চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার-এই প্রশ্নটা আজকাল অনেকের মুখে ঘুরছে। আমার
চারপাশের অনেক বন্ধু-বান্ধবী, বিশেষ করে যারা ২৫-৪০ বছরের মধ্যে, তারা প্রায়ই
বলে, "ভাই, চুলটা এত পড়ছে যে মাথা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে।
আমি নিজেও এই সমস্যায় পড়েছিলাম কয়েক বছর আগে। তাই আজ তোমাদের জন্য একটা
পুরোপুরি বাস্তবসম্মত আর্টিকেল লিখছি। এখানে কোনো ওষুধের বিজ্ঞাপন নেই, শুধু যা
সত্যি কাজ করে বলে জানা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা।
পেজ সূচিপত্রঃ চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার
- চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার-বাস্তব চিত্র
- চুল পড়ার পেছনে ভিটামিনের ঘাটতি কতটা দায়ী
- ভিটামিন ডি-চুলের ফলিকল বাঁচানোর মূল খেলোয়াড়
- বায়োটিন (ভিটামিন বি৭)-চুলের জনপ্রিয় বন্ধু
- আয়রন আর জিঙ্ক-চুলের শক্তি জোগানোর টিম
- ভিটামিন সি ও ই-অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ
- অন্যান্য বি ভিটামিন যা সাহায্য করে
- কোন খাবার থেকে এসব ভিটামিন পাবে
- সাপ্লিমেন্ট খাবেন কি না, কখন খাবেন
- চুল পড়া কমানোর জন্য দৈনন্দিন অভ্যাস ও সতর্কতা
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার-বাস্তব চিত্র
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার-এই প্রশ্নটা আজকাল আমার অনেক বন্ধু-বান্ধবীর
কাছে শুনি। সত্যি বলতে কি, একটা একক ভিটামিন খেলেই চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে
যাবে এমন কোনো ম্যাজিক নেই। তবে কয়েকটা নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে চুলের
গোড়া দুর্বল হয়ে যায় আর পড়াটা বেড়ে যায়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর অনেকের কাছ
থেকে জানা তথ্য অনুসারে, ভিটামিন ডি, বায়োটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন সি আর ই
সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। যারা অফিসে বসে কাজ করেন, রোদে কম বের হন বা মাংস-ডিম
কম খান, তাদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়।
শুধু ট্যাবলেট খেয়ে নিলেই হবে না, পুরো ডায়েট আর জীবনযাপনের সাথে মিলিয়ে চলতে
হয়। দ্বিতীয় প্যারায় আরেকটু বিস্তারিত বলি। ভিটামিন ডি চুলের ফলিকলগুলোকে
সক্রিয় রাখে, বায়োটিন কেরাটিন তৈরিতে সাহায্য করে চুল মজবুত করে, আর আয়রন
অক্সিজেন সাপ্লাই করে গোড়া থেকে চুলকে পুষ্টি দেয়। জিঙ্ক হরমোন ব্যালেন্স রাখে
আর চুলের গ্রোথ সাইকেল ঠিক রাখে। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে আর ভিটামিন
ই স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে চুলকে সুস্থ রাখে।
আমি দেখেছি, যারা রক্ত পরীক্ষা করে ঘাটতি বের করে সেই অনুযায়ী খাবার আর
প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট নিয়েছে, তাদের অনেকের চুল পড়া তিন-চার মাসে অনেকটাই কমে
গেছে। তবে সবচেয়ে জরুরি হলো, নিজে নিজে বেশি ডোজ খাওয়া নয়, ডাক্তার বা
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে এগোনো। এভাবে ধৈর্য ধরে চললে সত্যিকারের ফল পাওয়া
যায়।
