ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি
ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি জানতে চান? সামান্য যত্নেই
সারা বছর টাটকা লেবুর ফলন পাওয়া সম্ভব। অনেকেই ভাবেন লেবু গাছ চাষ করা কঠিন,
কিন্তু আসলে কয়েকটি সহজ কৌশল জানলেই কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। সঠিক উপায় তুলে ধরা হয়েছে।
অনেকেই ছোট্ট বারান্দাকে ফলের বাগানে পরিণত করেছেন, আপনিও পারবেন। খরচ কম, ঝামেলা
কম, কিন্তু ফলন হতে পারে দারুণ। আজই জেনে নিন সেই কার্যকর টিপস, যা আপনার লেবু
গাছকে সারা বছর সবুজ ও ফলভর্তি রাখতে সাহায্য করবে।
পেজ সূচিপত্রঃ ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি
- ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি
- বারোমাসি লেবু গাছের জন্য কোন জাতটি সবচেয়ে ভালো
- টবে লেবু গাছ লাগানোর আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
- লেবু গাছের জন্য উপযুক্ত মাটি তৈরির সহজ নিয়ম
- কতটুকু রোদ পেলে লেবু গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে
- সঠিক সময়ে পানি দেওয়ার কৌশল
- বেশি ফুল ও ফল পেতে কী ধরনের সার ব্যবহার করবেন
- লেবু গাছের সাধারণ রোগ ও পোকামাকড় দমনের উপায়
- টবে লেবু গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেলে কী করবেন
- সারা বছর টাটকা লেবু পেতে গাছের বিশেষ যত্নের টিপস
ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি
ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতিতে আপনি যদি একটু সময় দেন,
তাহলে সারা বছর টাটকা লেবু তুলে আনতে পারবেন নিজের হাতে। আমি যখন প্রথম ছাদে
লেবুর গাছ লাগিয়েছিলাম, তখন ভাবতাম এটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই
দেখলাম, গাছটা ফুলে ভরে গেছে। আপনিও পারবেন। শুধু সঠিক জায়গা আর যত্ন লাগবে।
প্রথমে ভালো একটা বড় টব নিন। অন্তত ১২-১৫ ইঞ্চি গভীর এবং চওড়া হলে ভালো। নিচে
পানি বেরোনোর জন্য ছিদ্র থাকা চাই। মাটি মিশিয়ে নিন দোআঁশ মাটি, কম্পোস্ট আর একটু
বালি দিয়ে। পানি যেন জমে না থাকে। আপনি যদি চারা কিনতে চান, তাহলে বারোমাসি জাতের
বেছে নিন।
সিডলেস বা কাগজি লেবুর চারা ভালো হয়। ছাদে রাখার সময় এমন জায়গায় রাখুন যেখানে
দিনে অন্তত ৬-৮ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পায়। রোদ কম হলে ফুল আসবে কম। পানি দেওয়ার
ব্যাপারে সাবধান থাকুন। মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে গেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দিলে
শিকড় পচে যাবে। গরমকালে একটু বেশি, শীতে কম। সকাল বেলা পানি দেওয়া সবচেয়ে ভালো।
সার দেওয়া খুব জরুরি। প্রতি মাসে একবার জৈব সার দিন। সরিষার খৈল, কলার খোসা
ভিজিয়ে বা কম্পোস্ট টি ব্যবহার করতে পারেন। ফুল আসার সময় বোরন মিশিয়ে স্প্রে করলে
ফল ধরা বাড়বে।
গাছ বড় হলে মাঝে মাঝে ছাঁটাই করুন। শুকনো ডাল কেটে ফেলুন। এতে নতুন শাখা বেরোয় আর
