মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা
মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা জানতে চান? তাহলে এই গাইডটি
আপনার জন্যই। প্রতিদিন বাইক চালিয়েও অনেকেই বুঝতে পারেন না কোথায় অযথা বেশি তেল
খরচ হচ্ছে। ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই একই তেলে আরও বেশি পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব।
বাস্তব টিপস ও অভিজ্ঞতা।
যারা জ্বালানি খরচ কমিয়ে টাকা বাঁচাতে চান, তাদের জন্য থাকছে সহজ সমাধান। শেষ
পর্যন্ত পড়লে এমন কিছু কৌশল জানবেন, যা আপনার বাইকের পারফরম্যান্সও উন্নত করতে
সাহায্য করবে। বাইকপ্রেমীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কার্যকর টিপস নিয়ে সাজানো হয়েছে
এই লেখা।
পেজ সূচিপত্রঃ মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা
মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা
মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা জানতে চাইলে আগে একটি সহজ কথা
মনে রাখুন, মাইলেজ শুধু বাইকের ইঞ্জিনের ওপর নির্ভর করে না। আপনি কীভাবে বাইক
চালান, কীভাবে যত্ন নেন, আর কতটা নিয়ম মেনে ব্যবহার করেন, এসব বিষয়ও বড় ভূমিকা
রাখে। অনেকেই ভাবেন, বাইক পুরোনো হলেই মাইলেজ কমে যায়। কথাটা পুরোপুরি সত্য নয়।
নিয়মিত যত্ন নিলে পুরোনো বাইকও ভালো মাইলেজ দিতে পারে। আবার নতুন বাইকও ভুল
ব্যবহারে তেল বেশি খেতে শুরু করে। চলুন জেনে নেই ৭টি সহজ উপায়গুলি।
১. নিয়মিত সার্ভিসিং করুনঃ আপনার বাইককে শরীরের মতো ভাবুন। শরীর ভালো রাখতে যেমন
নিয়মিত যত্ন দরকার, বাইকেরও তেমন সার্ভিসিং দরকার। সময়মতো সার্ভিসিং করলে ইঞ্জিন
পরিষ্কার থাকে এবং বাইক সহজে শক্তি তৈরি করতে পারে। ইঞ্জিন অয়েল, এয়ার ফিল্টার,
স্পার্ক প্লাগ, চেইন, ব্রেক, সবকিছু ঠিক আছে কি না দেখে নিতে হবে। ছোট সমস্যা
জমতে দিলে পরে বড় খরচ হয়। আর মাইলেজও ধীরে ধীরে কমে যায়।
২. সঠিক টায়ার প্রেশার রাখুনঃ টায়ারে বাতাস কম থাকলে বাইক চালাতে ইঞ্জিনকে বেশি
চাপ নিতে হয়। ফলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় আপনি বুঝতেই পারেন না, শুধু
টায়ার প্রেশার কম থাকার কারণে বাইক বেশি তেল খাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার
টায়ার প্রেশার চেক করুন। বাইকের ম্যানুয়াল বা মেকানিকের পরামর্শ অনুযায়ী বাতাস
রাখুন। খুব বেশি বা খুব কম, দুইটাই ক্ষতিকর।
৩. অতিরিক্ত স্পিড ও হঠাৎ ব্রেক এড়িয়ে চলুনঃ আপনি যদি বারবার বেশি স্পিড তোলেন,
আবার হঠাৎ ব্রেক করেন, তাহলে বাইক বেশি তেল খাবে। শহরের রাস্তায় এই অভ্যাস অনেকের
থাকে। কিন্তু এতে মাইলেজের বারোটা বেজে যায়। ধীরে, স্থিরভাবে এবং হিসাব করে বাইক
চালান। একই গতিতে বাইক চালালে ইঞ্জিন কম চাপ নেয়। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং
রাইডও আরামদায়ক হয়।
৪. অযথা বাইক চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকবেন নাঃ জ্যামে, দোকানের সামনে বা কারও জন্য
অপেক্ষা করার সময় অনেকে বাইক চালু রাখেন। মনে হয়, এতে আর কত তেল যাবে। কিন্তু
ফোঁটা ফোঁটা জলেই পাথর ক্ষয় হয়, তেমনি একটু একটু করেও অনেক জ্বালানি নষ্ট হয়। এক
মিনিটের বেশি দাঁড়াতে হলে ইঞ্জিন বন্ধ করে দিন। এই ছোট অভ্যাস মাস শেষে ভালো
পার্থক্য এনে দিতে পারে। বিশেষ করে শহরের রাইডারদের জন্য এটি খুব দরকারি।
৫. ভালো মানের জ্বালানি ব্যবহার করুনঃ নিম্নমানের তেল ব্যবহার করলে বাইকের ইঞ্জিন
ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। এতে শুধু মাইলেজ কমে না, ইঞ্জিনের ক্ষতিও হতে পারে।
তাই যেখানে-সেখানে তেল না নিয়ে পরিচিত ও ভালো পাম্প থেকে জ্বালানি নিন।ভালো
জ্বালানি ইঞ্জিনকে পরিষ্কারভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। বাইক মসৃণ চলে, টান ভালো
থাকে, আর মাইলেজও তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়। সস্তার লোভে পরে বেশি খরচ করার দরকার
নেই।
৬. অপ্রয়োজনীয় ওজন বহন করবেন নাঃ বাইকে বেশি ওজন থাকলে ইঞ্জিনকে বেশি পরিশ্রম
করতে হয়। আপনি যদি সবসময় অতিরিক্ত মালপত্র বহন করেন, তাহলে মাইলেজ কমে যাওয়াই
স্বাভাবিক। বাইক যত হালকা থাকবে, তত সহজে চলবে। প্রয়োজন ছাড়া ভারী ব্যাগ,
অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাইকে রাখবেন না। বিশেষ করে প্রতিদিন
অফিস বা বাজারে যাওয়ার সময় শুধু দরকারি জিনিস নিন। এতে বাইকের ওপর চাপ কমবে।
৭. সঠিক গিয়ারে বাইক চালানঃ ভুল গিয়ারে বাইক চালানো মাইলেজ কমানোর বড় কারণ। কম
স্পিডে বেশি গিয়ার বা বেশি স্পিডে কম গিয়ার ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ পড়ে।
এতে বাইক ঝাঁকুনি দেয় এবং তেল বেশি খায়। আপনার বাইকের শব্দ শুনে গিয়ার পরিবর্তন
করার অভ্যাস করুন। ইঞ্জিন যখন বেশি চাপ নিচ্ছে মনে হবে, তখন গিয়ার ঠিক করুন। সঠিক
গিয়ার ব্যবহারে বাইক মসৃণ চলে এবং জ্বালানি কম লাগে।
মোটরসাইকেলের মাইলেজ বাড়ানো কোনো কঠিন কাজ নয়। আপনাকে শুধু কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি
করতে হবে। নিয়মিত সার্ভিসিং, সঠিক টায়ার প্রেশার, শান্তভাবে রাইড করা এবং ভালো
জ্বালানি ব্যবহার, এসব ছোট কাজই বড় ফল দেয়। আজ থেকেই নিজের বাইক চালানোর ধরন একটু
খেয়াল করুন। কোথায় বেশি তেল খরচ হচ্ছে, কোন অভ্যাস বদলানো দরকার, সেটা বুঝে নিন।
বাইকের যত্ন নিলে বাইকও আপনাকে ভালো মাইলেজ দিয়ে তার প্রতিদান দেবে।
বাইকের মাইলেজ কমে কেন?
বাইক ভালো চলছিল, হঠাৎ দেখলেন আগের মতো মাইলেজ দিচ্ছে না। আগে যেখানে এক লিটার
তেলে অনেকটা পথ যেতেন, এখন মাঝপথেই তেলের কাঁটা নিচে নেমে আসে। এমন হলে আপনি
নিশ্চয়ই ভাবেন, সমস্যা আসলে কোথায়? সত্যি বলতে, বাইকের মাইলেজ কমার পেছনে একাধিক
কারণ কাজ করে। অনেক সময় আমরা বাইকের ইঞ্জিনকে দোষ দিই। কিন্তু শুধু ইঞ্জিন নয়,
আপনার চালানোর ধরন, সার্ভিসিং, টায়ারের অবস্থা, এমনকি জ্বালানির মানও মাইলেজে
প্রভাব ফেলে। ছোট ছোট ভুল একসময় বড় সমস্যায় রূপ নেয়। তাই আগে কারণগুলো বুঝতে হবে।
প্রথম বড় কারণ হলো অনিয়মিত সার্ভিসিং। আপনি যদি সময়মতো সার্ভিসিং না করেন, বাইকের
ইঞ্জিন ধীরে ধীরে চাপ নিতে শুরু করে।
এয়ার ফিল্টার ময়লা হলে ইঞ্জিন ঠিকভাবে বাতাস পায় না। তখন বাইক বেশি তেল খরচ করে।
ইঞ্জিন অয়েল পুরোনো হয়ে গেলেও মাইলেজ কমে যায়। পুরোনো বা খারাপ মানের ইঞ্জিন অয়েল
ইঞ্জিনের ভেতরের অংশগুলোকে ঠিকভাবে মসৃণ রাখতে পারে না। এতে ঘর্ষণ বাড়ে। আর ঘর্ষণ
বাড়লে ইঞ্জিন বেশি শক্তি নেয়, ফলে তেলও বেশি লাগে। টায়ারের বাতাস কম থাকাও খুব
সাধারণ একটি কারণ। আপনি হয়তো ভাবছেন, টায়ারের বাতাসের সঙ্গে আবার মাইলেজের
সম্পর্ক কী? সম্পর্ক কিন্তু বেশ গভীর। টায়ারে বাতাস কম থাকলে বাইক সামনে এগোতে
বেশি শক্তি নেয়। ব্রেক টাইট থাকলেও বাইকের মাইলেজ কমে। অনেক সময় ব্রেক প্যাড
চাকার সঙ্গে হালকা ঘষা খেতে থাকে।
