হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান জানতে চাইছেন? এমন সমস্যা হঠাৎ হলে অনেকেই
ভয় পেয়ে যান, কিন্তু সব সময় এর পেছনে একই কারণ থাকে না। কখন এটি সাময়িক ক্লান্তি, আর কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি-সহজ ভাষায় জেনে নিন।
এই লেখায় সম্ভাব্য কারণ, ঘরোয়া যত্ন, কখন অপেক্ষা করবেন আর কখন দেরি না করে
হাসপাতালে যাবেন-সবই ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে। কোন লক্ষণগুলোকে একদমই অবহেলা করা
উচিত নয়, সেটাও বাস্তব উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাতে সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়।
পোস্ট সূচিপত্রঃ হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান
- হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান
- হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার সাধারণ লক্ষণ
- কোন কোন কারণে হঠাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়
- মোবাইল ও কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করলে কি চোখ ঝাপসা হয়?
- চোখ ঝাপসা দেখলে ঘরোয়াভাবে কী করবেন
- কখন দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি
- হঠাৎ এক চোখে ঝাপসা দেখার সম্ভাব্য কারণ
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের ঝাপসা দেখার সম্পর্ক
- চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে প্রতিদিন যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান-এই বিষয়টা আমরা কমবেশি সবাই কখনো না কখনো
ভেবেছি। একটা সময় ছিল যখন আমার নিজের চোখেও একই অবস্থা হতো। ঘুম থেকে উঠেই
দেয়ালের রং ঘোলাটে মনে হতো। ভাবতাম, বুড়ো বয়সের আগেই চোখ কি শেষ? ভয় লাগতো।
কিন্তু পরে বুঝলাম, প্রতিটি সমস্যার পেছনে একটা কারণ থাকে। আর সেই কারণ জানলেই
সমাধানও হাতের মুঠোয়।
কেন হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা দেয়?
- ঘুমের ঘাটতি-রাত জেগে মোবাইল স্ক্রল করেন? চোখ কাঁদছে? এটাই সবচেয়ে সাধারণ দোষী। চোখের পেশীগুলো ক্লান্ত হয়ে যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুমালে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। আট ঘণ্টার ঘুম একটা বিলাসিতা নয়, চোখের জন্য বাধ্যতামূলক।
- ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা-আমরা কফি খেতে ভালোবাসি। কিন্তু পানি? সেটা ভুলে যাই। শরীরে পানির অভাব হলে চোখের তরল পদার্থ কমে যায়। ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়। দিনে কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খাওয়া উচিত। এটা কঠিন নয়, শুধু একটা বোতল পাশে রাখুন।
- ব্লাড সুগারের ওঠানামা-ডায়াবেটিস থাকলে বা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে চোখের লেন্স ফুলে যায়। তখন দৃষ্টি ঝাপসা হয়। একবার ব্লাড টেস্ট করে নিলেই জিনিসটা স্পষ্ট হয়ে যায়। নিজের শরীরকে অবজ্ঞা করবেন না।
- চোখের চাপ বা আই স্ট্রেইন-কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে আট ঘণ্টা? চোখের পেশীগুলো একই জায়গায় আটকে থাকে। এই চাপ দীর্ঘদিন চললে ঝাপসা ভাব স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। বিশ্রাম দিন চোখকে। স্ক্রিন থেকে মাঝে মাঝে মুখ ফেরান।
- মাইগ্রেনের আক্রমণ-কারো কারো ক্ষেত্রে মাইগ্রেন শুরুর আগে চোখে আলোর ঝলকানি বা ঝাপসা ভাব দেখা দেয়। মাথা ধরে যায়। অন্ধকার ঘরে শুয়ে পড়লে কিছুটা স্বস্তি মেলে। এটা শরীরের একটা সতর্কতা সংকেত।
- রক্তচাপের সমস্যা-উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ-দুটোই চোখের রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়। চোখে রক্ত কম গেলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়। নিয়মিত ব্লাড প্রেসার চেক করুন। ছোট ছোট বিষয় বড় বিপদ ডেকে আনে।
- ক্যাটারাক্ট বা ছানি-বয়স বাড়ার সাথে সাথে চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। এটা ধীরে ধীরে ঘটে। কিন্তু কখনো কখনো হঠাৎ করে ঝাপসা ভাব বেড়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অপারেশনের মাধ্যমে সমাধান হয়। ভয় পাবার কিছু নেই।
- গ্লুকোমা বা কালো মোতিয়া-চোখের ভেতর চাপ বেড়ে গেলে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রথম দিকে ঝাপসা ভাব, পরে দৃষ্টি হারাতে পারেন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে আগেই ধরা পড়ে। সময় মতো চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সমাধান-কী করবেন আপনি?
- বিশ্রাম দিন চোখকে-প্রতি বিশ মিনিটে বিশ সেকেন্ড অন্য দিকে তাকান। এই নিয়মটা মনে রাখুন। চোখের পেশীগুলোকে স্ট্রেচিং দরকার। ঠিক যেমন শরীরের ব্যায়াম দরকার। একটু ঘুরে ফিরে দেখুন জানালার বাইরে। সবুজ গাছপালা চোখের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।
- পুষ্টিকর খাবারে ভরপেট থাকুন-গাজর, পালং শাক, মাছ, ডিম-এগুলোতে ভিটামিন এ আর ওমেগা থ্রি থাকে। চোখের জন্য এগুলো খাবার নয়, বরং জীবনদায়ী। প্রতিদিনের প্লেটে একটু রং রাখুন। শরীর ধন্যবাদ দেবে।
- সঠিক আলোতে কাজ করুন-অন্ধকার ঘরে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখবেন না। চোখের পেশীগুলো বেশি পরিশ্রম করে। টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করুন। পড়ার সময় আলো যেন পেছন থেকে আসে। ছোট ছোট জিনিস, বড় প্রভাব ফেলে।
- চশমা বা কন্ট্যাক্ট লেন্স ঠিকমতো পরুন-চোখের পাওয়ার বদলে গেছে কিনা জানেন না? পুরনো চশমায় চোখকে জোর দিতে হয়। ফলে ক্লান্তি বাড়ে। বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করান। নতুন চশমা মানে নতুন দৃষ্টি। বিনিয়োগটা মূল্যবান।
- ধূমপান ছাড়ুন-ধোঁয়া চোখের রক্তনালীকে সরু করে দেয়। রক্ত সরবরাহ কমে গেলে দৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটা সিগারেটের ক্ষতি হাজার গুণ বেশি। আজ থেকে ছেড়ে দিন। চোখ আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান-বছরে একবার চোখের ডাক্তারের কাছে যান। অনেক সমস্যা শুরুতে ধরা পড়ে না। চোখের চাপ, ছানি, রেটিনার অবস্থা-এসব পরীক্ষা করে নিলে মন শান্ত থাকে। প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো ওষুধ।