ফলন ভালো হয়। পোকা দেখলে নিমপাতার পানি স্প্রে করুন। রাসায়নিক কম ব্যবহার করাই
ভালো। একবার গাছ সেট হয়ে গেলে সারা বছর লেবু পাবেন। শুধু নিয়মিত যত্ন নিন। আপনার
ছাদ বা বারান্দা হয়ে উঠবে ছোট্ট একটা সবুজ স্বর্গ। চেষ্টা করে দেখুন, হতাশ হবেন
না। লেবুর ঝাঁঝালো গন্ধে ভরে যাবে সকালগুলো।
বারোমাসি লেবু গাছের জন্য কোন জাতটি সবচেয়ে ভালো
বারোমাসি লেবু গাছের জন্য কোন জাতটি সবচেয়ে ভালো আপনি যদি ছাদ বা বারান্দায় লেবু
চাষ করতে চান, তাহলে জাত বাছাইয়ের ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজে কয়েকটা
জাত লাগিয়ে দেখেছি। কেউ কেউ ভাবে যেকোনো লেবু গাছেই চলবে, কিন্তু সারা বছর টাটকা
ফল পেতে হলে সঠিক জাত লাগানো দরকার। কাগজি লেবু এখানে অনেকের প্রথম পছন্দ। এটা
ছোট গাছে প্রচুর ফল দেয় আর সারা বছর ধরে ফুল ফোটে। আপনার টবে সহজে মানিয়ে নেয়।
রসও খুব ভালো, ঝাঁঝালো স্বাদ। শুরুতে নতুনদের জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সিডলেস জাতটা আবার অন্য রকম মজা। বীজ না থাকায় খাওয়া আরও আরামদায়ক। গাছটা একটু কম
জায়গা নেয় আর ফলনও দারুণ। আপনি যদি ছাদে সীমিত জায়গায় চাষ করেন, তাহলে এই জাত
আপনাকে হতাশ করবে না। গন্ধও চমৎকার। আরেকটা ভালো অপশন হলো হাইব্রিড কাগজি বা
চায়না থ্রি। এগুলো একটু বড় ফল দেয় আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি। তবে শুরুতে
কাগজি বা সিডলেস দিয়েই হাত পাকান। তারপর দেখবেন কোনটা আপনার ছাদের আবহাওয়ায়
সবচেয়ে ভালো চলে। চেষ্টা করুন, নিজের হাতে লেবু তুলে মজা পাবেন।
টবে লেবু গাছ লাগানোর আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
টবে লেবু গাছ লাগানোর আগে যে বিষয়গুলো জেনে রাখা জরুরি সেগুলো হলো, আপনি যদি
ছাদে বা বারান্দায় লেবু চাষের স্বপ্ন দেখেন, তাহলে আগে কয়েকটা জিনিস ভালো করে
বুঝে নিন। না হলে গাছটা ঝরঝরে হয়ে যাবে। আমি নিজে ভুল করে শুরু করেছিলাম, পরে
শিখেছি। আপনি সেই ভুলটা করবেন না। প্রথমেই টবের সাইজ দেখুন। অন্তত ১২ থেকে ১৮
ইঞ্চি চওড়া আর গভীর টব নিন। ছোট টবে শিকড় জায়গা পায় না। নিচে পানি বেরোনোর ছিদ্র
থাকা চাই। ভালো ড্রেনেজ না হলে শিকড় পচে যাবে। ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু
চাষের সেরা পদ্ধতি মেনে চললে আপনার গাছ সারা বছর সবুজ থাকবে।
আরো পড়ুনঃ বালকনিতে সবজি চাষের সেরা উপায় গরমকালে
তাই মাটির মিশ্রণ ঠিক করুন। দোআঁশ মাটি, কম্পোস্ট আর খানিকটা বালি মেশান। পানি
জমে না থাকুক। এতে গাছ দ্রুত বাড়বে। রোদের ব্যাপারটা একদম গুরুত্বপূর্ণ। দিনে
অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা সরাসরি রোদ লাগবে। ছায়ায় রাখলে ফুল কম আসবে। আপনার ছাদের
কোন কোণে সবচেয়ে বেশি রোদ পড়ে, সেটা আগে চিনে নিন। পানি দেওয়ার নিয়মটা জেনে নিন।
মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি একদম না। গরমে বেশি, শীতে কম। সকালবেলা
