বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম
বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম জানতে চান? অল্প জায়গায়ও কীভাবে টাটকা, সবুজ শসার ফলন পাবেন, তার সহজ কৌশল এখানে তুলে ধরা হয়েছে। সঠিক টব, মাটি, রোদ ও পানির নিয়ম সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে জানুন। এই ছোট ভুলেই শসা গাছে ফল আসে না।
দামী সার বা জটিল পদ্ধতির দরকার নেই। ঘরে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই কীভাবে সুস্থ
গাছ ও ভালো ফলন পাবেন, সেটিও জানতে পারবেন। আপনি নতুন বাগানপ্রেমী হন এই গাইড আপনার সময়, পরিশ্রম এবং খরচ-তিনটিই বাঁচাতে
সাহায্য করবে।
পেজ সূচিপত্রঃ বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম
- বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম
- বারান্দায় শসা চাষের জন্য কোন জাতের বীজ ভালো
- টব নির্বাচন ও মাটি তৈরির সহজ উপায়
- শসার বীজ বপনের সঠিক সময় ও পদ্ধতি
- শসা গাছে কতটা রোদ ও পানি প্রয়োজন
- জৈব সার ব্যবহার করে শসার ফলন বাড়ানোর কৌশল
- মাচা তৈরি ও লতা পরিচর্যার কার্যকর নিয়ম
- শসা গাছের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের সহজ উপায়
- শসা কখন সংগ্রহ করবেন এবং কীভাবে সংরক্ষণ করবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম
বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম জানলে, আপনার ছোট্ট বারান্দাটাই হয়ে উঠবে
একটা সবুজ বাগান অনেকেই মনে করেন, শসা চাষ মানেই বড় জমি আর কৃষকের মাঠ। কিন্তু
সত্যি বলতে, একটা মাঝারি সাইজের টব আর একটু যত্ন-এটুকুই যথেষ্ট। আপনার বারান্দার
কোণে পড়ে থাকা জায়গাটুকু আসলে অনেক কিছু ধারণ করতে পারে। শুধু একটু মনোযোগ দিতে
হবে। প্রথম কাজ হলো সঠিক টব বেছে নেওয়া। শসার শিকড় বেশ গভীরে যায়, তাই অন্তত
১২ থেকে ১৫ ইঞ্চি গভীর টব দরকার। ছোট টবে লাগালে গাছ বাড়বে ঠিকই, কিন্তু ফল তেমন
আসবে না-এটা অনেকেই প্রথমবার চাষে বুঝতে পারেন না। তাই শুরুতেই এই ভুলটা এড়িয়ে
যান।
মাটির মিশ্রণটা একটু বুদ্ধি করে বানাতে হবে। সাধারণ বাগানের মাটির সাথে কোকো পিট
আর জৈব সার মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ মাটিকে হালকা রাখে, পানি ধরে রাখে, আবার
গোড়ায় পচনও ধরতে দেয় না। শসার জন্য এই ব্যালেন্সটা খুব জরুরি। বীজ লাগানোর আগে
একরাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়। মাটিতে আধা ইঞ্চি গভীরে
বীজ পুঁতে দিন, তারপর হালকা করে পানি দিন-ঢেলে নয়, স্প্রে করে। বীজ লাগানোর ৫
থেকে ৭ দিনের মধ্যেই ছোট ছোট সবুজ মাথা উঁকি দিতে শুরু করবে। সেই মুহূর্তটা...
