২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড
নীল সমুদ্র, সাদা বালু আর স্বপ্নের ভ্রমণ-সবকিছু প্ল্যান করতে চাইছ? জেনে নাও
২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড বিস্তারিতভাবে। যাতায়াত, হোটেল,
খাবার, সেরা সময় ও বাজেট সেভ টিপস-ভুল ছাড়াই পারফেক্ট সেন্ট মার্টিন ট্রিপের
সম্পূর্ণ গাইড।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর
স্থানগুলোর একটি।.যদি আপনি ২০২৬ সালে এখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে এই
লেখাটি আপনার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এখানে সবকিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা
হয়েছে, যাতে আপনার ভ্রমণের প্রস্তুতি সহজ এবং নিরাপদ হয়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড
ভূমিকা
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, যাকে স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিনজিরা নামেও ডাকা হয়,
বঙ্গোপসাগরের মাঝে অবস্থিত একটি ছোট্ট দ্বীপ। এর আয়তন মাত্র ৮ বর্গকিলোমিটার,
কিন্তু এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং জীববৈচিত্র্য এটিকে একটি অনন্য গন্তব্য
করে তুলেছে। প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ পর্যটক এখানে আসেন, যারা সমুদ্রের শান্তি,
প্রবালের রঙিন জগত এবং স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চান। ২০২৬ সালে সেন্ট
মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন, কারণ সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে সরকার কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে যাতে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট মৌসুমে
শুধুমাত্র সীমিত অ্যাক্সেস দেওয়া হয়। এ বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্তই
মূলত যাওয়া যাবে, যেখানে নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র দিনের ট্রিপ অনুমোদিত। এই
নিয়মগুলো দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবে, কারণ অতিরিক্ত ভিড় প্রবাল এবং
সৈকতের ক্ষতি করে।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, এই পরিবর্তনগুলো ভালো দিকে নিয়ে যাবে, কারণ
ভিড় কমলে আপনি আরও শান্তভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, দ্বীপের স্থানীয়
অর্থনীতি এখনও পর্যটনের উপর নির্ভরশীল, তাই সরকার এবং স্থানীয়রা মিলে একটি
ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন। যদি আপনি প্রথমবার যাচ্ছেন, তাহলে এই
গাইডটি পড়ে নেওয়া আপনার জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে, কারণ এখানে সবকিছু ধাপে ধাপে
ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক আপডেট অনুসারে, ২০২৬ সালে নতুন রুলস চালু
হয়েছে, যেমন প্লাস্টিক ব্যবহার সীমিত করা এবং পর্যটকদের জন্য ম্যান্ডেটরি
রেজিস্ট্রেশন। এগুলো মেনে চললে আপনার ভ্রমণ আরও সাসটেইনেবল হবে।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সরাসরি যাওয়ার কোনো সহজ উপায় নেই, তাই আপনাকে
কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার যেতে হবে, যা ঢাকা থেকে
বাস, ট্রেন বা বিমানের মাধ্যমে সম্ভব। বাস যাত্রা সবচেয়ে সাধারণ এবং সস্তা
বিকল্প, যা সাধারণত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় নেয় এবং ভাড়া পড়ে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা।
যদি আপনি সময় বাঁচাতে চান, তাহলে বিমানে কক্সবাজার যাওয়া ভালো, যদিও এর দাম অনেক
বেশি হতে পারে, বিশেষ করে পিক সিজনে। কক্সবাজার পৌঁছে আপনাকে নুনিয়াছড়া ঘাটে যেতে