- চাপ কমান-মানসিক চাপ শরীরের প্রতিটি অংশকে প্রভাবিত করে। চোখও বাদ যায় না। মেডিটেশন করুন, হাঁটতে বের হোন, প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলুন। মন ভালো থাকলে চোখও স্পষ্ট দেখে। এটা একটা অলৌকিক সম্পর্ক।
চোখ আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার মূল কারণ ও
সমাধান-এই লেখাটা আপনাকে একটু সচেতন করলে আমার লেখা সার্থক। কোনো সমস্যা ধরে
রাখবেন না। চোখের ডাক্তারের কাছে যান। সময় মতো পদক্ষেপ নিলে অনেক বড় বিপদ
থেকে বাঁচা যায়। আপনার চোখ দুটোকে ভালোবাসুন। সে ভালোবাসার প্রতিদান দেবে
স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে।
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার সাধারণ লক্ষণ
আপনার সামনে যা কিছু আছে, তা দেখতে হঠাৎ দ্বিগুণ মনে হতে পারে। একটা কলমকে
দুটো কলম বলে মনে হবে। চোখ মেলে তাকালে মাথা ঘুরে উঠতে পারে। এটা শুধু চোখের
সমস্যা নয়, অনেক সময় স্নায়ুর সাথেও জড়িত থাকে। বিশ্রাম নিন। ঘরের আলো
একটু কমিয়ে দিন। রাস্তায় হাঁটছেন। হঠাৎ চোখের সামনে একটা কালো ছায়া ভেসে
বেড়াচ্ছে। মাছি উড়ছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু আসলে কিছু নেই। এই ফ্লোটার্স বা
ভাসমান দাগগুলো সাধারণত বার্ধক্যে দেখা দেয়। কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে চোখের
রেটিনা নড়বড়ে হতে পারে। দেরি করবেন না। সূর্যের দিকে তাকাচ্ছেন। চারপাশে
একটা হ্যালো বা আলোর বলয় দেখা দিচ্ছে।
রাতে গাড়ি চালানোর সময় হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে মনে হচ্ছে। এটা ছানির
প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। চোখের লেন্স ঘোলাটে হওয়া শুরু করেছে। সময় থাকতে
ডাক্তার দেখান। আপনার চোখের একপাশ দেখতে পাচ্ছেন, অন্যপাশ অন্ধকার। বা কোনো
একটা নির্দিষ্ট জায়গায় একটা কালো দাগ পড়ে আছে। এটাকে বলে স্কোটোমা।
মাইগ্রেনের আগে এমনটা হয়। কিন্তু ডায়াবেটিসের কারণে রেটিনায় রক্তক্ষরণ
হলেও একই অবস্থা হয়। দুটোর চিকিৎসা এক নয়। তাই পরীক্ষা জরুরি। বই পড়ছেন।
অক্ষরগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে। লাইনের মাঝখানে ফাঁক দেখা দিচ্ছে। পড়তে গেলে চোখে
পানি আসছে। এটা প্রেসবায়োপিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
বয়স চল্লিশের কাছাকাছি হলে চোখের লেন্স শক্ত হতে শুরু করে। কাছের জিনিস
স্পষ্ট দেখা যায় না। একটা রিডিং গ্লাস অনেকটা সাহায্য করবে। চোখ লাল হয়ে
উঠেছে। জ্বালাপোড়া করছে। ধুলো বা পলেনের কারণে হতে পারে। কিন্তু যদি সাথে
ঝাপসা ভাব থাকে, তবে কনজাংটিভাইটিস বা আরও গুরুতর কিছু হতে পারে। চোখে হাত
দেবেন না। ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সাবধান হন।
রাতের বেলা টিভি দেখছেন। চোখে একটা ঝাঁ ঝাঁ ভাব হচ্ছে। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ
করলে আরাম পাচ্ছেন। দিনের আলোয় কিছুটা ভালো লাগছে, অন্ধকারে সমস্যা বাড়ছে।
এটাকে বলে নাইট ব্লাইন্ডনেস। ভিটামিন এ-র অভাব বা রেটিনার কোনো সমস্যার
ইঙ্গিত। গাজর আর মাছ বাড়িয়ে দিন খাবারে।
আপনার দুচোখে একসাথে ঝাপসা ভাব দেখা দিচ্ছে। সাথে মাথা ধরেছে, বমি বমি ভাব
হচ্ছে। এটা চোখের চাপ বাড়ার লক্ষণ হতে পারে। গ্লুকোমার ক্ষেত্রে এমনটা হয়।
চোখের ভেতর তরল পদার্থ জমে চাপ তৈরি করে। ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এক ঘণ্টাও
দেরি করা উচিত নয়। আপনি কম্পিউটারের সামনে বসে আছেন। চোখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে
গেছে। ঝাপসা লাগছে, চোখ টিপলে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। এটা ড্রাই আই সিন্ড্রোম।
আমাদের চোখ স্বাভাবিকভাবে কাঁদে। কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে কান্না
কমে যায়। কৃত্রিম চোখের পানি বা ব্লিংক এক্সারসাইজ কাজে দেবে। হঠাৎ করে
দেখছেন রংগুলো ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। নীল আর হলুদের মধ্যে পার্থক্য করতে
পারছেন না।
সব কিছু এক রকম ধূসর মনে হচ্ছে। এটা অপটিক নার্ভের সমস্যার লক্ষণ। মস্তিষ্ক
পর্যন্ত সংকেত ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। রঙের জগৎ হারিয়ে ফেলা কতটা কঠিন, তা
ভাবলেই শিউরে ওঠা যায়। আপনার চোখের চারপাশে ব্যথা হচ্ছে। কপালে চাপ অনুভূত
হচ্ছে। ঝাপসা ভাবের সাথে সাথে চোখের পেছনে একটা টান টান ভাব। সাইনাসের সমস্যা
হলে এমন হয়। মুখের হাড়ের খোলার ভেতর চাপ পড়ে চোখের রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত
ঘটে। গরম ভাপ নিন। সাইনাস পরিষ্কার হলে চোখও স্বস্তি পাবে। আপনি সকালে উঠে
আয়নায় তাকালেন। এক চোখ লাল, সেই চোখে দৃষ্টি ঝাপসা। অন্য চোখ ঠিক আছে। এটা
আইরিটিস বা ইউভাইটিস হতে পারে। চোখের ভেতরের প্রদাহ। অটোইমিউন রোগ থেকেও হয়।
চোখের ডাক্তার ছাড়া এটার সঠিক চিকিৎসা সম্ভব নয়। নিজে নিজে কোনো ড্রপ
ব্যবহার করবেন না। আপনি বাচ্চাকে দেখছেন। সে টিভির খুব কাছে গিয়ে বসছে। চোখ
টিপছে প্রায়ই। স্কুলের বোর্ড দেখতে পায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝাপসা ভাব
সরাসরি বলতে পারে না। তার আচরণেই বোঝা যায়। বাচ্চার চোখ পরীক্ষা করানো বাবা
মায়ের দায়িত্ব। ছোটবেলায় ধরা পড়লে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
ডায়াবেটিসে ভুগছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে একটা ঝাপসা ভাব। কিছুক্ষণ পর
কেটে যাচ্ছে। এটা সাময়িক। কিন্তু যদি থেকে যায়, তবে ডায়াবেটিক
রেটিনোপ্যাথি শুরু হয়েছে বলে ধরে নিন। রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে ফুলে
যাচ্ছে। চোখের ভেতর রক্তপাত হতে পারে। নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা একান্ত জরুরি।
বৃদ্ধ বাবা মাকে দেখছেন। তিনি বলছেন, রাতের বেলা গ্যারেজের বাতি দেখতে
পাচ্ছেন না। গাড়ি চালাতে ভয় হচ্ছে। দিনের বেলা ঠিক আছে। এটা বার্ধক্যজনিত
পরিবর্তন। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য চশমা বদলাতে হবে। বাবা মায়ের চোখের দিকে
