iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ

iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানতে চান? সম্ভাব্য দাম, স্পেসিফিকেশন ও বাংলাদেশে লঞ্চ আপডেট সহজভাবে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কেনার আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পুরো গাইডটি দেখে নিন।
iPhone-17e-মডেল-প্রাইস-বাংলাদেশ
আজ আমি আপনার সাথে কথা বলব অ্যাপলের আসন্ন একটি ফোন নিয়ে, যা এখনো বাজারে আসেনি কিন্তু অনেকের মনে কৌতূহল জাগিয়েছে। আমি নিজে টেক জগতের খবর অনেকটা ফলো করি, আর এই আর্টিকেলটা লিখছি যেন আপনি সহজেই বুঝতে পারেন কী আসছে। চলুন শুরু করি।

পোস্ট সূচিপত্রঃ iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ

iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ পরিচিতি

আমরা সবাই জানি যে অ্যাপলের আইফোন সিরিজ সবসময় একটা প্রিমিয়াম অনুভূতি দেয়, কিন্তু এবারের iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ নিয়ে অনেক গুঞ্জন এবং উত্তেজনা চলছে। এটা মূলত iPhone 17 সিরিজের একটা আরও অ্যাফর্ডেবল বা বাজেট-ফ্রেন্ডলি ভার্সন হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লঞ্চ হয়েছে বা হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন রিপোর্ট এবং টেক ওয়েবসাইটগুলো থেকে জানা যাচ্ছে যে এটা অ্যাপলের একটা কৌশলগত পদক্ষেপ, কারণ এতে প্রিমিয়াম ফিচারগুলো রাখা হয়েছে কিন্তু দামটা রাখা হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম, যাতে আরও বেশি মানুষ অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। বাংলাদেশে এর দাম নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা থাকলেও, অনুমান করা হচ্ছে যে এটা ৮০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকার মধ্যে পড়বে, যা স্ট্যান্ডার্ড iPhone 17 মডেলের থেকে অনেকটা কম। আমি মনে করি যে এটা মিড-রেঞ্জ ক্রেতাদের জন্য একটা চমৎকার বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে যারা অ্যাপলের কোয়ালিটি এবং পারফরম্যান্স চান কিন্তু প্রো মডেলের মতো উচ্চ দাম দিতে চান না।

আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, এই মডেলটা অ্যাপলের আগের SE সিরিজের মতোই, যেখানে তারা কমপ্যাক্ট সাইজ এবং শক্তিশালী চিপসেট দিয়ে মার্কেট ক্যাপচার করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি একটা ফোন খুঁজছেন যা দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে হালকা গেমিং পর্যন্ত সবকিছু সামলাতে পারে, তাহলে এটা আপনার লিস্টে থাকা উচিত। এছাড়া, ২০২৬ সালের এই লঞ্চটা অ্যাপলের জন্য একটা মাইলফলক, কারণ এতে তারা 5G সাপোর্ট এবং লেটেস্ট চিপসেট দিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। যদি আপনি নতুন টেকনোলজি নিয়ে উত্সাহী হন, তাহলে এই ফোনটা আপনাকে হতাশ করবে না, এবং আমরা পরবর্তী সেকশনগুলোতে আরও গভীরভাবে আলোচনা করব।