সত্যিই অন্যরকম লাগে। রোদের বিষয়টা একদম ছাড় দেবেন না। শসা গাছ দিনে কমপক্ষে ৬
ঘণ্টা সরাসরি রোদ চায়।
বারান্দার যে কোণে সবচেয়ে বেশি রোদ পড়ে, টবটা সেখানে রাখুন। রোদ কম পেলে গাছ
লম্বা হবে, কিন্তু ফুল আসতে দেরি হবে। পানি দেওয়ার রুটিন ঠিক করুন। প্রতিদিন
সকালে মাটি দেখুন-শুকিয়ে গেলে পানি দিন, ভেজা থাকলে দেবেন না। অতিরিক্ত পানি
শসার জন্য রীতিমতো বিষের মতো কাজ করে। গোড়ায় পচন ধরলে গাছ বাঁচানো কঠিন হয়ে
পড়ে। গাছ একটু বড় হলেই একটা মাচা বা জালি দিয়ে দিন। শসা লতানো গাছ, এটা উপরে
উঠতে পারলে ফল ভালো আসে এবং বাতাসও ঠিকমতো চলাচল করতে পারে। বারান্দার রেলিংয়ে
সুতা বেঁধে দিলেও কাজ চলে-খুব বড় বিনিয়োগের দরকার নেই। ফুল আসার পর একটু নজর
রাখুন। শসার পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা হয়।
বারান্দায় মৌমাছি কম থাকে, তাই নিজেই একটা তুলার কুঁড়ি দিয়ে পরাগায়ন করিয়ে
দিতে পারেন। একটু কষ্ট, কিন্তু ফলন দেখলে সব ভুলে যাবেন। রাসায়নিক সার যতটা
সম্ভব এড়িয়ে চলুন। পনের দিন পর পর পচা পাতার সার বা ভার্মি কম্পোস্ট দিন। এতে
ফল স্বাস্থ্যকর হয় আর মাটির গুণও বজায় থাকে। নিজের হাতে চাষ করা শসা খাবেন, তাই
বিষমুক্ত রাখাটা জরুরি। প্রথমবার সব পারফেক্ট নাও হতে পারে। গাছ মরে যেতে পারে,
ফল নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রতিটা ব্যর্থতা থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়। যারা আজ
দারুণ বাগান করেন, তারাও একসময় প্রথমবার শুরু করেছিলেন-ঠিক আপনার মতোই।
বারান্দায় শসা চাষের জন্য কোন জাতের বীজ ভালো
শসা চাষে নামার আগে বেশিরভাগ মানুষ একটা জায়গায় আটকে যান-কোন বীজটা লাগাবো?
বাজারে গেলে দশ রকমের প্যাকেট দেখবেন, সবগুলোর গায়ে বড় বড় কথা লেখা। কিন্তু
বারান্দার মতো সীমিত জায়গার জন্য সব জাত মানানসই নয়। এটা বুঝতে পারলেই আপনার
অর্ধেক কাজ শেষ। হাইব্রিড জাতগুলো দিয়ে শুরু করা যাক। বাজারে পাওয়া "হীরা" বা
"মালিনী" জাতের হাইব্রিড শসা বারান্দার টবের জন্য বেশ উপযুক্ত। এগুলো তুলনামূলক
কম জায়গায় ভালো ফলন দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও একটু বেশি থাকে। নতুন যারা চাষ
শুরু করছেন, তাদের জন্য এই জাত দিয়েই যাত্রা শুরু করা ভালো। দেশি জাতের কথাও
বলতে হয়।
আমাদের চেনা দেশি শসা, যেটা গ্রামের বাড়িতে দাদির হাতে লাগানো দেখেছেন-সেই জাতও
বারান্দায় ভালো চলে। স্বাদে এটা একটু বেশি মিষ্টি, আর যত্ন নেওয়াও তুলনামূলক
সহজ। তবে ফলন হয়তো হাইব্রিডের মতো এত বেশি হবে না, এটা মেনে নিতে হবে। জাপানিজ
লম্বা শসা বা "বার্পলেস কিউকাম্বার" নামেও একটা জাত পাওয়া যায়। এই জাতের শসা
লম্বা, চিকন, খেতে একদম কচকচে। বারান্দায় মাচা করে দিলে এই জাত খুব ভালো ফল
দেয়, আর দেখতেও বেশ সুন্দর লাগে গাছে ঝুলে থাকলে। মিনি বা বেবি কিউকাম্বার জাতও
একটা ভালো অপশন হতে পারে। ছোট আকারের শসা, খেতে হালকা মিষ্টি, আর গাছও তেমন বড়
জায়গা নেয় না।
আরো পড়ুনঃ টবের জন্য মাটির মিশ্রণ বানানোর সহজ উপায়
ছোট টবে বা ছোট বারান্দায় যাদের জায়গার সংকট আছে, তাদের জন্য এই জাত একদম
মানানসই। বীজ কেনার সময় একটা জিনিস মাথায় রাখুন-সব সময় ভালো কোম্পানির বীজ
কিনুন। লোকাল বাজার থেকে না চেনা প্যাকেটের বীজ কিনলে অঙ্কুরোদগম হার কম হতে
পারে, বা গাছ রোগে পড়ে যেতে পারে। কয়েক টাকা বাঁচাতে গিয়ে পুরো চাষটাই মাটি