হবে, যা অটোরিকশা বা সিএনজিতে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় সম্ভব এবং সময় লাগে ৩০
মিনিটের মতো। সেখান থেকে শিপ বা ফেরিতে করে দ্বীপে যাওয়া যায়, যা ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা
সময় নেয়। মনে রাখবেন, টেকনাফ রুটটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে মায়ানমারের সীমান্ত
সমস্যার কারণে, তাই নুনিয়াছড়া ঘাটই একমাত্র বিকল্প।
২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড অনুসারে, শিপের টিকিট রাউন্ড ট্রিপে
৩৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়, যা জাহাজের ধরনের উপর নির্ভর করে। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস বা
বারো আউলিয়া জাহাজগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, কারণ এগুলোতে ভালো সুবিধা রয়েছে যেমন
এয়ারকন্ডিশনড কেবিন এবং সিট। জাহাজগুলো সকাল ৭ থেকে ১০টার মধ্যে ছাড়ে এবং ফিরতি
যাত্রা বিকালে হয়। টিকিটের সাথে একটি ট্রাভেল পাস দেওয়া হয়, যা কিউআর কোড স্ক্যান
করে ব্যবহার করতে হয়। যদি আপনি সমুদ্রসিকনেসের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আগে থেকে
ওষুধ নিয়ে যান এবং জাহাজে হালকা খাবার খান। এছাড়া, আবহাওয়া চেক করে যাওয়া জরুরি,
কারণ ঝড়ো হাওয়ায় যাত্রা বাতিল হতে পারে। পিক সিজনে, যেমন অক্টোবর থেকে মার্চ,
টিকিট আগে বুক করুন কারণ প্রতিদিন ৫টা লঞ্চ চলে। যদি আপনি গ্রুপে যান, তাহলে
প্রাইভেট বোটের অপশনও আছে, কিন্তু সেটা বেশি খরচসাপেক্ষ।
থাকার ব্যবস্থা
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট, হোটেল এবং গেস্টহাউস রয়েছে, যা আপনার বাজেট, পছন্দ এবং ভ্রমণের ধরন অনুসারে বেছে নেওয়া যায়। দ্বীপের ছোট আয়তনের কারণে সবকিছু সৈকতের কাছাকাছি অবস্থিত, যা থাকার অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। জনপ্রিয় অপশনগুলোর মধ্যে রয়েছে সানসেট সেরেনিটি রিসোর্ট, যা তার শান্ত পরিবেশ এবং সি-ভিউ রুমের জন্য বিখ্যাত, এবং অ্যাটলান্টিক রিসোর্ট, যা ফ্যামিলি-ফ্রেন্ডলি সুবিধা প্রদান করে। এছাড়া, ড্রিমার্স প্যারাডাইস এবং ফ্যান্টাসি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টও পর্যটকদের মধ্যে প্রিয়, কারণ এগুলোতে মডার্ন অ্যামেনিটিস যেমন ওয়াই-ফাই, হট ওয়াটার এবং প্রাইভেট ব্যালকনি রয়েছে। সেন্ট মার্টিনের থাকার ব্যবস্থা সাধারণত ইকো-ফ্রেন্ডলি, কারণ দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সরকারী নিয়মাবলী অনুসরণ করা হয়। ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড মতে, থাকার খরচ মৌসুমভিত্তিক পরিবর্তন হয়, বিশেষ করে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি যখন পিক সিজন। এই অপশনগুলোতে বিদ্যুৎ সাপ্লাই সীমিত হতে পারে, তাই জেনারেটর-সাপোর্টেড রিসোর্ট বেছে নেওয়া ভালো।
বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য সেন্ট মার্টিনে সস্তা অপশন প্রচুর, যেমন সুরজাস্তো রিসোর্ট বা হোটেল রয়্যাল বিচ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, যেখানে রুমের দাম প্রতি রাত ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা শুরু হয়। এই হোটেলগুলোতে বেসিক সুবিধা যেমন ফ্যান, অ্যাটাচড বাথরুম এবং কমন ডাইনিং এরিয়া রয়েছে, যা যুবক বা ব্যাকপ্যাকারদের জন্য আদর্শ। ব্লু ল্যাগুন বিচ রিসোর্টও একটা ভালো চয়েস, যার সি-ভিউ রুম ২৫০০ টাকায় পাওয়া যায় এবং এখানে আপনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনে ঘুমাতে পারবেন। এছাড়া, কোরাল ভিউ রিসোর্ট, যা নৌবাহিনীর পরিচালিত, ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায় উপলব্ধ এবং নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে ভালো। এই বাজেট অপশনগুলোতে প্রায়শই বিদ্যুৎ কাট যায়, তাই পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাওয়া জরুরি। সাম্প্রতিক রিভিউ অনুসারে, এই হোটেলগুলো পরিষ্কার এবং স্থানীয় স্টাফের সার্ভিস ভালো, কিন্তু পিক সিজনে ভরে যায় তাই আগে বুকিং করুন। যদি আপনি গ্রুপে যান, তাহলে রুম শেয়ার করে খরচ আরও কমাতে পারেন, যা ২০২৬ সালে আরও জনপ্রিয় হয়েছে।
মিড-রেঞ্জ এবং লাক্সারি থাকার জন্য স্যান্ড ক্যাসল বিচ রিসোর্ট বা অ্যাটলান্টিক রিসোর্ট বেছে নিন, যেখানে রুমের দাম ৬০০০ থেকে ১২০০০ টাকা প্রতি রাত। এই রিসোর্টগুলোতে সুইমিং পুল, স্পা, প্রাইভেট বিচ অ্যাক্সেস এবং এয়ারকন্ডিশনড রুম রয়েছে, যা কাপল বা ফ্যামিলির জন্য উপযুক্ত। সানসেট সেরেনিটি রিসোর্টে সি-ফেসিং কটেজ ৮০০০ টাকা থেকে শুরু, এবং এখানে ইকো-ফ্রেন্ডলি ডিজাইন সহ গাছপালা ঘেরা পরিবেশ রয়েছে। নোঙর ইকো বিচ রিসোর্টও একটা ভালো অপশন, যা শান্ত এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ, দাম ৫০০০ থেকে ৯০০০ টাকা। এই লাক্সারি অপশনগুলোতে ২৪/৭ বিদ্যুৎ সাপ্লাই, রেস্টুরেন্ট এবং ওয়াই-ফাই থাকে, যা দ্বীপের সীমিত ইনফ্রাস্ট্রাকচার সত্ত্বেও কমফর্ট প্রদান করে। ২০২৬ সালে, এই রিসোর্টগুলোতে নতুন সুবিধা যেমন সোলার প্যানেল যোগ হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব ভ্রমণকে উৎসাহিত করে। যদি আপনি বিশেষ কিছু চান, তাহলে প্রাইভেট কটেজ বুক করুন, কিন্তু দাম বেশি হবে।
থাকার ব্যবস্থা বুকিং করার জন্য আগে থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন ট্রিপঅ্যাডভাইজার, এক্সপেডিয়া বা অ্যাগোডা ব্যবহার করুন, কারণ ছুটির সময় সবকিছু ভরে যায়। আমার সাজেশন হলো সি-ফেসিং রুম নেওয়া, কারণ সকালে উঠে সমুদ্র দেখার অনুভূতি অসাধারণ। যদি আপনি ট্যুর প্যাকেজ নেন, তাহলে থাকার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে, যেমন আইটিএস হলিডেজের প্যাকেজে ২০০০০ টাকায় ৩ দিনের থাকা। নিরাপত্তা এবং ক্লিনলিনেস চেক করে নিন, বিশেষ করে ফ্যামিলি ট্রিপে। ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড মতে, থাকার জায়গায় এনআইডি বাধ্যতামূলক এবং প্লাস্টিক-ফ্রি নিয়ম মেনে চলুন। যদি বিদ্যুৎ সমস্যা হয়, তাহলে জেনারেটর-সাপোর্টেড রিসোর্ট বেছে নিন। সব মিলিয়ে, সঠিক চয়েস করলে আপনার থাকা অবিস্মরণীয় হয়ে উঠবে।
খাবার এবং রেস্টুরেন্ট
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে খাবারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তাজা সি-ফুড, যা স্থানীয়
জেলেরা সরাসরি সমুদ্র থেকে ধরে আনে এবং সেগুলোকে সহজে প্রস্তুত করে পরিবেশন করা
হয়। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ যেমন রুই, ইলিশ বা সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, লবস্টার,
শ্রিম্প এবং ঝিনুকের মতো আইটেমগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর। স্থানীয়
রান্নায় এগুলোকে গ্রিল করে, কারি বানিয়ে বা ভুনা করে খাওয়ানো হয়, যা দ্বীপের
অনন্য স্বাদ দেয়। এছাড়া, ট্র্যাডিশনাল বাংলাদেশি খাবার যেমন বিরিয়ানি, ভুনা
খিচুড়ি বা ভাত-মাছের সেট মিলও পাওয়া যায়, যা স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে একটা
বিশেষ অভিজ্ঞতা তৈরি করে। নারকেলের পানি বা তাজা ফলের রস এখানে সবসময় উপলব্ধ, যা
গরমের দিনে শরীরকে সতেজ রাখে। আমার অভিজ্ঞতায়, এখানকার সি-ফুডের তাজাত্ব এমন যে
