের আকর্ষণ করবে এবং আপনি ধীরে ধীরে বড়
প্রজেক্টে যেতে পারবেন, যেমন ইবুক বা ওয়েবসাইট কনটেন্ট। মনে রাখবেন, সফলতা আসে
ধারাবাহিকতা থেকে-রেগুলার প্রজেক্ট নিন, প্রাইসিং সেট করুন যাতে আপনার সময়ের
মূল্য পান, এবং যদি সম্ভব হয় তাহলে ক্লায়েন্টের সাথে লং-টার্ম রিলেশনশিপ তৈরি
করুন। এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি শিগগিরই আয় শুরু করতে পারবেন এবং আপনার
স্কিলও বাড়বে।
সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় স্কিল এবং টিপস
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা দেখতে সহজ লাগলেও এর জন্য কিছু
মৌলিক স্কিল দরকার যা আপনি ধীরে ধীরে ডেভেলপ করতে পারেন। প্রথম এবং সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ স্কিল হলো ভালো প্রম্পট লেখা-এটা না শিখলে চ্যাটজিপিটির আউটপুট
সবসময় জেনেরিক বা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে, তাই আপনাকে শিখতে হবে কীভাবে স্পেসিফিক
নির্দেশ দেয়া যায়, যেমন "লেখাটা ১০০০ ওয়ার্ডের হোক, উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করো
এবং শেষে কল টু অ্যাকশন যোগ করো"। দ্বিতীয়ত, এডিটিং স্কিল খুব জরুরি কারণ
চ্যাটজিপিটির লেখা প্রায়ই একঘেয়ে লাগে বা ফ্যাক্টস ভুল হতে পারে, তাই আপনাকে
চেক করতে হবে, বাক্যগুলোকে আরও ন্যাচারাল করতে হবে এবং নিজের অভিজ্ঞতা বা রিসার্চ
যোগ করে এটাকে হিউমান-লাইক বানাতে হবে। এছাড়া, বিভিন্ন নিশে বা বিষয়ে ফোকাস
করুন যেমন হেলথ অ্যান্ড ফিটনেস, টেকনোলজি, মার্কেটিং বা ট্রাভেল-এতে আপনি
এক্সপার্ট হয়ে উঠবেন এবং ক্লায়েন্টরা আপনাকে রিপিট বিজনেস দেবে।
টিপস হিসেবে বলব, সবসময় প্লেজিয়ারিজম চেকার টুল যেমন গ্রামারলি বা কপিস্কেপ
ব্যবহার করুন যাতে আপনার কনটেন্ট ১০০% ইউনিক থাকে এবং সার্চ ইঞ্জিনে ভালো
র্যাঙ্ক করে। আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ টিপ হলো নেটওয়ার্কিং-লিঙ্কডইন বা রেডিটে
গিয়ে কনটেন্ট রাইটিং গ্রুপে জয়েন করুন, আপনার কাজ শেয়ার করুন এবং ক্লায়েন্ট
খুঁজুন, কারণ অনেক সময় প্ল্যাটফর্মের বাইরে ডাইরেক্ট ক্লায়েন্ট পেলে কমিশন কম
হয় এবং পেমেন্ট ফাস্ট হয়। আমি দেখেছি যে যারা রেগুলার প্র্যাকটিস করে তারা মাসে
কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারে, বিশেষ
করে যদি তারা ইংরেজি কনটেন্ট লিখেন যা ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে বেশি ডিমান্ড আছে।
শেষ টিপ হিসেবে, সময় ম্যানেজমেন্ট শিখুন-চ্যাটজিপিটি সময় বাঁচালেও আপনাকে
ডেডলাইন মিট করতে হবে এবং কোয়ালিটি মেইনটেইন করতে হবে যাতে রিভিউ ভালো পান।
আরো পড়ুনঃ
অফিস এবং স্টাডি পিসি বিল্ড গাইড ২৫K
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ এবং কীভাবে সেগুলো মোকাবিলা করবে
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা সবসময় সোজা নয়, কারণ এতে কিছু
চ্যালেঞ্জ আছে যা আপনাকে আগে থেকে জেনে রাখতে হবে যাতে আপনি হতাশ না হন। একটা বড়
চ্যালেঞ্জ হলো এআই ডিটেকশন-অনেক ক্লায়েন্ট এখন টুল ব্যবহার করে চেক করে যে
লেখাটা এআই দিয়ে লেখা কি না, এবং যদি তারা জানতে পারে তাহলে তারা রিজেক্ট করতে
পারে বা পেমেন্ট না দিতে পারে। এটা মোকাবিলা করার জন্য চ্যাটজিপিটির আউটপুটকে
হিউমানাইজ করুন, মানে বাক্যের লেন্থ ভ্যারিফাই করুন, কিছু ইনফর্মাল ভাষা যোগ
করুন, পার্সোনাল স্টোরি বা অপিনিয়ন ইনক্লুড করুন এবং শেষমেষ নিজে পড়ে দেখুন যে
এটা ন্যাচারাল লাগছে কি না। আরেকটা সাধারণ সমস্যা হলো ক্লায়েন্ট না পাওয়া,
বিশেষ করে শুরুতে যখন আপনার প্রোফাইল নতুন এবং কোনো রিভিউ নেই-এজন্য লো প্রাইসে
শুরু করুন, যেমন প্রথম কয়েকটা প্রজেক্ট ৫০০ টাকায় নিন যাতে রিভিউ কালেক্ট করতে
পারেন এবং পরবর্তীতে প্রাইস বাড়ান।
