উইন্ডোজ ১০ - টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন
উইন্ডোজ ১০ - টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন, টাস্কবার ফ্রিজ হওয়ার সমস্যাটা খুবই
সাধারণ একটা ইস্যু, যা অনেক সময় কাজের মাঝখানে এসে হঠাৎ করে সবকিছু থামিয়ে
দেয়। আপনি যদি কম্পিউটারে কাজ করছেন, আর হঠাৎ করে টাস্কবার ক্লিক করলে কোনো
রেসপন্স না পান, বা আইকনগুলো ফ্রিজ হয়ে যায়, তাহলে এটা সত্যিই বিরক্তিকর।
এই আর্টিকেলে আমি ধাপে ধাপে বলব কীভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন,
এবং উইন্ডোজ ১০ - টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন ও কেন এটা হয়। আমি চেষ্টা
করেছি যাতে এটা সহজবোধ্য হয়, যাতে নতুন ব্যবহারকারীরাও সহজেই অনুসরণ করতে পারেন।
চলুন শুরু করি।
পোষ্ট সূচিপত্রঃ উইন্ডোজ ১০ - টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন
- ভূমিকাঃ টাস্কবার ফ্রিজ কেন হয় এবং এর প্রভাব
- সম্ভাব্য কারণসমূহঃ কোন কোন ফ্যাক্টর এই সমস্যা ঘটাতে পারে
- সহজতম সমাধানঃ উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার রিস্টার্ট করা
- সিস্টেম ফাইল চেকার (SFC) এবং DISM টুল ব্যবহার করে ফিক্স করা
- ড্রাইভার আপডেট এবং চেকঃ গ্রাফিক্স এবং অন্যান্য ড্রাইভারের ভূমিকা
- স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো ডিসেবল করে দেখা
- উইন্ডোজ আপডেট চেক করা এবং ইনস্টল করা
- ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস স্ক্যান চালানো
- নতুন ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে টেস্ট করা
- উপসংহার: যদি কিছু না হয় তাহলে কী করবেন
ভূমিকাঃ টাস্কবার ফ্রিজ কেন হয় এবং এর প্রভাব
উইন্ডোজ ১০-টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন কমন প্রবলেম, যা অনেক ব্যবহারকারীদের
দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এটা হলে আপনি স্টার্ট মেনু খুলতে পারবেন না,
আইকনগুলোতে ক্লিক করলে কোনো রেসপন্স আসবে না, এবং কখনো কখনো পুরো ডেস্কটপই আটকে
যেতে পারে। আমার অভিজ্ঞতায়, এই সমস্যা সাধারণত সফটওয়্যার কনফ্লিক্ট, আউটডেটেড
ড্রাইভার, বা সিস্টেম ফাইলের কোনো করাপশনের কারণে হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার
কম্পিউটারে অনেকগুলো প্রোগ্রাম একসাথে চলছে, বা কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ
টাস্কবারের সাথে কনফ্লিক্ট করছে, তাহলে এটা ঘটতে পারে।
এছাড়া, হার্ডওয়্যার ইস্যু যেমন RAM-এর সমস্যা বা গ্রাফিক্স কার্ডের ফল্টও এর
পিছনে থাকতে পারে। এই সমস্যা শুরু হলে প্রোডাক্টিভিটি কমে যায়, কারণ আপনাকে
বারবার রিস্টার্ট করতে হয়, যা সময় নষ্ট করে। তবে ভালো খবর হলো, বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে এটা সহজেই ফিক্স করা যায়, এবং আমি এখানে ধাপে ধাপে গাইড দিয়েছি যাতে
আপনি নিজেই চেষ্টা করতে পারেন। যদি আপনার কম্পিউটারটা পুরনো হয়, বা অনেক দিন ধরে
আপডেট না করা হয়, তাহলে এই ইস্যু আরও বেশি দেখা যায়। চলুন এখন কারণগুলো নিয়ে
আলোচনা করি।
সম্ভাব্য কারণসমূহঃ কোন কোন ফ্যাক্টর এই সমস্যা ঘটাতে পারে
টাস্কবার ফ্রিজ হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে, এবং এগুলো বুঝে নেয়া