এটি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, এবং এটি দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে সরাসরি
যুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, আরও বেশি পর্যটক আসায় খাবারের বৈচিত্র্য বেড়েছে,
যাতে ইন্টারন্যাশনাল টাচও যোগ হয়েছে।
দ্বীপে রেস্টুরেন্ট এবং খাবারের জায়গাগুলো মূলত সৈকতের কাছে বা জেটির কাছাকাছি
অবস্থিত, যেমন সেন্ট মার্টিন ভিলেজ রেস্টুরেন্ট, হাসান রেস্টুরেন্ট বা ব্লু মেরিন
ক্যাফে, যেখানে খাবার পরিষ্কার এবং নিরাপদ। এই রেস্টুরেন্টগুলোতে নাস্তায়
পরোটা-ডিম বা রুটি-সবজির মতো সাধারণ খাবার ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় পাওয়া যায়, লাঞ্চ
বা ডিনারে ভাত-মাছের সেট মিল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, এবং বিশেষ আইটেম যেমন গ্রিলড
লবস্টার বা ফিশ বারবিকিউ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা হতে পারে, যা মাছের ধরন এবং সাইজের
উপর নির্ভর করে। লোকাল স্টলগুলোতে দাম একটু কম, কিন্তু দরদাম করে কিনুন কারণ
টুরিস্ট সিজনে দাম বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড
অনুসারে, একজন ব্যক্তির দৈনিক খাবার খরচ ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা হতে পারে, যা আপনার
পছন্দ এবং রেস্টুরেন্টের ধরনের উপর নির্ভর করে।
যদি আপনি বাজেটে থাকেন, তাহলে লোকাল ইটারিগুলো বেছে নিন, যেখানে স্থানীয়
সাপ্লায়ারদের থেকে তাজা উপাদান ব্যবহার হয়। কিছু রেস্টুরেন্টে ভেজিটেরিয়ান অপশনও
আছে, যদিও সি-ফুড প্রধান। এছাড়া, কিছু জায়গায় ইটালিয়ান বা অন্যান্য খাবার পাওয়া
যায়, যেমন পিজ্জা, কিন্তু সেগুলো কম সাধারণ।
খাবার খাওয়ার সময় কয়েকটা টিপস মেনে চললে আপনার অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে, যেমন মাছ
কেনার সময় তাজাত্ব চেক করুন-চোখ উজ্জ্বল কিনা বা গন্ধ নেই কিনা দেখে। পানীয় জলের
সমস্যা থাকতে পারে, তাই সবসময় বোতলজাত পানি বা নারকেল পানি পান করুন এবং ফলের রস
চেষ্টা করুন। যদি আপনি ভেজিটেরিয়ান হন, তাহলে আগে থেকে রেস্টুরেন্টে বলে দিন যাতে
তারা অর্ডার অনুসারে বানিয়ে দেয়, কারণ অপশন সীমিত হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায়,
সৈকতে বসে গ্রিলড ফিশ খাওয়ার মজা আলাদা, কিন্তু রাতে খাবারের জায়গা বন্ধ হয়ে যায়
তাই দিনের বেলায় প্ল্যান করুন। সাম্প্রতিক রিভিউ অনুসারে, খাবারের কোয়ালিটি ভালো,
কিন্তু টুরিস্ট সিজনে ভিড় বেশি হয়ে যায় তাই আগে থেকে রিজার্ভ করুন। সব মিলিয়ে,
এখানকার খাবার দ্বীপের শান্ত পরিবেশের সাথে মিলে একটা অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি
করে।
আকর্ষণীয় স্থান এবং কার্যক্রম
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তার প্রবালপূর্ণ সৈকতগুলো, যা
বিশ্বের অন্যতম সুন্দর বলে পরিচিত। এখানকার সাদা বালুকাময় সৈকত এবং নীল জলের
বিস্তার যেন একটা প্রাকৃতিক ছবির মতো। দ্বীপের চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন বিচ,
যেমন ডায়মন্ড বিচ বা লাস্ট বিচ, যেখানে আপনি শান্তভাবে হাঁটাহাঁটি করতে পারেন এবং
সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। নর্থ বিচটি বিশেষ করে শান্ত এবং কম
ভিড়ভাড়, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। এছাড়া, দ্বীপের গ্রামীণ এলাকা ঘুরে দেখা
যায়, যেখানে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং তাদের সাথে কথা
বলে স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। সেন্ট মার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র