হয়ে যেতে পারে। জাত বাছাইয়ের সময় নিজের জলবায়ুর কথাও ভুলবেন না। গরমকালে এক
ধরনের জাত ভালো চলে, শীতকালে আবার আরেক ধরনের। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় হাইব্রিড আর
দেশি জাত, দুটোই মোটামুটি সারা বছর চাষ করা যায়। তবু বীজের প্যাকেটের গায়ে লেখা
মৌসুমের নির্দেশনাটা একবার দেখে নেওয়া ভালো অভ্যাস।
শেষে বলি, প্রথমবার একসাথে অনেক জাত না লাগিয়ে একটা বা দুটো জাত দিয়ে শুরু
করুন। কোন জাত আপনার বারান্দার আলো-বাতাসের সাথে মানিয়ে যায়, সেটা বোঝার একটা
সময় দরকার। একবার বুঝে গেলে, পরের বার থেকে নিজের অভিজ্ঞতাই আপনাকে সঠিক পথ
দেখাবে।
টব নির্বাচন ও মাটি তৈরির সহজ উপায়
শসা গাছ লাগানোর আগে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা মাথায় ঘোরে, সেটা হলো-কোন টবে
লাগাবো? অনেকে বাড়িতে পড়ে থাকা যেকোনো টব তুলে নেন, ভাবেন গাছ তো বড় হবেই।
কিন্তু বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম মেনে চললে দেখবেন, টবের সাইজটাই আসলে
পুরো ফলাফল ঠিক করে দেয়। তাই এই জায়গায় একটু সময় নিয়ে ভাবা দরকার। শসার
শিকড় মাটির গভীরে যেতে ভালোবাসে। তাই টব বাছাই করার সময় অন্তত ১২-১৫ ইঞ্চি
গভীরতা আছে কিনা, সেটা আগে দেখে নিন। চওড়ায় ১০-১২ ইঞ্চি হলেই চলবে। ছোট টবে
শিকড় জায়গা না পেলে গাছ বাড়বে ঠিকই, কিন্তু ফল তেমন আসবে না।টবের নিচে পানি
নিষ্কাশনের ছিদ্র আছে কিনা, এটা কখনো এড়িয়ে যাবেন না।
মাটিতে পানি জমে থাকলে গোড়া পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। প্লাস্টিক,
মাটির টব বা এমনকি পুরনো বালতি-যেকোনো কিছুই চলবে, শুধু নিষ্কাশনের ব্যবস্থাটা
ঠিক থাকতে হবে। এবার আসি মাটির প্রসঙ্গে। সাধারণ বাগানের মাটি একা দিয়ে শসা ভালো
হয় না, এটা মেনে নেওয়া ভালো। দোআঁশ মাটির সাথে জৈব সার আর কোকো পিট মিশিয়ে
নিলে মাটি একদম হালকা আর ঝুরঝুরে হয়ে যায়। এই মিশ্রণ বানানোর একটা সহজ অনুপাত
মনে রাখুন-পঞ্চাশ শতাংশ মাটি, ত্রিশ শতাংশ জৈব সার বা কম্পোস্ট, আর বিশ শতাংশ
কোকো পিট বা বালি। এই ব্যালেন্স মাটিকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, আবার
অতিরিক্ত পানি জমেও থাকতে দেয় না। শসার শিকড়ের জন্য এই দুটোই সমান জরুরি।
মাটি তৈরির সময় হাত দিয়ে একটু মিশিয়ে দেখুন। মাটি যদি হাতে চেপে ধরলে সহজে
ভেঙে যায়, বুঝবেন মিশ্রণ ঠিক আছে। আর যদি কাদার মতো লেগে থাকে, তাহলে আরেকটু
কোকো পিট বা বালি মিশিয়ে নিন। লাগানোর আগে টবে মাটি ভরার সময় একদম উপর পর্যন্ত
ভরবেন না। টবের কানা থেকে এক থেকে দেড় ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন। এতে পানি দেওয়ার সময়
মাটি উপচে পড়বে না, আর গাছের গোড়াও ঠিকমতো ভিজবে। মাটি একবার তৈরি করে ফেললেই
কাজ শেষ ভাববেন না। প্রতি পনের-বিশ দিন পর পর একটু জৈব সার উপর থেকে ছড়িয়ে দিন।
মাটির প্রাণ ধরে রাখাটাই আসল কাজ, কারণ প্রাণবন্ত মাটিতেই গাছ প্রাণবন্ত হয়ে
বেড়ে ওঠে। শুরুটা যদি ঠিকঠাক হয়, বাকি পথটা অনেক সহজ হয়ে যায়। টব আর মাটির এই
ছোট্ট প্রস্তুতিটাই আসলে আপনার শসা গাছের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয়। তাই তাড়াহুড়ো
না করে, এই ধাপটায় একটু সময় আর মনোযোগ দিন-ফলটা হাতেনাতে পাবেন।
শসার বীজ বপনের সঠিক সময় ও পদ্ধতি
শসার বীজ বপনের সঠিক সময় ও পদ্ধতি জানা থাকলে গাছ লাগানোর দিন থেকেই আপনি এগিয়ে
থাকবেন। শসার বীজ বপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলটা মানুষ করে সময় নিয়ে। মন