চুল পড়ার পেছনে ভিটামিনের ঘাটতি কতটা দায়ী
চুল পড়া নিয়ে যারা চিন্তায় থাকেন, তাদের অনেকের মনে প্রথম প্রশ্নটা এটাই আসে
যে, আসলে পুষ্টির অভাব কতটা দায়ী? সত্যি কথা বলতে কি, চুল পড়ার কারণ একটা
নয়। স্ট্রেস, হরমোনের সমস্যা, জেনেটিক্স, টাইট করে চুল বাঁধা, এমনকি দূষণও
অনেক ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমার দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, পুষ্টির ঘাটতি থাকলে
এই সমস্যা অনেক বেশি ত্বরান্বিত হয়। বিশেষ করে যারা অফিসে বসে কাজ করেন, রোদে
একদম বের হন না, বা যাদের খাবারে শাকসবজি-মাছ-মাংস কম থাকে, তাদের ক্ষেত্রে
ভিটামিন ডি, আয়রন, জিঙ্ক আর বায়োটিনের অভাব খুব সাধারণ। এই ঘাটতিগুলো চুলের
গোড়াকে দুর্বল করে দেয়, ফলে চুল আগের চেয়ে বেশি পড়তে শুরু করে।
আমি অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি, বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে আয়রনের অভাবটা খুব
বেশি দেখা যায়। মাসিকের সময় রক্তপাতের কারণে শরীরে আয়রন কমে গেলে চুলের
ফলিকলগুলোতে অক্সিজেন পৌঁছানো কমে, ফলে চুল পাতলা হয়ে যায়। একইভাবে ভিটামিন
ডি-র ঘাটতি থাকলে নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়াটাই ব্যাহত হয়। অনেক ডাক্তার
বলেন, সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করালেই বোঝা যায় কোনটা কম। আমার এক পরিচিত ভাইয়া
যখন তার ভিটামিন ডি আর আয়রন লেভেল ঠিক করলো, তখন মাত্র তিন মাসে চুল পড়া
প্রায় অর্ধেক কমে গিয়েছিল। তবে এটা সবার ক্ষেত্রে একই রকম হবে না। কারো
ক্ষেত্রে ঘাটতি ৩০-৪০% দায়ী, আবার কারো ক্ষেত্রে ৬০-৭০% পর্যন্তও হতে পারে।
শেষ কথা, শুধু ভিটামিন খেয়ে নিলেই সব সমাধান হয়ে যাবে এমন নয়। পুরো ডায়েট,
ঘুম, স্ট্রেস কমানো-এগুলো সব একসাথে চললে তবেই ভালো ফল পাওয়া যায়। যদি তোমার
চুল পড়া হঠাৎ করে বেড়ে যায়, তাহলে নিজে নিজে সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে একবার
ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নাও। সঠিক কারণ জানলে সমাধানটা অনেক
সহজ হয়ে যায়।
ভিটামিন ডি-চুলের ফলিকল বাঁচানোর মূল খেলোয়াড়বায়োটিন (ভিটামিন বি৭)-চুলের জনপ্রিয় বন্ধু
বায়োটিন (ভিটামিন বি৭)-চুলের জনপ্রিয় বন্ধু। অচুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার
এই প্রশ্নের উত্তরে বায়োটিনের নামটা সবচেয়ে বেশি আসে। অনেকেই একে চুলের জন্য
ম্যাজিক ভিটামিন বলে জানেন কারণ এটা কেরাটিন প্রোটিন তৈরিতে সরাসরি সাহায্য করে।
কেরাটিন হলো চুলের মূল উপাদান, তাই বায়োটিনের মাত্রা ঠিক থাকলে চুল মজবুত হয়,
ভাঙা কমে এবং চকচকে দেখায়। ডিমের কুসুম, বাদাম, সূর্যমুখী বীজ, মাশরুম,
অ্যাভোকাডো আর গাজরের মতো খাবারে প্রাকৃতিকভাবে বায়োটিন পাওয়া যায়। যাদের
খাবারে এসব কম থাকে বা যারা লম্বা সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন, তাদের
শরীরে এর ঘাটতি হতে পারে। ফলে চুল পাতলা হয়ে যায় এবং পড়াও বেড়ে যায়।
তবে বাস্তবে সবাইকে বায়োটিনের সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে এমন নয়। যাদের শরীরে আসলেই
