বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন জানতে চান? একটু সচেতন থাকলেই বড় বিপদ এড়ানো
সম্ভব। অনেকেই ভাবেন মশা তো আছেই, কিন্তু ছোট্ট একটি ভুলই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে
পারে।
সহজভাবে জানুন কোন অভ্যাসগুলো আপনাকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে। ডেঙ্গুর মৌসুমে
নিজের ও প্রিয়জনদের সুরক্ষায় আজই জেনে নিন কার্যকর করণীয়।
পেজ সূচিপত্রঃ বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন
- বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন-শুরুতেই যা বুঝে নেওয়া দরকার
- ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায় এবং বর্ষাকালে কেন বেশি হয়
- ঘরের চারপাশে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করুন
- বৃষ্টির পানি জমতে দেওয়া মানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ানো
- প্রতিদিনের রুটিনে যে ছোট অভ্যাসগুলো ডেঙ্গু ঠেকাবে
- বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের জন্য আলাদা সতর্কতা
- মশা তাড়াতে নিরাপদ উপায়-স্প্রে, তেল ও মশারি
- ডেঙ্গুর লক্ষণ চিনুন এবং সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যান
- পাড়া-প্রতিবেশী মিলে কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন
- সচেতনতা ছড়িয়ে দিন-বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধের শেষ কথা
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন-শুরুতেই যা বুঝে নেওয়া দরকার
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন সেটা জানতে চাইলে প্রথমে আপনার নিজের ঘর
থেকে শুরু করুন। বৃষ্টির পানি জমে গেলে মশা সেখানে ডিম পাড়ে আর মাত্র কয়েক দিনের
মধ্যে নতুন মশা বেরিয়ে আসে। তাই প্রতি সপ্তাহে একদিন ঘুরে দেখুন কোথায় পানি জমে
আছে। ছাদে, ফুলের টবের নিচে বা পুরনো বালতিতে পানি থাকলে সেটা ফেলে দিন। আপনার
বাড়ির আশেপাশে যত জায়গায় পানি জমে থাকে সেগুলোই মশার প্রজননস্থল হয়ে ওঠে। পুরনো
টায়ার, ড্রাম বা নিচু জায়গা ভালো করে পরীক্ষা করে দেখুন। যদি পানি সরানো সম্ভব না
হয় তাহলে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ছড়িয়ে দিতে পারেন। এই ছোট ছোট কাজগুলো
নিয়মিত করলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই আপনি অনেকটা সুরক্ষিত থাকবেন। রাতে
ঘুমানোর আগে মশারি টাঙিয়ে নিন, বিশেষ করে বাচ্চাদের বিছানায়। দিনের বেলা বাইরে
গেলে হাত পা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে মশা তাড়ানোর
ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন। এগুলো সহজ অভ্যাস হলেও কাজ করে দারুণভাবে। বাচ্চা আর
বয়স্কদের জন্য একটু বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাদের ঘুমানোর জায়গায় অবশ্যই মশারি
দিন। শরীরে জ্বর দেখলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তারা অনেক সময় জ্বরকে
সাধারণ মনে করে এড়িয়ে যান। তাই আপনি নিজে থেকে খেয়াল রাখুন তাদের প্রতি।
মশা তাড়ানোর জন্য নিরাপদ উপায় বেছে নিন। বাজারের স্প্রে প্রয়োজনমতো ব্যবহার করুন।
ঘরে নিম পাতা বা তুলসী পাতা জ্বালিয়ে ধোঁয়া করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আসল
সমাধান হলো মশার জন্মস্থান ধ্বংস করা। শুধু তাড়ালে পুরোপুরি কাজ হবে না। ডেঙ্গুর
লক্ষণ দেখলে অবহেলা করবেন না। হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা বমি বমি ভাব
হলে তাড়াতাড়ি রক্ত পরীক্ষা করান। নিজে নিজে ওষুধ খাবেন না। সময়মতো চিকিৎসা পেলে
সাধারণত সেরে যায়। তাই সতর্ক থাকুন এবং দেরি করবেন না। পাড়ার সবাই মিলে কাজ করলে
ফল আরও ভালো পাওয়া যায়।