পানি দিলে গাছ সুস্থ থাকে। এই ছোট নিয়মগুলো মেনে চললে অনেক দূর যাবেন।
সার আর যত্নের কথা ভুলবেন না। জৈব সার নিয়মিত দিন। পোকা দেখলে নিমের পানি স্প্রে
করুন। শুরুতে ধৈর্য ধরুন। গাছ একবার জাঁকিয়ে বসলে আপনি সারা বছর টাটকা লেবু তুলে
খাবেন। চেষ্টা করে দেখুন, মজা পাবেন।
লেবু গাছের জন্য উপযুক্ত মাটি তৈরির সহজ নিয়ম
আপনি যদি ছাদে বা বারান্দায় লেবু গাছ লাগাতে চান, তাহলে মাটির ব্যাপারটা একদম
ঠিকঠাক করতে হবে। খারাপ মাটিতে গাছ দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। আমি নিজে প্রথমবার ভুল
মাটি ব্যবহার করে শিকড় পচতে দেখেছিলাম। তাই আজ আপনাকে সহজ উপায়ে বলছি। প্রথমে
দোআঁশ মাটি সংগ্রহ করুন। এটা সবচেয়ে ভালো বেস। বাজার থেকে বা বাগানের দোকান থেকে
নিন। এই মাটি পানি ধরে রাখে আবার অতিরিক্তও বের করে দেয়। আপনার টবে লেবু গাছের
শিকড় এতে আরামে ছড়িয়ে পড়বে। এবার মাটির সাথে ভালো কম্পোস্ট মেশান। গোবর সার বা
পাতার কম্পোস্ট দুই ভাগের এক ভাগ মিশিয়ে নিন।
এতে প্রচুর পুষ্টি পাবে গাছ। আপনি বাসায় বানানো কম্পোস্টও ব্যবহার করতে পারেন।
এতে গাছ সারা বছর সবুজ থাকবে। বালি বা নুড়ি মেশানো খুব জরুরি। এক ভাগ বালি দিন
মিশ্রণে। এতে পানি সহজে বেরিয়ে যায়। পানি জমে থাকলে শিকড় পচে মরে যাবে লেবু গাছ।
আপনি দেখবেন এই মিশ্রণে ড্রেনেজ একদম পারফেক্ট হয়। মাটির পিএইচ লেভেল চেক করুন।
লেবু গাছ সামান্য অম্লীয় মাটি পছন্দ করে। ৬ থেকে ৭ এর মধ্যে রাখুন। চাইলে একটু
নারকেলের ছোবড়া বা পিটমস মিশিয়ে নিন। এতে মাটি হালকা আর নরম হয়।
মাটি তৈরির আগে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন। এতে পোকা বা রোগের জীবাণু মরে যায়।
তারপর সবকিছু ভালো করে মিশিয়ে নিন। আপনি হাত দিয়ে মাখিয়ে মাখিয়ে মেশালে মিশ্রণটা
সমান হয়। শেষে টবে মাটি ভরার সময় নিচে একটা পাতলা নুড়ির লেয়ার দিন। এতে অতিরিক্ত
পানি বেরোনো সহজ হয়। এখন আপনি চারা লাগিয়ে দেখুন। সঠিক মাটিতে লেবু গাছ দ্রুত
বাড়বে আর প্রচুর ফল দেবে। চেষ্টা করে দেখুন, নিজের হাতে সবুজ বাগান গড়ে তুলুন।
কতটুকু রোদ পেলে লেবু গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে
আপনি যদি ছাদে লেবু গাছ লাগিয়ে থাকেন, তাহলে রোদের ব্যাপারটা একদম মাথায় রাখুন।
লেবু গাছ রোদপ্রিয়। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে গাছ লম্বা হয় কিন্তু ফল কম ধরে। আমি
নিজে দেখেছি, রোদ ভালো পেলে গাছটা দ্রুত বেড়ে ওঠে। দিনে অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা
সরাসরি রোদ লাগলে লেবু গাছ সবচেয়ে ভালো থাকে। সকালের রোদ সবচেয়ে উপকারী। এতে পাতা
সবুজ হয় আর ফুল ফোটে প্রচুর। আপনার গাছ যদি দক্ষিণমুখী জায়গায় থাকে, তাহলে আর
চিন্তা নেই। কম রোদ পেলে কী হয় জানেন? গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়। নতুন ডাল বেরোয়
কম। ফল ধরার সময়ও দেরি হয়। তাই ছায়াযুক্ত জায়গায় লাগাবেন না।
ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি মেনে চললে রোদের সমস্যা অনেক
কমে যায়। আপনি টবটা দিনের সবচেয়ে রোদেলা জায়গায় রাখুন। বিকেলের ছায়া পড়লে সমস্যা
নেই, কিন্তু সকালের রোদ ঠিকঠাক চাই। যদি আপনার ছাদে রোদ কম পড়ে, তাহলে প্রতিদিন
টব সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। কয়েক ঘণ্টা করে রোদে দিন। এতে গাছের এনার্জি বাড়বে।
ছোট আয়না বা রিফ্লেক্টরও ব্যবহার করতে পারেন। রোদ ঠিকঠাক পেলে আপনার লেবু গাছ
দ্রুত বড় হবে আর প্রচুর ফল দেবে। ধৈর্য ধরে দেখুন। একবার গাছ জাঁকিয়ে বসলে সারা
বছর টাটকা লেবু তুলে খাবেন। চেষ্টা করুন, মজা পাবেন।
সঠিক সময়ে পানি দেওয়ার কৌশল
লেবু গাছের যত্নে পানি দেওয়ার কৌশলটা ঠিকমতো না জানলে সব যত্নই বৃথা। আমি প্রথম
দিকে প্রতিদিন পানি দিয়ে গাছের শিকড় পচিয়ে ফেলেছিলাম। এখন বুঝি, সময়মতো পানি
দেওয়া গাছের সবচেয়ে বড় বন্ধু। আপনিও সহজেই এটা শিখে নিতে পারবেন। প্রথমে মাটি
পরীক্ষা করুন। আঙুল দিয়ে দুয়েক ইঞ্চি গভীরে ঢুকিয়ে দেখুন মাটি শুকনো কি না। যদি
শুকিয়ে থাকে তাহলে পানি দিন। ভেজা থাকলে একদম না। এই সহজ টেস্টটা আপনাকে প্রতিদিন
সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। সকালবেলা পানি দেওয়াই সবচেয়ে ভালো। তাতে গাছ
সারাদিন রোদে শুকিয়ে নিতে পারে। বিকেলে বা রাতে পানি দিলে পাতায় ছত্রাক লাগার
সম্ভাবনা বাড়ে।
আপনার ছাদের লেবু গাছ সকালের এই রুটিনে দারুণ সাড়া দেবে। গরমকালে একটু বেশি পানি
লাগবে। কিন্তু অতিরিক্ত নয়। মাটি থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়া উচিত নিচের ছিদ্র দিয়ে।
শীতকালে পানির পরিমাণ কমিয়ে দিন। সপ্তাহে দুয়েকবারই যথেষ্ট। এভাবে সিজন অনুযায়ী
সামঞ্জস্য রাখুন। পানি দেওয়ার সময় গাছের গোড়ায় ধীরে ধীরে ঢালুন। পাতায় পানি পড়লে
ফাঙ্গাস হতে পারে। আপনি দেখবেন, এই পদ্ধতিতে পাতাগুলো সবুজ আর তাজা থাকে। ছোট ছোট
ভুল এড়িয়ে গেলে গাছ অনেক বড় হয়। অতিরিক্ত পানি দিলে পাতা হলুদ হয় আর ঝরে পড়ে। কম
পানি দিলে পাতা নেতিয়ে যায়।
দুই অবস্থাতেই গাছকে বাঁচাতে দ্রুত সাড়া দিন। আপনি নিয়মিত দেখলে এই সমস্যাগুলো
সহজেই ধরতে পারবেন। একবার সঠিক কৌশলটা রপ্ত করে ফেললে আপনার লেবু গাছ সারা বছর
সুস্থ থাকবে। টাটকা লেবু তুলে খাওয়ার মজাটা আলাদা। চেষ্টা করে দেখুন। আপনার ছাদের
ছোট্ট বাগানটা হয়ে উঠবে সবুজ আর প্রাণবন্ত।
বেশি ফুল ও ফল পেতে কী ধরনের সার ব্যবহার করবেন
লেবু গাছে প্রচুর ফুল আর ফল চান, তাহলে সারের ব্যাপারটা খুব সাবধানে সামলাতে হবে।
আমি নিজে শুরুতে শুধু রাসায়নিক সার দিয়ে গাছের ক্ষতি করেছিলাম। পরে জৈব সারের
দিকে ঝুঁকেছি। আপনিও এই পথে চললে ভালো ফল পাবেন। প্রথমে জৈব সারের ওপর জোর দিন।
গোবর সার বা ভার্মি কম্পোস্ট মাসে একবার দিন। এগুলো গাছের শিকড়কে শক্তিশালী করে।
ফলে ফুল আসে বেশি। আপনার টবের লেবু গাছ ধীরে ধীরে সাড়া দেবে। সরিষার খৈল খুব