একটু বেশি নজর দিন। তারা নিজেরাই কমplain করেন। কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে আছেন।
হঠাৎ চোখে একটা কাঁটা ফোটার মতো ব্যথা। ঝাপসা দেখছেন। লেন্স হয়তো শুষ্ক হয়ে
গেছে। বা চোখের উপরে ছোটখাটো আঘাত লেগেছে। লেন্স তখনই খুলে ফেলুন। পরিষ্কার
সলুশনে ভিজিয়ে রাখুন। চোখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সংক্রমণ হলে বিপদ।
সতর্ক থাকুন। আপনার চোখের পাতা ফুলে গেছে। চোখ বন্ধ করতে কষ্ট হচ্ছে। ঝাপসা
ভাবের সাথে পাতা লাল।
এটা স্টাই বা চালাজিয়ন হতে পারে। তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে গেলে এমন হয়। গরম
সেঁক দিন। কয়েকদিনে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি দৃষ্টি প্রভাবিত হয়, তবে এটা
সাধারণ স্টাই নয়। ডাক্তার দেখান। মোবাইলে নতুন ভিডিও দেখছেন। স্ক্রিনের
আলোতে চোখ ছোট হয়ে আসছে। মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। ঝাপসা ভাব তীব্র হচ্ছে।
ডিজিটাল আই স্ট্রেইনের কথা শুনেছেন? এটা সেই। আমাদের চোখ মানুষের জন্য তৈরি।
পাথরের যুগের চোখ। কিন্তু আমরা তাকে সারাদিন পিক্সেলের সামনে বেঁধে রাখি।
ন্যায্য বিশ্রাম দিন। চোখ ঘুরিয়ে দেখছেন। একদিকে দৃষ্টি স্পষ্ট, অন্যদিকে
ঝাপসা। মাথা একদিকে ঘুরলেই জগৎ ঘুরছে। এটা ভার্টিগোর লক্ষণ হতে পারে। ভেতর
কানের সমস্যা থেকে হয়।
চোখ আর কান একসাথে কাজ করে। একটা অসুবিধা হলে অন্যটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি
খান। বিশ্রাম নিন। ঘরের বাইরে বের হতে হলে সাহায্য নিন। আপনার চোখের চারপাশের
চামড়া শুকিয়ে গেছে। চোখে একটা জ্বালা জ্বালা ভাব। ঝাপসা লাগছে মাঝে মাঝে।
এটা অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। ধুলো, পোলেন, পশুর লোম-যেকোনো কিছুই চোখকে
উসকে দিতে পারে। ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। অ্যান্টিহিস্টামিন ড্রপ কাজে দেবে।
কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কিছু লাগাবেন না। আপনি সবুজ মাঠের দিকে
তাকালেন। সবুজের মাঝখানে একটা সাদা দাগ ভেসে বেড়াচ্ছে। চোখ সরালে সেই দাগও
সরে যাচ্ছে। এটা ভিট্রিয়াস হিউমারের সমস্যা।
চোখের ভেতরের জেলির মতো পদার্থে ছোট ছোট কণা জমা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে
ক্ষতিকর নয়। কিন্তু হঠাৎ বেড়ে গেলে রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একবার চেকআপ করিয়ে নিন শান্তির জন্য। দুপুরের খাবার খেয়ে বসে আছেন। হঠাৎ
চোখের সামনে একটা আলোর ঝলকানি। তারপর ঝাপসা। কিছুক্ষণ পর ঠিক হয়ে গেল। এটা
অকুলার মাইগ্রেইন। মাথা না ধরলেও চোখের স্নায়ুতে ঝড় ওঠে। চোখ বন্ধ করে
অন্ধকার ঘরে শুয়ে থাকলে কেটে যায়। ক্যাফিন কমান। স্ট্রেস এড়িয়ে চলুন।
জীবনটা একটু ধীর করে ফেলুন।
কোন কোন কারণে হঠাৎ চোখ ঝাপসা হয়ে যায়
ভোরবেলা ঘুম ভেঙে ঘড়ির দিকে তাকালেন। চোখ মেলতেই দেয়ালের রং ঘোলাটে মনে
হলো। একটা সময় ছিল যখন আমার নিজের চোখেও একই অবস্থা হতো। ভয় লাগতো খুব। আজ
আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরব হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান যাতে আপনি
সচেতন হতে পারেন। কিন্তু পরে বুঝলাম, প্রতিটি সমস্যার পেছনে একটা কারণ থাকে।
চোখ আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। আপনি রাত জেগে মোবাইল স্ক্রল করেন? চোখের
পেশীগুলো ক্লান্ত হয়ে যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুমালে এই সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
আট ঘণ্টার ঘুম চোখের জন্য বাধ্যতামূলক। আপনি কফি খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু
পানি? সেটা ভুলে যান। শরীরে পানির অভাব হলে চোখের তরল পদার্থ কমে যায়। দিনে
কমপক্ষে আট গ্লাস পানি খাওয়া উচিত।
ডায়াবেটিস থাকলে সতর্ক হন। রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে চোখের
লেন্স ফুলে যায়। তখন আপনি ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। একবার ব্লাড টেস্ট করে
নিলেই জিনিসটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আপনি কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে আট ঘণ্টা
বসেন? চোখের পেশীগুলো একই জায়গায় আটকে থাকে। এই চাপ দীর্ঘদিন চললে ঝাপসা
ভাব স্থায়ীভাবে থেকে যেতে পারে। বিশ্রাম দিন চোখকে। আপনার মাথা ধরে যায়
প্রায়ই? মাইগ্রেন শুরুর আগে চোখে আলোর ঝলকানি দেখা দেয়। মাঝে মাঝে ঝাপসা
ভাবও আসে। অন্ধকার ঘরে শুয়ে পড়লে কিছুটা স্বস্তি মেলে। রক্তচাপ নিয়মিত চেক
করেন? উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ চোখের রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়।
আরো পড়ুনঃ বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন
চোখে রক্ত কম গেলে আপনি ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। ছোট ছোট বিষয় বড় বিপদ ডেকে
আনে। আপনার বয়স কি চল্লিশের কাছাকাছি? বয়স বাড়লে চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে
যায়। হঠাৎ করে ঝাপসা ভাব বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভয় পাবার কিছু
নেই। চোখের ভেতর চাপ অনুভব করছেন? গ্লুকোমায় অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রথমে ঝাপসা ভাব, পরে আপনি দৃষ্টি হারাতে পারেন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে
আগেই ধরা পড়ে। আপনার চোখ কি শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়? ড্রাই আই সিন্ড্রোমে
কৃত্রিম কান্না কমে যায়। চোখের পানির বিনিময়ে স্ক্রিনের দিকে তাকানো কমান।
ব্লিংক এক্সারসাইজ কাজে দেবে।
আপনার চোখের সামনে কি কালো ছায়া ভাসে? রেটিনায় সমস্যা হলে আপনি হঠাৎ ঝাপসা
দেখতে শুরু করেন। মাঝে মাঝে আলোর ঝলকানিও দেখা দেয়। দেরি করবেন না। এক
ঘণ্টাও সময় নষ্ট করা উচিত নয়। আপনি এখন বুঝতে পারছেন কেন চোখ ঝাপসা হয়।
ছোট ছোট অভ্যাস বদলে অনেক বড় বিপদ থেকে বাঁচা যায়। আপনার চোখ দুটোকে
ভালোবাসুন। সে ভালোবাসার প্রতিদান দেবে স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে।
মোবাইল ও কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করলে কি চোখ ঝাপসা হয়?