চাইলো, বীজ কিনে ফেললাম, মাটিতে পুঁতে দিলাম-এভাবে হয় না। ঋতু আর তাপমাত্রা এই
গাছের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। ভুল সময়ে বীজ বুনলে অঙ্কুরোদগমই
ঠিকমতো হবে না। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় শসা চাষের সবচেয়ে ভালো সময় দুটো। একটা
হলো ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস, গরম শুরু হওয়ার ঠিক আগে। আরেকটা হলো জুলাই-আগস্ট,
বর্ষার পর মাটি একটু নরম হয়ে এলে। এই দুই সময়ে বীজ বুনলে ফলন সবচেয়ে ভালো
পাওয়া যায়।
তাপমাত্রার কথা বললে, শসার বীজ অঙ্কুরিত হতে ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
প্রয়োজন। এর চেয়ে কম তাপমাত্রায় বীজ মাটিতে পড়ে থাকবে, কিন্তু গজাবে না।
শীতকালে তাই শসা লাগানোর চেষ্টা না করাই ভালো, ধৈর্য ধরে সঠিক সময়ের জন্য
অপেক্ষা করুন। বীজ বোনার আগে একটা ছোট কাজ করে নিন-বীজগুলো ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা
পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে বীজের বাইরের খোলসটা নরম হয়ে আসে। ফলে অঙ্কুর বের হতে
সময় কম লাগে, আর অঙ্কুরোদগমের হারও বেড়ে যায়। ভেজানো বীজ মাটিতে বোনার সময়
গভীরতার হিসাবটা মাথায় রাখুন। আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি গভীরে বীজ বসান, এর বেশি
গভীরে দিলে অঙ্কুর উপরে উঠতে কষ্ট পায়।
আরো পড়ুনঃ বালকনিতে সবজি চাষের সেরা উপায় গরমকালে
একটা টবে দুই থেকে তিনটা বীজ বুনে দিন, সব বীজ গজাবে না এটা ধরে নিয়েই। বীজ
বোনার পর মাটির উপর হালকা পানি স্প্রে করুন। ঢল দিয়ে পানি দিলে বীজ সরে যেতে
পারে, তাই স্প্রে বোতল ব্যবহার করাই ভালো। মাটি সবসময় হালকা ভেজা রাখুন, কিন্তু
কাদা কাদা করে ফেলবেন না। বীজ বোনার পর টবটা এমন জায়গায় রাখুন যেখানে হালকা রোদ
পড়ে, সরাসরি কড়া রোদ নয়। অঙ্কুর বের হওয়ার আগ পর্যন্ত এই সতর্কতা জরুরি। ৫
থেকে ৭ দিনের মধ্যে ছোট ছোট সবুজ কুঁড়ি মাটি ফুঁড়ে উঠে আসবে। একাধিক বীজ থেকে
সবগুলো গজিয়ে গেলে, সবচেয়ে সবল চারাটা রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলুন। একসাথে অনেক
গাছ রাখলে পুষ্টির লড়াই শুরু হয়ে যায়, কেউই ভালোভাবে বাড়তে পারে না।
একটা টবে একটা গাছ-এই নিয়মটা মেনে চললে ফলন ভালো পাবেন। সময় আর পদ্ধতি ঠিক
রাখলে বীজ বপনের কাজটা আসলে খুব একটা কঠিন না। একটু ধৈর্য, একটু নিয়ম মেনে
চলা-এইটুকুই যথেষ্ট। প্রথমবার হয়তো সব ঠিকঠাক নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিটা
চেষ্টা থেকেই আপনি শিখে যাবেন কোনটা আপনার বারান্দার জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
শসা গাছে কতটা রোদ ও পানি প্রয়োজন
শসা গাছের যত্ন নেওয়ার সময় দুটো জিনিস নিয়ে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভুল করে-রোদ
আর পানি। কেউ ভাবেন বেশি রোদ মানেই বেশি ভালো, কেউ আবার পানি দিয়ে টব একদম
ভাসিয়ে ফেলেন। অথচ এই দুটোরই একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে, যেটা মেনে চললে গাছ
নিজে থেকেই সাড়া দেয়। রোদের হিসাবটা দিয়েই শুরু করা যাক। শসা গাছের দিনে
অন্তত ৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ চাই, এর কম হলে গাছ বাড়বে ঠিকই কিন্তু ফুল আসতে দেরি
হবে। বারান্দার যে কোণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদ পড়ে, সেখানেই টবটা বসান।
