কম বয়সে চুল পাকার কারণ
কম বয়সে চুল পাকার কারণ কী, তা নিয়ে চিন্তায় আছেন? আপনি একা নন। অনেকেরই অল্প
বয়সে হঠাৎ সাদা চুল দেখা যায়, আর তখন শুরু হয় হাজারো প্রশ্ন। কখনও জীবনযাত্রার
অভ্যাস, কখনও পুষ্টির ঘাটতি এর পেছনে ভূমিকা রাখে।
আবার কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণও দায়ী হতে পারে। জানলে অবাক হবেন, প্রতিদিনের
কিছু ছোট অভ্যাসই অনেক সময় বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে। এই লেখায় সহজ ভাষায়
জানুন আসল কারণগুলো এবং কীভাবে চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখা যায়।
পেজ সূচিপত্রঃ কম বয়সে চুল পাকার কারণ
- কম বয়সে চুল পাকার কারণ
- স্ট্রেস কীভাবে অল্প বয়সে চুল সাদা করে ফেলে
- পুষ্টির অভাবে তাড়াতাড়ি চুল পাকা-ভিটামিন ও মিনারেলের ভূমিকা
- ধূমপান করলে কেন চুল আগে পেকে যায়
- থাইরয়েড সমস্যায় কম বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি
- অটোইমিউন রোগ ও চুলের রঙ হারানোর যোগসূত্র
- দূষণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রভাব
- কেমিক্যালযুক্ত চুলের যত্ন ও পণ্যের ক্ষতি
- ঘুমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
কম বয়সে চুল পাকার কারণ
কম বয়সে চুল পাকার কারণ নিয়ে অনেকেই চিন্তায় পড়ে যায়। আপনি যদি আয়নার
সামনে দাঁড়িয়ে আপনার চুলের সাদা রেখা দেখে অবাক হন, তাহলে বুঝবেন এটা কতটা
সাধারণ একটা সমস্যা হয়ে উঠেছে। এটা শুধু বয়স বাড়ার সাথে যুক্ত নয়। অনেক
কারণ মিলে এমনটা ঘটায়। জেনেটিক্স এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। আপনি আপনার
পরিবারের দিকে তাকান। যদি আপনার বাবা বা মা ত্রিশ-চল্লিশের আগেই চুল পাকিয়ে
ফেলেন, তাহলে আপনার ক্ষেত্রেও সেই প্রবণতা থাকতে পারে। প্রকৃতি যেমন বীজ দেয়,
তেমনি ফল দেয়। এটা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অনেকাংশে।
তারপর আসে মানসিক চাপের কথা। আপনি প্রতিদিন কতটা স্ট্রেস নিচ্ছেন? চাকরি,
পড়াশোনা বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনে যখন মন ভেঙে যায়, শরীরও ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। চুলের গোড়া তখন রং তৈরি করতে পারে না
ঠিকমতো। খাবারের অভাবও একটা বড় কারণ। আপনি কি নিয়মিত আয়রন, ভিটামিন বি১২ বা
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাচ্ছেন? অনেকে তাড়াহুড়ো করে ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে
পড়েন। শরীর পায় না যা চুলের জন্য দরকার। ফলে চুল আগেভাগেই সাদা হয়ে যায়।
ধূমপান বা অতিরিক্ত চা-কফি পানও ক্ষতি করে। আপনি যদি ধূমপান করেন, তাহলে
নিকোটিন চুলের কোষগুলোকে দ্রুত নষ্ট করে দেয়। একইভাবে দূষিত পরিবেশ বা
কেমিক্যালযুক্ত চুলের যত্নের জিনিস ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়ে। এসব এড়িয়ে
চলতে পারলে অনেকটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। কখনো কখনো শরীরের অন্য কোনো সমস্যা
যেমন থাইরয়েড বা অটোইমিউন ডিজিজও দায়ী হতে পারে। আপনি যদি অন্য কোনো
অসুস্থতার মধ্যে থাকেন, তাহলে চুল পাকার বিষয়টা আরও তাড়াতাড়ি ঘটতে পারে। সব
মিলিয়ে আপনার জীবনযাত্রার অনেক কিছুই এখানে জড়িত।
স্ট্রেস কীভাবে অল্প বয়সে চুল সাদা করে ফেলে
আপনি যখন প্রতিদিনের জীবনে প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, শরীরে কর্টিসল
হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হরমোন চুলের গোড়ায় অবস্থিত মেলানোসাইট স্টেম
সেলগুলোকে আক্রমণ করে। ফলে সেই সেলগুলো রং তৈরি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অল্প
বয়সে চুল সাদা হয়ে যাওয়ার পেছনে এটাই অন্যতম প্রধান কারণ। আপনার শরীর যখন
স্ট্রেস সহ্য করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে। এতে
ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয় যা চুলের কোষগুলোকে ধ্বংস করে। মেলানিনের উৎপাদন কমে
যায়। নতুন গজানো চুল তখন রং ছাড়াই বেরিয়ে আসে।
আরো পড়ুনঃ ঘুমের সমস্যা সমাধানের লাইফস্টাইল হ্যাকস
অনেকে ভাবেন স্ট্রেস শুধু মন খারাপ করে। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন, এটা চুলের
ভেতর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। দীর্ঘদিনের চাপে চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চুল
পাকার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। তরুণ বয়সে এমনটা দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রেই।
আপনি যদি ঘুম কম করেন বা অতিরিক্ত চিন্তায় জর্জরিত থাকেন, তাহলে সমস্যা আরও
বাড়ে। স্ট্রেস হরমোন চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি চক্র নষ্ট করে দেয়। রং তৈরির
কোষগুলো আগেভাগে শেষ হয়ে যায়। এভাবেই অল্প বয়সে চুল সাদা হয়ে যায়।
পুষ্টির অভাবে তাড়াতাড়ি চুল পাকা-ভিটামিন ও মিনারেলের ভূমিকা
যখন আপনি তাড়াহুড়ো করে খাবার খান বা সুষম খাদ্য এড়িয়ে চলেন, শরীরে ভিটামিন ও
মিনারেলের ঘাটতি দেখা দেয়। এতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রং তৈরির
ক্ষমতা কমে যায়। কম বয়সে চুল পাকার কারণ হিসেবে পুষ্টির অভাব অনেক বড় ভূমিকা
রাখে। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ ও আয়রনের অভাব সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করে।
আপনার শরীরে যদি আয়রন কম থাকে, তাহলে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিকমতো হয় না। চুলের
ফলিকল দুর্বল হয়ে যায়। ফলে নতুন চুল সাদা বা ধূসর রঙের হয়ে গজায়। এটাকে অনেকে
অবহেলা করেন, কিন্তু এর প্রভাব অনেক গভীর।
জিঙ্ক ও কপারের অভাবও একইভাবে ক্ষতি করে। আপনি যদি এসব মিনারেল সমৃদ্ধ খাবার না
খান, তাহলে মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। চুল আগেভাগে রং হারিয়ে ফেলে। আধুনিক
খাদ্যাভ্যাসে এই ঘাটতি খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। ভিটামিন ডি ও বায়োটিনের অভাবেও
চুল পাকার গতি বাড়ে। আপনি যদি রোদে কম যান বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খান,
তাহলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর যখন পুষ্টি পায় না, চুল প্রথমেই তার
প্রতিক্রিয়া দেখায়। এভাবে অল্প বয়সেই চুল সাদা হয়ে যায়।
ধূমপান করলে কেন চুল আগে পেকে যায়
যদি নিয়মিত ধূমপান করেন, তাহলে শরীরে প্রচুর টক্সিন প্রবেশ করে। এই টক্সিন চুলের
গোড়ায় পৌঁছে মেলানিন তৈরির কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে নতুন চুল গজালেও তাতে
রং থাকে না। অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়ার একটা বড় কারণ এটাই। ধূমপান থেকে নিকোটিন
ও অন্যান্য রাসায়নিক শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। এতে ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি
হয় যা চুলের স্টেম সেলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। আপনার চুলের ফলিকল তখন রং ধরে রাখতে
পারে না। এভাবে চুল আগেভাগে সাদা হয়ে যায়।
আপনি হয়তো জানেন না, ধূমপান রক্তনালী সংকুচিত করে দেয়। চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত
অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায় না। ফলে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রং তৈরির ক্ষমতা হারায়।
এটি তরুণ বয়সে আরও দ্রুত ঘটে। সামগ্রিকভাবে ধূমপান শরীরের বয়স বাড়ানোর
প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। আপনার চুলও এর ব্যতিক্রম নয়। টক্সিন জমে গেলে চুলের
স্বাভাবিক জীবনচক্র নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই অল্প বয়সে এই সমস্যায় ভোগেন শুধু
ধূমপানের কারণে।
থাইরয়েড সমস্যায় কম বয়সে চুল পাকার ঝুঁকি
থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগে থাকলে, তাহলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।
থাইরয়েড হরমোন চুলের বৃদ্ধি ও রং তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই হরমোন
কম বা বেশি হয়, চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত হয়। কম
বয়সে চুল পাকার কারণ হিসেবে থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়।
আপনার থাইরয়েড যদি কম কাজ করে, তাহলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। নতুন চুল
গজানোর সময় রং তৈরি হয় না ঠিকমতো।
আরো পড়ুনঃ ঘরে বসে অটিজম থেরাপি কার্যক্রম বাংলা
এতে অল্প বয়সেই চুল সাদা দেখায়। অনেকে এটাকে শুধু বয়সের সমস্যা ভাবেন। হাইপার
থাইরয়েডেও একই ঝুঁকি থাকে। আপনি যদি অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণের সমস্যায় থাকেন,
তাহলে চুল পড়া ও পাকা দুটোই বেড়ে যায়। শরীরের মেটাবলিজম বদলে যাওয়ায় চুলের
স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হয়। এটি তরুণদের মধ্যেও দেখা যায়।
অটোইমিউন রোগ ও চুলের রঙ হারানোর যোগসূত্র
যদি থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাহলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে
যায়। থাইরয়েড হরমোন চুলের বৃদ্ধি ও রং তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই
হরমোন কম বা বেশি হয়, চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মেলানিন উৎপাদন ব্যাহত
হয়। কম বয়সে চুল পাকার কারণ হিসেবে থাইরয়েডের সমস্যা অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে
যায়। আপনার থাইরয়েড যদি কম কাজ করে, তাহলে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
নতুন চুল গজানোর সময় রং তৈরি হয় না ঠিকমতো। এতে অল্প বয়সেই চুল সাদা দেখায়।
অনেকে এটাকে শুধু বয়সের সমস্যা ভাবেন। হাইপার থাইরয়েডেও একই ঝুঁকি থাকে। আপনি
যদি অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণের সমস্যায় থাকেন, তাহলে চুল পড়া ও পাকা দুটোই বেড়ে
যায়। শরীরের মেটাবলিজম বদলে যাওয়ায় চুলের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট হয়। এটি
তরুণদের মধ্যেও দেখা যায়।
দূষণ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের প্রভাব
বাইরের দূষিত বাতাসে যখন প্রতিদিন শ্বাস নেন, তখন শরীরে প্রচুর ফ্রি র্যাডিক্যাল
তৈরি হয়। এই র্যাডিক্যাল চুলের গোড়ায় থাকা মেলানোসাইট স্টেম সেলগুলোকে আক্রমণ
করে। ফলে রং তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। অল্প বয়সে চুল সাদা হওয়ার পেছনে এটাও একটা
বড় কারণ। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মানে শরীরের ভেতরে অস্বাভাবিকভাবে অক্সিজেনের
ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া। আপনি যদি শহরে থাকেন, তাহলে গাড়ির ধোঁয়া, ধুলোবালি
ও কেমিক্যাল এই স্ট্রেস বাড়ায়। চুলের ফলিকল তখন দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন চুল
গজালেও তাতে রং থাকে না।
আপনার চুলের উপর সরাসরি দূষণের প্রভাব পড়ে যখন আপনি বাইরে থাকেন। UV রশ্মি ও
ভারী ধাতু চুলের কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে যায়।
ফলে চুল পাকার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। অনেক তরুণ এই সমস্যায় ভোগেন
শহরাঞ্চলে। দূষণ শুধু চুল পাকায় না, এটা চুল পড়াও বাড়িয়ে দেয়। আপনি যদি
নিয়মিত দূষিত পরিবেশে থাকেন, তাহলে শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কমে যায়। চুলের
স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এভাবে অল্প বয়সেই চুলের রং হারিয়ে যায়।
কেমিক্যালযুক্ত চুলের যত্ন ও পণ্যের ক্ষতি
কম বয়সে চুল পাকার কারণ হতে পারে কেমিক্যালযুক্ত চুলের যত্ন ও পণ্যের অতিরিক্ত