একা চেষ্টা করলেই পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া যায় না। যার যার বাড়ির আশেপাশে পানি জমে
আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করুন। সপ্তাহে একদিন সবাই মিলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ
করুন। এভাবে মিলে কাজ করলেই ডেঙ্গু অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সচেতনতাই আসলে সবচেয়ে
বড় অস্ত্র। আপনার পরিবার আর পাড়ার লোকজনকে এই বিষয়ে বলুন। যত বেশি মানুষ সতর্ক
থাকবে তত কমবে ডেঙ্গু। এই বর্ষায় সবাই সুস্থ থাকুন আর একটু খেয়াল রাখুন চারপাশে।
ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায় এবং বর্ষাকালে কেন বেশি হয়
ডেঙ্গু ছড়ায় মূলত অ্যাডিস নামের এক ধরনের মশার মাধ্যমে। এই মশা দিনের বেলায়
কামড়ায় এবং মানুষের রক্ত থেকে ভাইরাস নিয়ে অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দেয়। আপনি
যদি কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর কাছাকাছি থাকেন এবং সেই মশা আপনাকে কামড়ায় তাহলে
আপনিও আক্রান্ত হতে পারেন। এভাবেই একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
মশার জীবনচক্র খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। স্ত্রী মশা পানিতে ডিম পাড়ে আর সেই ডিম থেকে
মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে নতুন মশা বেরিয়ে আসে। আপনি হয়তো ভাবেন শুধু বড় জলাশয়েই
মশা জন্মায় কিন্তু আসলে ছোট ছোট জায়গায় জমা পানিতেও এরা সহজে বংশবৃদ্ধি করে।
এমনকি এক চামচ পানিতেও ডিম পাড়তে পারে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গু বেশি হয় কারণ বৃষ্টির পানি চারদিকে জমে যায়। ছাদের নিচু জায়গা,
ফুলের টব, পুরনো টায়ার, বালতি বা ড্রেনের আশেপাশে পানি জমে থাকে। আপনি যদি এসব
জায়গা পরিষ্কার না করেন তাহলে মশার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। বৃষ্টি হওয়ার পরপরই এই
জমা পানি মশার জন্য আদর্শ প্রজননস্থল হয়ে ওঠে। মশার ডিম শুকনো অবস্থায়ও অনেক দিন
বেঁচে থাকতে পারে। যখন বৃষ্টি হয় এবং পানি জমে তখন সেই ডিম ফুটে নতুন মশা বেরিয়ে
আসে। আপনার চারপাশে যত বেশি জায়গায় পানি জমে থাকবে তত বেশি মশা তৈরি হবে। এজন্য
বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়।
অনেক সময় মানুষ ছোট ছোট জায়গায় জমা পানির দিকে নজর দেয় না। কিন্তু আপনি যদি প্রতি
সপ্তাহে একবার ঘরের আশেপাশে ঘুরে দেখেন তাহলে অনেক সমস্যা আগেই ধরা পড়বে।
বর্ষাকালে এই অভ্যাসটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটু অবহেলাতেই মশার সংখ্যা
অনেক বেড়ে যেতে পারে। ডেঙ্গু ছড়ানো ঠেকাতে হলে মশার জন্মস্থান ধ্বংস করা সবচেয়ে
কার্যকর উপায়। আপনি শুধু মশা তাড়ালেই পুরোপুরি রক্ষা পাবেন না। বৃষ্টির পানি জমতে
দেওয়া মানে নিজের এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ানো। তাই বর্ষাকালে এই বিষয়ে একটু বেশি
সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ঘরের চারপাশে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করুন
ঘরের চারপাশে মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করতে হবে এবং সেগুলো ধ্বংস করতে হবে। এটি
ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সময় নিয়ে ঘরের বাইরে
ঘুরে দেখুন। বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন সেটা বুঝতে হলে প্রথমে এই
প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ছাদের নিচু জায়গা, ফুলের টবের নিচে এবং পুরনো
টায়ারে প্রায়ই পানি জমে থাকে। আপনি যদি এসব জায়গা নিয়মিত পরীক্ষা না করেন তাহলে
মশা সেখানে সহজেই ডিম পাড়ে। বৃষ্টির পর এই জায়গাগুলো আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে
ওঠে। বালতি, ড্রাম, প্লাস্টিকের বোতল এবং ড্রেনের আশেপাশেও পানি জমতে পারে।
আপনার বাড়ির পেছনের অংশ বা নিচু জায়গায় একবার ভালো করে দেখুন। অনেক সময় ছোট ছোট
জায়গায় জমা পানি চোখ এড়িয়ে যায়। তাই ধৈর্য ধরে পরীক্ষা করা জরুরি। এসি থেকে পানি
পড়ার জায়গা, গাড়ির চাকার নিচে বা আবর্জনার স্তূপেও মশা জন্মাতে পারে। আপনি যদি
এসব জায়গা পরিষ্কার রাখেন তাহলে মশার সংখ্যা অনেক কমে যাবে। প্রতি সপ্তাহে একবার
পুরো এলাকা ঘুরে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেখানে পানি জমে আছে সেখান থেকে পানি
ফেলে দিন বা ফুটো করে দিন যাতে আর জমতে না পারে।
টায়ার যদি ব্যবহার না করেন তাহলে সেগুলো সরিয়ে ফেলুন অথবা ফুটো করে দিন। এই ছোট
ছোট কাজগুলোই আসলে বড় ধরনের প্রতিরোধ তৈরি করে। নিয়মিত এই পরীক্ষা করলে আপনি
আগেভাগেই সমস্যা ধরতে পারবেন। বর্ষাকালে পানি জমার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে এই
অভ্যাস আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পরিবার এবং পাড়ার সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন
করুন।
বৃষ্টির পানি জমতে দেওয়া মানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ানো
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রথমে এই পানি জমা বন্ধ করতে হবে। আপনি যদি এই বিষয়ে
অবহেলা করেন তাহলে মশার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাবে। বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে
কী করবেন, বৃষ্টির পানি জমলে মশা সেখানে ডিম পাড়ে এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে
নতুন মশা বেরিয়ে আসে। আপনার চারপাশে যত বেশি জায়গায় পানি জমে থাকবে তত বেশি মশা
তৈরি হবে। অনেক সময় মানুষ ভাবে পানি নিজে নিজে শুকিয়ে যাবে কিন্তু বাস্তবে তা হয়
না। ছাদের নিচু অংশ, ড্রেনের আশেপাশে বা বাড়ির পেছনে পানি জমে থাকলে সেটা মশার
জন্য আদর্শ জায়গা হয়ে ওঠে। আপনি যদি এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করেন তাহলে
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে।
বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা যায় কারণ বৃষ্টি প্রায় প্রতিদিনই হয়। এমনকি
ছোট ছোট জায়গায় জমা পানিতেও মশা ডিম পাড়তে পারে। আপনি হয়তো ভাবেন এত ছোট জায়গায়
কিছু হবে না কিন্তু এক চামচ পানিতেও মশার জন্ম হতে পারে। তাই বৃষ্টির পর প্রতিবার
ঘরের চারপাশে ঘুরে দেখা উচিত। পানি জমতে দেওয়া মানে নিজের এলাকায় ডেঙ্গু ছড়ানোর
ঝুঁকি বাড়ানো। আপনি যদি এখনই পানি সরিয়ে ফেলেন বা জায়গা ফুটো করে দেন তাহলে মশার
প্রজনন অনেক কমে যাবে। এই ছোট অভ্যাসটি বর্ষাকালে নিয়মিত করলে অনেক সমস্যা এড়ানো
সম্ভব।
প্রতিদিনের রুটিনে যে ছোট অভ্যাসগুলো ডেঙ্গু ঠেকাবে
আপনার প্রতিদিনের রুটিনে কয়েকটি ছোট অভ্যাস যোগ করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেক সহজ
হয়ে যায়। সকালে উঠে জানালা খুলে ঘরে আলো-বাতাস ঢুকিয়ে দিন। অন্ধকার আর জমা পানি
মশার প্রিয় জায়গা। আপনি যদি প্রতিদিন এই ছোট কাজটি করেন তাহলে মশা ঘরে ঢোকার
সুযোগ কম পাবে। রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে নিন। বিশেষ করে বাচ্চাদের
বিছানায় মশারি দিতে ভুলবেন না। আপনি যদি এই অভ্যাসটি নিয়মিত করেন তাহলে রাতের
বেলা কামড়ের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। মশারি শুধু ডেঙ্গু নয়, অন্যান্য মশাবাহিত রোগ
থেকেও রক্ষা করে।
দিনের বেলা বাইরে গেলে হাত পা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। হালকা রঙের পোশাক পরলে মশা
কম আকৃষ্ট হয়। আপনি যদি সন্ধ্যার পর বাইরে বের হন তাহলে মশা তাড়ানোর ক্রিম লাগিয়ে