ছায়াময় জায়গায় শসা লাগানো মানে নিজের সাথেই একটু অন্যায় করা। তবে টানা
কড়া রোদও সবসময় ভালো না, বিশেষ করে গরমকালের দুপুরের রোদ।
খুব বেশি তাপে পাতা পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে, গাছ নেতিয়ে পড়ে। এমন
হলে দুপুরের কয়েক ঘণ্টা হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করে দিন, একটা পাতলা কাপড় বা
নেট টাঙিয়ে দিলেই চলবে। এবার আসি পানির প্রসঙ্গে। বারান্দায় শসা চাষ করার
সঠিক নিয়ম মানতে গেলে পানি দেওয়ার একটা রুটিন থাকা দরকার, মনভাব করে যখন-তখন
পানি ঢেলে দিলে চলবে না। প্রতিদিন সকালে আঙুল দিয়ে মাটি ছুঁয়ে দেখুন-শুকনো
লাগলে পানি দিন, ভেজা থাকলে সেদিন বাদ দিন। গরমকালে দিনে একবার, কখনো কখনো
দুইবার পানি লাগতে পারে। শীতকালে বা মেঘলা দিনে মাটি অনেকক্ষণ ভেজা থাকে, তখন
পানি কম দিলেই চলে।
গাছের চাহিদা বুঝে পানি দেওয়াটাই আসল কথা, ঘড়ি ধরে রুটিন মেনে চলাটা নয়।
অতিরিক্ত পানি আসলে শসার সবচেয়ে বড় শত্রু। টবের নিচে পানি জমে থাকলে গোড়া
পচে যায়, আর একবার পচন শুরু হলে গাছ বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই
টবের নিষ্কাশন ছিদ্র সবসময় খোলা আছে কিনা, মাঝেমধ্যে চেক করে নেওয়া ভালো।
পানি দেওয়ার সময়ও একটু কৌশল খাটাতে হয়। গাছের গোড়ায় সরাসরি পানি দিন,
পাতার উপর দিয়ে নয়। পাতা ভিজে থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে
যায়, বিশেষ করে বর্ষাকালে এই সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। সকালবেলা পানি
দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
এতে দিনের বেলা মাটি অতিরিক্ত ভেজা থাকে না, আবার গাছও সারাদিনের জন্য পর্যাপ্ত
পানি পেয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে পানি দিলে রাতভর মাটি ভেজা থেকে যায়, যেটা
গোড়া পচার একটা বড় কারণ হতে পারে রোদ আর পানি, এই দুটো জিনিসের ভারসাম্য ঠিক
রাখতে পারলে শসা গাছ নিয়ে আর তেমন চিন্তা করতে হয় না। গাছটাও যেন বুঝে যায়,
তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে ঠিকঠাক। আর একটা সুস্থ গাছ থেকে যে ফলন পাবেন, সেটাই হবে
আপনার সব পরিশ্রমের আসল পুরস্কার।
জৈব সার ব্যবহার করে শসার ফলন বাড়ানোর কৌশল
জৈব সার ব্যবহার করে শসার ফলন বাড়ানোর কৌশল জানলে বাজারের কেমিক্যাল সার ছাড়াই
দারুণ ফলন পাবেন সার নিয়ে অনেকের মনেই একটা ভুল ধারণা কাজ করে। বেশি সার মানেই
বেশি ফলন, তাই না? আসলে ব্যাপারটা মোটেও এমন না। শসা গাছ বরং একটু নিয়ম মেনে,
সময়মতো অল্প অল্প করে সার পেলেই সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়। গোবর সার দিয়ে শুরু
করা যাক, কারণ এটা সবচেয়ে সহজলভ্য আর কার্যকরও বটে। পচা গোবর সার মাটির সাথে
ভালোভাবে মিশিয়ে দিন, কাঁচা গোবর একদম দেবেন না। কাঁচা গোবরে গাছের গোড়া পুড়ে
যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, আর পোকামাকড়ও চলে আসতে পারে সহজেই।
ভার্মি কম্পোস্ট নিয়ে কথা বলতেই হয়, কারণ শসার জন্য এটা প্রায় জাদুর মতো কাজ
করে। কেঁচো দিয়ে তৈরি এই সার মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, পুষ্টিও দেয় ধীরে ধীরে।
প্রতি ১৫ দিন পর পর এক মুঠো ভার্মি কম্পোস্ট মাটির উপর ছড়িয়ে দিলেই যথেষ্ট।
রান্নাঘরের ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র দিয়েও দারুণ সার বানানো যায়। ডিমের খোসা
গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে দিন, এতে ক্যালসিয়াম পাবে গাছ। কলার খোসা শুকিয়ে
গুঁড়ো করে দিলে পটাশিয়ামের অভাব পূরণ হয়ে যায় দারুণভাবে। চায়ের পাতা ফেলে না
দিয়ে শুকিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিন, এটা মাটির অম্লত্ব ঠিক রাখতে সাহায্য করে। চা
পাতায় নাইট্রোজেনও থাকে, যেটা গাছের সবুজ পাতা বাড়াতে দরকার।
সপ্তাহে একবার এভাবে দিলেই যথেষ্ট, বেশি দেওয়ার দরকার নেই। তরল সারও একটা কাজের
জিনিস, বিশেষ করে ফুল আসার সময়টায়। পচা গোবর পানিতে ভিজিয়ে যে পানিটা তৈরি
হয়, সেটা পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিন। এই তরল সার দ্রুত শোষিত হয়, ফলে গাছ
তাড়াতাড়ি সাড়া দেয়। সার দেওয়ার সময়টা নিয়েও একটু সচেতন থাকা দরকার। চারা
অবস্থায় হালকা সার দিন, গাছ বড় হতে শুরু করলে পরিমাণ একটু বাড়ান। ফুল আসার
সময় পটাশিয়ামযুক্ত সার একটু বেশি দিলে ফলন ভালো হয়-এটা অনেক অভিজ্ঞ চাষিই মেনে
চলেন।
একটা কথা মাথায় রাখবেন, একসাথে অনেক সার দিয়ে গাছকে চাপে ফেলবেন না। অল্প অল্প
করে, নিয়মিত দেওয়াটাই আসল কৌশল। মাটি যদি সুস্থ থাকে, গাছও এমনিতেই সুস্থ
থাকবে। জৈব সারের এই ছোট ছোট কৌশলগুলো মেনে চললে শসার ফলন যেমন বাড়বে, তেমনি ফলও
হবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। বাজারের সার কিনতে টাকা খরচ না করে, ঘরের ফেলনা জিনিস
দিয়েই আপনি গড়ে তুলতে পারেন একটা স্বাস্থ্যকর বাগান। শেষমেশ এটাই তো আসল
কথা-নিজের হাতে ফলানো খাবার, নিজের হাতেই যত্ন করে বড় করা।
মাচা তৈরি ও লতা পরিচর্যার কার্যকর নিয়ম
শসা গাছ একটু বড় হতে শুরু করলেই একটা জিনিস খেয়াল করবেন-লতাটা কোনদিকে যাবে
বুঝতে পারছে না। এই সময়টায় মাচা না দিলে গাছ মাটিতে গড়িয়ে বাড়তে থাকে, আর
তাতে ফল পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। তাই সময়মতো একটা সাপোর্ট সিস্টেম
দাঁড় করানো জরুরি। মাচা মানেই যে বাঁশের বড় কাঠামো বানাতে হবে, এমন কিন্তু
না। বারান্দার রেলিং, একটা লোহার জালি, বা কয়েকটা সরু বাঁশের কঞ্চি দিয়েও
দারুণ কাজ চলে। যেটা হাতের কাছে আছে, সেটা দিয়েই শুরু করে দিন। জাল বা নেট
ব্যবহার করলে একটা সুবিধা পাবেন-লতা নিজে থেকেই প্যাঁচিয়ে উপরে উঠতে থাকবে।
প্লাস্টিকের জাল বা পুরনো মশারির কাপড় দিয়েও এই কাজ চালানো যায়।
খরচ কম, কিন্তু ফল পাওয়া যায় ষোলআনা। গাছ যখন প্রথম লতা ছাড়তে শুরু করে,
তখনই মাচার কাছে টেনে নিয়ে যাওয়া ভালো। দেরি করলে লতা নিজের মতো একটা দিকে
বেঁকে যায়, পরে সোজা করতে গেলে ভেঙে যাওয়ার ভয় থাকে। হালকা সুতা দিয়ে বেঁধে
দিন, শক্ত করে নয়। লতা বাড়তে শুরু করলে প্রতি সপ্তাহে একবার চেক করুন কোনদিকে
যাচ্ছে। যেদিকে ফাঁকা জায়গা আছে, সেদিকে লতাটা হালকা হাতে ঘুরিয়ে দিন। এতে
গাছ পুরো মাচা জুড়ে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে, আলো-বাতাসও সব পাতায় পৌঁছায়।
বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম মানতে গেলে অতিরিক্ত পাতা আর অপ্রয়োজনীয়
শাখা ছাঁটাই করাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
গোড়ার দিকের পুরনো, হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলো ছেঁটে ফেলুন। এতে গাছের শক্তি
নষ্ট হয় না, বরং নতুন ফুল-ফল আসার দিকে সেই শক্তি কাজে লাগে। মাচায় ফল ঝুলতে
শুরু করলে একটু বাড়তি নজর দিতে হবে। ভারী ফল লতার গিঁটে চাপ ফেলে, মাঝেমধ্যে