ফোনের ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি

ডিজাইনের দিক থেকে iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ নিয়ে যা শোনা যাচ্ছে এবং বিভিন্ন রিভিউ থেকে জানা যাচ্ছে, তাতে এটা একটা ৬.১ ইঞ্চির কমপ্যাক্ট এবং হ্যান্ডি ফোন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপলের ট্রেডমার্ক স্টাইলে এতে ডায়নামিক আইল্যান্ড ফিচার রাখা হয়েছে, যা নোটিফিকেশন, ফেস আইডি এবং অন্যান্য ইন্টারেকশনের জন্য ব্যবহার হয়। বিল্ড কোয়ালিটির কথা বললে, এটা অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের সাথে গ্লাস ব্যাক দিয়ে তৈরি, যা আগের মডেলগুলোর মতোই প্রিমিয়াম এবং টেকসই অনুভূতি দেয়। রং অপশনগুলোতে কালো, সাদা, স্কাই ব্লু বা অন্যান্য আকর্ষণীয় শেড থাকতে পারে, যা বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের আকর্ষণ করবে। আমার মতে, এটা হাতে নিলে iPhone 16 সিরিজের মতোই লাইটওয়েট এবং কমফর্টেবল ফিল হবে, কিন্তু আরও কিছু আপগ্রেড যেমন উন্নত গ্লাস প্রোটেকশন সাথে। তবে, যেহেতু এটা প্রো মডেল নয়, তাই টাইটানিয়াম ফ্রেমের মতো প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়াল নাও থাকতে পারে, যা দাম কমানোর জন্য একটা কম্প্রোমাইজ।
iPhone-17e-মডেল-প্রাইস-বাংলাদেশ
আরও বিস্তারিত বলতে গেলে, অ্যাপল এই মডেলে পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করেছে, যেমন ১০০% রিসাইকেলড অ্যালুমিনিয়াম, যা ফোনটাকে আরও লাইট করে তোলে এবং পরিবেশের জন্যও ভালো। এছাড়া, IP68 রেটিং দিয়ে ওয়াটার এবং ডাস্ট রেজিস্ট্যান্স নিশ্চিত করা হয়েছে, যা মানে হলো যদি ফোনটা পানিতে পড়ে যায় বা ধুলোবালিতে থাকে, তাহলে সমস্যা হবে না। যদি আপনি একটা ফোন চান যা দেখতে সুন্দর, হাতে ধরে ভালো লাগে এবং দীর্ঘদিন চলে, তাহলে এই ডিজাইনটা আপনার জন্য আদর্শ হতে পারে, কারণ অ্যাপল সবসময়ই ডিজাইনে ফোকাস করে যাতে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা সেরা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ট্রাভেল করেন বা বাইরে অনেক সময় কাটান, তাহলে এর টেকসই বিল্ডটা আপনাকে নিশ্চিন্ত রাখবে।

ডিসপ্লে এবং পারফরম্যান্স

ডিসপ্লের কথা বললে, iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ এর জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এতে ৬.১ ইঞ্চির সুপার রেটিনা XDR ডিসপ্লে রাখা হয়েছে যার রেজোলিউশন ১১৭০x২৫৩২ পিক্সেল। কিছু সোর্স থেকে জানা যাচ্ছে যে এতে ৬০Hz রিফ্রেশ রেট থাকবে, যদিও কেউ কেউ ১২০Hz এর কথা বলছে, যা স্ক্রলিং, গেমিং এবং ভিডিও দেখার সময় আরও স্মুথ অনুভূতি দেবে। আমি মনে করি যে যদি ১২০Hz হয়, তাহলে এটা মিড-রেঞ্জ ফোনের মধ্যে একটা বড় অ্যাডভান্টেজ হবে। পারফরম্যান্সের দিকে আসলে, এতে A19 চিপসেট রাখা হয়েছে, যা অ্যাপলের সবচেয়ে নতুন এবং শক্তিশালী প্রসেসর। এর সাথে ৮GB RAM এবং ১২৮GB থেকে শুরু করে ৫১২GB পর্যন্ত স্টোরেজ অপশন থাকবে। পারফরম্যান্সে এটা দৈনন্দিন কাজ যেমন অ্যাপ খোলা, মাল্টিটাস্কিং, এবং এমনকি হালকা ভিডিও এডিটিং বা গেমিংয়ে দুর্দান্ত চলবে।
iPhone-17e-মডেল-প্রাইস-বাংলাদেশ
আপনি একটা ফোন চান যা ল্যাগ না করে চলে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্মুথ থাকে, তাহলে এটা আপনার জন্য। আরও বিস্তারিত বলতে গেলে, A19 চিপসেটটা অ্যাপলের নিউরাল ইঞ্জিনকে আরও উন্নত করেছে, যা AI-ভিত্তিক ফিচার যেমন ভয়েস রেকগনিশন, ফটো এনহ্যান্সমেন্ট বা স্মার্ট সাজেশনগুলোকে আরও দ্রুত এবং অ্যাকুরেট করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি অনেক অ্যাপ একসাথে চালান বা ফটো এডিট করেন, তাহলে এর পারফরম্যান্স আপনাকে অবাক করবে। স্টোরেজ অপশনগুলোতে যদি আপনি অনেক ফটো, ভিডিও বা অ্যাপ রাখেন, তাহলে ৫১২GB ভার্সনটা বেছে নিতে পারেন, যা ক্লাউড স্টোরেজের উপর নির্ভরতা কমাবে। সার্বিকভাবে, এই ডিসপ্লে এবং পারফরম্যান্সের কম্বিনেশনটা দেখলে বোঝা যায় যে অ্যাপল কীভাবে বাজেট মডেলেও হাই-এন্ড অভিজ্ঞতা দিতে চায়, এবং এটা অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।