কার্যকর। দুয়েক সপ্তাহ ভিজিয়ে রেখে পানিতে গুলে দিন। এতে নাইট্রোজেন আর অন্যান্য
পুষ্টি পায় গাছ। ফুল ফোটার সময় এটা দিলে ফল ধরার হার বেড়ে যায়। আপনি নিজে দেখবেন
পার্থক্যটা।
কলার খোসা আর ডিমের খোসাও ব্যবহার করুন। খোসাগুলো শুকিয়ে গুঁড়ো করে মাটিতে মিশিয়ে
দিন। পটাশিয়াম আর ক্যালসিয়াম পাবে গাছ। এতে ফলগুলো বড় আর রসালো হয়। ছোট ছোট জিনিস
থেকে বড় উপকার পাবেন। ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি অনুসরণ
করলে সারের সঠিক ব্যবহারে আপনার গাছ সারা বছর ফুলে ফলে ভরে থাকবে। বোরন স্প্রে
করুন ফুল আসার আগে। এটা ফল ধরা বাড়ায় অনেক। সার দেওয়ার সময় গাছের বয়স আর ঋতু
দেখুন। বসন্তকালে একটু বেশি দিন। গরমে পানির সাথে মিশিয়ে দিন।
অতিরিক্ত সার দেবেন না। পাতা পুড়ে যেতে পারে। সঠিক মাত্রায় দিলে গাছ সুস্থ থাকে।
শেষমেশ নিয়মিত যত্ন আর সঠিক সারে আপনার লেবু গাছ প্রচুর ফল দেবে। ধৈর্য ধরুন।
কয়েক মাসের মধ্যে দেখবেন ছাদ ভরে গেছে টাটকা লেবুতে। চেষ্টা করে দেখুন, মজা
পাবেন।
লেবু গাছের সাধারণ রোগ ও পোকামাকড় দমনের উপায়
ছাদ ও বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের সেরা পদ্ধতি মেনে চললে রোগ আর পোকার সমস্যা
অনেক কমে যায়। আপনি যদি ছাদে লেবু গাছ লাগিয়ে থাকেন তাহলে এসব সমস্যা মোকাবিলা
করা খুব জরুরি। আমি নিজে কয়েকবার পোকায় আক্রান্ত হয়ে গাছের ক্ষতি দেখেছি। সঠিক
উপায় জানলে আপনি সহজেই সামলাতে পারবেন। পাতায় সাদা পাউডারের মতো ছত্রাক লাগলে
সেটা পাউডারি মিলডিউ। নিমপাতা আর সাবান পানি মিশিয়ে স্প্রে করুন সপ্তাহে দুবার।
আপনি দেখবেন দ্রুত সেরে যাবে। গাছের চারপাশে বাতাস চলাচল রাখুন। অতিরিক্ত পানি
এড়িয়ে চলুন। এফিডস বা ছোট সবুজ পোকা গাছের নতুন পাতা খেয়ে নেয়।
নিম তেল বা সাবান পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে এরা পালিয়ে যায়। আপনি হাত দিয়ে চেপে
মেরে ফেলতে পারেন ছোট সংখ্যায় থাকলে। নিয়মিত পাতা পরীক্ষা করুন। শিকড় পচা রোগ হলে
পাতা হলুদ হয়ে ঝরে। এটা অতিরিক্ত পানির জন্য হয়। টবের ড্রেনেজ পরীক্ষা করুন। আপনি
মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিন। গোড়ার কাছে মাটি আলগা করে দিন যাতে বাতাস চলাচল
করে। লেবুর পাতায় কালো দাগ বা ক্যানকার দেখলে আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলুন। বাকিং
সোডা আর পানির মিশ্রণ স্প্রে করুন। আপনার গাছকে রোদেলা জায়গায় রাখুন। ভেজা পাতা
এড়িয়ে চলুন যতটা সম্ভব।
মাকড়সার জালের মতো পোকা লাগলে পানির জোরালো স্প্রে দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিম তেল
ব্যবহার করুন। আপনি গাছের নিচের অংশ পরিষ্কার রাখলে এসব পোকা কম আসে। প্রতি
সপ্তাহে একবার গাছ পরিদর্শন করুন। এভাবে নিয়মিত যত্ন আর প্রাকৃতিক উপায়ে আপনার
লেবু গাছ সুস্থ থাকবে। রাসায়নিক কম ব্যবহার করুন। ধৈর্য ধরে দেখুন, সারা বছর
