ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয়

ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় জানতে গিয়ে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাঁপ করেন। আসলে কয়েকটি সহজ ধাপ ফলো করলেই দ্রুত সমস্যার কারণ বুঝে আবেদন আবার সচল করা সম্ভব।
ই-পাসপোর্ট-পেমেন্ট-পেন্ডিং-হলে-করণীয়
তাই আজকের এই পোস্টটা একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। ধাপে ধাপে কী করবেন, কোনটা আগে করবেন, কোনটা করলে আরও ঝামেলা বাড়বে সবকিছু খুলে বলব।

পেজ সূচিপত্রঃ ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয়

ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয়

ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় জিনিসটা আসলে খুব সোজা, কিন্তু অনেকেই প্যানিক করে ফেলে ঝামেলাটা আরও বাড়িয়ে দেন। প্রথমেই একটু শান্ত হয়ে বসুন, কারণ এটা খুব কমন একটা সমস্যা ইন্টারনেট স্লো থাকলে, সার্ভারে লোড বেশি হলে বা ব্যাংকের সাইড থেকে ছোটখাটো গণ্ডগোল হলেই এমন হয়ে যায়। আপনার ব্যাংক অ্যাপ বা মোবাইল ওয়ালেট খুলে দেখুন টাকাটা সত্যিই কেটেছে কি না, যদি না কাটে তাহলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করুন তবে পিক আওয়ারের বাইরে ভালো নেটওয়ার্কে। 

আর যদি টাকা কেটে গিয়েও স্ট্যাটাস পেন্ডিং দেখায়, তাহলে ধৈর্য ধরুন কারণ অনেক সময় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজে থেকেই আপডেট হয়ে যায়। তবে যদি সময় পার হয়ে যায় আর কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে সরাসরি আপনার ব্যাংক বা bKash, Nagad, Rocket-এর কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে বলুন যে ই-পাসপোর্টের ট্রানজেকশন পেন্ডিং আছে, রিফান্ডের ব্যবস্থা করুন। 

স্ক্রিনশট আর চালান নম্বর সাথে রাখুন যাতে প্রমাণ থাকে। এরপর রিফান্ড পেলে পুরনো আবেদন ডিলিট করে নতুন করে শুরু করুন, নয়তো অফলাইন চালানের অপশন ব্যবহার করে সমস্যা এড়ানো যায়। আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছিল, দুই দিন পর হঠাৎ সব ঠিক হয়ে গেল আর পাসপোর্টের কাজও এগিয়ে গেল। এভাবে ধাপে ধাপে এগোলে ঝামেলা মিটে যাবে, চিন্তা করবেন না।

পেমেন্ট পেন্ডিং কেন হয় - আসল কারণগুলো জানুন

আসলে ই-পাসপোর্টের পেমেন্ট পেন্ডিং দেখানোর পেছনে বেশ কয়েকটা সাধারণ কারণ আছে যেগুলো অনেকেই বুঝতে পারেন না বলে ঝামেলায় পড়ে যান। প্রথমত, ইন্টারনেটের স্পিড যদি একটু কম থাকে বা নেটওয়ার্ক ফ্লাকচুয়েট করে তাহলে একপে গেটওয়ের সাথে কানেকশনটা পুরোপুরি সম্পন্ন হয় না, ফলে স্ট্যাটাস পেন্ডিংয়ে আটকে যায়। দ্বিতীয়ত, সার্ভারের লোড বেশি থাকলে বিশেষ করে সকাল বা সন্ধ্যার পিক আওয়ারে একপে বা পাসপোর্ট পোর্টালের সিস্টেম নিজেই ধীরগতির হয়ে পড়ে, তখন ট্রানজেকশনটা প্রসেস হতে হতে অনেক সময় নিয়ে যায়।
ই-পাসপোর্ট-পেমেন্ট-পেন্ডিং-হলে-করণীয়
আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে দেখেছি, সে ভালো নেটওয়ার্কেও চেষ্টা করেও এই সমস্যায় পড়েছিল কারণ সেদিন সার্ভারে অনেক লোক একসাথে পেমেন্ট করছিল। এছাড়া ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটের দিক থেকেও কিছু কারণ থাকে, যেমন কার্ডের লিমিট শেষ হয়ে গেলে বা অ্যাকাউন্টে কোনো সিকিউরিটি ব্লক থাকলে টাকা কাটা গেলেও স্ট্যাটাস পেন্ডিং দেখায়। কেউ কেউ ভুল করে একই পেমেন্ট দু’বার চেষ্টা করে ফেলেন, তখন একটা সফল হলেও অন্যটা পেন্ডিংয়ে আটকে থাকে। 
আবার কখনো কখনো ব্যাংকের সাইডে টেম্পোরারি ইস্যু হয়, যেটা তারা নিজেরাই পরে ফিক্স করে। তাই এসব কারণ জানলে আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা আপনার ক্ষেত্রে ঘটেছে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ নিতে পারবেন, এতে অযথা টেনশন কমবে আর সময়ও বেঁচে যাবে।