ক্যামেরা সিস্টেম

ক্যামেরা নিয়ে iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ এর আলোচনায় অনেক উত্তেজনা রয়েছে, কারণ এতে একটা শক্তিশালী ৪৮ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা রাখা হয়েছে, যা অ্যাপলের উন্নত অপটিমাইজেশনের কারণে অসাধারণ ছবি তোলে। ফ্রন্ট ক্যামেরাটা ১২ মেগাপিক্সেলের, যা ফেস আইডির সাথে সেলফি এবং ভিডিও কলের জন্য আদর্শ। ভিডিও রেকর্ডিংয়ে এটা ১০৮০p এ ৩০fps সাপোর্ট করে, যা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য যথেষ্ট। আমি বলব যে যদিও এটা প্রো মডেলের মতো মাল্টিপল লেন্স নেই, তবু ক্যাজুয়াল ফটোগ্রাফি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য এটা দুর্দান্ত। যদি আপনি একটা ফোন চান যা সহজেই ভালো ছবি তোলে, তাহলে এটা ঠিক আছে। আরও বিস্তারিত বলতে গেলে, এই ক্যামেরা সিস্টেমটা অ্যাপলের কম্পিউটেশনাল ফটোগ্রাফি টেকনোলজি ব্যবহার করে, যা লো-লাইট কন্ডিশনে নাইট মোড দিয়ে ছবিকে আরও ক্লিয়ার এবং বিস্তারিত করে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি রাতে ছবি তুলেন বা ইন্ডোরে, তাহলে এর পারফরম্যান্স আপনাকে সন্তুষ্ট করবে। সেলফি ক্যামেরাটা ভিডিও কলের জন্য উন্নত, বিশেষ করে জুম, টিমস বা ফেসটাইমের মতো অ্যাপে, যেখানে ক্লিয়ার ইমেজ দরকার। যদিও সিঙ্গেল লেন্স, তবু অ্যাপলের সফটওয়্যার অ্যালগরিদমের কারণে এটা অন্যান্য মিড-রেঞ্জ ফোনের সাথে সমানে সমানে প্রতিযোগিতা করতে পারে, এবং যদি আপনি প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার না হন, তাহলে এটা আপনার সব চাহিদা পূরণ করবে। এছাড়া, ক্যামেরা অ্যাপটা ইউজার-ফ্রেন্ডলি, যাতে নতুনরাও সহজে মোড সুইচ করতে পারে।

ব্যাটারি এবং চার্জিং

ব্যাটারির দিকে আসলে, iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ নিয়ে যা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এতে ৪৫০৫mAh বা তার কাছাকাছি ক্যাপাসিটির ব্যাটারি রাখা হয়েছে, সাথে ২৫W ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট যা ম্যাগসেফ টেকনোলজি ব্যবহার করে। এটা সাধারণ ব্যবহারে পুরো দিন চলার মতো হবে, বিশেষ করে যদি আপনি হেভি গেমিং বা ভিডিও স্ট্রিমিং না করেন। USB 2.0 পোর্ট দিয়ে ডাটা ট্রান্সফার এবং চার্জিং হয়, যা ঠিকঠাক গতির। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে অ্যাপলের ব্যাটারি অপটিমাইজেশন সবসময়ই ভালো, তাই আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। আরও বিস্তারিত বলতে গেলে, এই ব্যাটারিটা আগের মডেলগুলোর থেকে কিছুটা বড়, যা মানে হলো ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ভিডিও প্লেব্যাক বা ১০ ঘণ্টা গেমিং টাইম। ম্যাগসেফ চার্জিংটা খুব সুবিধাজনক, কারণ এটা ম্যাগনেটিকভাবে চার্জারের সাথে অ্যাটাচ হয় এবং ওয়্যারলেস হওয়ায় ক্যাবলের ঝামেলা নেই। 
iPhone-17e-মডেল-প্রাইস-বাংলাদেশ
যদি আপনি অনেক ট্রাভেল করেন বা অফিসে থাকেন, তাহলে এই ফিচারটা আপনার সময় বাঁচাবে। তবে, ফাস্ট চার্জিংয়ে এটা ৩০ মিনিটে প্রায় ৫০% চার্জ হয়ে যায়, যা দৈনন্দিন লাইফে খুব কাজে লাগে। অ্যাপলের পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমটা AI-ভিত্তিক, যা অ্যাপের উপর ভিত্তি করে ব্যাটারি সেভ করে, এবং যদি আপনি লো পাওয়ার মোড চালু করেন, তাহলে আরও লম্বা সময় চলে।