লতা ভেঙেও যেতে পারে। প্রয়োজনে নরম কাপড় দিয়ে ফলটাকে একটু সাপোর্ট দিয়ে
ঝুলিয়ে রাখুন। বাতাস চলাচলের দিকটাও ভুলে গেলে চলবে না। ঘন লতাপাতার ভেতর
বাতাস আটকে থাকলে ছত্রাকজনিত রোগ দেখা দিতে পারে সহজেই।
মাঝেমধ্যে একটু ফাঁকা করে দিন, যাতে গাছের ভেতর দিয়ে হাওয়া চলাচল করতে পারে।
মাচা আর লতা পরিচর্যার এই ছোট ছোট কাজগুলো নিয়মিত করলে গাছ নিজে থেকেই একটা
সুন্দর কাঠামো তৈরি করে নেয়। একবার এই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, বাকিটা পথ
গাছই দেখিয়ে দেবে। আপনার কাজ শুধু চোখ রাখা, আর মাঝেমধ্যে একটু হাত লাগানো।
শসা গাছের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের সহজ উপায়
শসা গাছে রোগ বা পোকা এলে অনেকেই ঘাবড়ে যান, ভাবেন পুরো গাছটাই বুঝি গেল। আসলে
শুরুতেই ধরতে পারলে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যায় সহজেই। চোখ রাখাটাই আসল কাজ,
প্রতিদিন একবার পাতাগুলো একটু ঘুরিয়ে দেখুন। পাতার নিচের দিকে সাদা সাদা গুঁড়ো
দেখলে বুঝবেন পাউডারি মিলডিউ হানা দিয়েছে। এটা বেশি হয় বাতাস চলাচল কম হলে, বা
পাতা ঘন হয়ে জমে গেলে। আক্রান্ত পাতা সাথে সাথে ছিঁড়ে ফেলুন, নইলে পুরো গাছে
ছড়িয়ে পড়বে দ্রুত। জাব পোকা বা এফিড শসার একটা পুরনো শত্রু। পাতার রস চুষে
খেয়ে গাছকে দুর্বল করে দেয় ধীরে ধীরে। নিমতেল পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করুন,
সপ্তাহে দুইবার-এতেই কাজ হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়।
সাদা মাছি বা হোয়াইটফ্লাই দেখা দিলে হলুদ আঠালো ফাঁদ ঝুলিয়ে দিন গাছের পাশে। এই
পোকা রঙে আকৃষ্ট হয়ে ফাঁদে আটকে যায় নিজে থেকেই। রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়ে এই
পদ্ধতি অনেক নিরাপদ, আর কার্যকরও বটে। গোড়া পচা রোগ হলো সবচেয়ে ভয়ংকর, কারণ
এটা ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। অতিরিক্ত পানি দেওয়াই এর প্রধান কারণ। টবের নিষ্কাশন
ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন, আর পানি দেওয়ার আগে মাটি শুকিয়েছে কিনা দেখে নিন। লাল
মাকড় বা রেড স্পাইডার মাইট গরমের সময় বেশি আক্রমণ করে। পাতায় ছোট ছোট বাদামি
দাগ দেখলে বুঝবেন এদেরই কাজ। পাতায় নিয়মিত পানি স্প্রে করলে এই পোকা অনেকটাই
দূরে থাকে।
রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, সমস্যা
আসার আগেই। নিমতেল স্প্রে সপ্তাহে একবার করে দিলে অনেক পোকামাকড় গাছের ধারেকাছেও
ঘেঁষে না। মাটি আর গাছ দুটোই পরিষ্কার রাখাটা সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। গাছের প্রতি
একটু মনোযোগী হলে রোগ-পোকা আসার আগেই বুঝে যাবেন কিছু একটা ঠিক নেই। আর সেই
মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে গাছ বাঁচানো একদমই কঠিন কিছু না। শেষমেশ একটু
সচেতনতাই আপনার বারান্দার শসা গাছকে সুস্থ আর সতেজ রাখবে।
শসা কখন সংগ্রহ করবেন এবং কীভাবে সংরক্ষণ করবেন
বারান্দায় শসা চাষ করার সঠিক নিয়ম মেনে চললেও, শসা কখন সংগ্রহ করবেন সেটা না
জানলে সব পরিশ্রম কিছুটা বৃথা যেতে পারে গাছে ফল ধরার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
আসে-এখনই তুলবো, নাকি আরেকটু অপেক্ষা করবো? বেশিরভাগ মানুষ এই জায়গায় ভুল করেন।
বেশি বড় হওয়ার আশায় ফল গাছে রেখে দেন, আর তাতে স্বাদটাই নষ্ট হয়ে যায়। শসা
তোলার সঠিক সময় হলো যখন এটা মাঝারি আকারে পৌঁছায়, রঙ হয় গাঢ় সবুজ। সাধারণত