সকালে উঠে প্রথম যে জিনিসটা হাতে তুলে নেন, সেটা কি মোবাইল? আমিও করি। ঘুম
থেকে উঠেই নোটিফিকেশন চেক করি। তারপর শুরু হয় দিন। কম্পিউটার স্ক্রিন,
মিটিং, মেসেজ-চোখ একটুও বিশ্রাম পায় না। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আবার সোশ্যাল
মিডিয়া স্ক্রল। এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন। কিন্তু চোখ কিন্তু একটা
ম্যাসেজ পাঠায়। ঝাপসা দেখা সেই ম্যাসেজগুলোর একটি। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন,
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ কাঁদতে শুরু করে? চোখের পেশীগুলো
একই দূরত্বে আটকে থাকে। ঠিক যেমন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে পা ব্যথা করে।
চোখের ক্ষেত্রেও তাই। কন্ট্রাস্ট, ব্লু লাইট, ছোট অক্ষর-সব মিলিয়ে চোখের উপর
চাপ বাড়ে।
আর চাপ বাড়লে ঝাপসা ভাব আসবেই। এটা স্বাভাবিক। চোখ মানুষের জন্য তৈরি।
কিন্তু আমরা তাকে পিক্সেলের সামনে বেঁধে রাখি। আমরা স্বাভাবিকভাবে প্রতি
মিনিটে পনেরো থেকে বিশ বার চোখ পিটাই? কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকালে এই
সংখ্যা কমে যায়। কমে যায় অর্ধেকেরও বেশি। ফলে চোখের উপরিস্তর শুকিয়ে যায়।
ড্রাই আই সিন্ড্রোম তৈরি হয়। চোখে একটা বালির মতো বালুকণা পড়ার অনুভূতি
হয়। ঝাপসা দেখেন। টিপলে কিছুটা স্বস্তি মেলে। কিন্তু টিপা উচিত নয়।
সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। রাতে অন্ধকার ঘরে মোবাইল ব্যবহার করেন? চোখের পেশীগুলো
তখন দ্বিগুণ পরিশ্রম করে। অন্ধকারে পুপিল বড় হয়। স্ক্রিনের আলো সরাসরি
ভেতরে ঢোকে। ফলে চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়। ঘুমের মানও নষ্ট হয়।
মেলাটোনিন হরমোন ব্যাহত হয়। চোখ ঝাপসা লাগে। পরদিন সকালে উঠেও একই অবস্থা।
এই চক্র থেকে বের হওয়া জরুরি। অন্ততপক্ষে নাইট মোড চালু রাখুন। আলোর তীব্রতা
কমান। কম্পিউটারে ছোট ছোট অক্ষরে কাজ করেন? চোখকে বারবার ফোকাস করতে হয়।
পেশীগুলো টান টান হয়ে যায়। মাথা ধরে যায়। চোখের পেছনে ব্যথা অনুভূত হয়।
এটাকে বলে ডিজিটাল আই স্ট্রেইন। বাংলায় বলতে পারেন চোখের ডিজিটাল ক্লান্তি।
হাজার হাজার মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু কমই সচেতন। চোখের ডাক্তারের
কাছে যাওয়ার আগে অনেক দেরি হয়ে যায়। আপনি কি জানেন, ব্লু লাইট কী করে?
সূর্যের আলোতেও ব্লু লাইট থাকে।
কিন্তু সূর্যাস্তের পর স্ক্রিন থেকে এই আলো চোখের জন্য বিষ হয়ে ওঠে। রেটিনার
কোষগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দীর্ঘমেয়াদে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হতে পারে।
ঝাপসা ভাব স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। এটা ভয় পাবার মতো নয়। কিন্তু সতর্ক
হওয়ার মতো অবশ্যই। ব্লু লাইট ফিল্টার চশমা ব্যবহার করতে পারেন। কম্পিউটার
স্ক্রিনে অ্যান্টি গ্লেয়ার শিট লাগান। প্রতি বিশ মিনিটে বিশ সেকেন্ড অন্য
দিকে তাকান? এই নিয়মটা মনে রাখুন। ২০-২০-২০ নিয়ম। বিশ মিনিট পর বিশ সেকেন্ড
বিশ ফুট দূরে তাকান। চোখের পেশীগুলোকে স্ট্রেচিং দরকার। ঠিক যেমন শরীরের
ব্যায়াম দরকার। জানালার বাইরে সবুজ গাছপালা দেখুন।
সবুজ চোখের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। এই ছোট অভ্যাস বদলে অনেক বড়
সমস্যা এড়াতে পারেন। আপনি কি চশমার পাওয়ার ঠিকমতো পরেন? পুরনো চশমায় চোখকে
জোর দিতে হয়। স্ক্রিনের আলোতে আরও বেশি চাপ পড়ে। ফলে ক্লান্তি বাড়ে। ঝাপসা
ভাব তীব্র হয়। বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করান। নতুন চশমা মানে নতুন দৃষ্টি।
বিনিয়োগটা মূল্যবান। নিজের চোখের প্রতি কৃপণতা করবেন না। কন্ট্যাক্ট লেন্স
পরে স্ক্রিনের সামনে বসেন? লেন্স শুকিয়ে যেতে পারে। চোখে অক্সিজেন কম
পৌঁছায়। ঝাপসা ভাব বাড়ে। কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার করুন। লেন্স খুলে
বিশ্রাম দিন চোখকে। কখনো কখনো চশমায় ফিরে আসাই ভালো। বিশেষ করে দীর্ঘ কাজের
সময়। চোখের স্বাস্থ্যের কোনো বিকল্প নেই।
আপনি কি বাচ্চাদের দিকে নজর দেন? তারা টিভির খুব কাছে গিয়ে বসে। ট্যাবলেট
হাতে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলে। তাদের চোখ আরও নরম। বিকাশমান। ব্লু লাইটের
ক্ষতি বেশি। বাবা মায়ের দায়িত্ব বাচ্চাদের স্ক্রিন সময় নিয়ন্ত্রণ করা।
বাইরে খেলতে পাঠান। প্রকৃতির আলো চোখের জন্য উপযুক্ত। বাচ্চার চোখ বাঁচান।
ভবিষ্যৎ বাঁচান।
আপনি কি মনে করেন, মোবাইল ছাড়া জীবন চলে না? সত্যি কথা, চলে না। কিন্তু
স্মার্ট ব্যবহার করতে পারেন। নাইট মোড চালু রাখুন। ফন্ট সাইজ বড় করুন।
স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমান। চোখের স্তরে রাখুন স্ক্রিন। উপরের দিকে তাকাতে হলে
চোখ বেশি খাটে। ছোট ছোট বিরতি নিন। কফি ব্রেকে চোখকেও ব্রেক দিন। এটা কঠিন
নয়। শুধু একটু সচেতনতা চাই।
নিশ্চই এখন বুঝতে পারছেন, মোবাইল ও কম্পিউটার বেশি ব্যবহার করলে চোখ ঝাপসা
হয়। এটা এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। চোখ আপনার সবচেয়ে
বিশ্বস্ত সঙ্গী। সারাজীবন আপনাকে দেখিয়েছে। এখন আপনার পালা। একটু যত্ন নিন।
স্পষ্ট দৃষ্টির প্রতিদান দেবে সে আপনাকে।
চোখ ঝাপসা দেখলে ঘরোয়াভাবে কী করবেন