প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত, যা তার জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত। এখানে আসলে মনে
হয় যেন একটা ছোট্ট স্বর্গে চলে এসেছেন, যেখানে প্রকৃতির সাথে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে
উঠে।
দ্বীপে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটিসের মধ্যে স্নরকেলিং এবং স্কুবা ডাইভিং সবচেয়ে
জনপ্রিয়, যা আপনাকে পানির নিচের রঙিন জগত অন্বেষণ করার সুযোগ দেয়। প্রবালের মধ্যে
বিভিন্ন রকমের মাছ এবং সামুদ্রিক জীব দেখা যায়, যা একটা অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
ছেঁড়া দ্বীপে যাওয়া আরেকটা অবশ্যপালনীয় কার্যক্রম, যা স্পিডবোটে মাত্র ৩০ মিনিট
লাগে এবং সেখানে শান্ত জলে সাঁতার কাটা বা প্রবাল দেখা যায়। ২০২৬ সালে সেন্ট
মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড অনুসারে, এই টুরগুলোতে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক
এবং প্রবাল স্পর্শ না করার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, যাতে পরিবেশের কোনো
ক্ষতি না হয়। যদি আপনি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাহলে কায়াকিং বা ফিশিং ট্রাই
করতে পারেন, কিন্তু সবসময় সেফটি গিয়ার নিয়ে যান। আমার অভিজ্ঞতায়, স্কুবা ডাইভিং
করে মনে হয়েছে যেন একটা অন্য জগতে প্রবেশ করেছি, যেখানে সবকিছু এত রঙিন এবং শান্ত
যে ভুলে যাওয়া যায় না। স্থানীয় গাইড নিয়ে যাওয়া ভালো, কারণ তারা দ্বীপের ইতিহাস
এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে বিস্তারিত বলে দিতে পারেন।
অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে সাইকেল ভাড়া করে দ্বীপ ঘুরে দেখা বা স্থানীয় বাজার
থেকে শেল ক্রাফট কেনা অন্তর্ভুক্ত। রাতে আকাশে নক্ষত্র দেখা বা সমুদ্রের গর্জন
শোনা একটা রোমান্টিক অভিজ্ঞতা, যা শহরের ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দেয়। দ্বীপের আয়তন
ছোট হওয়ায় সবকিছু সহজেই ঘুরে দেখা যায়, এবং স্থানীয় মানুষের সাথে মিশে তাদের
জীবনধারা বোঝা যায়। এছাড়া, বিভিন্ন টুর যেমন বোট রেন্টাল বা হাইকিং করে দ্বীপের
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। যদি আপনি শান্তি খুঁজছেন, তাহলে সৈকতে বসে বই
পড়া বা যোগা করা ভালো লাগবে। সব মিলিয়ে, এখানকার কার্যক্রমগুলো এমন যে সব বয়সের
মানুষের জন্য উপযোগী, এবং প্রকৃতির সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলে।
খরচের অনুমান
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের খরচ মূলত আপনার যাত্রার ধরন, থাকার ব্যবস্থা, খাবার এবং
অতিরিক্ত কার্যক্রমের উপর নির্ভর করে। যদি আপনি একজন বাজেট ট্রাভেলার হন এবং
সাধারণভাবে পরিকল্পনা করেন, তাহলে এক রাত দুই দিনের ট্রিপে শিপের রাউন্ড ট্রিপ
ভাড়া প্রায় ৩৫০০ টাকা হতে পারে, যা কক্সবাজার থেকে দ্বীপে যাওয়া-আসার জন্য। হোটেল
বা রিসোর্টে থাকার জন্য বাজেট অপশনে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা প্রতি রাত, বিশেষ করে
যদি আপনি রুম শেয়ার করেন। খাবারের খরচ দিনে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা, যাতে তাজা সি-ফুড
এবং লোকাল খাবার অন্তর্ভুক্ত। মোট হিসাবে, ঢাকা থেকে কক্সবাজারের বাস ভাড়া যোগ
করে (প্রায় ১০০০ টাকা), একজনের জন্য ৯০০০ থেকে ১০০০০ টাকা লাগতে পারে। এন্ট্রি ফি
এবং লোকাল ট্যাক্স যোগ করুন, যা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা হতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায়, এই
ধরনের বাজেট ট্রিপে সবকিছু সহজে ম্যানেজ হয় যদি আপনি আগে থেকে বুকিং করেন।