দরকার যাতে সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা যায়। প্রথমত, সিস্টেমের রিসোর্স যেমন RAM
বা CPU-এর ওভারলোড হলে টাস্কবার আটকে যেতে পারে, বিশেষ করে যদি আপনার কম্পিউটারে
অনেকগুলো অ্যাপ্লিকেশন একসাথে চলছে বা কোনো ভারী প্রোগ্রাম যেমন গেমস বা ভিডিও
এডিটিং সফটওয়্যার রান করছেন। আমি লক্ষ্য করেছি যে, কখনো কখনো থার্ড-পার্টি
অ্যান্টিভাইরাস বা অন্যান্য টুলস টাস্কবারের সাথে কনফ্লিক্ট করে, যা ফ্রিজের কারণ
হয়। এছাড়া, আউটডেটেড গ্রাফিক্স ড্রাইভার একটা বড় ফ্যাক্টর, কারণ টাস্কবারের
ভিজুয়াল এলিমেন্টস গ্রাফিক্সের উপর নির্ভর করে।
যদি আপনার উইন্ডোজ ফাইলসমূহ করাপ্ট হয়ে যায়, যেমন ভাইরাসের আক্রমণে বা
অসম্পূর্ণ আপডেটের কারণে, তাহলে এটা ঘটতে পারে। উইন্ডোজ ১০-টাস্কবার ফ্রিজ
হলে কি করবেন? কিছু ক্ষেত্রে, হার্ডওয়্যার সমস্যা যেমন কীবোর্ডের ফার্মওয়্যার
বা অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইসের ইস্যুও দায়ী হতে পারে, যেমন একটা কীবোর্ডের
ফার্মওয়্যার আপডেট না করলে টাস্কবার ফ্রিজ হয়ে যায়। আরও একটা কমন কারণ হলো
স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো, যা বুটিংয়ের সময় অনেক রিসোর্স নেয় এবং টাস্কবারকে
প্রভাবিত করে। যদি আপনি রিসেন্টলি কোনো নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করেন, তাহলে সেটা
চেক করুন, কারণ কনফ্লিক্ট হতে পারে। সব মিলিয়ে, এই কারণগুলো জেনে নিলে সমাধান
খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায়, এবং আমি পরের সেকশনগুলোতে বিস্তারিত বলব কীভাবে
এগুলো ফিক্স করবেন।
সহজতম সমাধানঃ উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার রিস্টার্ট করা
উইন্ডোজ ১০-টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন, তাহলে সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত সমাধান হলো
উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার প্রসেসটা রিস্টার্ট করা, যা আমি নিজে অনেকবার ব্যবহার করেছি
এবং এটা প্রায় সবসময় কাজ করে। এটা করার জন্য, প্রথমে Ctrl + Shift + Esc চাপুন
যাতে টাস্ক ম্যানেজার খোলে, কারণ ফ্রিজ হলে স্টার্ট মেনু থেকে খোলা যাবে না।
টাস্ক ম্যানেজারে গিয়ে Processes ট্যাবে স্ক্রল করে Windows Explorer খুঁজুন,
তারপর রাইট-ক্লিক করে Restart সিলেক্ট করুন। এটা করলে টাস্কবার এবং ডেস্কটপ
আইকনগুলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য ডিসাপিয়ার হয়ে যাবে, তারপর আবার আসবে এবং সমস্যা
সলভ হয়ে যাবে।
যদি এটা না হয়, তাহলে টাস্ক ম্যানেজার থেকে End Task করে তারপর File > Run
new task-এ explorer.exe টাইপ করে রান করুন। এই মেথডটা খুবই কার্যকরী, কারণ
উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারই টাস্কবার ম্যানেজ করে, এবং রিস্টার্ট করলে অস্থায়ী
গ্লিচগুলো সাফ হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রে, একবার এটা করে সমস্যা চলে গিয়েছিল,
কিন্তু যদি এটা বারবার হয় তাহলে অন্যান্য সমাধান চেষ্টা করুন। এই প্রসেসটা করার
সময় সতর্ক থাকুন যাতে অন্য কোনো প্রসেস ভুল করে এন্ড না করেন। উইন্ডোজ ১০ -
টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন নিচে একটা স্ক্রিনশট দিয়েছি যাতে দেখানো হয়েছে