একপে থেকে পেমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করুন এভাবে

পেমেন্টের স্ট্যাটাস চেক করতে চাইলে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যাওয়া। প্রথমে আপনার ব্রাউজারে ekpay.gov.bd খুলুন এবং সঠিকভাবে লগইন করুন। ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় হিসেবে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আপনাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এরপর Bill History বা Transaction History অপশনে ক্লিক করে আপনার পাসপোর্ট আবেদনের চালান নম্বরটা দিয়ে সার্চ করুন, দেখবেন সবকিছু একদম স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ই-পাসপোর্ট-পেমেন্ট-পেন্ডিং-হলে-করণীয়
এখানে আপনি একনজরে বুঝতে পারবেন আপনার ট্রানজেকশন সফল হয়েছে, নাকি এখনো পেন্ডিং আছে বা ফেইলড হয়ে গেছে। যদি একপেতে সফল দেখায় কিন্তু পাসপোর্টের ড্যাশবোর্ডে এখনো পেন্ডিং দেখায় তাহলে বুঝবেন টাকা কেটেছে কিন্তু সিস্টেম আপডেট হতে একটু সময় লাগছে। আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছিল, স্ক্রিনশট নিয়ে রাখায় পরে অনেক সুবিধা হয়েছিল। 

তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন, বারবার রিফ্রেশ করে চেক করবেন না এতে সার্ভারের লোড আরও বেড়ে যায়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার দেখুন বা echallan.gov.bd সাইটেও একবার চেক করে নিন। এভাবে ধৈর্য ধরে চেক করলে আপনি পরিষ্কার ধারণা পাবেন যে আসলে কী করণীয় আপনার জন্য।

টাকা কেটে গেলেও পেন্ডিং দেখালে ব্যাংক বা ওয়ালেটে যোগাযোগ করুন

যদি আপনার অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেট থেকে টাকা কেটে গেছে কিন্তু ই-পাসপোর্টের ড্যাশবোর্ডে এখনো পেমেন্ট পেন্ডিং দেখাচ্ছে, তাহলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে আপনার ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন। ভাই, এটা খুব জরুরি ধাপ কারণ অনেক সময় টাকা কাটা গেলেও সিস্টেমে আপডেট না হলে টাকাটা আটকে যায় এবং পরে রিফান্ড না পেলে বড় ঝামেলায় পড়তে হয়। ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বরে কল করুন বা bKash, Nagad, Rocket অ্যাপের সাপোর্ট চ্যাটে লিখুন স্ক্রিনশট আর চালান নম্বর সাথে রাখুন যাতে তারা সহজে বুঝতে পারে। 

আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছিল, সে তাড়াতাড়ি কল করে বলায় তিন দিনের মধ্যে রিফান্ড প্রসেস শুরু হয়ে গিয়েছিল। রিফান্ডের কথা বলার সময় স্পষ্ট করে বলুন যে এটা ই-পাসপোর্টের একপে ট্রানজেকশন, পেন্ডিং আছে এবং টাকা ফেরত চান। সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে টাকা ফেরত চলে আসে, তবে তার আগে পুরনো আবেদন ডিলিট করবেন না। 

