বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ
সবুজ পাহাড়, চা-পাতার সুবাস আর শান্ত প্রকৃতি-একদিনের ভ্রমণে মন ভরাতে চান? জানুন
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ একদম সহজভাবে। যাতায়াত রুট, বাজেট,
সেরা সময় ও বাস্তব টিপস-যেন আপনার ভ্রমণ হয় ঝামেলাহীন আর স্মৃতিতে ভরা।
এই আর্টিকেলে আমি আপনাকে বিস্তারিত বলব বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং
খরচ কত লাগতে পারে, সবকিছু ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে আমি
শুধু মূল তথ্যই নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং ছোট ছোট টিপসও যোগ করেছি যাতে আপনার
যাত্রা আরও স্মুথ হয়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ
পরিচিতিঃ জায়গাটা কেমন?
বাঁশখালী চা বাগান, যাকে চাঁদপুর বেলগাঁও চা বাগান নামেও চেনা যায়, চট্টগ্রাম
জেলার বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। এই বাগানটি প্রায় ৩৫০০ একর
জুড়ে বিস্তৃত, এবং পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় চারদিকে সবুজের একটা অপূর্ব ছড়াছড়ি দেখা
যায় যা দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। ২০২৬ সালে এখানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে,
বিশেষ করে শীতকালে, কারণ আশপাশে সমুদ্র সৈকত, ইকোপার্ক এবং ঝুলন্ত ব্রিজের মতো
অন্যান্য আকর্ষণ যোগ হয়েছে যা পুরো এলাকাটাকে একটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্যাকেজ
করে তুলেছে। জায়গাটা খুব শান্ত এবং চা পাতার সতেজ গন্ধে ভরা, যা শহুরে জীবনের চাপ
থেকে মুক্তি দেয়। যদি আপনি প্রকৃতি প্রেমী হন বা শুধু একটা রিল্যাক্সিং ডে আউট
চান, তাহলে এটা আপনার জন্য আদর্শ স্পট। এছাড়া, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে পর্যটন
অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে, যেমন ভালো রাস্তা এবং সাইনবোর্ড, যা ভ্রমণকে আরও সহজ করে
তুলেছে। আমি যখন গিয়েছিলাম, তখন দেখেছি যে স্থানীয় লোকজনও খুব সহায়ক, এবং বাগানের
মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে চা শ্রমিকদের সাথে কথা বলে অনেক কিছু শেখা যায় এই এলাকার
ইতিহাস সম্পর্কে।
কীভাবে যাবেনঃ ধাপে ধাপে রুট
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ নিয়ে চিন্তা করলে প্রথম ধাপ হলো
চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছানো, কারণ এটাই মূল গেটওয়ে। যদি আপনি ঢাকা থেকে আসেন, তাহলে
বাসে যাত্রা করতে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লাগবে, আর ট্রেন বা বিমান নিলে সময় কম হয়,
বিশেষ করে যদি আপনি সকালে শুরু করতে চান। ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের ট্রান্সপোর্ট
সিস্টেম আরও উন্নত হয়েছে, তাই বাসগুলো এখন আরও কমফর্টেবল এবং সময়মতো চলে। আমি