আপনি সেটা বুঝতে পারেন না, কিন্তু ইঞ্জিন তখন বাড়তি চাপ নেয়। এতে বাইক ভারী লাগে
এবং তেল বেশি খরচ হয়। আপনি যদি খুব দ্রুত গতি বাড়ান, আবার হঠাৎ ব্রেক করেন, তাহলে
মাইলেজ কমবেই। বাইক শান্তভাবে চালালে ইঞ্জিন কম চাপ নেয়। কিন্তু বারবার রেস
বাড়ানো ও কমানো ইঞ্জিনকে অস্থির করে ফেলে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। ভুল গিয়ারে
বাইক চালানোও মাইলেজ কমায়। কম গতিতে বেশি গিয়ার দিলে বাইক কাঁপে, আর বেশি গতিতে
কম গিয়ার দিলে ইঞ্জিন চেঁচায়। দুটোই ইঞ্জিনের জন্য ভালো নয়। সঠিক সময়ে গিয়ার
পরিবর্তন করলে বাইক মসৃণ চলে।
আরো পড়ুনঃ
কম বয়সে চুল পাকার কারণ
নিম্নমানের জ্বালানি ব্যবহার করলে বাইকের পারফরম্যান্স খারাপ হয়। অনেক সময় তেলে
ভেজাল থাকলে ইঞ্জিন ঠিকভাবে জ্বালানি পোড়াতে পারে না। তখন বাইক টান কম দেয়, শব্দ
বাড়ে, আর মাইলেজ কমে যায়। তাই পরিচিত ও ভালো পাম্প থেকে তেল নেওয়া ভালো। এয়ার
ফিল্টার ময়লা হলে বাইক বেশি তেল খায়। ইঞ্জিন ভালোভাবে কাজ করতে পরিষ্কার বাতাস
দরকার। ফিল্টার বন্ধ হয়ে গেলে ইঞ্জিনে বাতাস কম যায়। তখন ইঞ্জিন জ্বালানি বেশি
নেয়, কিন্তু শক্তি কম দেয়। স্পার্ক প্লাগ দুর্বল হলেও মাইলেজ কমে যেতে পারে।
স্পার্ক প্লাগ ঠিকভাবে আগুন না দিলে জ্বালানি পুরোপুরি পোড়ে না। এতে বাইকের টান
কমে এবং তেল অপচয় হয়। ছোট এই যন্ত্রটি খারাপ হলে বড় পার্থক্য দেখা যায়।
বাইকে অতিরিক্ত ওজন বহন করলেও জ্বালানি বেশি লাগে। আপনি যদি প্রতিদিন ভারী ব্যাগ,
অপ্রয়োজনীয় জিনিস বা বেশি মাল বহন করেন, ইঞ্জিনকে বেশি কাজ করতে হয়। বাইক যত ভারী
হবে, তত বেশি তেল খরচ হবে। সহজ কথা, বোঝা বেশি হলে খরচও বেশি। চেইন বেশি ঢিলা বা
বেশি টাইট থাকলেও সমস্যা হয়। চেইন ঠিকভাবে সেট না থাকলে বাইকের শক্তি চাকার কাছে
ঠিকমতো পৌঁছায় না। এতে ইঞ্জিন কাজ করে, কিন্তু ফল কম পাওয়া যায়। ফলে মাইলেজ কমে
যায়। অনেক সময় বাইক দীর্ঘ সময় চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকলেও তেল নষ্ট হয়। জ্যামে,
দোকানের সামনে বা কারও জন্য অপেক্ষা করার সময় অনেকেই ইঞ্জিন বন্ধ করেন না। তখন
বাইক দাঁড়িয়ে থাকে, কিন্তু তেল খরচ চলতেই থাকে।
ছোট অভ্যাস, কিন্তু ক্ষতি বড়। কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমে সমস্যা
থাকলেও মাইলেজ কমে। এই অংশগুলো ইঞ্জিনে জ্বালানি পাঠানোর কাজ করে। এখানে সমস্যা
হলে জ্বালানি ঠিক পরিমাণে যায় না। কখনও বেশি যায়, কখনও কম যায়, আর বাইক ঠিকভাবে
চলে না। পুরোনো বাইকের ক্ষেত্রে ইঞ্জিনের ভেতরে ক্ষয়ও মাইলেজ কমাতে পারে। পিস্টন
রিং, ভালভ বা অন্যান্য অংশ দুর্বল হলে ইঞ্জিন আগের মতো শক্তি তৈরি করতে পারে না।
তখন একই পথ যেতে বেশি জ্বালানি লাগে। তাই পুরোনো বাইকে নিয়মিত চেকআপ আরও বেশি
জরুরি। আপনার বাইকের মাইলেজ কমে গেলে আগে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। কারণ খুঁজে
বের করলেই বেশিরভাগ সমস্যা সমাধান করা যায়।
নিয়মিত সার্ভিসিং, সঠিক টায়ার প্রেশার, ভালো জ্বালানি এবং শান্তভাবে চালানোর
অভ্যাস বাইকের মাইলেজ অনেকটাই ধরে রাখে। সবশেষে একটি কথা মনে রাখুন, বাইক যত্ন
চাই। আপনি যদি বাইকের ছোট সমস্যাগুলো সময়মতো দেখেন, বাইকও আপনাকে ভালো মাইলেজ
দিয়ে সাড়া দেবে। যত্নে রাখলে জিনিস টেকে, এই কথাটা বাইকের ক্ষেত্রেও একদম সত্য।
টায়ার প্রেসারের গুরুত্ব
টায়ার প্রেসারের গুরুত্ব আপনি অনেক সময় চোখে দেখেন না, কিন্তু বাইক চালানোর সময়