যদি আপনি একটু বেশি কমফর্ট চান বা লাক্সারি অপশন নিতে চান, তাহলে খরচ বাড়বে।
উদাহরণস্বরূপ, প্রাইভেট বোট বা ভালো জাহাজ নিলে শিপ ভাড়া ৫০০০ টাকা বা তার বেশি
হতে পারে। হাই-এন্ড রিসোর্টে থাকলে প্রতি রাত ৮০০০ থেকে ১২০০০ টাকা, যেখানে
সুইমিং পুল বা স্পা সুবিধা থাকবে। খাবারও যদি রিসোর্টের রেস্টুরেন্টে খান, তাহলে
দিনে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা লাগতে পারে। অতিরিক্ত কার্যক্রম যেমন স্কুবা ডাইভিং বা
ছেঁড়া দ্বীপ টুরের জন্য ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা যোগ করুন। ২০২৬ সালে সেন্ট মার্টিন
ভ্রমণ খরচ এবং গাইড অনুসারে, লাক্সারি প্যাকেজ নিলে মোট ১৫০০০ থেকে ২৫০০০ টাকা
হতে পারে একজনের জন্য, বিশেষ করে যদি আপনি ফ্লাইট নিয়ে কক্সবাজার যান যা অতিরিক্ত
৫০০০ টাকা যোগ করবে। এই ধরনের ট্রিপে আরও আরাম পাবেন, কিন্তু বাজেট চেক করে নেওয়া
ভালো।
খরচ কমানোর জন্য কয়েকটা টিপস আছে যা সাহায্য করবে। গ্রুপে যান, কারণ রুম এবং
ট্রান্সপোর্ট শেয়ার করলে খরচ ভাগ হয়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ৩ রাত ২ দিনের প্যাকেজে
৪৫০০ থেকে ৯৫০০ টাকা পার পার্সন পড়তে পারে, যাতে যাতায়াত এবং খাবার অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় সার্ভিসে দরদাম করুন, বিশেষ করে খাবার এবং টুরে। আমার একটা ট্রিপে মোট
১০০০০ টাকায় হয়েছে, কিন্তু সেটা লোকাল খাবার খেয়ে এবং দরদাম করে। অফ-সিজনে যাওয়া
চেষ্টা করুন, যদিও ২০২৬ সালে সীমিত সময় খোলা থাকবে। ট্রাভেল পাস নিয়ে যান, যা
অতিরিক্ত খরচ বাঁচায়। সব মিলিয়ে, সঠিক পরিকল্পনা করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
ভ্রমণ টিপস
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে
জানুয়ারি, যখন আবহাওয়া মনোরম এবং ঝড়ের সম্ভাবনা কম। আপনার সাথে সানস্ক্রিন,
হ্যাট, সানগ্লাস এবং পর্যাপ্ত পানির বোতল নিয়ে যান, কারণ সূর্যের তাপ তীব্র হতে
পারে। এনআইডি বা পাসপোর্টের ফটোকপি বাধ্যতামূলক, যা চেকপয়েন্টে দেখাতে হয়।
দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিক ফেলবেন না এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন। রাত ৮টার
পর সৈকতে একা যাবেন না, কারণ আলো কম এবং নিরাপত্তার জন্য গ্রুপে থাকা ভালো। ২০২৬
সালে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ খরচ এবং গাইড মতে, শিপ এবং হোটেল টিকিট আগে থেকে অনলাইন
বুক করুন যাতে সমস্যা না হয়। পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যান, কারণ বিদ্যুৎ সাপ্লাই
অনিয়মিত এবং মোবাইল চার্জ করা দরকার পড়তে পারে। আমি সবসময় হালকা খাবার যেমন
বিস্কুট বা ফল সাথে রাখি, কারণ শিপে খাবারের দাম বেশি এবং অপেক্ষা করতে হয়।
এছাড়া, স্থানীয়দের সাথে কথা বলুন, তারা অনেক অজানা টিপস দিতে পারেন। মনসুন সিজন
(জুন-সেপ্টেম্বর) এড়িয়ে যান, কারণ তখন যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন রুলস অনুসারে,
রেজিস্ট্রেশন করে যান।
আরো পড়ুনঃ
ক্যানন ক্যামেরা বাংলাদেশ প্রাইস
উপসংহার
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ যেন একটি ছোট্ট অ্যাডভেঞ্চারের মতো, যা আপনাকে প্রকৃতির সাথে
গভীরভাবে যুক্ত করে। যদি আপনি সঠিক পরিকল্পনা করে যান, তাহলে এটি আপনার জীবনের
অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। আমার মতে, এখানে যাওয়া মানে শুধু ছুটি কাটানো নয়,
বরং প্রকৃতির সাথে একটি গভীর কানেকশন গড়ে তোলা। নিরাপদ এবং আনন্দময় ভ্রমণ করুন।









ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url