সকালে উঠে দেখলেন চোখ ঝাপসা লাগছে। ভয় পেলেন? স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথমে ঘরে
বসেই কিছু কাজ করতে পারেন। জানেন কি, ছোট ছোট উপায়ে অনেকটা স্বস্তি মেলে। আমি
নিজেও এগুলো করি। কাজে দেয়। আপনার দুই চোখ বন্ধ করে পালম তেল দিয়ে হালকা
মালিশ করুন। তেল গরম করে নিন। আঙুল দিয়ে গোল গোল ঘুরিয়ে মালিশ করুন। চোখের
চারপাশের পেশীগুলো শিথিল হবে। রক্ত সঞ্চালন বাড়বে। ঝাপসা ভাব কমতে শুরু করবে।
পাঁচ মিনিটই যথেষ্ট। এটা বাবা মায়ের পুরনো নুসখা। কিন্তু কাজের। বিশ্বাস করুন।
দুই হাতের তালু ঘষে গরম করে নিন। তারপর চোখের উপর রাখুন। অন্ধকার মনে হবে। একটু
শান্তি পাবেন। এই পামিং এক্সারসাইজ চোখের পেশীগুলোকে বিশ্রাম দেয়।
দিনে দুবার করুন। সকালে আর রাতে। চোখের ক্লান্তি দূর হবে। দৃষ্টি স্পষ্ট হবে।
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান-এই লেখায় আমি আপনাকে এমনই কিছু সহজ উপায়
বলছি। কঠিন কিছু নয়। আপনি গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে চোখের উপর রাখুন। গরম
সেক চোখের তেল গ্রন্থি খুলে দেয়। ড্রাই আই কমে যায়। ঝাপসা ভাব সরে যায়। দিনে
দুবার করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে শোয়ার আগে। দশ মিনিট যথেষ্ট। চোখ মুখ
ধোয়ার পর করলে ভালো। তেল গ্রন্থি পরিষ্কার হয়। আলু কেটে চোখের উপর রাখুন।
আলুর শীতলতা চোখের ফোলা ভাব কমায়। ঝাপসা দূর করে। পনেরো মিনিট রাখুন। তারপর
ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।
আরো পড়ুনঃ ঘুমের সমস্যা সমাধানের লাইফস্টাইল হ্যাকস
আলুর ভিটামিন সি চোখের জন্য উপকারী। ঘরে যা আছে তাই দিয়ে শুরু করুন। কঠিন নয়।
ফলাফল ভালো। আপনি গাজরের রস খান। প্রতিদিন এক গ্লাস। ভিটামিন এ চোখের জন্য
অমৃতের মতো। রাতকানা কমায়। ঝাপসা ভাব দূর করে। গাজর সেদ্ধ করে খেতে পারেন।
কাঁচাও খেতে পারেন। সালাদে রাখুন। সকালের নাস্তায় রাখুন। নিয়মিত খেলে ফল
পাবেন। একদিনে নয়। ধৈর্য ধরুন। আপনি পালং শাক খান। লাল শাক খান। সবুজ শাক
সবজিতে ভরপেট থাকুন। ফলিক অ্যাসিড চোখের রক্ত সরবরাহ বাড়ায়। ঝাপসা কমে। মাছ
খান। বিশেষ করে ছোট মাছ। ওমেগা থ্রি চোখের জন্য দারুণ। প্রতিদিনের প্লেটে একটু
রং রাখুন। শরীর ধন্যবাদ দেবে। চোখ স্পষ্ট দেখবে।
চোখে ঠান্ডা পানি দিন। সকালে উঠে চোখ ধোয়া অভ্যাস করুন। পানি চোখের
তাপমাত্রা কমায়। ঝাপসা ভাব সরায়। ধুলো ময়লা পরিষ্কার হয়। চোখ সতেজ থাকে। এক
মিনিট সময় লাগে। কিন্তু উপকার বড়। ছোট অভ্যাস বড় ফল দেয়। প্রতি বিশ মিনিটে
বিশ সেকেন্ড অন্য দিকে তাকান। জানালার বাইরে দেখুন। সবুজ গাছপালা দেখুন। চোখের
পেশীগুলোকে বিশ্রাম দিন। স্ক্রিন থেকে মুখ ফেরান। এই ২০-২০-২০ নিয়ম মনে রাখুন।
কম্পিউটার কাজের সময় বিশেষ করে। চোখের ডিজিটাল ক্লান্তি কমবে।
ঝাপসা ভাব সরে যাবে। একটু চেষ্টা করুন। রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ছেড়ে দিন।
অন্তত এক ঘণ্টা আগে। চোখের পেশীগুলোকে বিশ্রাম দিন। মেলাটোনিন হরমোন ঠিকমতো
তৈরি হোক। ঘুম ভালো হলে চোখও ভালো থাকবে। অন্ধকার ঘরে মোবাইল ব্যবহার করবেন না।
চোখের জন্য এটা বিষ। নিজের চোখকে ভালোবাসুন। সে ভালোবাসার প্রতিদান দেবে।
কখন দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি
হঠাৎ সকালে উঠে দেখলেন এক চোখ পুরোপুরি অন্ধকার। অন্য চোখ ঠিক আছে। ভয় লাগছে?
একদম ঠিক। এটা অ্যামাউরোসিস ফিউগাক্স। চোখের রক্তনালীতে সমস্যা। এক ঘণ্টাও দেরি
করা উচিত নয়। চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে ছুটে যান। সময় মানে দৃষ্টি। হারালে ফেরত
পাবেন না। চোখের সামনে হঠাৎ কালো পর্দা নেমে এলো। মাঝে মাঝে বিজলির মতো ঝলকানি।
এটা রেটিনাল ডিটাচমেন্ট। চোখের পর্দা ছিঁড়ে গেছে। দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি আছে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই যান। অপারেশন করতে হতে পারে। কিন্তু সময়মতো গেলে দৃষ্টি
বাঁচানো যায়। ভয় পাবেন না। দ্রুত পদক্ষেপ নিন। মাথার একপাশে ব্যথা। চোখ লাল।
দৃষ্টি ঝাপসা। বমি বমি ভাব। এটা অ্যাকিউট গ্লুকোমা। চোখের ভেতর চাপ বেড়ে
গেছে।
ব্যথা তীব্র হতে পারে। নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না
নিলে দৃষ্টি চিরদিনের জন্য চলে যেতে পারে। এমার্জেন্সি। হাসপাতালে ছুটে যান।
কোনো ঘরোয়া উপায় কাজে দেবে না। আপনি ডায়াবেটিসে ভুগছেন। হঠাৎ চোখে রক্ত
দেখলেন। দৃষ্টি ঝাপসা। এটা ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। রক্তনালী ফেটে গেছে।
রেটিনায় রক্তপাত হচ্ছে। লেজার ট্রিটমেন্ট লাগতে পারে। যত দ্রুত যাবেন তত ভালো।
নিয়মিত চেকআপ করালে এমনটা হতো না। কিন্তু এখন সময় নষ্ট করবেন না। চোখ বাঁচান।
আপনি দেখছেন দুচোখের মধ্যে দৃষ্তির পার্থক্য বড় হচ্ছে। এক চোখে স্পষ্ট,
অন্যটায় ঝাপসা। এটা অপটিক নিউরাইটিস হতে পারে।
মস্তিষ্কের স্নায়ুতে সমস্যা। মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের আগাম সংকেতও হতে পারে।
এমআরআই করতে হবে। নিউরোলজিস্ট দেখাতে হবে। কিন্তু প্রথমে চক্ষু বিশেষজ্ঞ। তিনি
পথ দেখাবেন। আপনার চোখে আঘাত লাগলো। ধাতু, কাচ বা কিছু একটা ঢুকে গেছে। দৃষ্টি
ঝাপসা। ব্যথা তীব্র। চোখ বন্ধ করেই থাকুন। হাত দেবেন না। পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলবেন না। সরাসরি হাসপাতালে যান। সংক্রমণ হলে বিপদ। চোখের ভেতর কিছু ঢুকলে