টাটকা লেবু পাবেন। চেষ্টা করে দেখুন, আপনার ছাদের বাগানটা হয়ে উঠবে সবুজ আর
সুন্দর।
টবে লেবু গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেলে কী করবেন
যদি দেখেন আপনার টবের লেবু গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, তাহলে চিন্তায় পড়বেন না।
এটা খুব কমন সমস্যা। আমি নিজে প্রথমবার এটা দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। আসলে কয়েকটা
সাধারণ কারণ থেকে এমন হয়। সঠিকভাবে চিহ্নিত করলে সহজেই সারিয়ে তুলতে পারবেন।
প্রথম কারণ হতে পারে অতিরিক্ত পানি। শিকড়ে পানি জমে থাকলে অক্সিজেনের অভাবে পাতা
হলুদ হয়। আপনি টবের নিচের ছিদ্র চেক করুন। মাটি ভেজা থাকলে কয়েকদিন পানি দেওয়া
বন্ধ রাখুন। মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই আবার পানি দিন। আরেকটা বড় কারণ পানির অভাব।
মাটি একদম শুকিয়ে গেলে গাছ পাতা হলুদ করে ঝরিয়ে দেয়। আপনি আঙুল ঢুকিয়ে মাটি
পরীক্ষা করুন।
আরো পড়ুনঃ রুফটপে টমেটো চাষের সম্পূর্ণ গাইড
দুয়েক ইঞ্চি গভীরে শুকনো লাগলে পানি দিন। সকালবেলা পানি দেওয়ার অভ্যাস করুন।
পুষ্টির অভাবেও এমন হয়। বিশেষ করে নাইট্রোজেন বা আয়রন কম থাকলে নতুন পাতা হলুদ
হয়। আপনি জৈব সার যেমন কম্পোস্ট বা সরিষার খৈল ভিজিয়ে দিন। ধীরে ধীরে গাছ সবুজ
হয়ে উঠবে। অতিরিক্ত সার একদম দেবেন না। ছাদ এবং বারান্দায় বারোমাসি লেবু চাষের
পদ্ধতি মেনে চললে এসব সমস্যা কম আসে। রোদ কম পেলে পাতা হলুদ হতে পারে। গাছকে দিনে
ছয়-আট ঘণ্টা রোদেলা জায়গায় রাখুন। ছায়ায় থাকলে পাতা দুর্বল হয়ে যায়। পোকা বা
ছত্রাকের আক্রমণেও পাতা হলুদ হয়। নিম তেল বা সাবান পানি স্প্রে করে দেখুন।
আক্রান্ত পাতা কেটে ফেলুন। আপনি নিয়মিত গাছ পরীক্ষা করলে সমস্যা ধরা পড়বে আগেই।
গাছ একবার সুস্থ হয়ে গেলে আবার নতুন সবুজ পাতা বেরোবে। আপনার টবের লেবু গাছকে
ভালোবেসে যত্ন করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে। চেষ্টা করে
দেখুন, ফল পাবেন প্রচুর।
সারা বছর টাটকা লেবু পেতে গাছের বিশেষ যত্নের টিপস
আপনি যদি সারা বছর টাটকা লেবু চান, তাহলে গাছকে নিয়মিত যত্ন করুন। দিনে ছয় থেকে
আট ঘণ্টা রোদ নিশ্চিত করুন। মাটি শুকিয়ে গেলে সকালবেলা পানি দিন, অতিরিক্ত পানি
এড়িয়ে চলুন। এতে গাছ সবসময় সতেজ থাকবে। প্রতি মাসে জৈব সার দিন। সরিষার খৈল বা
কম্পোস্ট মিশিয়ে দিলে ফুল আর ফল বাড়বে। মাঝে মাঝে শুকনো ডাল কেটে ছাঁটাই করুন।
আপনি দেখবেন নতুন শাখা বেরিয়ে গাছ ভরে উঠবে। পোকা দেখলেই নিম তেল স্প্রে
করুন।
শীতে পানি কম দিন, গরমে একটু বেশি। আপনি নিয়মিত গাছ দেখলে ছোট সমস্যাগুলো আগেই
ধরতে পারবেন। এভাবে যত্ন নিলে আপনার ছাদ ভরে যাবে ঝাঁঝালো টাটকা লেবুতে। ভালো
থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আরও তথ্যমূলক আর্টিকেল পেতে ইনফোনেস্টইন কে ফলো দিতে
ভুলবেন না, ধন্যবাদ।



ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url