ঘাটতি আছে, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি ভালো কাজ করে। আমার এক বান্ধবী
প্রতিদিন ৫০০০ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন খাওয়ার পর তিন মাসে চুলের গোড়া শক্ত
হয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাটতি নেই, তাদের শুধু এটা খেয়ে খুব বেশি
লাভ হয় না। বেশি মাত্রায় খেলে পেট খারাপ বা ত্বকে ফুসকুড়ি হতে পারে। তাই নিজে
নিজে শুরু করার আগে একবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেয়াটা
বুদ্ধিমানের কাজ।
বায়োটিনকে অন্য ভিটামিনের সাথে মিলিয়ে খেলে ফল আরও ভালো পাওয়া যায়। যেমন
ভিটামিন ডি বা আয়রনের সাথে একসাথে চললে চুল পড়া কমানোর প্রক্রিয়াটা অনেক দ্রুত
হয়। প্রতিদিনের খাবারে ছোট ছোট পরিবর্তন এনে শুরু করলে সাপ্লিমেন্টের দরকারও কমে
যেতে পারে। ধৈর্য ধরে তিন-চার মাস দেখার পরই আসল ফল বোঝা যায়।
আয়রন আর জিঙ্ক-চুলের শক্তি জোগানোর টিম
চুল পড়া কমাতে গেলে আয়রন আর জিঙ্ককে আলাদা করে দেখা যায় না। এই দুটো একসাথে
কাজ করে চুলের গোড়াকে মজবুত রাখে। আয়রনের কাজ হলো শরীরে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া।
যখন আয়রন কম থাকে, তখন চুলের ফলিকলে পর্যাপ্ত অক্সিজেন আর পুষ্টি যায় না। ফলে
চুল দুর্বল হয়ে আগে থেকেই পড়তে শুরু করে। বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে এই সমস্যা
বেশি দেখা যায়। মাসিকের সময় রক্ত যাওয়া, প্রেগন্যান্সি, বা ভেজিটেরিয়ান
ডায়েটের কারণে আয়রনের ঘাটতি হয়ে যায় খুব সহজে। আমি অনেককে দেখেছি, যাদের
হিমোগ্লোবিন কম ছিল, তারা আয়রন ঠিক করার পর চুল পড়া অনেকটাই কমিয়ে ফেলেছে।
জিঙ্কের ভূমিকাটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটা চুলের গ্রোথ সাইকেলকে নিয়ন্ত্রণ
করে, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে আর পুরনো চুলকে শক্ত রাখে। জিঙ্কের অভাব হলে চুল
ভঙ্গুর হয়ে যায়, মাথার ত্বকে খুশকি বাড়ে আর চুল পড়াও বেড়ে যায়। অনেক সময়
স্ট্রেস বা অতিরিক্ত ঘামের কারণেও জিঙ্ক কমে যায়। আমার এক বন্ধু প্রায় ছয় মাস
ধরে কুমড়ার বীজ আর ছোলা নিয়মিত খেয়ে দেখেছে যে চুলের ঘনত্ব অনেকটা ফিরে এসেছে।
দুটোই পাওয়া যায় সাধারণ খাবারে। আয়রনের জন্য পালং শাক, লাল মাংস, ডাল, কলিজা,
বিটরুট ভালো। জিঙ্কের জন্য কুমড়ার বীজ, বাদাম, ছোলা, দই, মাছ। তবে শুধু খাবারে
না পেলে ডাক্তারের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিতে হতে পারে। আয়রন ট্যাবলেট খেলে
ভিটামিন সি-যুক্ত ফলের সাথে খাওয়া ভালো, কারণ শোষণ বাড়ে। জিঙ্ক বেশি খেলে পেট
খারাপ হতে পারে, তাই ডোজ মেনে চলা জরুরি। রক্ত পরীক্ষা না করে নিজে নিজে কখনো
বেশি খেয়ো না। ধৈর্য ধরে তিন-চার মাস চালিয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষই পার্থক্যটা
টের পায়।
ভিটামিন সি ও ই-অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার এই প্রশ্নের উত্তরে ভিটামিন সি আর ই-এর কথা না
বললেই নয়, কারণ এরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে চুলের স্বাস্থ্যকে ভেতর থেকে
মজবুত করে। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে যাতে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত
পুষ্টি পৌঁছায়, আর একই সাথে কোলাজেন তৈরি করে চুলের গঠন শক্ত রাখে। ফলে চুল ভাঙা
কমে, চকচকে হয় এবং পড়াও অনেকটা কমে যায়।
অন্যদিকে ভিটামিন ই স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস
কমায় এবং চুলের ফলিকলগুলোকে সুস্থ রাখে। আমি দেখেছি, যারা নিয়মিত লেবু, কমলা,
আমলকি, টমেটো আর বাদাম, সূর্যমুখী বীজ খেয়েছে, তাদের চুল অনেক বেশি মজবুত আর কম
পড়েছে।
আরো পড়ুনঃ ওজন কমানোর জন্য বাংলা ডিনার রেসিপি
তবে শুধু খাবার থেকে না পেলে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা
বলে নেবে, কারণ অতিরিক্ত কোনো ভিটামিনও শরীরের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ধৈর্য
ধরে দুই-তিন মাস এভাবে চালিয়ে গেলে বেশিরভাগ মানুষই পার্থক্যটা স্পষ্ট টের পায়।
অন্যান্য বি ভিটামিন যা সাহায্য করে
চুল পড়া কমাতে শুধু বায়োটিন আর ভিটামিন ডি-ই যথেষ্ট নয়, অন্যান্য বি
ভিটামিনগুলোও পেছনে থেকে বেশ ভালো সাপোর্ট দেয়। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২ আর ফলিক
অ্যাসিড (বি৯) রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে, যাতে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন আর পুষ্টি
ঠিকমতো পৌঁছায়। বি১২-এর ঘাটতি হলে চুল পাতলা হয়ে যায়, চুলের রং আগে আগে পেকে
যেতে পারে এবং পড়াও বেড়ে যায়। যারা পুরোপুরি ভেগান ডায়েট করেন বা মাছ-মাংস কম
খান, তাদের মধ্যে এই ঘাটতি খুব সাধারণ। আমার এক আত্মীয় বি১২-এর লেভেল কম থাকায়
চুল প্রচুর পড়ছিল, পরে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পর তিন-চার মাসে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে
চলে এসেছে।
এছাড়া বি৬, বি১ আর বি৩-ও চুলের স্বাস্থ্যে ছোট ছোট ভূমিকা রাখে। বি৬ হরমোন
ব্যালেন্স রাখতে সাহায্য করে, বি৩ স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়ায় আর বি১ শক্তি
জোগায়। এগুলো পাওয়া যায় দই, দুধ, ডিম, মাছ, কলিজা, আলু, শাকসবজি আর পুরো
শস্যদানায়। যদি রক্ত পরীক্ষায় কোনো বি ভিটামিনের ঘাটতি ধরা পড়ে, তাহলে
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়া ভালো। নিজে নিজে বেশি খাওয়া ঠিক
নয়, কারণ অতিরিক্ত বি ভিটামিনও শরীর থেকে বেরিয়ে যায় কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে
পেটের সমস্যা করতে পারে। সব মিলিয়ে একটা সুষম খাদ্যাভ্যাসে এই ভিটামিনগুলো রাখলে
চুল পড়া কমানো অনেক সহজ হয়ে যায়।
কোন খাবার থেকে এসব ভিটামিন পাবে
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার এই প্রশ্নের সবচেয়ে সহজ উত্তর লুকিয়ে আছে
আমাদের রান্নাঘরেই। ভিটামিন ডি পেতে রোদে কিছুক্ষণ থাকার পাশাপাশি মাছ, ডিমের
কুসুম আর ফরটিফাইড দুধ খাওয়া ভালো। বায়োটিনের জন্য নিয়মিত ডিম, বাদাম, আখরোট,
অ্যাভোকাডো আর মাশরুম রাখো খাদ্য তালিকায়। আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পালং শাক,
লাল মাংস, কলিজা, ডাল, বিটরুট আর ছোলা খাও, আর সাথে লেবু বা কমলা দিলে শোষণ আরও
ভালো হয়।
জিঙ্ক পাবে কুমড়ার বীজ, বাদাম, ছোলা, দই আর মাছে। ভিটামিন সি-এর জন্য আমলকি,
লেবু, কমলা, টমেটো আর পেঁপে তো প্রতিদিনের তালিকায় রাখতেই পারো। ভিটামিন ই আসবে