কীভাবে এটা করবেন।
সিস্টেম ফাইল চেকার (SFC) এবং DISM টুল ব্যবহার করে ফিক্স করা
যদি সহজ রিস্টার্ট কাজ না করে, তাহলে পরের ধাপ হলো সিস্টেম ফাইল চেকার চালানো, যা
উইন্ডোজের করাপ্ট ফাইলসমূহ স্ক্যান করে রিপেয়ার করে, এবং এটা আমার মতে একটা
পাওয়ারফুল টুল যা অনেক সমস্যা সলভ করে। প্রথমে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোডে কমান্ড
প্রম্পট খুলুন-সার্চ করে cmd টাইপ করুন, তারপর রাইট-ক্লিক করে Run as
administrator সিলেক্ট করুন। তারপর sfc /scannow টাইপ করে এন্টার চাপুন, এবং এটা
স্ক্যান করে যেকোনো করাপ্ট ফাইল রিপ্লেস করবে। যদি এটা সমস্যা খুঁজে না পায় বা
রিপেয়ার না করতে পারে, তাহলে DISM টুল ব্যবহার করুন-কমান্ড প্রম্পটে DISM
/Online /Cleanup-Image /RestoreHealth টাইপ করুন। এটা অনলাইন থেকে ফাইলস ডাউনলোড
করে রিপেয়ার করে।
আমি একবার এই মেথড ব্যবহার করে আমার টাস্কবারের পার্মানেন্ট সমস্যা ফিক্স
করেছিলাম, যখন অন্য কিছু কাজ করেনি। এই প্রসেসটা সময় নিতে পারে, তাই ধৈর্য ধরুন
এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করে দেখুন। যদি আপনার ইন্টারনেট না থাকে, তাহলে DISM
অফলাইন মোড চেষ্টা করুন, কিন্তু সাধারণত অনলাইনই ভালো। এই টুলসগুলো উইন্ডোজের
বিল্ট-ইন, তাই কোনো অতিরিক্ত সফটওয়্যার ডাউনলোড করার দরকার নেই।
ড্রাইভার আপডেট এবং চেকঃ গ্রাফিক্স এবং অন্যান্য ড্রাইভারের ভূমিকা
ড্রাইভারগুলো আউটডেটেড হলে টাস্কবার ফ্রিজের একটা বড় কারণ হতে পারে, বিশেষ করে
গ্রাফিক্স ড্রাইভার, কারণ টাস্কবারের অ্যানিমেশন এবং ডিসপ্লে এর উপর নির্ভর করে।
আমি সাজেস্ট করি যে, প্রথমে ডিভাইস ম্যানেজার খুলুন-Win + X চাপুন এবং Device
Manager সিলেক্ট করুন। তারপর Display adapters-এ গিয়ে আপনার গ্রাফিক্স কার্ডে
রাইট-ক্লিক করে Update driver সিলেক্ট করুন, এবং অটোম্যাটিক সার্চ করুন। যদি না
হয়, তাহলে ম্যানুয়ালি ম্যানুফ্যাকচারারের ওয়েবসাইট থেকে লেটেস্ট ড্রাইভার
ডাউনলোড করুন, যেমন NVIDIA বা AMD-এর সাইট থেকে।
অন্যান্য ড্রাইভার যেমন নেটওয়ার্ক বা সাউন্ডও চেক করুন, কারণ কখনো কখনো সেগুলোও
কনফ্লিক্ট করে। আমার এক বন্ধুর ক্ষেত্রে, গ্রাফিক্স ড্রাইভার আপডেট করে সমস্যা
চলে গিয়েছিল, যা আগে বারবার ফ্রিজ করত। যদি আপনি থার্ড-পার্টি টুল যেমন Driver
Easy ব্যবহার করতে চান, তাহলে করতে পারেন, কিন্তু সতর্ক থাকুন যাতে ট্রাস্টেড
সোর্স থেকে ডাউনলোড করেন। রিস্টার্ট করে দেখুন কাজ করে কি না। নিচে একটা উদাহরণ
স্ক্রিনশট দিয়েছি।
স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো ডিসেবল করে দেখা
উইন্ডোজ ১০-টাস্কবার ফ্রিজ হলে কি করবেন, অনেক সময় স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো
টাস্কবার ফ্রিজের কারণ হয়, কারণ এগুলো বুটিংয়ের সময় অনেক রিসোর্স নেয় এবং
কনফ্লিক্ট সৃষ্টি করে। টাস্ক ম্যানেজার খুলে Startup ট্যাবে গিয়ে অপ্রয়োজনীয়
প্রোগ্রামগুলো ডিসেবল করুন-রাইট-ক্লিক করে Disable সিলেক্ট করুন। যেমন, কিছু
অ্যান্টিভাইরাস বা ক্লাউড সিঙ্ক প্রোগ্রাম যা অটোম্যাটিক চলে। আমি এটা করে দেখেছি
যে, আমার কম্পিউটারের পারফরম্যান্স অনেক বেড়েছে, এবং টাস্কবারের সমস্যা কমেছে।
যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দায়ী হয়, তাহলে একটা একটা ডিসেবল করে টেস্ট করুন।
এটা একটা সেফ মেথড, কারণ আপনি পরে এনেবল করতে পারেন। রিস্টার্ট করে চেক করুন।
উইন্ডোজ আপডেট চেক করা এবং ইনস্টল করা
উইন্ডোজ আপডেট না করলে অনেক বাগ থেকে যায়, যা টাস্কবার ফ্রিজের কারণ হতে পারে।
সেটিংস > Update & Security > Windows Update-এ গিয়ে Check for
updates ক্লিক করুন এবং যেকোনো আপডেট ইনস্টল করুন। আমি লক্ষ্য করেছি যে, কিছু
স্পেসিফিক আপডেট এই ইস্যু ফিক্স করে। রিস্টার্ট করে দেখুন। যদি আপডেট পেন্ডিং
থাকে, তাহলে সেটা ইনস্টল করুন
ম্যালওয়্যার এবং ভাইরাস স্ক্যান চালানো
যদি আপনার উইন্ডোজ ১০ কম্পিউটারে টাস্কবার হঠাৎ ফ্রিজ হয়ে যায়, ক্লিক করলে কোনো
রেসপন্স করে না, স্টার্ট মেনু খোলে না, নোটিফিকেশন আসে না, এমনকি Alt+Tab ও কাজ
করে না-তাহলে এর পেছনে অনেক সময় ম্যালওয়্যার, ট্রোজান, অ্যাডওয়্যার বা
স্পাইওয়্যারের হাত থাকে। এরা ব্যাকগ্রাউন্ডে CPU, RAM আর সিস্টেম রিসোর্স এতটাই
খেয়ে ফেলে যে উইন্ডোজের শেল (explorer.exe) আর টাস্কবার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না।
তাই প্রথম এবং সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো একটা পূর্ণাঙ্গ ম্যালওয়্যার ও ভাইরাস স্ক্যান
চালানো।
ধাপ ১ঃ প্রথমে উইন্ডোজের বিল্ট-ইন Windows Security দিয়ে Quick Scan + Full Scan করুন
- কীবোর্ডে Win + I চেপে Settings খুলুন
- Update & Security > Windows Security > Virus & threat protection
- "Quick scan" চালান। শেষ হলে আবার একই জায়গায় গিয়ে "Scan options" > "Full scan" > Scan now করুন।
(এটা কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে, কিন্তু সব ড্রাইভ স্ক্যান করবে)
ধাপ ২ঃ Windows Defender অফলাইন স্ক্যান (খুব জরুরি যদি রুটকিট বা পার্সিস্টেন্ট ম্যালওয়্যার থাকে)
একই Virus & threat protection পেজে > Scan options > নিচে “Microsoft
Defender Offline scan” > Scan now
কম্পিউটার ১ মিনিটের মধ্যে রিস্টার্ট হবে এবং নীল স্ক্রিনে ১৫-৪৫ মিনিট স্ক্যান করবে। এটা এমন ম্যালওয়্যার ধরে যেগুলো নরমাল মোডে লুকিয়ে থাকে।
কম্পিউটার ১ মিনিটের মধ্যে রিস্টার্ট হবে এবং নীল স্ক্রিনে ১৫-৪৫ মিনিট স্ক্যান করবে। এটা এমন ম্যালওয়্যার ধরে যেগুলো নরমাল মোডে লুকিয়ে থাকে।
ধাপ ৩ঃ দ্বিতীয় ও তৃতীয় লেয়ারের স্ক্যানার দিয়ে আবার চেক করুন (ফ্রি + পোর্টেবল)
- Malwarebytes (সবচেয়ে জনপ্রিয়)-ডাউনলোড লিংকঃ https://www.malwarebytes.com/mwb-download/thankyou। ইনস্টল করে "Scan" চাপুন > এটা অ্যাডওয়্যার, PUP, ব্রাউজার হাইজ্যাকার দারুণ ধরে।
- AdwCleaner (Malwarebytes-এরই আরেকটা টুল, শুধু অ্যাডওয়্যারের জন্য দুর্দান্ত) ডাউনলোডঃ https://www.malwarebytes.com/adwcleaner। ইনস্টল ছাড়াই চলে, Scan > Clean করুন।
- ESET Online Scanner (ব্রাউজার থেকেই চলে, খুব শক্তিশালী) লিংকঃ https://www.eset.com/int/home/online-scanner/
- HitmanPro (৩০ দিন ফ্রি ট্রায়াল, খুব ছোট ফাইল) Kaspersky Virus Removal Tool (KVRT)- পোর্টেবল।
- Kaspersky Virus Removal Tool (KVRT)-পোর্টেবল।
ধাপ ৪ঃ যদি কিছু পাওয়া যায় কি করবেন ?