সাজেস্ট করব যে আপনি অ্যাডভান্স টিকিট বুক করুন, বিশেষ করে উইকেন্ডে, যাতে কোনো
অপেক্ষা না করতে হয়। এছাড়া, যদি আপনি অন্য কোনো জায়গা থেকে আসেন, তাহলে
চট্টগ্রামকে টার্গেট করে প্ল্যান করুন, কারণ সেখান থেকে বাকি পথটা খুব সোজা।
চট্টগ্রাম পৌঁছে গেলে পরবর্তী ধাপ হলো বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল বা নতুন ব্রিজ
থেকে শুরু করা, যেখান থেকে আপনি সরাসরি বাস বা সিএনজি নিয়ে গুনাগরি বাজার বা
চানপুর বাজারের দিকে যাবেন। এই দূরত্ব প্রায় ২৩ থেকে ৪৫ কিলোমিটার, আর যাত্রায় ৪৫
মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগতে পারে, ট্রাফিকের উপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালের আপডেট
অনুসারে, রাস্তাগুলো আরও ভালো অবস্থায় আছে, বিশেষ করে নতুন সড়ক উন্নয়নের কারণে,
তাই বর্ষাকালেও খুব একটা সমস্যা হয় না। যদি আপনি গ্রুপে যান, তাহলে একটা সিএনজি
রিজার্ভ করে নেওয়া স্মার্ট চয়েস, কারণ তাতে খরচ ভাগ হয় এবং আপনি নিজের পেসে যেতে
পারেন। আমার অভিজ্ঞতায়, সকালে শুরু করলে দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায়, আর পথে
চা বা স্ন্যাকসের জন্য থামতে পারেন যাতে যাত্রা বোরিং না হয়।
শেষ ধাপে, গুনাগরি বা চানপুর বাজার থেকে আরও প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্বদিকে যেতে
হবে, যেখানে আপনি সিএনজি, রিকশা বা এমনকি হেঁটে যেতে পারেন যদি আপনি
অ্যাডভেঞ্চারাস ফিল করেন। এই অংশটা খুব সহজ, কারণ রাস্তা সমতল এবং সাইনবোর্ড আছে
যা সরাসরি বাগানের দিকে নিয়ে যায়। বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ
কম রাখতে চাইলে গ্রুপ ট্রান্সপোর্ট বেছে নিন, আর যদি আপনি নিজের গাড়ি নিয়ে যান
তাহলে জিপিএস ব্যবহার করুন যাতে পথ না হারান। ২০২৬ সালে পার্কিংয়ের সুবিধাও
বেড়েছে বাগানের কাছে, তাই চিন্তা করবেন না। সব মিলিয়ে, পুরো রুটটা ধাপে ধাপে ফলো
করলে আপনার যাত্রা স্মুথ হয়ে যাবে, আর আমি বলব যে আবহাওয়া চেক করে শুরু করুন যাতে
আরও মজা হয়।
খরচের বিবরণঃ বাজেট কত লাগবে
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ নিয়ে বললে, ২০২৬ সালে একজনের জন্য
একটা ডে ট্রিপে প্রায় ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাগতে পারে, যা নির্ভর করে আপনার
যাতায়াতের মোড এবং গ্রুপের সাইজের উপর। এই খরচের মধ্যে যাতায়াত, খাবার এবং
ছোটখাটো অন্যান্য জিনিস অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু যদি আপনি ঢাকা থেকে আসেন তাহলে
চট্টগ্রাম যাওয়া-আসার ভাড়া যোগ হয়ে যায়। আমি দেখেছি যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
ট্রান্সপোর্টের দাম একটু বেড়েছে, কিন্তু এখনও এটা খুব সাশ্রয়ী একটা ট্রিপ। যদি
আপনি বাজেট কম রাখতে চান, তাহলে গ্রুপে যাওয়া ভালো কারণ তাতে অনেক খরচ শেয়ার হয়ে
যায় এবং পুরো অভিজ্ঞতা আরও মজাদার হয়। সব মিলিয়ে, এই বাজেটটা আপনাকে একটা