রিফান্ড পাওয়ার পর নতুন করে আবেদন শুরু করুন, এতে টাকা নিরাপদ থাকবে। এভাবে যোগাযোগ করলে অনেকের সমস্যা মিটে যায়, শুধু ধৈর্য ধরে সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখুন। এটা অফিসিয়াল নিয়মও, তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই সময়মতো করলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

অফলাইন চালান দিয়ে পেমেন্ট করার সহজ উপায়

অনলাইন পেমেন্ট আটকে গেলে চিন্তা করবেন না, অফলাইন চালানের মাধ্যমে খুব সহজেই কাজ সেরে ফেলা যায়। এতে সার্ভারের লোড বা নেটের ঝামেলা একদম এড়ানো সম্ভব। ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় এই অফলাইন পদ্ধতিটা বেছে নিন। এভাবে পেমেন্ট করলে টাকা কাটা যাওয়ার পরও পেন্ডিংয়ের ভয় থাকে না। পাসপোর্ট পোর্টালে লগইন করে নিচে স্ক্রল করে "Offline Payment" অপশনটা সিলেক্ট করুন। তাহলে আপনার আবেদনের জন্য একটা A-Challan অটো জেনারেট হয়ে যাবে। সেটা প্রিন্ট করে নিন, কারণ এই চালান নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে। 
আমার এক বন্ধু এভাবে করায় পুরো প্রক্রিয়াটা মাত্র আধা ঘণ্টায় শেষ করতে পেরেছিল। চালান প্রিন্ট করে যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকে জমা দিন ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া বা ঢাকা ব্যাংকে এটা গ্রহণ করা হয়। জমা দেওয়ার পর রসিদটা ভালো করে সংরক্ষণ করুন, কারণ পরে পোর্টালে আপলোড করতে হবে। 

রসিদ আপলোড করার পর সিস্টেম সাধারণত দ্রুত আপডেট হয়ে যায়। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পেন্ডিংয়ের ঝামেলা একদম থাকে না আর টাকা নিরাপদে জমা হয়। তবে চালান জেনারেট করার পর তাড়াতাড়ি ব্যাংকে যান, কারণ চালানের মেয়াদ সাধারণত কয়েক দিনের হয়। এভাবে করলে পুরো ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ আর নিশ্চিন্ত হয়ে যায়।

অ্যাপ্লিকেশন ডিলিট করে নতুন করে আবেদন করলে কী হবে

যদি পেমেন্ট পেন্ডিং সমস্যাটা আর কিছুতেই মিটছে না এবং ব্যাংক বা ওয়ালেট থেকে রিফান্ডও চলে এসেছে, তাহলে পুরনো আবেদনটা ডিলিট করে নতুন করে শুরু করাটাই সবচেয়ে ভালো উপায়। ডিলিট করার সাথে সাথে আগের সব তথ্য, ডকুমেন্ট আর চালান সিস্টেম থেকে একদম মুছে যায়, ফলে আপনাকে আবার একেবারে শুরু থেকে নতুন আবেদন করতে হয়। সবকিছু আবার এন্ট্রি করা, ছবি-স্বাক্ষর আপলোড করা, ফি দিতে হবে এতে একটু বেশি সময় আর পরিশ্রম লাগে, কিন্তু অন্তত টাকাটা নিরাপদে ফিরে পাওয়া যায় আর নতুন করে সব ঠিকঠাক হয়।
ই-পাসপোর্ট-পেমেন্ট-পেন্ডিং-হলে-করণীয়
আমার এক পরিচিত ভাই এভাবে করেছিল, প্রথমবারের ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে শেষ পর্যন্ত পাসপোর্টও পেয়ে গিয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দু’বার চিন্তা করুন, কারণ ডিলিট করলে আর পুরনো আবেদনে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। রিফান্ডটা যে সত্যিই অ্যাকাউন্টে চলে এসেছে সেটা নিশ্চিত করে তারপরই ডিলিট করবেন, নয়তো টাকা হারিয়ে দ্বিগুণ ঝামেলায় পড়তে পারেন। নতুন আবেদন করার পর আবার অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাই সময় নিয়ে সব তথ্য খুব সাবধানে দিন। এভাবে করলে শেষমেশ সমস্যাটা পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারবেন, তবে ধৈর্য একটু রাখতে হবে।