- সবগুলোকে Quarantine বা Delete করুন
- কম্পিউটার Restart করুন
- আবার Windows Security দিয়ে Full scan করুন, দেখবেন কিছু অবশিষ্ট আছে কি না
- ব্রাউজার এক্সটেনশন সব রিমুভ করুন (বিশেষ করে যেগুলো আননোন সোর্স থেকে এসেছে)
প্রিভেনশন (যাতে আবার না হয়)
- Windows Defender রিয়েল-টাইম প্রোটেকশন অন রাখুন
- অজানা সাইট থেকে ক্র্যাক সফটওয়্যার, কীজেন, পাইরেটেড গেম ডাউনলোড বন্ধ করুন
- uBlock Origin এক্সটেনশন ব্রাউজারে লাগান
- প্রতি সপ্তাহে একবার Malwarebytes দিয়ে স্ক্যান করুন
এই পদ্ধতি ফলো করলে ৯০% ক্ষেত্রে টাস্কবার ফ্রিজের সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হয়ে
যায়। যদি এরপরেও সমস্যা থাকে তবেই explorer.exe রিস্টার্ট, sfc /scannow,
DISM ইত্যাদি করতে হবে। কিন্তু প্রথমে ম্যালওয়্যার ক্লিন করাটাই সবচেয়ে
জরুরি।
শুভকামনা! যদি কোনো ধাপে সমস্যা হয়, স্ক্রিনশট দিয়ে জানান, আরো সাহায্য
করব।
নতুন ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে টেস্ট করা
অনেক সময় দেখা যায় টাস্কবার ফ্রিজ, স্টার্ট মেনু খোলে না, আইকনগুলোতে ক্লিক করলে
কোনো রেসপন্স নেই-কিন্তু এটা হার্ডওয়্যার বা ভাইরাসের কারণে নয়, বরং আপনার
বর্তমান ইউজার প্রোফাইলটা নষ্ট (corrupted) হয়ে গেছে। উইন্ডোজের ইউজার প্রোফাইলের
মধ্যে থাকা রেজিস্ট্রি কী, শেল ফোল্ডার সেটিংস, অ্যাপ ডেটা ইত্যাদি
দুর্নীতিগ্রস্ত হলে ঠিক এমন সমস্যা হয়। এটি চেক করার সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায়
হলো একটা একদম নতুন লোকাল ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগইন করা। যদি নতুন
অ্যাকাউন্টে টাস্কবার একদম ঠিকঠাক চলে, তাহলে ১০০% নিশ্চিত যে আপনার পুরানো
প্রোফাইলটাই সমস্যা।
ধাপে ধাপে নতুন ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন কীভাবে (সবথেকে সহজ ৩টি পদ্ধতি)
পদ্ধতি ১ঃ Settings দিয়ে (সবচেয়ে সহজ)
- কীবোর্ডে Win + I চাপুন > Settings খুলবে
- Accounts > Family & other users (বা Other users)
- "Add someone else to this PC" > "I don’t have this person’s sign-in information"
- "Add a user without a Microsoft account" (লোকাল অ্যাকাউন্ট বানাবেন)
- ইউজারনেম দিন (যেমনঃ TestUser) > পাসওয়ার্ড খালি রাখতে পারেন > Next > Finish
পদ্ধতি ২ঃ কমান্ড দিয়ে (যদি Settings খুলতে সমস্যা হয়)
Win + X চেপে "Windows Terminal (Admin)" বা "Command Prompt (Admin)" খুলুন
নিচের কমান্ড একটা একটা করে এন্টার করুনঃ
cmd
net user TestUser123 /add
net localgroup Administrators TestUser123 /add
(এতে TestUser123 নামে একটা অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে, পাসওয়ার্ড
ছাড়াই)
পদ্ধতি ৩ঃ লগইন স্ক্রিন থেকে সরাসরি (টাস্কবার পুরোপুরি ফ্রিজ থাকলে)
- Ctrl + Alt + Delete চাপুন