সফটওয়্যার এবং ফিচারস

সফটওয়্যারের কথা বললে, এতে iOS 18.3.1 বা লেটেস্ট ভার্সন রাখা হয়েছে, যা অ্যাপলের সবচেয়ে উন্নত অপারেটিং সিস্টেম। এতে নতুন ফিচার যেমন উন্নত AI টুলস, প্রাইভেসি কন্ট্রোল এবং সিকিউরিটি আপডেটস রয়েছে। iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ এর জন্য এটা একটা বড় প্লাস, কারণ অ্যাপলের আপডেট সাপোর্ট সাধারণত ৫-৬ বছর পর্যন্ত থাকে। যদি আপনি সিকিউরিটি এবং স্মুথ ইউজার এক্সপিরিয়েন্স চান, তাহলে এটা ভালো চয়েস। আরও বিস্তারিত বলতে গেলে, iOS-এ নতুন প্রাইভেসি ফিচার যেমন অ্যাপ ট্র্যাকিং প্রিভেনশন উন্নত হয়েছে, যা আপনার ডাটাকে তৃতীয় পক্ষ থেকে সুরক্ষিত রাখে। Siri-এর উন্নত ভার্সনটা আরও ন্যাচারাল কনভার্সেশন সাপোর্ট করে, যেমন কমপ্লেক্স কমান্ড বুঝে কাজ করে। অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের সাথে ইন্টিগ্রেশনটা অসাধারণ, যেমন অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাক বা আইপ্যাডের সাথে সিঙ্ক হয়ে কাজ করে, যা প্রোডাকটিভিটি বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি ম্যাক ইউজার হন, তাহলে ফাইল শেয়ারিং বা কনটিনিউটি ফিচারটা খুব কাজে লাগবে। এছাড়া, নতুন ফিচার যেমন লাইভ অ্যাক্টিভিটিস বা উইজেটস দিয়ে হোম স্ক্রিন কাস্টমাইজ করা যায়।
iPhone-17e-মডেল-প্রাইস-বাংলাদেশ

বাংলাদেশে দাম এবং উপলব্ধতা

এখন মূল বিষয়ে আসি, আজকের মার্কেটে এই ফোনের অফিসিয়াল দাম ৮৯,০০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছে, যা মূলত ১২৮ জিবি ভার্সনের জন্য। এটা ইউএস প্রাইসের সাথে মিলিয়ে দেখলে প্রায় ৫৯৯ ডলারের সমতুল্য, কিন্তু বাংলাদেশে ইমপোর্ট ডিউটি, ভ্যাট এবং এক্সচেঞ্জ রেটের কারণে দামটা একটু বেশি হয়ে যায়। যদি আপনি উচ্চতর স্টোরেজ চান, যেমন ২৫৬ জিবি বা ৫১২ জিবি, তাহলে দামটা ১,০০,০০০ টাকা বা তার উপরে যেতে পারে, যা অ্যাপলের অফিসিয়াল পার্টনারদের উপর নির্ভর করে। আমি দেখেছি যে কিছু অনলাইন স্টোরে প্রি-অর্ডার অপশন থাকে, যেখানে আপনি কিছু ডিসকাউন্ট পেতে পারেন, বিশেষ করে লঞ্চের প্রথম কয়েক সপ্তাহে। এছাড়া, অনঅফিসিয়াল মার্কেটে দামটা একটু কম হতে পারে, কিন্তু সেখানে ওয়ারেন্টি না থাকার ঝুঁকি আছে, তাই আমি সাজেস্ট করব যেন আপনি অফিসিয়াল সোর্স থেকে কিনুন যাতে পরে কোনো সমস্যা না হয়।