ঠিকই বুঝতে পারেন। মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা নিয়ে ভাবলে
টায়ার প্রেসারকে একেবারে শুরুতেই রাখতে হয়। কারণ টায়ারের বাতাস ঠিক না থাকলে
বাইক বেশি তেল খায়, কম আরাম দেয়, আর রাস্তায় নিয়ন্ত্রণও দুর্বল হয়ে যায়। আপনি যদি
প্রতিদিন বাইক চালান, তাহলে টায়ার প্রেসার আপনার জন্য ছোট বিষয় নয়। টায়ারে
বাতাস কম থাকলে বাইক সামনে এগোতে বেশি শক্তি নেয়। ফলে ইঞ্জিন বেশি চাপ খায় এবং
জ্বালানি খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। অনেক রাইডার শুধু ইঞ্জিন, তেল বা
সার্ভিসিং নিয়ে চিন্তা করেন।
কিন্তু টায়ারের বাতাস কম আছে কি না, সেটা খেয়াল করেন না। আসলে এই ছোট ভুলটাই
অনেক সময় মাইলেজ কমার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টায়ার প্রেসার ঠিক থাকলে বাইক
মসৃণভাবে চলে। রাস্তায় বাইকের ভারসাম্য ভালো থাকে এবং মোড় নেওয়ার সময় আপনি বেশি
আত্মবিশ্বাস পান। বিশেষ করে ভেজা রাস্তা বা বালুময় রাস্তায় সঠিক প্রেসার
নিরাপত্তার জন্য খুব জরুরি। টায়ারে বাতাস কম থাকলে টায়ারের বাইরের অংশ বেশি ঘষা
খায়। এতে টায়ার দ্রুত ক্ষয় হয় এবং কিছুদিন পর নতুন টায়ার কেনার দরকার পড়ে।
মানে, শুধু তেল নয়, আপনার বাড়তি খরচও বেড়ে যায়। আবার টায়ারে অতিরিক্ত বাতাস
থাকাও ভালো নয়।
বেশি প্রেসারে বাইক শক্ত লাগে, ঝাঁকুনি বেশি হয় এবং টায়ারের মাঝের অংশ দ্রুত
ক্ষয় হতে পারে। তাই আন্দাজে বাতাস না দিয়ে সঠিক পরিমাণে প্রেসার রাখা সবচেয়ে
ভালো। আপনি সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ার প্রেসার চেক করলে অনেক সমস্যা এড়াতে
পারবেন। লম্বা রাইডে যাওয়ার আগে অবশ্যই সামনে ও পেছনের টায়ার দেখে নিন। বাইকের
ম্যানুয়াল বা অভিজ্ঞ মেকানিকের পরামর্শ অনুযায়ী বাতাস দিলে ভালো ফল পাবেন। একটা
সহজ অভ্যাস আপনার বাইকের মাইলেজ, টায়ারের আয়ু এবং রাইডিং নিরাপত্তা, তিনটিই ভালো
রাখতে পারে। তাই টায়ার প্রেসারকে ছোট বিষয় ভাববেন না। বাইকের যত্ন নিতে চাইলে
টায়ারের বাতাস ঠিক আছে কি না, সেটা নিয়মিত দেখা খুব দরকার।
সঠিক ইঞ্জিন অয়েল নির্বাচন
সঠিক ইঞ্জিন অয়েল নির্বাচন বাইকের যত্নের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। আপনি যদি
বাইকের জন্য ভুল অয়েল ব্যবহার করেন, তাহলে ইঞ্জিন ধীরে ধীরে চাপ নিতে শুরু করে।
শুরুতে সমস্যা ছোট মনে হলেও পরে মাইলেজ, পারফরম্যান্স এবং ইঞ্জিনের আয়ুতে তার
প্রভাব পড়ে। অনেক বাইক মালিক শুধু দাম দেখে ইঞ্জিন অয়েল কেনেন। কিন্তু শুধু
সস্তা বা দামি হলেই অয়েল ভালো হয় না। আপনার বাইকের ইঞ্জিনের ধরন, কোম্পানির
পরামর্শ এবং ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী অয়েল বেছে নিতে হবে। ইঞ্জিন অয়েলের প্রধান
কাজ হলো ইঞ্জিনের ভেতরের অংশগুলো মসৃণ রাখা। বাইক চলার সময় ইঞ্জিনের ভেতরে অনেক
ধাতব অংশ দ্রুত নড়ে।
সঠিক অয়েল না থাকলে এসব অংশে ঘর্ষণ বাড়ে এবং ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়। আপনি যদি ভালো
মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করেন, বাইক অনেক মসৃণ চলে। ইঞ্জিনের শব্দ কম থাকে,
গিয়ার পরিবর্তন সহজ লাগে এবং রাইড আরামদায়ক হয়। এক কথায়, ভালো অয়েল বাইকের ভেতরে
নীরবভাবে বড় কাজ করে। ভুল গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে বাইকের মাইলেজ কমে
যেতে পারে। ধরুন আপনার বাইকের জন্য পাতলা অয়েল দরকার, কিন্তু আপনি বেশি ঘন অয়েল