পাসপোর্ট অফিস বা হেল্পলাইনে কল করলে সমাধান মিলবে কি না

অনেকের ক্ষেত্রে পেমেন্ট পেন্ডিং সমস্যাটা অনলাইনে কিছুতেই মিটছে না দেখে শেষমেশ হেল্পলাইন বা পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করাটাই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। হেল্পলাইন নম্বর ১৬১৭০-এ কল করলে বা epassport.gov.bd ওয়েবসাইটের কনট্যাক্ট পেজে দেওয়া অন্য নম্বরগুলোতে ফোন করলে অনেক সময় সরাসরি সাহায্য পাওয়া যায়। ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় এই ধাপটা অনেকের জন্য শেষ অস্ত্রের মতো কাজ করে। তবে কল করার আগে আপনার আবেদন নম্বর, চালান নম্বর আর স্ক্রিনশট সব প্রস্তুত রাখুন যাতে কথা বলার সময় কোনো তথ্য ভুলে না যান। 

ফোনে কথা বলার সময় খুব স্পষ্ট করে বলুন যে আপনার পেমেন্ট সফল হয়েছে কিন্তু ড্যাশবোর্ডে এখনো পেন্ডিং দেখাচ্ছে, অথবা টাকা কাটা গিয়েও স্ট্যাটাস আপডেট হচ্ছে না। অনেক অফিসার সরাসরি আপনার আবেদনটা দেখে ম্যানুয়ালি আপডেট করে দেন বা পরবর্তী ধাপ কী করতে হবে সেটা বলে দেন। আমার এক চাচাতো ভাইয়ের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই হয়েছিল দুইবার কল করার পর তৃতীয়বারে একজন সাপোর্ট অফিসার সবকিছু চেক করে দিয়ে বললেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয়ে যাবে। 

সত্যি সত্যি পরের দিন সকালে সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল। তবে পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি গেলে সাথে সব ডকুমেন্ট নিয়ে যান আবেদন ফর্মের প্রিন্টআউট, চালানের রসিদ, স্ক্রিনশট আর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র। অফিসে গেলে সাধারণত ভিড় থাকে, তাই সকাল সকাল যাওয়াই ভালো। কিছু ক্ষেত্রে তারা আপনাকে একটা টোকেন দিয়ে সিনিয়র অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং সেখানে গিয়ে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। 

শেষ কথা হলো, হেল্পলাইন বা অফিসে যোগাযোগ করলে সমাধান মিলবে কি না সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার সমস্যার ধরনের ওপর। যদি সিস্টেমের ছোটখাটো গণ্ডগোল হয় তাহলে ফোনেই মিটে যায়, কিন্তু যদি বড় কোনো টেকনিক্যাল ইস্যু থাকে তাহলে অফিসে যেতে হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে প্রথমে ফোনে চেষ্টা করুন, না মিটলে তবেই অফিসে যান। এভাবে করলে অযথা সময় নষ্ট হয় না আর সমস্যাটাও দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

পেমেন্ট সফল হওয়ার পরও স্ট্যাটাস আপডেট না হলে করণীয়

পেমেন্ট সফল দেখালেও ড্যাশবোর্ডে এখনো পেন্ডিং দেখানোটা আসলে খুব সাধারণ একটা ব্যাপার, অনেকেই এতে ঘাবড়ে যান। সিস্টেমের আপডেট প্রসেসটা কখনো কখনো একটু ধীরগতির হয়ে যায়, বিশেষ করে যখন একসাথে অনেক আবেদন আসে। ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয় এই অবস্থায় প্রথমে একদম ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় দিন, অনেক ক্ষেত্রে নিজে থেকেই স্ট্যাটাস চেঞ্জ হয়ে যায়। যদি দুই দিন পার হয়ে যায় আর কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন যেখানে পেমেন্ট সফল দেখাচ্ছে। 
তারপর হেল্পলাইন ১৬১৭০-এ কল করুন বা epassport.gov.bd-এর সাপোর্টে মেইল করুন। আপনার আবেদন নম্বর, চালান নম্বর আর সব প্রমাণ সাথে রাখুন। আমার এক আত্মীয়ের ক্ষেত্রে ঠিক এমন হয়েছিল, ফোনে কথা বলার পর অফিসার ম্যানুয়ালি আপডেট করে দিয়েছিলেন আর পরের দিনই অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপশন খুলে গিয়েছিল। 