অপারেশন লাগতে পারে। সময় মানে চোখ। মনে রাখবেন। আপনি দেখছেন রংগুলো ফ্যাকাসে
হয়ে যাচ্ছে। সবুজ আর লালের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না। এটা ক্যাটারাক্ট
হতে পারে। কিন্তু হঠাৎ হলে অপটিক নার্ভের সমস্যাও হতে পারে।
চোখের ডাক্তার দেখালে বোঝা যাবে। অপেক্ষা করবেন না। রঙের জগৎ হারিয়ে ফেলা কতটা
কঠিন তা ভাবলেই শিউরে ওঠা যায়। দ্রুত যান। আপনার বাচ্চা চোখ টিপছে প্রায়ই। এক
চোখ বন্ধ করে টিভি দেখছে। স্কুলের বোর্ড দেখতে পায় না। এটা অ্যাম্বলিওপিয়া
হতে পারে। লেজি আই। ছোটবেলায় ধরা পড়লে ঠিক হয়ে যায়। বড় হলে আর সম্ভব নয়।
আট বছরের আগে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। চোখের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান আজই।
বাচ্চার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। কন্ট্যাক্ট লেন্স পরে আছেন। চোখ লাল হয়ে গেছে।
ঝাপসা দেখছেন। ব্যথা হচ্ছে। এটা কেরাটাইটিস হতে পারে। সংক্রমণ। লেন্স তখনই খুলে
ফেলুন। কোনো ড্রপ লাগাবেন না নিজে থেকে। ডাক্তার দেখান।
অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ লাগতে পারে। দেরি করলে কালো মোতিয়া হতে পারে। চোখ
হারানোর ঝুঁকি আছে। সতর্ক থাকুন। আপনি মাইগ্রেনে ভুগছেন। কিন্তু এবার চোখের
সামনে একটা জিগজ্যাগ লাইন দেখা দিল। ঝাপসা ভাব সঙ্গে সঙ্গে। মাথা ধরল। এটা
অকুলার মাইগ্রেইন। চোখের স্নায়ুতে সমস্যা। কিন্তু প্রথমবার হলে চোখের ডাক্তার
দেখান। স্ট্রোকের লক্ষণও হতে পারে। মস্তিষ্কের রক্তনালীতে সমস্যা থাকলে একই
অবস্থা হয়। বিভ্রান্ত হবেন না। পরীক্ষা করান। বৃদ্ধ বাবা মাকে দেখছেন। তিনি
বলছেন রাতে গাড়ি চালাতে পারছেন না। হেডলাইটের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। দিনে ঠিক।
এটা ক্যাটারাক্ট। কিন্তু হঠাৎ খারাপ হলে অন্য কিছুও হতে পারে। চোখের ডাক্তার
দেখান।
অপারেশনের প্রয়োজন হলে সময় নির্ধারণ করুন। বাবা মায়ের নিরাপত্তার জন্য এটা
জরুরি। তাদের চোখের দিকে একটু বেশি নজর দিন। চোখের চারপাশ ফুলে গেছে। চোখ বন্ধ
করতে কষ্ট হচ্ছে। ঝাপসা লাগছে। ব্যথা তীব্র। এটা সেলুলাইটিস হতে পারে। চোখের
চারপাশের টিস্যুতে সংক্রমণ। ছোটখাটো কাটাছেঁড়া থেকেও হয়। অ্যান্টিবায়োটিক
লাগতে পারে। কখনো কখনো হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। দেরি করবেন না। সংক্রমণ
ছড়িয়ে পড়লে বিপদ।
হঠাৎ এক চোখে ঝাপসা দেখার সম্ভাব্য কারণ
সকালে উঠে দেখলেন ডান চোখে সব ঝাপসা। বাঁ চোখ ঠিক আছে। ভয় লাগছে? একদম
স্বাভাবিক। এক চোখে সমস্যা মানে ব্যাপারটা আরও গম্ভীর। দুচোখে হলে হয়তো
ক্লান্তি। কিন্তু একটায় মানে সিস্টেমিক নয়। সরাসরি চোখেই সমস্যা। দেরি করবেন
না। চোখের ডাক্তার দেখান। সময় মানে দৃষ্টি। আপনার চোখের রক্তনালীতে সমস্যা হতে
পারে। স্ট্রোকের মতো। অ্যামাউরোসিস ফিউগাক্স বলে। এক চোখ হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর ঠিকও হতে পারে। কিন্তু এটা সতর্কতা সংকেত। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার
কারণ ও সমাধান-এই বিষয়ে আপনাকে সচেতন করতেই লিখছি। বড় স্ট্রোকের আগে এমনটা হয়।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞও দেখান। জীবন বাঁচতে পারে।
অপটিক নার্ভে সমস্যা হতে পারে। অপটিক নিউরাইটিস। মস্তিষ্ক থেকে চোখে সংকেত
যাওয়ার পথ বন্ধ। এক চোখে ঝাপসা। রং ফ্যাকাসে। ব্যথাও হতে পারে। মাল্টিপল
স্ক্লেরোসিসের আগাম লক্ষণ। এমআরআই করতে হবে। নিউরোলজিস্ট দেখাতে হবে। কিন্তু
প্রথমে চোখের ডাক্তার। তিনি পথ দেখাবেন। ভয় পাবেন না। তবে দ্রুত যান। আপনার
রেটিনায় সমস্যা হতে পারে। রেটিনাল ডিটাচমেন্ট। চোখের পর্দা ছিঁড়ে গেছে। এক চোখে
ঝাপসা। মাঝে মাঝে বিজলির মতো ঝলকানি। দৃষ্টি হারানোর ঝুঁকি আছে। কিছুক্ষণের
মধ্যেই চিকিৎসা নিতে হবে। অপারেশন করতে হতে পারে। কিন্তু সময়মতো গেলে দৃষ্টি
বাঁচানো যায়। এক চোখ মানে আরেকটা নির্ভর করছে। সাবধান।
চোখের ভেতরে রক্তপাত হতে পারে। ভিট্রিয়াস হেমারেজ। ডায়াবেটিসের কারণে। রক্তনালী
ফেটে গেছে। এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা। রক্তের দাগ ভাসছে। লেজার ট্রিটমেন্ট লাগতে পারে।
অপারেশনও লাগতে পারে। নিয়মিত ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকলে এমনটা হতো না। কিন্তু
এখন সময় নষ্ট করবেন না। চোখ বাঁচান। আপনার চোখে ছানি হতে পারে। ক্যাটারাক্ট।
সাধারণত দুচোখে হয়। কিন্তু একটা আগে হতে পারে। লেন্স ঘোলাটে হয়ে যায়। রাতের
আলোতে হেডলাইট ছড়িয়ে যায়। দিনে কিছুটা ভালো। অপারেশন করে লেন্স বদলাতে হয়।
ভয় পাবার কিছু নেই। সাধারণ অপারেশন। কিন্তু এক চোখে হলে অন্যটাও পরীক্ষা করান।
সময়ের আগেই ধরা পড়লে ভালো।
আপনার গ্লুকোমা হতে পারে। কালো মোতিয়া। এক চোখে ঝাপসা। চোখের ভেতর চাপ বেড়ে
গেছে। মাথা ব্যথা হতে পারে। চোখ লাল হতে পারে। অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চোখের ড্রপ দিয়ে চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিন্তু দেরি করলে দৃষ্টি চলে যায়।
এক চোখে হলে অন্যটাও ঝুঁকিতে। নিয়মিত চেকআপ করান। প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো ওষুধ।
আপনার চোখের লেন্স সরে গেছে। লেন্স ডিসলোকেশন। এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা। মারফান