ব্যবহার করলেন। তখন ইঞ্জিন ঠিকভাবে ঘুরতে পারে না এবং বেশি জ্বালানি খরচ করে।
বাইকের ম্যানুয়ালে সাধারণত কোন গ্রেডের অয়েল ব্যবহার করতে হবে, সেটা লেখা থাকে।
আপনি যদি ম্যানুয়াল না বুঝেন, তাহলে অভিজ্ঞ মেকানিক বা সার্ভিস সেন্টারের পরামর্শ
নিন। আন্দাজে অয়েল ব্যবহার করলে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। ইঞ্জিন অয়েলের
ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে মিনারেল, সেমি-সিনথেটিক এবং ফুল সিনথেটিক অয়েল পাওয়া
যায়। আপনার বাইকের বয়স, ইঞ্জিন ক্ষমতা এবং চালানোর ধরন অনুযায়ী কোনটি ভালো হবে,
সেটা বুঝে নেওয়া দরকার। আপনি যদি প্রতিদিন শহরের জ্যামে বাইক চালান, ইঞ্জিন বেশি
গরম হয়। এমন অবস্থায় ভালো মানের অয়েল ব্যবহার করা আরও জরুরি। কারণ জ্যামে বারবার
থামা ও চলার কারণে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। লম্বা রাইডে গেলেও ইঞ্জিন অয়েলের
মান খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ সময় বাইক চালালে ইঞ্জিনের তাপমাত্রা বাড়ে। ভালো অয়েল ইঞ্জিনকে সেই চাপ
সামলাতে সাহায্য করে এবং পারফরম্যান্স ধরে রাখে। অনেকে সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল
পরিবর্তন করেন না। এটা বাইকের জন্য ভালো অভ্যাস নয়। পুরোনো অয়েল কালচে হয়ে গেলে
বা কার্যক্ষমতা হারালে ইঞ্জিনের ভেতরে ময়লা জমতে শুরু করে। আপনি নির্দিষ্ট
কিলোমিটার পরপর অয়েল পরিবর্তন করলে ইঞ্জিন ভালো থাকে। কত কিলোমিটার পর অয়েল
বদলাবেন, সেটা বাইকের মডেল এবং অয়েলের ধরনের ওপর নির্ভর করে। তাই নিয়মিত চেক করা
সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
নকল ইঞ্জিন অয়েল থেকেও সাবধান থাকতে হবে। বাজারে অনেক সময় নামি ব্র্যান্ডের নকল
অয়েল পাওয়া যায়। আপনি সবসময় বিশ্বস্ত দোকান, অফিসিয়াল ডিলার বা পরিচিত সার্ভিস
পয়েন্ট থেকে অয়েল কিনুন। সঠিক ইঞ্জিন অয়েল বাইকের মাইলেজ ভালো রাখতে সাহায্য
করে। ইঞ্জিন যখন কম ঘর্ষণে কাজ করে, তখন জ্বালানি কম খরচ হয়। তাই শুধু তেল ভরলেই
হবে না, ইঞ্জিনে কোন অয়েল যাচ্ছে সেটাও দেখা দরকার।
ইঞ্জিন অয়েলকে ছোট বিষয় ভাববেন না। আপনি যদি বাইকের ইঞ্জিনকে দীর্ঘদিন ভালো
রাখতে চান, তাহলে সঠিক অয়েল নির্বাচন করুন। বাইকের যত্ন নিলে বাইকও আপনাকে ভালো
পারফরম্যান্স, ভালো মাইলেজ এবং নিশ্চিন্ত রাইড দিয়ে তার জবাব দেবে।
নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালানো
নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালানো শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, মাইলেজ ভালো রাখার জন্যও
খুব জরুরি। আপনি যদি হঠাৎ স্পিড বাড়ান, আবার একটু পরেই জোরে ব্রেক করেন, তাহলে
ইঞ্জিন বেশি চাপ নেয়।
এতে বাইক বেশি তেল খায় এবং রাইডও অস্বস্তিকর হয়ে যায়। তাই মোটরসাইকেল মাইলেজ
বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা বুঝতে হলে গতির নিয়ন্ত্রণ আগে বুঝতে হবে। আপনি যখন
একই গতিতে বাইক চালান, ইঞ্জিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। বারবার রেস বাড়ানো বা
কমানোর দরকার পড়ে না। এতে জ্বালানি কম খরচ হয় এবং বাইকের পারফরম্যান্সও ভালো
থাকে। সহজ ভাষায় বললে, শান্ত রাইড মানেই সাশ্রয়ী রাইড। অনেকেই খালি রাস্তা পেলেই
দ্রুত বাইক চালাতে চান।
কিন্তু বেশি স্পিড সবসময় ভালো ফল দেয় না। অতিরিক্ত গতিতে ইঞ্জিন দ্রুত ঘোরে, ফলে