নিতে পারেন। এই সহজ অভ্যাসগুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনে সহজেই যোগ করা যায়। প্রতিদিন
সন্ধ্যার দিকে ঘরের চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে দেখুন কোথায় পানি জমে আছে। ছোট ছোট
জায়গায় জমা পানি ফেলে দিন বা ঢেকে রাখুন। আপনি যদি এই অভ্যাসটি প্রতিদিন করেন
তাহলে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার সুযোগ কম পাবে। এটি সময়সাপেক্ষ নয় কিন্তু অনেক
কাজ করে।
বাচ্চাদের সাথে মিলে এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন। তারা যখন দেখবে আপনি নিয়মিত মশারি
ব্যবহার করছেন তখন তারাও অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আপনি পরিবারের সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন
করতে পারেন। ছোট অভ্যাসগুলো যখন সবাই মিলে করে তখন ডেঙ্গু প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী
হয়। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হওয়ার আগে একবার চেক করে দেখুন আপনার শরীরে কোনো খোলা
জায়গা আছে কি না। হাতে-পায়ে হালকা ক্রিম লাগিয়ে নিলে অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়।
আপনি এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো প্রতিদিনের রুটিনে রাখলে ডেঙ্গু থেকে অনেকাংশে
নিরাপদ থাকবেন।
বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের জন্য আলাদা সতর্কতা
বাচ্চাদের এবং বয়স্কদের জন্য ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটু বাড়তি সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন।
তাদের শরীর অন্যদের চেয়ে একটু বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আপনি যদি তাদের জন্য আলাদা
ব্যবস্থা নেন তাহলে অনেক বিপদ এড়ানো সম্ভব। বাচ্চারা খেলাধুলা করতে গিয়ে অনেক সময়
জমা পানির কাছে চলে যায়। তাই তাদের খেয়াল রাখা জরুরি। বাচ্চাদের বিছানায় অবশ্যই
মশারি টাঙিয়ে দিন। তারা রাতে ঘুমের মধ্যে মশারি সরিয়ে ফেলতে পারে। আপনি প্রতি
রাতে ঘুমানোর আগে একবার দেখে নিন মশারি ঠিকমতো লাগানো আছে কি না। দিনের বেলা
বাইরে খেলতে গেলে তাদের হাত পা ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। হালকা পোশাক পরালেও যতটা
সম্ভব ঢেকে রাখুন।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো তারা অনেক সময় জ্বর বা শরীর ব্যথাকে সাধারণ মনে করে
এড়িয়ে যান। আপনি তাদের শরীরের দিকে নজর রাখুন। যদি হঠাৎ জ্বর আসে বা দুর্বল লাগে
তাহলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। বয়স্কদের ঘুমানোর জায়গায়ও মশারি ব্যবহার
করা উচিত। বাচ্চাদের জন্য মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকুন। অনেক
ক্রিম তাদের ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ উপায়
বেছে নিন। বয়স্কদের ক্ষেত্রে তারা নিজে থেকে মশারি টাঙাতে অসুবিধা হতে পারে। তাই
আপনি তাদের সাহায্য করুন।
পরিবারের সবাই মিলে এই সতর্কতাগুলো মেনে চললে বাচ্চা আর বয়স্করা অনেক নিরাপদ
থাকবে। আপনি তাদের জন্য আলাদা সময় বের করে নিয়মিত চেক করুন। বর্ষাকালে জমা পানির
কাছে তাদের যেতে না দেওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ছোট যত্নগুলোই তাদের
সুরক্ষা নিশ্চিত করে। যদি বাচ্চা বা বয়স্ক কারো শরীরে জ্বর দেখা যায় তাহলে নিজে
নিজে ওষুধ না দিয়ে চিকিৎসক দেখান। ডেঙ্গুর লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ জ্বরের মতো মনে
হয়। আপনি সময়মতো ব্যবস্থা নিলে জটিলতা অনেক কমে যায়। তাদের সুস্থ রাখতে এই আলাদা
সতর্কতা অবশ্যই রাখুন।
মশা তাড়াতে নিরাপদ উপায়-স্প্রে, তেল ও মশারি
মশা তাড়ানোর জন্য নিরাপদ উপায় বেছে নেওয়া খুব জরুরি। মশারি ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ
এবং কার্যকর পদ্ধতি। আপনি রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে নিন। বর্ষাকালে
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন সেটা ভাবলে মশারি প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত। এটি কোনো
রাসায়নিক ছাড়াই কাজ করে। বাচ্চা ও বয়স্কদের জন্য এটি সবচেয়ে ভালো সমাধান। আপনি
প্রতিদিন রাতে এই অভ্যাসটি রাখুন। বাজারের মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহারের সময়
সতর্ক থাকুন। অনেক স্প্রেতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে যা শরীরের জন্য ভালো নয়। আপনি
যদি স্প্রে ব্যবহার করেন তাহলে শুধু প্রয়োজনমতো এবং ঘরের বাইরে ব্যবহার করুন।
অতিরিক্ত স্প্রে করা থেকে বিরত থাকুন।
প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে নিম পাতা, তুলসী পাতা বা লেবুর রস মেশানো পানি স্প্রে করতে
পারেন। আপনি এগুলো ঘরে সহজেই তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন। তবে এগুলো অস্থায়ী
সমাধান। মশারি এবং পানি জমা রোধ করার সাথে এগুলো ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহারের সময় বাচ্চাদের জন্য আলাদা সতর্কতা নিন। অনেক ক্রিম
তাদের ত্বকের জন্য উপযোগী নয়। আপনি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ পণ্য বেছে
নিন।
বয়স্কদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত রাসায়নিক এড়িয়ে চলুন। সবচেয়ে ভালো হয় মশারি, নিরাপদ
ক্রিম এবং প্রাকৃতিক উপায় একসাথে ব্যবহার করা। আপনি আপনার পরিবারের জন্য কোন
পদ্ধতি সবচেয়ে উপযোগী সেটা বেছে নিন। নিরাপদ উপায় ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি
ছাড়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেঙ্গুর লক্ষণ চিনুন এবং সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যান
ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো চিনতে পারলে অনেক বিপদ এড়ানো সম্ভব। সাধারণত হঠাৎ জ্বর আসে যা
খুব তীব্র হয়। আপনি যদি মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে
ব্যথা অনুভব করেন তাহলে সতর্ক হোন। অনেক সময় শরীরে লালচে দাগ বা বমি বমি ভাবও
দেখা যায়। এই লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বরের সাথে মিলে যেতে পারে। ডেঙ্গুর জ্বর সাধারণত
তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়। আপনি যদি জ্বর কমার পর আবার বেড়ে যেতে দেখেন তাহলে
অবশ্যই সতর্ক থাকুন। শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া, বমি হওয়া বা পেটে ব্যথা হওয়া গুরুতর
লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। আপনি যদি জ্বর তিন দিনের বেশি থাকে
তাহলে তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের কাছে যান। রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়া ডেঙ্গুর একটি
গুরুতর লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা পেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী সেরে যান। বাচ্চা এবং
বয়স্কদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো আরও সতর্কতার সাথে দেখা উচিত। তারা অনেক সময়
সঠিকভাবে ব্যথা বা অস্বস্তির কথা বলতে পারে না। আপনি তাদের শরীরের তাপমাত্রা
নিয়মিত মাপুন এবং কোনো পরিবর্তন দেখলে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখান। অবহেলা করলে
জটিলতা বাড়তে পারে।
ডেঙ্গু হলে বিশ্রাম নেওয়া, প্রচুর পানি খাওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা
জরুরি। আপনি নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ খাবেন না। এতে সমস্যা আরও
বাড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। যদি আপনার পরিবারের