সিন্ড্রোম বা আঘাতের কারণে হয়। লেন্স তার জায়গায় নেই। দৃষ্টি দোলায়। চশমায়
ঠিক হয় না। অপারেশন লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞ দেখান। সাধারণ চোখের ডাক্তার ধরতে
পারেন না। রেফারেল নিতে হতে পারে। ধৈর্য ধরুন।
আপনার চোখের পেশীতে সমস্যা হতে পারে। থায়রয়েড আই ডিজিজ। গ্রেভস ডিজিজ। এক চোখে
ঝাপসা। চোখ বড় বড় দেখায়। চোখের পাতা ফুলে যায়। দৃষ্টি দ্বিগুণ মনে হয়।
থায়রয়েডের সমস্যা থেকে হয়। এন্ডোক্রিনোলজিস্ট দেখাতে হবে। চোখের ডাক্তারও
লাগবে। দুজন মিলে চিকিৎসা করবেন। এক চোখে হলে বোঝা যায় সমস্যা সিস্টেমিক। শরীরের
অন্য অংশেও খোঁজ নিন। চোখে টিউমার হতে পারে। অপটিক নার্ভ গ্লিওমা। এক চোখে ঝাপসা
ধীরে ধীরে বাড়ছে। ব্যথা নেই। শিশুদের বেশি হয়। কিন্তু বড়দেরও হতে পারে। এমআরআই
করতে হবে। টিউমারের আকার বোঝা যাবে। রেডিয়েশন বা অপারেশন লাগতে পারে। ভয় পাবেন
না। আগে ধরা পড়লে অনেকটা ঠিক হয়।
এক চোখের সমস্যা মানে গভীরে খোঁজ নেওয়া দরকার। এখন বুঝতে পারছেন এক চোখে ঝাপসা
মানেই গম্ভীর। দুচোখে হলে হয়তো ক্লান্তি। একটায় মানে চোখেই সমস্যা। ছোট ছোট
বিষয় বড় বিপদ ডেকে আনে। সময় মতো চিকিৎসা নিলে অনেকটা বাঁচানো যায়। আপনার চোখ
দুটোকে ভালোবাসুন। বিশেষ করে একটা যখন সমস্যায়। অন্যটা একা পথ চলতে পারে না।
সচেতন থাকুন।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও চোখের ঝাপসা দেখার সম্পর্ক
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখার কারণ ও সমাধান-এই বিষয়টা আপনার কাছে যতটা জরুরি, তার
চেয়েও বেশি জরুরি ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপের সাথে চোখের সম্পর্ক বোঝা। আপনি
হয়তো ভাবছেন, এগুলো তো হৃদরোগের শত্রু। কিন্তু জানেন কি, চোখের সবচেয়ে বড় দুই
শত্রুও এদুটো? আমি একজন পরিচিতকে দেখেছি। ডায়াবেটিস ছিল। চোখের দিকে কখনো নজর
দেননি। একদিন হঠাৎ ঝাপসা। চিকিৎসক বললেন, রেটিনায় রক্তপাত। দেরি হয়ে গেছে। সেই
দৃশ্য আজও মনে পড়ে। রক্তে শর্করার মাত্রা যখন বেড়ে যায়, তখন চোখের
রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে যায়। দেয়াল ফুলে ওঠে। ছোট ছোট ফোসকা পড়ে। রক্ত
বেরিয়ে আসে। এটাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।
প্রথমে কোনো লক্ষণ থাকে না। চোখ ঝাপসা হলে বোঝা যায় সমস্যা বড় হয়ে গেছে।
নিয়মিত চেকআপ করালে আগেই ধরা পড়ে। লেজার ট্রিটমেন্টে অনেকটা ঠিক হয়। কিন্তু
দেরি করলে দৃষ্টি চলে যায়। ডায়াবেটিস আছে? চোখের ডাক্তারের কথায় যান আজই।
আপনার উচ্চ রক্তচাপ চোখের রক্তনালীকে সরু করে দেয়। রক্ত সরবরাহ কমে যায়। চোখের
পেশীগুলো ক্লান্ত হয়। দৃষ্টি ঝাপসা হয়। হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি বলে।
রক্তনালীতে রক্ত জমে যায়। চোখের ভেতর রক্তপাত হতে পারে। নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আপনি হয়তো মাথা ব্যথা পান। কিন্তু চোখের কথা ভুলে যান। নিয়মিত ব্লাড প্রেসার
মাপুন। চোখের ডাক্তারও দেখান। দুটো একসাথে করলে ভালো থাকবেন।
আরো পড়ুনঃ বয়স্কদের হাঁটুর ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়
ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ দুটোই মিলিয়ে রাখেন? তাহলে তো বিপদ দ্বিগুণ। দুটো
মিলে চোখের উপর চাপ বাড়ে। রেটিনা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছানি হওয়ার সম্ভাবনা
বাড়ে। গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ে। একটা সমস্যা আরেকটাকে ডেকে আনে। আপনি হয়তো ওষুধ
খান। কিন্তু নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান কি? বছরে একবার ফান্ডাস পরীক্ষা করান।
রেটিনার ছবি তুলুন। ছোট ছোট পরিবর্তন ধরা পড়বে। সময় থাকতে পদক্ষেপ নিন। দেরি
মানে দৃষ্টি হারানো। জানেন কী, ডায়াবেটিসে চোখের লেন্সও ফুলে যায়? রক্তে শর্করা
বেড়ে গেলে লেন্সে পানি ঢোকে। ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়। সুগার নিয়ন্ত্রণে এলে ঠিক
হয়ে যায়। কিন্তু বারবার হলে লেন্সের ক্ষতি হয়। ছানি তাড়াতাড়ি হয়।
আপনি হয়তো ভাববেন, নতুন চশমা লাগবে। কিন্তু চশমায় ঠিক হয় না। কারণ সমস্যা
লেন্সে। চোখের ডাক্তার বলবেন কী করতে হবে। নিজে নিজে চশমা বদলাবেন না। আপনার উচ্চ
রক্তচাপ যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রক্ত
চাপে নার্ভের আস্তরণ নষ্ট হয়। সংকেত যাওয়া ব্যাহত হয়। এক চোখে ঝাপসা। রং
ফ্যাকাসে। এটাকে বলে অপটিক নিউরোপ্যাথি। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এলে কিছুটা ঠিক হয়।
কিন্তু ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে। তাই প্রতিরোধই ভালো। নিয়মিত ওষুধ খান। লবণ
কমান। হাঁটুন। চোখের ডাক্তারের কথাও শুনুন। ডায়াবেটিসে ভুগলে গ্লুকোমার ঝুঁকি
বাড়ে। কালো মোতিয়া। চোখের ভেতর চাপ বেড়ে যায়। অপটিক নার্ভ চাপে পড়ে।
প্রথমে ঝাপসা। পরে দৃষ্টি হারানো। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির সাথে গ্লুকোমা মিলে
গেলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়। চোখের ড্রপ দিয়ে চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
কিন্তু নিয়মিত চেকআপ ছাড়া সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস আছে? গ্লুকোমার কথাও মনে