উপলব্ধতার কথা বললে, এই ফোনটা এখন বাংলাদেশের বড় বড় টেক স্টোরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে, যেমন টেক মার্ট, স্টার টেক, অ্যাপল গ্যাজেটস বা এক্সিকিউটিভ মেশিনস। লঞ্চ হয়েছে ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬-এ, তাই প্রথমে ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের স্টোরগুলোতে স্টক আসবে, পরে ছোট শহরগুলোতে। যদি আপনি অনলাইন থেকে কিনতে চান, তাহলে ওয়েবসাইটগুলোতে চেক করুন, যেখানে ডেলিভারি অপশন আছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইএমআই সুবিধা পাবেন। আমার মতে, যদি আপনি তাড়াতাড়ি কিনতে চান, তাহলে স্টোরে গিয়ে চেক করুন কারণ অনলাইনে স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এছাড়া, অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি সাথে থাকবে, যা ১ বছরের, আর কিছু স্টোর অতিরিক্ত ওয়ারেন্টি অফার করে।

সুবিধা এবং অসুবিধা

আমরা এখন এই ফোনের সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করব, যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন কেন এটা কেনার যোগ্য কি না। আমি এগুলো বুলেট পয়েন্টে লিখছি যাতে স্পষ্ট হয়, এবং প্রত্যেকটা পয়েন্টকে বিস্তারিত করে বলব যেন আপনার মনে কোনো প্রশ্ন না থাকে।

সুবিধাঃ

  • কম দামে প্রিমিয়াম ফিল পাওয়া যায়ঃ এই ফোনটা অ্যাপলের অন্যান্য মডেলের তুলনায় অনেক কম দামে আসছে, কিন্তু এতে প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি এবং ডিজাইন রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম এবং গ্লাস ব্যাক দিয়ে তৈরি, যা হাতে নিলে অনেকটা হাই-এন্ড ফোনের মতো লাগে। যদি আপনি বাজেটে থেকে অ্যাপলের অভিজ্ঞতা চান, তাহলে এটা একটা বড় সুবিধা, কারণ এতে আপনি কম খরচে প্রিমিয়াম ফিচার উপভোগ করতে পারবেন।
  • ভালো পারফরম্যান্স এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারঃ A19 চিপসেট এবং ৮জিবি র‍্যামের কারণে এটা দৈনন্দিন কাজ, মাল্টিটাস্কিং এবং হালকা গেমিংয়ে দুর্দান্ত চলে। অ্যাপলের অপটিমাইজেশনের জন্য ল্যাগ হওয়ার সম্ভাবনা কম, এবং এটা আগের মডেলের থেকে ২০% ফাস্টার হতে পারে। যদি আপনি একটা ফোন চান যা ৩-৪ বছর পরেও স্মুথ চলে, তাহলে এটা আপনার জন্য আদর্শ, কারণ পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটা মিড-রেঞ্জের অন্য ফোনগুলোকে ছাড়িয়ে যায়।
  • অ্যাপলের ইকোসিস্টেম এবং লং-টার্ম সাপোর্টঃ অ্যাপলের অন্যান্য ডিভাইস যেমন অ্যাপল ওয়াচ, ম্যাক বা আইপ্যাডের সাথে সহজে কানেক্ট হয়, যা আপনার প্রোডাকটিভিটি বাড়ায়। এছাড়া, iOS আপডেট ৫-৬ বছর পর্যন্ত পাওয়া যায়, যা সিকিউরিটি এবং নতুন ফিচার নিশ্চিত করে। যদি আপনি অ্যাপলের ইকোসিস্টেমে ঢুকতে চান, তাহলে এটা একটা সহজ এন্ট্রি পয়েন্ট, কারণ এতে আপনি লং-টার্ম ভ্যালু পাবেন।
  • ভালো ব্যাটারি লাইফ এবং চার্জিং অপশনঃ ৩৬৯২এমএএইচ ব্যাটারি সাথে ম্যাগসেফ ওয়্যারলেস চার্জিং আছে, যা পুরো দিন চলার মতো। অ্যাপলের অপটিমাইজেশনের কারণে ব্যাটারি সেভ হয়, এবং ৩০ মিনিটে ৫০% চার্জ হয়ে যায়। যদি আপনি ট্রাভেল করেন বা বাইরে অনেক সময় কাটান, তাহলে এটা খুব কাজে লাগবে, কারণ চার্জিংয়ের ঝামেলা কম।