তেলও বেশি লাগে। আপনি একটু ধৈর্য ধরলে বাইকও ভালো থাকে, পকেটও বাঁচে। শহরের
রাস্তায় নিয়ন্ত্রিত গতি আরও বেশি দরকার। কারণ এখানে জ্যাম, সিগন্যাল, পথচারী এবং
হঠাৎ গাড়ি থামার ঘটনা বেশি ঘটে। আপনি যদি আগে থেকেই গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন, তাহলে
বারবার হঠাৎ ব্রেক করতে হবে না। এতে বাইকের ব্রেক, টায়ার এবং ইঞ্জিন, সবকিছুর
ওপর চাপ কম পড়ে। নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালালে আপনার রাইড অনেক বেশি আরামদায়ক
হয়। বাইক ঝাঁকুনি কম দেয়, ইঞ্জিনের শব্দ স্বাভাবিক থাকে এবং আপনি রাস্তার
পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
আরো পড়ুনঃ বাজেটে কক্সবাজার ৩ দিনের পর্যটন প্যাকেজ
তাড়াহুড়া করে চালালে মনও অস্থির থাকে। কিন্তু শান্তভাবে চালালে রাস্তায় আপনার
নিয়ন্ত্রণ অনেক ভালো থাকে। আপনি যদি মাইলেজ ভালো রাখতে চান, তাহলে হঠাৎ
অ্যাক্সেলারেশন এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে স্পিড তুলুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গিয়ার
পরিবর্তন করুন। ইঞ্জিনকে সময় দিলে বাইক মসৃণভাবে এগোয়। এতে তেল কম খরচ হয় এবং
ইঞ্জিনের আয়ুও বাড়ে। হাইওয়েতে বাইক চালানোর সময়ও নির্দিষ্ট একটি আরামদায়ক গতি ধরে
রাখা ভালো। বারবার বেশি স্পিডে ওঠা এবং আবার কমানো জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়। একই
গতিতে চললে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে। এটা দীর্ঘ রাইডে মাইলেজ ধরে রাখার খুব ভালো
অভ্যাস।
নিয়ন্ত্রিত গতি আপনাকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেও অনেকটা দূরে রাখে। আপনি যখন স্পিড
কম রাখেন, তখন সামনে কোনো বাধা এলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বাইক থামানো সহজ
হয় এবং রাস্তায় ভুল করার সুযোগ কমে যায়। জীবনের চেয়ে দামি কোনো স্পিড নেই, এটা
সবসময় মনে রাখা ভালো। সবশেষে বলব, ভালো রাইডার সে নয় যে সবচেয়ে দ্রুত
চালায়।
ভালো রাইডার সে, যে রাস্তা বুঝে, বাইক বুঝে এবং নিজের নিরাপত্তা বুঝে চালায়। আপনি
যদি নিয়ন্ত্রিত গতিতে বাইক চালানোর অভ্যাস করেন, তাহলে মাইলেজ, নিরাপত্তা এবং
বাইকের আয়ু, সবকিছুতেই ভালো ফল পাবেন। ছোট এই অভ্যাসটাই আপনার প্রতিদিনের রাইডকে
অনেক বেশি সুন্দর করে তুলতে পারে।
গিয়ার ও ক্লাচের সঠিক ব্যবহার
গিয়ার ও ক্লাচের সঠিক ব্যবহার বাইক চালানোর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যদি
ঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন করেন, তাহলে বাইক মসৃণভাবে চলে। এতে ইঞ্জিনের ওপর চাপ
কম পড়ে এবং রাইডও অনেক আরামদায়ক হয়। অনেক সময় ভুল গিয়ারে বাইক চালালে ইঞ্জিন
অস্বাভাবিক শব্দ করে। কম গতিতে বেশি গিয়ার দিলে বাইক কাঁপে, আবার বেশি গতিতে
কম গিয়ার দিলে ইঞ্জিন চাপ নেয়। আপনি বাইকের শব্দ ও গতি বুঝে গিয়ার পরিবর্তন
করলে এই সমস্যা সহজেই এড়াতে পারবেন। ক্লাচ অযথা চেপে ধরে রাখাও ভালো অভ্যাস নয়।
আপনি যদি বারবার ক্লাচ ধরে বাইক চালান, তাহলে ক্লাচ প্লেট দ্রুত ক্ষয় হতে পারে।
তাই শুধু গিয়ার পরিবর্তনের সময় এবং প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ক্লাচ ব্যবহার করুন।
জ্যামে বাইক চালানোর সময় গিয়ার ও ক্লাচ বেশি ব্যবহার করতে হয়। এ সময় ধৈর্য ধরে
ধীরে ধীরে বাইক চালান। হঠাৎ রেস দেওয়া বা আধা ক্লাচ ধরে এগোনো বাইকের জন্য
ক্ষতিকর হতে পারে। সঠিক গিয়ার ও ক্লাচ ব্যবহারে বাইকের মাইলেজ ভালো থাকে।