শেষ অপশন হিসেবে পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি গেলে সমস্যা আরও দ্রুত মিটতে পারে। সাথে সব ডকুমেন্ট নিয়ে যান যাতে তারা সহজে আপনার কেসটা দেখতে পারেন। এভাবে করলে অযথা টেনশন কমবে আর পুরো প্রক্রিয়াটা মসৃণভাবে এগিয়ে যাবে। ধৈর্য আর সঠিক ধাপ মেনে চললে এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে আসা যায়।

এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন যাতে পেমেন্ট পেন্ডিং না হয়

ই-পাসপোর্টের পেমেন্ট পেন্ডিং সমস্যাটা অনেক সময় আমাদের নিজেদের ছোটখাটো ভুলের কারণেই হয়, যেগুলো এড়িয়ে চললে পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। প্রথমত, ইন্টারনেটের স্পিড খুব ভালো না থাকলে বা ওয়াইফাই ফ্লাকচুয়েট করলে একপে গেটওয়ে সাথে কানেকশনটা ঠিকমতো সম্পন্ন হয় না তাই পেমেন্টের আগে নেটওয়ার্কটা একবার চেক করে নিন, প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন। দ্বিতীয়ত, সকাল বা সন্ধ্যার পিক আওয়ারে পেমেন্ট করবেন না, কারণ তখন সার্ভারে লোড বেশি থাকে বলে ট্রানজেকশন আটকে যায়। 

আর সবচেয়ে বড় ভুল হলো একই পেমেন্ট দু’বার চেষ্টা করা এতে একটা সফল হলেও অন্যটা পেন্ডিংয়ে আটকে যায় এবং পরে ঝামেলা বাড়ে। আমি দেখেছি, যারা এই তিনটা জিনিস মেনে চলে তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রায় হয়ই না। এছাড়া আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেটে যথেষ্ট ব্যালেন্স আছে কি না সেটা আগে থেকে নিশ্চিত করুন, কারণ লিমিট শেষ হলে বা অ্যাকাউন্টে কোনো সিকিউরিটি ব্লক থাকলে টাকা কাটা গেলেও স্ট্যাটাস পেন্ডিং দেখায়। 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আবেদন সাবমিট করার আগে সব তথ্য নাম, জন্ম তারিখ, এনআইডি নম্বর, ছবি সবকিছু দু’বার করে চেক করুন। একবার ভুল হলে পরে পুরো আবেদন আবার শুরু করতে হয়। এই ছোট ছোট ভুলগুলো এড়িয়ে চললে পেমেন্ট পেন্ডিংয়ের ঝামেলা থেকে একদম মুক্ত থাকবেন, সময় বাঁচবে আর টেনশনও কমবে। শুধু একটু সচেতনতা আর ধৈর্য রাখলেই পুরো প্রক্রিয়াটা অনেক সুন্দরভাবে এগিয়ে যায়।

শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য

ই-পাসপোর্টের পেমেন্ট পেন্ডিং সমস্যাটা দেখতে যতটা ঝামেলার মনে হয় আসলে ততটা জটিল কিছু না, শুধু সঠিক ধাপগুলো ধৈর্য ধরে একটা একটা করে ফলো করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহজেই মিটে যায়। আমি নিজে অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে এই গাইডটা তৈরি করেছি যাতে আপনারা অযথা টেনশন আর সময় নষ্ট না করে সঠিক পথে এগোতে পারেন। এখনো যদি কোনো ধাপে আটকে থাকেন তাহলে কমেন্টে আপনার সমস্যাটা বিস্তারিত লিখুন, আমি যতটা পারি সাহায্য করব। পাসপোর্টের আবেদনটা সুন্দরভাবে শেষ হোক, এই কামনা রইল। শুভকামনা!😇

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।