সূর্যমুখী বীজ, বাদাম আর পালং শাক থেকে। আর বাকি বি ভিটামিনগুলো পাওয়া যাবে দুধ,
দই, মাছ, ডিম, আলু, পুরো শস্য আর সবুজ শাকসবজিতে। এসব খাবার প্রতিদিনের খাবারে
সহজেই ঢুকিয়ে নিলে অনেকটাই চুল পড়া কমানো সম্ভব, তবে শরীরের ঘাটতি বুঝে নিয়ে
খাওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।
সাপ্লিমেন্ট খাবেন কি না, কখন খাবেন
চুল পড়া কমাতে কোন ভিটামিন দরকার এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই সাপ্লিমেন্টের দিকে
ঝুঁকে পড়েন, কিন্তু সত্যি বলতে কি, সাপ্লিমেন্ট সবার জন্য নয়। প্রথমে রক্ত
পরীক্ষা করিয়ে দেখে নাও শরীরে আসলেই কোন ভিটামিন বা মিনারেলের ঘাটতি আছে কি না।
যদি ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে ঘাটতি ধরা পড়ে তবেই সাপ্লিমেন্ট শুরু করা
উচিত। নিজে নিজে দোকান থেকে কিনে বেশি ডোজ খাওয়া একদম ঠিক নয়, কারণ অতিরিক্ত
ভিটামিন ডি, আয়রন বা জিঙ্ক শরীরে জমে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরো পড়ুনঃ এলার্জি কমানোর দেশি রেমেডি বাংলাদেশে
সাধারণত সকালে খাবারের সাথে খেলে শোষণ ভালো হয়, আর ভিটামিন সি-যুক্ত ফলের সাথে
আয়রন ট্যাবলেট নিলে উপকার বাড়ে। ধৈর্য ধরে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস নিয়মিত খেতে
হবে, তার আগে আশা করা ঠিক না। সবচেয়ে ভালো হয় খাবার থেকে যতটা সম্ভব পূরণ করে,
তারপর শুধু প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট নেওয়া। এভাবে চললে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ছাড়াই চুল পড়া অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
চুল পড়া কমানোর জন্য দৈনন্দিন অভ্যাস ও সতর্কতা
ভিটামিন ঠিক করার পাশাপাশি চুল পড়া কমাতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস খুবই জরুরি।
প্রথমে ঘুমের দিকে নজর দাও-রাতে অন্তত সাত-আট ঘণ্টা ঘুমানো চুলের গ্রোথ হরমোনকে
সক্রিয় রাখে। স্ট্রেস খুব বড় শত্রু, তাই যোগা, মেডিটেশন বা হাঁটাহাঁটি করে মনকে
শান্ত রাখার চেষ্টা করো। চুল ধোয়ার সময় মাইল্ড, সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার
করো এবং সপ্তাহে দু-তিনবার নারকেল বা আমলকি তেল দিয়ে হালকা মাসাজ করো-এতে
স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল বাড়ে। চুল ভেজা অবস্থায় কখনো জোরে চিরুনি দিও না, আর
টাইট পনিটেল বা বিনুনি বাঁধা এড়িয়ে চলো। ধূমপান একদম ছেড়ে দাও, কারণ এটা চুলের
ফলিকল নষ্ট করে। গরম পানিতে চুল ধোয়া বন্ধ করো, হালকা গরম পানি ব্যবহার করো।
যদি তিন-চার মাস চেষ্টা করেও চুল পড়া না কমে, তাহলে নিজে নিজে আর চিকিৎসা না করে
একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাও। অনেক সময় থাইরয়েড, হরমোনের সমস্যা বা অন্য
কোনো কারণ থাকতে পারে যেটা ভিটামিন দিয়ে ঠিক হবে না। ছোট ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত
মেনে চললে ভিটামিনের সাথে মিলে চুল অনেক বেশি মজবুত আর ঘন হয়ে ওঠে। ধৈর্য আর
ধারাবাহিকতাই এখানে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।




ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url