ইঞ্জিন যখন স্বাভাবিকভাবে কাজ করে, তখন জ্বালানি কম খরচ হয়। আপনি যদি এই অভ্যাস
নিয়মিত করেন, বাইকের পারফরম্যান্সও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। ভালো রাইডিং শুধু
স্পিডের বিষয় নয়। আপনি কীভাবে গিয়ার বদলাচ্ছেন এবং ক্লাচ ব্যবহার করছেন, সেটাও
খুব গুরুত্বপূর্ণ। ছোট এই অভ্যাস আপনার বাইককে ভালো রাখবে এবং রাইডকে আরও সহজ
করবে।
এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন
এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন, কারণ এটি ইঞ্জিনে পরিষ্কার বাতাস পৌঁছাতে
সাহায্য করে। আপনি যদি ফিল্টার ময়লা অবস্থায় চালান, ইঞ্জিন ঠিকভাবে শ্বাস নিতে
পারে না। তখন বাইক বেশি জ্বালানি নেয়, কিন্তু আগের মতো টান দেয় না। ছোট এই
অংশটি ঠিক না থাকলে মাইলেজ ও পারফরম্যান্স দুটোই কমে যায়। মোটরসাইকেল মাইলেজ
বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা বুঝতে হলে এয়ার ফিল্টারের যত্নকে গুরুত্ব দিতে
হবে। আপনি যখন পরিষ্কার এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করেন, ইঞ্জিন সহজে বাতাস পায়।
ফলে জ্বালানি ভালোভাবে পোড়ে এবং বাইক তুলনামূলক কম তেল খায়। অনেকেই এয়ার
ফিল্টারকে খুব ছোট বিষয় মনে করেন।
কিন্তু বাইকের ভেতরে এই ছোট অংশটাই বড় কাজ করে। ফিল্টার ধুলাবালি আটকায় এবং
ইঞ্জিনকে পরিষ্কার বাতাস নিতে সাহায্য করে। আপনি যদি ধুলাবালির রাস্তায় বেশি
বাইক চালান, তাহলে এয়ার ফিল্টার দ্রুত ময়লা হবে। গ্রামের রাস্তা, নির্মাণকাজের
এলাকা বা ব্যস্ত শহরের ধুলাময় পথে এটি বেশি ঘটে। তাই এমন রাস্তা দিয়ে চললে
ফিল্টার একটু বেশি নিয়মিত চেক করা ভালো। ময়লা এয়ার ফিল্টার বাইকের শব্দও বদলে
দিতে পারে। আপনি দেখবেন বাইক আগের মতো স্মুথ চলছে না, টান কমে যাচ্ছে।
অনেক সময় অ্যাক্সেলারেশনেও ভারী ভাব অনুভব হয়। সময়মতো এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার
বা পরিবর্তন করলে বাইক ভালো থাকে।
আপনি সার্ভিসিংয়ের সময় মেকানিককে ফিল্টার চেক করতে বলতে পারেন। যদি ফিল্টার
বেশি পুরোনো বা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে নতুন ফিল্টার ব্যবহার করাই ভালো। এয়ার
ফিল্টার পরিষ্কার রাখা খুব সহজ একটি অভ্যাস। আপনি এই ছোট যত্ন নিলে বাইকের
ইঞ্জিন হালকা থাকে এবং মাইলেজ ভালো থাকে। বাইকের যত্ন নিতে চাইলে এয়ার
ফিল্টারকে কখনো অবহেলা করবেন না।
অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলুন
মোটরসাইকেল মাইলেজ বাড়ানোর ৭টি সহজ উপায় বাংলা মানতে চাইলে অতিরিক্ত ওজন
এড়িয়ে চলুন। আপনি যদি বাইকে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিস বহন করেন, তাহলে ইঞ্জিনকে
বেশি চাপ নিতে হয়। ফলে বাইক বেশি তেল খায় এবং মাইলেজ ধীরে ধীরে কমে যায়। অনেক সময়
আমরা বাইকে এমন কিছু জিনিস রাখি, যেগুলো প্রতিদিন দরকার হয় না। ভারী ব্যাগ,
অতিরিক্ত মালপত্র বা অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বাইকের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। আপনি
যত হালকা রাখবেন, বাইক তত সহজে চলবে। বাইকে বেশি ওজন থাকলে শুধু মাইলেজ নয়,
রাইডিং আরামও কমে যায়। বাইক ভারী লাগে, ব্রেক করতে বেশি সময় নেয় এবং মোড় নেওয়ার
সময় নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে।
তাই নিরাপত্তার দিক থেকেও অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলা ভালো। যদি নিয়মিত বাজার, অফিস