অসুবিধাঃ

  • সিঙ্গেল ক্যামেরা সিস্টেমঃ শুধু একটা ৪৮মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা আছে, যা প্রো মডেলের মতো মাল্টিপল লেন্স নেই। এতে জুম বা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল অপশন কম, তাই যদি আপনি ফটোগ্রাফি নিয়ে সিরিয়াস হন, তাহলে এটা একটা লিমিটেশন হতে পারে। তবে ক্যাজুয়াল ইউজারদের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু প্রফেশনাল ছবির জন্য অন্য মডেল দেখুন।
  • সম্ভবত ৬০হার্জ ডিসপ্লেঃ কিছু রিপোর্ট বলছে ডিসপ্লে ৬০হার্জ, যা ১২০হার্জের মতো স্মুথ না। স্ক্রলিং বা গেমিংয়ে কিছুটা পার্থক্য লক্ষণীয় হতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনি অ্যান্ড্রয়েডের হাই রিফ্রেশ রেট ফোন থেকে আসেন। তবে দৈনন্দিন ইউজে এটা বড় সমস্যা না, কিন্তু ভিডিও দেখার সময় কিছুটা কম স্মুথ লাগতে পারে।
  • বক্সে চার্জার না থাকাঃ অ্যাপলের নিয়ম অনুসারে বক্সে শুধু ফোন আর ক্যাবল থাকে, চার্জার আলাদা কিনতে হয়। এটা কিছু ইউজারের জন্য অসুবিধা, কারণ অতিরিক্ত খরচ হয় এবং যদি আপনার পুরোনো চার্জার না থাকে, তাহলে তাড়াতাড়ি কিনতে হবে। তবে ম্যাগসেফ অপশন আছে, যা কিছুটা কভার করে।
  • স্টোরেজ এক্সপ্যান্ড না করা যায়ঃ মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট নেই, তাই আপনাকে শুরুতেই উচ্চতর স্টোরেজ ভার্সন কিনতে হবে। যদি আপনি অনেক ফটো বা ভিডিও স্টোর করেন, তাহলে এটা একটা অসুবিধা, কারণ পরে বাড়ানো যায় না এবং ক্লাউড স্টোরেজের উপর নির্ভর করতে হয়।
সার্বিকভাবে, iPhone 17e ২০২৬ মডেল প্রাইস বাংলাদেশ বিবেচনায় এই সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো দেখে আপনি নিজের চাহিদা অনুসারে সিদ্ধান্ত নিন।

উপসংহার

সারাংশে, এই ফোন নিয়ে আমার মতামত হলো যে এটা বাজেটের মধ্যে থেকে অ্যাপলের প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা চাইলে সত্যিই একটা সেরা চয়েস হতে পারে। আপনি যদি দীর্ঘদিন স্মুথ পারফরম্যান্স, ভালো ব্যাটারি লাইফ, নিরাপদ সফটওয়্যার আপডেট এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেমের সুবিধা চান তাহলে এই মডেলটা আপনার জন্য উপযুক্ত। তবে লঞ্চের পর দাম এবং স্টক দেখে নিয়ে কেনার সিদ্ধান্ত নিন, কারণ মার্কেটে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। আরও খবরের জন্য অপেক্ষা করুন বা নিকটস্থ স্টোরে গিয়ে হাতে নিয়ে দেখুন। ধন্যবাদ এই আর্টিকেলটা পড়ার জন্য, আশা করি আপনার ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য হয়েছে!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।