পুরোদিনের প্রাকৃতিক ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেয় ছোট বিনিয়োগে।
চট্টগ্রাম থেকে যাতায়াতের খরচ নিয়ে শুরু করলে, বাসে যাওয়ার ভাড়া ১২০ থেকে ১৫০
টাকা পড়ে, আর সিএনজি রিজার্ভ করলে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা লাগতে পারে। যদি আপনি গ্রুপে
থাকেন, তাহলে এই সিএনজির খরচ ভাগ হয়ে প্রত্যেকের জন্য অনেক কম হয়, বলা যায় ১০০
টাকার মতো। ২০২৬ সালে নতুন বাস রুট যোগ হয়েছে, যা আরও সস্তা এবং দ্রুত, তাই চেক
করে দেখুন যদি কোনো ডিসকাউন্ট পান। যদি আপনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যান, তাহলে বাস
বা ট্রেনের ভাড়া ১৪০০ থেকে ২০০০ টাকা যোগ হয়, কিন্তু যদি বিমান নেন তাহলে আরও
বেশি। আমার অভিজ্ঞতায়, বাসই সবচেয়ে প্র্যাকটিক্যাল চয়েস যদি আপনি সময়ের সাথে খরচ
ব্যালেন্স করতে চান।
অন্যান্য খরচের মধ্যে বাগানে প্রবেশ ফি নেই, তবে আশপাশের স্পট যেমন ইকোপার্কে
প্রায় ৫০ টাকা দিতে হয়, আর যদি সমুদ্র সৈকতে যান তাহলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা মতো
লাগতে পারে ছোটখাটো জিনিসের জন্য। খাবারের জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা ধরে রাখুন,
যাতে লোকাল স্টল থেকে চা, স্ন্যাকস বা সাধারণ খাবার কিনতে পারেন। ২০২৬ সালে ফুড
প্রাইস একটু বেড়েছে, কিন্তু যদি নিজের সাথে খাবার নিয়ে যান তাহলে এটা কমিয়ে আনা
যায়। এছাড়া, যদি আপনি গাইড হায়ার করেন তাহলে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা যোগ হয়,
কিন্তু সাধারণত দরকার হয় না যদি আপনি সেলফ-গাইডেড ট্রিপ চান। সবকিছু মিলিয়ে, এই
ছোট খরচগুলো ম্যানেজ করলে বাজেটটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
শেষমেশ, যদি আপনি ট্যুর প্যাকেজ নেন তাহলে পুরো দিনের জন্য ৭৯৯ থেকে ৮০০ টাকায়
সবকিছু কভার হয়ে যায়, যা ২০২৬ সালের নতুন অফারগুলোতে দেখা যাচ্ছে। খরচ বাড়তে পারে
যদি আপনি একা যান বা অতিরিক্ত সার্ভিস নেন, কিন্তু সাধারণত এটা খুব সস্তা একটা
ট্রিপ। আমি সাজেস্ট করব যে বাজেট তৈরি করার সময় অতিরিক্ত ২০০ টাকা রাখুন
অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য, যেমন ফটোগ্রাফি বা স্যুভেনির। এভাবে প্ল্যান করলে আপনার
ট্রিপটা চিন্তামুক্ত হয়, এবং আপনি শুধু প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন।
দর্শনীয় স্থানঃ চা বাগান ছাড়া আর কী দেখবেন
চা বাগানে গেলে শুধু চা পাতা দেখে ফিরে আসবেন না, কারণ আশপাশে অনেক দর্শনীয় স্থান
আছে যা পুরো ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলবে। উদাহরণস্বরূপ, বাঁশখালী ইকোপার্ক আছে
যেখানে লেক, পাহাড় এবং নতুন ট্রেইল পথ যোগ হয়েছে ২০২৬ সালে, যা হাইকিং প্রেমীদের
জন্য আদর্শ। এছাড়া, বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত কাছেই, যেখানে আপনি দেশের দীর্ঘতম
ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে পারেন এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দে সময় কাটাতে পারেন। অন্যান্য
স্পটের মধ্যে খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকতও উল্লেখযোগ্য, যা শান্ত এবং কম ভিড়ের।
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ নিয়ে চিন্তা করলে এই স্পটগুলো যোগ
করে নিন, কারণ সব মিলিয়ে একদিনে পুরো এলাকা কভার করা যায় যদি আপনি সকালে শুরু
করেন। এতে করে ভ্রমণটা বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে এবং আপনি প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ দেখতে
পাবেন।
চা বাগানের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করুন, ছবি তুলুন, এবং শীতে গেলে কুয়াশার মধ্যে একটা
ম্যাজিকাল ফিলিং পাবেন যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আমার মতে, এই স্পটগুলো একসাথে
ঘুরলে আপনি পাহাড়, চা বাগান এবং সমুদ্রের মিশ্রণ পাবেন, যা একটা সম্পূর্ণ
অভিজ্ঞতা দেয় এবং ভ্রমণকে মনে রাখার মতো করে তোলে। যদি আপনি অ্যাডভেঞ্চার চান,
তাহলে ইকোপার্কের ট্রেইলগুলো ট্রাই করুন, কারণ সেগুলো নতুন এবং ভালো মেইনটেইনড।
সব মিলিয়ে, এই অতিরিক্ত স্থানগুলো দেখলে আপনার ট্রিপটা শুধু চা বাগানে সীমাবদ্ধ
থাকবে না, বরং একটা পুরোদস্তুর প্রাকৃতিক অ্যাডভেঞ্চার হয়ে উঠবে।
থাকা-খাওয়াঃ সহজ অপশনগুলো
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ কম রাখতে চাইলে ডে ট্রিপ করাই সেরা
বিকল্প, কারণ চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া-আসা খুব সহজ এবং সময় লাগে না, বিশেষ করে যদি
আপনি সকালে শুরু করে সন্ধ্যায় ফিরে আসেন। তবে যদি আপনি রাত্রিযাপন করতে চান বা
একাধিক দিন থাকতে চান, তাহলে চট্টগ্রাম শহরে থাকুন যেখানে বিভিন্ন মানের হোটেল
এবং গেস্টহাউস আছে, যেমন হোটেল স্টার পার্ক, হোটেল ডায়মন্ড পার্ক বা হোটেল মিসখা,
আর রুমের দাম সাধারণত ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হয় যা আপনার বাজেট অনুসারে
বেছে নিতে পারেন। বাগানের কাছে থাকার অপশন কম থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে
কয়েকটা লোকাল গেস্টহাউস যোগ হয়েছে যা সস্তা এবং বেসিক সুবিধা দেয়, যেমন পরিষ্কার
বিছানা, ফ্যান এবং শাওয়ার, আর দাম ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা মতো।
২০২৬ সালে এই গেস্টহাউসগুলোতে অনলাইন বুকিং অপশন যোগ হয়েছে, তাই অ্যাডভান্স করে
রিজার্ভ করলে ভালো হয়, বিশেষ করে পিক সিজনে যেমন শীতে যখন পর্যটকের ভিড় বাড়ে।
আমার অভিজ্ঞতায়, চট্টগ্রামে থেকে ডে ট্রিপ করলে রাতের থাকার খরচ বাঁচিয়ে আরও মজা
করে ঘুরতে পারেন, আর যদি ফ্যামিলির সাথে যান তাহলে একটা কমফর্টেবল হোটেল নেওয়া
ভালো যাতে সবাই রিল্যাক্স করতে পারে।
খাবারের জন্য বাগানের আশপাশে দোকান কম থাকায় নিজের সাথে খাবার নিয়ে যাওয়া ভালো,