বা লম্বা রাইডে যান, তাহলে আগে দেখে নিন কী কী জিনিস সত্যিই দরকার। অপ্রয়োজনীয়
জিনিস বাদ দিলে বাইকের ওপর চাপ কমবে। এতে ইঞ্জিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে এবং
জ্বালানি খরচও কম হবে। পিছনে যাত্রী নিলে বা মাল বহন করলে বাইকের গতি ও ব্রেকিংয়ে
একটু বেশি সতর্ক থাকুন।
বেশি ওজনের কারণে বাইক আগের মতো দ্রুত সাড়া নাও দিতে পারে। তাই ধীরে,
নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং রাস্তা বুঝে বাইক চালান। বাইকের মাইলেজ ভালো রাখতে ছোট ছোট
অভ্যাসই বড় কাজ করে। আপনি যদি অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলেন, তাহলে বাইক হালকা থাকবে
এবং ইঞ্জিন কম চাপ নেবে। এতে মাইলেজ ভালো থাকবে, বাইকের আয়ুও বাড়বে।
নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের উপকারিতা
নিয়মিত সার্ভিসিং করলে আপনার বাইক অনেকদিন ভালো থাকে। যদি সময়মতো সার্ভিসিং
করেন, তাহলে ছোট সমস্যা বড় হওয়ার আগেই ধরা পড়ে। এতে বাইকের পারফরম্যান্স ঠিক থাকে
এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে। সার্ভিসিংয়ের সময় ইঞ্জিন অয়েল, এয়ার ফিল্টার, ব্রেক,
চেইন এবং টায়ার ভালোভাবে দেখা হয়। এসব অংশ ঠিক থাকলে বাইক মসৃণভাবে চলে। আপনি
রাইড করার সময় বাইকের টান, শব্দ এবং নিয়ন্ত্রণে ভালো পার্থক্য বুঝতে পারবেন। অনেক
সময় বাইকে সমস্যা তৈরি হয়, কিন্তু আপনি শুরুতে সেটা টের পান না। নিয়মিত
সার্ভিসিং করলে মেকানিক সেই সমস্যাগুলো আগে থেকেই দেখে নিতে পারে।
এতে পথে হঠাৎ বাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়মিত সার্ভিসিং বাইকের মাইলেজ
ভালো রাখতেও সাহায্য করে। ইঞ্জিন পরিষ্কার থাকলে এবং সব পার্টস ঠিকভাবে কাজ করলে
জ্বালানি কম খরচ হয়। তাই শুধু তেল ভরলেই হবে না, বাইকের যত্নও নিয়মিত নিতে হবে।
ব্রেক, ক্লাচ এবং চেইন ঠিক থাকলে আপনার রাইড আরও নিরাপদ হয়। আপনি সহজে বাইক
নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং জরুরি মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নিরাপদ
রাইডের জন্য সার্ভিসিংকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়।
সবশেষে বলা যায়, নিয়মিত সার্ভিসিং মানে বাইকের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া। আপনি যত্ন
নিলে বাইকও আপনাকে ভালো মাইলেজ, ভালো পারফরম্যান্স এবং আরামদায়ক রাইড দেবে। ছোট
এই অভ্যাসই দীর্ঘদিন বাইক ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ উপায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বাইকের মাইলেজ ভালো রাখা খুব কঠিন কোনো কাজ নয়। আপনি যদি নিয়মিত একটু যত্ন নেন,
বাইকও আপনাকে ভালো পারফরম্যান্স দেবে। ছোট ছোট অভ্যাসই অনেক সময় বড় সাশ্রয় এনে
দেয়। আপনি কীভাবে বাইক চালাচ্ছেন, সেটাই মাইলেজের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। হঠাৎ স্পিড
বাড়ানো, ভুল গিয়ার ব্যবহার বা সার্ভিসিং অবহেলা করলে তেল বেশি খরচ হয়।
তাই বাইকের যত্নের পাশাপাশি নিজের চালানোর অভ্যাসও ঠিক রাখা দরকার। দিন শেষে বাইক
আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী। আপনি যত্ন করলে সেটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে এবং পথে আপনাকে
নির্ভরতা দেবে। তাই আজ থেকেই একটু সচেতন হন, বাইকও আপনাকে ভালো ফল দেবে।




ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url