কারো শরীরে এই লক্ষণ দেখা যায় তাহলে অপেক্ষা করবেন না। তাড়াতাড়ি নিকটস্থ হাসপাতাল
বা ক্লিনিকে যান। ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসক সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। আপনার
সতর্কতাই আপনার এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
পাড়া-প্রতিবেশী মিলে কীভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন সেটা শুধু নিজে চেষ্টা করলেই পুরোপুরি সম্ভব
হয় না। পাড়া-প্রতিবেশী মিলে কাজ করতে হবে। আপনি যদি শুধু নিজের ঘর পরিষ্কার রাখেন
কিন্তু পাড়ার অন্য জায়গায় পানি জমে থাকে তাহলে মশা সেখান থেকে এসে আপনার বাড়িতেও
কামড়াতে পারে। সবাই মিলে একটা ছোট গ্রুপ করে নিতে পারেন। সপ্তাহে একদিন সবাই
একসাথে পাড়ার বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করুন। যার যার বাড়ির আশেপাশে পানি জমে আছে
সেটা নিয়ে আলোচনা করুন। এভাবে মিলে কাজ করলে অনেক বেশি ফল পাওয়া যায়।
আপনি আপনার প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন। কেউ যদি তার
বাড়ির আশেপাশে পানি জমিয়ে রাখে তাহলে তাকে বিনয়ের সাথে বোঝান। অনেক সময় মানুষ
অজান্তেই এই ভুল করে। আপনি যদি সবাইকে একসাথে কাজ করতে উৎসাহ দেন তাহলে সবাই
লাভবান হবে। পাড়ায় মিলে ড্রেন পরিষ্কার করা, পুরনো টায়ার সরানো এবং জমা পানি ফেলে
দেওয়ার কাজ করতে পারেন। আপনি যদি এই কাজগুলো একা করেন তাহলে সময় লাগবে অনেক।
কিন্তু সবাই মিলে করলে দ্রুত হয়ে যায়। এতে পাড়ার পরিবেশও ভালো থাকে।
যদি কোনো বড় সমস্যা দেখেন যেমন বড় জলাশয় বা ড্রেন বন্ধ হয়ে আছে তাহলে স্থানীয়
কর্তৃপক্ষকে জানান। আপনি পাড়ার অন্যদের সাথে মিলে আবেদন করতে পারেন। এভাবে
সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেক শক্তিশালী হয়। সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াও
একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আপনি আপনার প্রতিবেশীদের সাথে ডেঙ্গুর লক্ষণ এবং
প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করুন। যত বেশি মানুষ সচেতন হবে তত কমবে ডেঙ্গু।
পাড়া-প্রতিবেশী মিলে এই লড়াইটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
সচেতনতা ছড়িয়ে দিন-বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধের শেষ কথা
সচেতনতা ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। আপনি যা শিখেছেন তা শুধু
নিজের মধ্যে রাখবেন না। আপনার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করুন। প্রতিবেশীদের
সাথে কথা বলুন। যত বেশি মানুষ সচেতন হবে তত কমবে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আপনি সোশ্যাল
মিডিয়ায় বা সরাসরি কথা বলে এই তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারেন। অনেকে হয়তো এখনো জানে না যে
ছোট জায়গায় জমা পানিও মশার জন্ম দিতে পারে। আপনি যদি এই সহজ তথ্যগুলো অন্যদের
জানান তাহলে অনেক পরিবার উপকৃত হবে। সচেতনতা আসলে একটি চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু নিজের ঘর পরিষ্কার রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি
পুরো সমাজের দায়িত্ব। আপনি যখন নিজে সতর্ক থাকবেন এবং অন্যদেরও সতর্ক করবেন তখনই
আসল পরিবর্তন আসবে। ছোট ছোট সচেতনতা অনেক বড় ফল দিতে পারে। এই বর্ষায় আপনি এবং
আপনার আশেপাশের সবাই সুস্থ থাকুন। নিয়মিত চেক করুন, মশারি ব্যবহার করুন এবং
সচেতনতা ছড়িয়ে দিন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব যদি আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি।
আপনার একটু সতর্কতা হয়তো অনেকের জীবন বাঁচাতে পারে।




ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url