ব্যবহার। আপনি যদি নিয়মিত হেয়ার ডাই, ব্লিচ বা কেমিক্যাল স্ট্রেটনার ব্যবহার
করেন, তাহলে চুলের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কেমিক্যালগুলো মেলানিন তৈরির
কোষগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে নতুন চুল সাদা হয়ে গজায় আগেভাগেই। আপনার চুলের
উপর এই পণ্যগুলোর প্রভাব শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও পড়ে। কেমিক্যাল
স্ক্যাল্পে প্রদাহ তৈরি করে। এতে ফলিকল দুর্বল হয়ে যায়। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস
বাড়ে, যা চুল পাকানোর গতি বাড়িয়ে দেয়।
আরো পড়ুনঃ এলার্জি কমানোর দেশি রেমেডি বাংলাদেশে
অনেকে সুন্দর দেখতে এসব পণ্য ব্যবহার করেন। কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন, এগুলো
চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট করে। বারবার ব্যবহারে চুলের স্টেম সেল
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে অল্প বয়সেই চুল পেকে যায়। পরিষ্কার রাখার নামে কড়া
শ্যাম্পু বা সালফেটযুক্ত পণ্যও ক্ষতি করে। আপনি যদি এগুলো নিয়মিত ব্যবহার করেন,
তাহলে চুলের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়। ফলিকল দুর্বল হয়ে পড়ে। এভাবে চুলের রং
আগেভাগে হারিয়ে যায়।
ঘুমের অভাব ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
যদি প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না পান, তাহলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। এই
হরমোন চুলের গোড়ায় অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায়। ফলে মেলানিন তৈরির কোষগুলো
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অল্প বয়সে চুল পাকার পেছনে ঘুমের অভাব একটা বড় ভূমিকা রাখে।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মানে অনিয়মিত খাওয়া, ব্যায়াম না করা আর রাত জেগে থাকা।
আপনি যখন এভাবে চলেন, শরীর পুষ্টি ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। চুলের ফলিকল দুর্বল
হয়ে পড়ে। নতুন চুল তখন রং ছাড়াই গজায়।
আপনার শরীর যখন ঘুমের অভাবে ক্লান্ত থাকে, তখন সেল রিপেয়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে
যায়। চুলের স্টেম সেলগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এতে চুলের রং ধরে রাখার
ক্ষমতা কমে যায়। অনেক তরুণ এই সমস্যায় পড়েন ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে।
অস্বাস্থ্যকর অভাস যেমন ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি বা জাঙ্ক ফুডও ঘুমের সমস্যা
বাড়ায়। আপনি যদি এসব এড়িয়ে চলেন এবং নিয়মিত ঘুম ও ব্যায়াম করেন, তাহলে চুল
অনেকদিন স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে পারে। কিন্তু অবহেলা করলে অল্প বয়সেই চুল পেকে
যায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
এই আর্টিকেল পড়ে দেখলেন, কম বয়সে চুল পাকার পেছনে শুধু বয়স নয়, অনেক কিছু
জড়িত। স্ট্রেস, পুষ্টির অভাব, ধূমপান, থাইরয়েড, দূষণ, কেমিক্যাল পণ্য আর ঘুমের
অভাব-সব মিলিয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। আপনার জীবনযাপনের ছোট ছোট অভ্যাসও এখানে বড়
ভূমিকা রাখে। তবে ভালো খবর হলো, অনেক কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্যকর খাবার
খাওয়া, নিয়মিত ঘুম, স্ট্রেস কমানো আর ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করলে চুল অনেকদিন
স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে পারে।
শরীরের সংকেত বুঝে ডাক্তার দেখানোও জরুরি। আমি মনে করি, চুল পাকা মানে শেষ নয়।
আপনি যদি এখন থেকে সচেতন হন, তাহলে অনেক কিছু বদলে ফেলতে পারবেন। ছোট পরিবর্তনই
বড় ফল দেয়। নিজের যত্ন নিন, শরীরকে ভালোবাসুন।



ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url