যেমন স্যান্ডউইচ, ফল বা ড্রাই ফুড, কিন্তু যদি আপনি চট্টগ্রামে ফিরে আসেন তাহলে
স্থানীয় স্পেশালিটি খান যেমন মেজবানি মাংস, কালাভুনা বা ফুচকা, আর প্লেট প্রতি
২০০ থেকে ৪০০ টাকা লাগে যা খুবই সাশ্রয়ী। ২০২৬ সালে চট্টগ্রামের
রেস্টুরেন্টগুলোতে ফুড অপশন অনেক বেড়েছে, যেমন বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান এবং ফাস্ট
ফুডের ভ্যারাইটি আছে যা ভ্রমণের পর একটা ভালো মিল হয়ে যায় এবং আপনি বিভিন্ন স্বাদ
ট্রাই করতে পারেন। যদি আপনি ভেজিটেরিয়ান হন, তাহলে লোকাল স্টলে সালাদ, ফ্রেশ জুস
বা ভেজিটেবল কারি পাওয়া যায়, আর সবসময় পানির বোতল সাথে রাখুন যাতে হাইড্রেটেড
থাকেন বিশেষ করে গরমকালে যখন হাঁটাহাঁটি করবেন। বাগানের কাছে যদি কোনো ছোট চায়ের
দোকান পান, তাহলে সতেজ চা খান যা খুবই সস্তা এবং রিফ্রেশিং, আর আমার মতে খাবার
নিয়ে চিন্তা না করে গেলে ভ্রমণটা আরও উপভোগ্য হয় কারণ ফোকাসটা প্রকৃতির দিকে
থাকে। এছাড়া, যদি গ্রুপে যান তাহলে খাবার শেয়ার করে খরচ কমানো যায়, আর লোকাল ফুড
ট্রাই করে নতুন অভিজ্ঞতা নিন।
ভ্রমণ টিপসঃ কী মনে রাখবেন
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় মনে রাখুন
যে শীতকাল সেরা সময়, কারণ তখন আবহাওয়া মনোরম এবং কুয়াশা যোগ করে একটা রোমান্টিক
ভাইব। তবে গরমকালে গেলে সানস্ক্রিন, হ্যাট এবং পানি নিয়ে যান যাতে রোদে অসুবিধা
না হয়। স্থানীয় নিয়ম মেনে চলুন, যেমন বাগানে প্লাস্টিক না ফেলা বা পরিবেশ নষ্ট না
করা, কারণ এটা একটা ইকো-ফ্রেন্ডলি জোন। গ্রুপে যাওয়া ভালো যাতে খরচ শেয়ার হয় এবং
নিরাপত্তা বাড়ে, আর রিজার্ভ ট্রান্সপোর্ট নেওয়া সুবিধাজনক। ২০২৬ সালে কোভিডের পর
থেকে সেফটি চেক বেড়েছে, তাই মাস্ক এবং স্যানিটাইজার রাখুন, বিশেষ করে যদি ভিড়ের
সময় যান। ফিরবার সময় ট্রাফিক চেক করুন অ্যাপ দিয়ে, এবং যদি ছবি তোলেন তাহলে ড্রোন
ব্যবহারের অনুমতি নিন যদি দরকার হয়। এছাড়া, স্থানীয় গাইড হায়ার করলে আরও ডিটেল
জানতে পারবেন বাগানের ইতিহাস সম্পর্কে, যা ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করে। আমি সবসময় বলি
যে অ্যাডভান্স প্ল্যানিং করলে কোনো সমস্যা হয় না।
উপসংহারঃ কেন যাবেন
বাঁশখালী চা বাগান ভ্রমণ কীভাবে যাবেন এবং খরচ নিয়ে এতক্ষণ বিস্তারিত বললাম,
কিন্তু আসল কথা হলো এই জায়গাটা আপনাকে মানসিকভাবে রিফ্রেশ করে দেবে এবং শহুরে
জীবন থেকে একটা বিরতি দেবে। ২০২৬ সালে যদি আপনি একটা সস্তা কিন্তু প্রাকৃতিক
ভ্রমণ চান যা পাহাড়, চা বাগান এবং সমুদ্রের মিশ্রণ দেয়, তাহলে এটা অবশ্যই ট্রাই
করুন। আমার মতে, একবার গেলে আপনার আবার যাওয়ার ইচ্ছে করবে, কারণ এখানকার সৌন্দর্য
এবং শান্তি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। যদি আপনার কোনো অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে, তাহলে
জিজ্ঞাসা করুন!






ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url