বীজ বোনার ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে প্রথম ফল তোলার উপযুক্ত হয়ে যায়। বেশি বড়
হয়ে গেলে বীজ শক্ত হয়ে যায়, স্বাদও তেতো লাগতে শুরু করে। ফল কতটা পাকলো বুঝতে
হাত দিয়ে একটু চেপে দেখুন।
শক্ত আর টানটান লাগলে বুঝবেন এখনই তোলার সময়। নরম বা হলদেটে ভাব চলে এলে বুঝবেন
দেরি হয়ে গেছে, স্বাদ আর আগের মতো থাকবে না। শসা তোলার সময় হাত দিয়ে টেনে
ছিঁড়বেন না, এতে লতা ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কাঁচি বা ছুরি দিয়ে বোঁটার কাছে
কেটে নিন। এতে গাছের বাকি অংশ অক্ষত থাকে, পরের ফলগুলোও ভালোভাবে বেড়ে উঠতে
পারে। সকালবেলা শসা তোলাটাই সবচেয়ে ভালো সময়। এই সময় ফলে পানির পরিমাণ সবচেয়ে
বেশি থাকে, তাজা ভাবটাও অটুট থাকে। রোদ চড়া হওয়ার পর তুললে ফল কিছুটা নেতিয়ে
যায়, এটা খেয়াল রাখা দরকার। তোলা শসা বেশিদিন ভালো রাখতে চাইলে ফ্রিজে রাখুন,
তবে প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে নয়।
একটা কাগজের তোয়ালে বা কাপড়ে হালকা করে জড়িয়ে রাখুন। এতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা
শুষে নেয়, শসা নরম হয়ে যাওয়ার সমস্যা কমে। ফ্রিজে রাখলে শসা সাধারণত পাঁচ থেকে
সাত দিন ভালো থাকে। এর বেশিদিন রাখলে স্বাদ আর টেক্সচার দুটোই নষ্ট হতে শুরু করে।
তাই যতটুকু খাবেন, ততটুকুই তোলার অভ্যাস করুন-বাকিটা গাছেই থাকুক। নিয়মিত ফল
তুললে গাছ আরও বেশি ফল দিতে উৎসাহ পায়, এটা প্রকৃতির নিজস্ব একটা নিয়ম। তাই ফল
পেকে গেলে ফেলে না রেখে সময়মতো তুলে নিন। শেষমেশ, নিজের হাতে ফলানো শসা যখন
প্লেটে সাজিয়ে খাবেন, সেই তৃপ্তিটাই তো ছিল এতদিনের অপেক্ষার আসল পুরস্কার।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
এতক্ষণ ধরে যা যা বললাম, তার সবটাই আসলে একটা কথায় গিয়ে ঠেকে-শুরু করুন। জানি,
প্রথমবার একটু ভয় ভয় লাগে। মাটি ঠিক হবে তো, বীজ গজাবে তো, এসব প্রশ্ন মাথায়
ঘুরপাক খায়। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই ভয়টা কাটিয়ে ওঠাটাই আসল লড়াই। আমি নিজেও
যখন প্রথম বারান্দায় একটা টবে শসার বীজ পুঁতেছিলাম, তখন তেমন কিছুই জানতাম না।
ভুল হয়েছে অনেক, গাছ মরেও গেছে দুয়েকবার। কিন্তু প্রতিটা ভুল থেকেই একটু একটু
করে শিখেছি, আর সেই শেখাটাই আজ আপনার সাথে ভাগ করে নিলাম।
বারান্দার এই ছোট্ট জায়গাটা আসলে অনেক কিছু দিতে পারে, শুধু সময় আর একটু
ভালোবাসা দিতে হয়। প্রতিদিন সকালে গাছের দিকে একবার তাকানো, নতুন পাতা দেখে খুশি
হওয়া-এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আসলে বাগান করার আসল আনন্দ। নিয়মগুলো মনে রাখুন,
কিন্তু নিয়মের গোলামি করবেন না। প্রতিটা বারান্দার আলো-বাতাস আলাদা, প্রতিটা
গাছের চাহিদাও একটু ভিন্ন। তাই যা লিখলাম, সেটাকে একটা গাইড হিসেবে ধরুন, পাথরে
খোদাই করা নিয়ম হিসেবে নয়।
আপনার বারান্দায় প্রথম শসাটা যেদিন পাকবে, সেই দিনটার কথা মনে রাখবেন। কারণ সেই
একটা শসা, বাজার থেকে কেনা হাজারটা শসার চেয়েও বেশি মূল্যবান। নিজের হাতে ফলানো
জিনিসের একটা আলাদা তৃপ্তি থাকে, যেটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। তাহলে আর দেরি
কেন? আজই একটা টব বের করুন, কয়েকটা বীজ ভিজিয়ে রাখুন। বারান্দাটা হয়তো ছোট,
কিন্তু স্বপ্নটা তো বড় হতেই পারে। শুভকামনা রইলো আপনার এই সবুজ যাত্রার জন্য।
.webp)
.webp)


ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url