আরও একটা চ্যালেঞ্জ হলো চ্যাটজিপিটির লিমিটেশন, যেমন ফ্রি ভার্সনে প্রতি দিনের
ইউজ লিমিটেড বা কখনো ফ্যাক্টস ভুল হয়ে যায়-এটা সমাধান করতে প্রিমিয়াম
সাবস্ক্রিপশন নিন বা অন্য এআই টুল যেমন ক্লড বা গুগল বার্ড ট্রাই করুন যাতে আপনার
কাজ আটকে না যায়। মোটকথা, ধৈর্য ধরুন এবং কন্টিনিউ লার্ন করুন-অনলাইন কোর্স বা
ইউটিউব ভিডিও দেখে নতুন টেকনিক শিখুন, এবং যদি কোনো প্রজেক্ট ফেল হয় তাহলে থেকে
শিখুন যাতে পরবর্তীটা ভালো হয়। আমার মতে, এসব চ্যালেঞ্জগুলোকে অপরচুনিটি হিসেবে
দেখুন, কারণ যারা এগুলো ওভারকাম করে তারাই লং টার্মে সফল হয়।
কেস স্টাডিঃ বাস্তব উদাহরণ
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা কতটা বাস্তবসম্মত তা বোঝার জন্য
চলুন কয়েকটা রিয়াল লাইফ উদাহরণ দেখি যা আমি নিজে জানি বা রিসার্চ করে পেয়েছি।
প্রথম উদাহরণ হলো একজন ফ্রিল্যান্সারের যিনি বাংলাদেশ থেকে কাজ করেন-তিনি প্রথমে
সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং নিয়ে ব্লগ পোস্ট লিখতেন, চ্যাটজিপিটিকে প্রম্পট দিয়ে
ড্রাফট তৈরি করতেন এবং তারপর নিজের লোকাল অভিজ্ঞতা যোগ করে ফাইনাল করতেন, যেমন
"বাংলাদেশে ফেসবুক অ্যাডস কীভাবে চালানো যায়" এরকম টপিক। ছয় মাসের মধ্যে তিনি
ফাইভারে ৫০০ ডলারের বেশি উপার্জন করেছেন এবং এখন তার ক্লায়েন্ট লিস্টে
ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি আছে, কারণ তিনি চ্যাটজিপিটিকে স্মার্টলি ব্যবহার করে
প্রোডাকশন বাড়িয়েছেন। আরেকটা উদাহরণ হলো একটা ছোট কনটেন্ট এজেন্সির যারা
চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ক্লায়েন্টদের জন্য আর্টিকেল, ইমেইল নিউজলেটার এবং এমনকি
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তৈরি করেন-তারা বলেন যে এটা তাদের প্রোডাকশনকে ডাবল করেছে
এবং খরচ কমিয়েছে, কারণ আগে তারা ম্যানুয়ালি সব লিখতেন যা সময়সাপেক্ষ ছিল।
এসব কেস থেকে আমরা শিখতে পারি যে সফলতার চাবিকাঠি হলো এআইকে শুধু কপি-পেস্টের
জন্য না ব্যবহার করে, বরং এটাকে একটা সহায়ক হিসেবে দেখা এবং নিজের ক্রিয়েটিভিটি
যোগ করা-উদাহরণস্বরূপ, যদি চ্যাটজিপিটি একটা জেনেরিক লেখা দেয় তাহলে আপনি লোকাল
কনটেক্সট যোগ করুন যাতে এটা আরও ভ্যালুয়েবল হয়। এসব উদাহরণ দেখে বোঝা যায় যে
যে কেউ এটা করতে পারে যদি তারা কনসিসটেন্ট থাকেন এবং মার্কেটের ডিমান্ড অনুযায়ী
স্কিল বিল্ড করেন।
উপসংহারঃ শুরু করার জন্য প্রেরণা
চ্যাটজিপিটি দিয়ে কনটেন্ট রাইটিং করে আয় করা একটা দারুণ সাইড হাসল বা এমনকি ফুল-টাইম ক্যারিয়ার হতে পারে যদি আপনি সিরিয়াসভাবে এতে সময় দেন, কারণ এটা না শুধু টাকা উপার্জন করে বরং আপনাকে নতুন নতুন বিষয় শিখতে সাহায্য করে এবং ক্রিয়েটিভ স্কিল বাড়ায়। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে দেখেছি কীভাবে শুরু করবেন, কোন স্কিল দরকার এবং চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবেন, তাই এখন সময় এসেছে যে আপনি অ্যাকশন নিন-আজই চ্যাটজিপিটিতে একটা সিম্পল প্রম্পট ট্রাই করুন, যেমন আপনার ফেভারিট টপিক নিয়ে একটা শর্ট আর্টিকেল লিখতে বলুন এবং তারপর এডিট করে নিজের ব্লগ বা ফ্রিল্যান্স প্রোফাইলে শেয়ার করুন। যদি আপনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করেন তাহলে সময়ের সাথে আপনার আয় বাড়বে এবং অভিজ্ঞতাও বাড়বে, বিশেষ করে এখন যখন অনলাইন কনটেন্টের ডিমান্ড এত বেশি। যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা আরও ডিটেলস চান তাহলে কমেন্ট করুন, আমি সাহায্য করব-মনে রাখবেন, শুরুটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ, কিন্তু একবার শুরু করলে পথ অনেক সহজ হয়ে যায় এবং আপনি দেখবেন যে এটা আপনার জীবনকে কতটা পজিটিভলি চেঞ্জ করতে পারে।




ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url