রাখুন। দুটো একসাথে হতে পারে। এখনতো বুঝতে পারছেন, ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ
চোখের চুপচাপ শত্রু। কথা বলে না। কিন্তু ক্ষতি করে। ঝাপসা দেখা তাদের সতর্কতা
সংকেত। কান দিন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান। সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রক্তচাপ
মাপুন। ছোট ছোট অভ্যাস বদলে অনেক বড় বিপদ এড়াতে পারেন। আপনার চোখ দুটোকে
ভালোবাসুন। সে ভালোবাসার প্রতিদান দেবে স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে।
চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে প্রতিদিন যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন
সকালে উঠে প্রথম কাজ কী করেন? ফোন চেক করেন? আমিও করতাম। কিন্তু এখন আগে জানালার
বাইরে তাকাই। দু মিনিট। সবুজ গাছপালা দেখি। চোখের পেশীগুলোকে একটু স্ট্রেচিং দিই।
আপনিও করুন। সকালের আলো চোখের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। দিনটা এভাবে শুরু করলে
চোখ সতেজ থাকে। ছোট অভ্যাস। বড় ফল। প্রতি বিশ মিনিটে বিশ সেকেন্ড অন্য দিকে
তাকান। ২০-২০-২০ নিয়ম। কম্পিউটার কাজের সময় বিশেষ করে। জানালার বাইরে দেখুন।
দূরের কিছু দেখুন। চোখের পেশীগুলো একই জায়গায় আটকে থাকে না। ঠিক যেমন শরীরের
ব্যায়াম দরকার। চোখেরও দরকার। এই নিয়ম মনে রাখুন। কাগজে লিখে টেবিলে রাখুন। মনে
পড়বে। ক্লান্তি কমবে।
ঝাপসা ভাব সরে যাবে। আপনি দিনে কত গ্লাস পানি খান? চারটা? পাঁচটা? বাড়ান। আট
গ্লাস করুন। শরীরে পানির অভাব হলে চোখের তরল পদার্থ কমে যায়। চোখ শুকিয়ে কাঠ
হয়। ঝাপসা লাগে। একটা বোতল পাশে রাখুন। মনে পড়লে খান। কফি বাদ দিন না। কিন্তু
পানি বাড়ান। চোখ ধন্যবাদ দেবে। দৃষ্টি স্পষ্ট হবে। এটা কঠিন নয়। শুধু অভ্যাস।
গাজর খান? পালং শাক খান? মাছ খান? এগুলোতে ভিটামিন এ আর ওমেগা থ্রি থাকে। চোখের
জন্য অমৃত। প্রতিদিনের প্লেটে একটু রং রাখুন। লাল, সবুজ, হলুদ। শাক সবজি ভরপেট
থাকুন। ডিম খান। বাদাম খান। চোখের পুষ্টি শুধু চশমায় নয়। খাবারেও। যা খাবেন তাই
দিয়ে চোখ তৈরি হয়। ভালো খান। ভালো দেখুন।
রাতে মোবাইল ছাড়ুন অন্তত এক ঘণ্টা আগে। অন্ধকার ঘরে স্ক্রিনের আলো চোখের জন্য
বিষ। মেলাটোনিন হরমোন নষ্ট হয়। ঘুম ভাঙে। চোখ ক্লান্ত হয়। নাইট মোড চালু রাখুন।
ব্রাইটনেস কমান। কিন্তু সবচেয়ে ভালো হলো ছেড়ে দেওয়া। বই পড়ুন। গল্প শুনুন।
চোখকে বিশ্রাম দিন। ঘুম ভালো হলে চোখও ভালো থাকবে। আপনি চশমার পাওয়ার ঠিকমতো
পরেন? পুরনো চশমায় চোখকে জোর দিতে হয়। ক্লান্তি বাড়ে। বছরে একবার চোখ পরীক্ষা
করান। নতুন চশমা মানে নতুন দৃষ্টি। কন্ট্যাক্ট লেন্স পরেন? পরিষ্কার রাখুন।
সময়মতো বদলান। চোখে সংক্রমণ হলে বিপদ। চোখের প্রতি কৃপণতা করবেন না। বিনিয়োগটা
মূল্যবান। দৃষ্টি একবার হারালে ফেরত পাবেন না।
যদি ধূমপান করেন? ছাড়ুন। ধোঁয়া চোখের রক্তনালীকে সরু করে দেয়। রক্ত সরবরাহ কমে
যায়। ক্যাটারাক্ট তাড়াতাড়ি হয়। গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়ে। একটা সিগারেটের ক্ষতি
হাজার গুণ বেশি। আজ থেকে কমান। ছেড়ে দিন। চোখ আপনাকে ধন্যবাদ দেবে। পরিবারও খুশি
হবে। দুটি পাখি এক পাথরে। আপনি মানসিক চাপ কমান। মেডিটেশন করুন। হাঁটতে বের হোন।
প্রিয় মানুষের সাথে কথা বলুন। মন ভালো থাকলে চোখও স্পষ্ট দেখে। এটা একটা অলৌকিক
সম্পর্ক। চোখ শুধু দৃষ্টি অঙ্গ নয়। মনের আয়নাও। মন শান্ত থাকলে চোখ সতেজ থাকে।
ছোট ছোট বিষয় বড় প্রভাব ফেলে। নিজেকে সময় দিন। চোখকেও সময় দিন।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান। বছরে একবার। ডায়াবেটিস থাকলে ছয় মাসে। অনেক সমস্যা
শুরুতে ধরা পড়ে না। চোখের চাপ, ছানি, রেটিনা-এসব পরীক্ষা করে নিলে মন শান্ত
থাকে। প্রতিরোধ সবচেয়ে ভালো ওষুধ। ডাক্তারের কথায় যেতে ভয় পাবেন না। সময়মতো
গেলে অনেক বিপদ এড়ানো যায়। আপনার চোখ দুটোকে ভালোবাসুন। সে ভালোবাসার প্রতিদান
দেবে স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
আমি এই লেখাটা লিখতে গিয়ে নিজের চোখের কথা ভেবেছি বারবার। এক সময় আমিও রাত জেগে
মোবাইল স্ক্রল করতাম। সকালে উঠে ঝাপসা লাগতো। ভাবতাম, বয়স তো হলো না, চোখ কেন
এমন? পরে বুঝলাম, নিজের অবহেলার দাম চোখ দিচ্ছে। আপনি হয়তো ভাবছেন, এতো কিছু মনে
রাখব কীভাবে? সহজ। ছোট ছোট অভ্যাস বদলান। প্রতিদিন একটু জল বেশি খান। বিশ মিনিট
পর চোখ সরান। রাতে মোবাইল এক ঘণ্টা আগে ছাড়ুন। এগুলো কঠিন নয়। শুধু সিদ্ধান্ত
নিতে হবে।
চোখ আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। জন্ম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত দেখায়। কিন্তু
আমরা তাকে কতটা যত্ন দিই? যখন ঝাপসা লাগে, তখন ভয় পাই। কিন্তু তার আগে কিছু করি
না। এটাই ভুল। আমি বলব না, চোখের ডাক্তার ছাড়া চলবে। উল্টো কথাটাই বলব। সমস্যা
মনে হলে দ্রুত যান। কিন্তু তার আগে নিজেও কিছু করুন। ঘরোয়া উপায়গুলো কাজে
লাগান।
পুষ্টিকর খাবার খান। বিশ্রাম দিন চোখকে। আপনার চোখ দুটোকে ভালোবাসুন। সে
ভালোবাসার প্রতিদান দেবে স্পষ্ট দৃষ্টি দিয়ে। জীবনটা অনেক সুন্দর। স্পষ্ট চোখে
দেখুন। ঝাপসা ভাব মুছে ফেলুন। আজ থেকে শুরু করুন। কাল নয়। আজ।


.webp)


ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url