- Sign out করুন
- লগইন স্ক্রিনের নিচে বাম কোণায় "Other user" > ইউজারনেমঃ TestUser123 দিয়ে লগইন করুন (পাসওয়ার্ড খালি থাকলে এন্টার চাপুন)
এখন টেস্ট করুন
- নতুন অ্যাকাউন্টে লগইন করার পর:
- টাস্কবারে ক্লিক করুন
- স্টার্ট মেনু খুলুন
- সার্চ করুন
- পিন করা অ্যাপ খুলুন
- নোটিফিকেশন দেখুন
যদি সবকিছু একদম স্মুথ চলে, তাহলে বুঝবেন আপনার পুরানো প্রোফাইলটাই দোষী।
আরো পড়ুন ঃ আরবি মাসের ক্যালেন্ডার ২০২৬
উপসংহারঃ যদি কিছু না হয় তাহলে কী করবেন
যদি আপনি এতক্ষণে সবকিছু চেষ্টা করে ফেলেছেন-ম্যালওয়্যার স্ক্যান, Malwarebytes,
ESET, AdwCleaner, Defender Offline, নতুন ইউজার অ্যাকাউন্টে টেস্ট, sfc/scannow,
DISM /Online /Cleanup-Image/RestoreHealth, PowerShell দিয়ে explorer রিস্টার্ট,
রেজিস্ট্রি ঠিক করা, শেল এক্সটেনশন চেক করা-এরপরেও টাস্কবার ফ্রিজ হচ্ছে, কখনো
ঠিক হয় আবার ৫-১০ মিনিট পর একই অবস্থা, তাহলে এখন আর ঘুরে বেড়ানোর সময় নেই। এই
পর্যায়ে এসে ৯৯% ক্ষেত্রে সমস্যাটা আর একটা-দুটো ফাইল বা সেটিংসের নয়, পুরো
উইন্ডোজ ইনস্টলেশনটাই কোনো না কোনোভাবে দূষিত বা আধা-ভাঙা হয়ে গেছে। এখন আর
ঝামেলা করে একটা একটা করে ঠিক করার চেষ্টা করলে শুধু সময় নষ্ট হবে, মাথা গরম হবে,
আর কাজের কাজ কিছুই হবে না।
এই মুহূর্তে আপনার সামনে সবচেয়ে সহজ, সবচেয়ে দ্রুত এবং সবচেয়ে নিশ্চিত সমাধান
দুটোই আছে-দুটোর মধ্যে যেটা আপনার পছন্দ সেটাই করুন।
প্রথম অপশনঃ "Keep my files" দিয়ে উইন্ডোজ রিসেট করুন। এতে আপনার ডকুমেন্টস,
পিকচার্স, ডেস্কটপ, ডাউনলোডস-সব ব্যক্তিগত ফাইল ঠিক থাকবে, কিন্তু সব প্রোগ্রাম,
ড্রাইভার, সেটিংস, স্টোর অ্যাপ-সবকিছু মুছে গিয়ে উইন্ডোজ একদম ফ্রেশ ইনস্টল হবে।
Settings > Update & Security > Recovery > Reset this PC > Keep
my files > Cloud download (ইন্টারনেট থাকলে) বেছে নিন। পুরো প্রক্রিয়া ৩০-৪৫
মিনিট লাগবে, তারপর আপনার কম্পিউটারটা আবার ২০১৯ সালে যেদিন প্রথম উইন্ডোজ ১০
ইনস্টল করেছিলেন সেই রকম ফ্রেশ আর স্মুথ চলবে। এরপর শুধু দরকারি প্রোগ্রামগুলো
(Chrome, VLC, Office, গেমস) আবার ইনস্টল করে নিলেই কেল্লাফতে।
দ্বিতীয় অপশনঃ যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত জায়গা থাকে এবং একদম ১০০% ফ্রেশ শুরু করতে
চান, তাহলে পেনড্রাইভে উইন্ডোজ ১০/১১ এর বুটেবল USB বানান (Microsoft-এর Media
Creation Tool দিয়ে) এবং পুরোপুরি ক্লিন ইনস্টল করুন। এতে C ড্রাইভ ফরম্যাট হয়ে
যাবে, সবকিছু মুছে গিয়ে একদম নতুন উইন্ডোজ পড়বে। এটাই সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন সমাধান,
আর লাগে মাত্র ১৫-২০ মিনিট।
যেটাই করুন না কেন, এই দুটোর যেকোনো একটা করার পর টাস্কবার ফ্রিজের সমস্যা আর
জীবনেও ফিরে আসবে না-এটা আমি গত ৮-৯ বছর ধরে হাজার হাজার পিসি ঠিক করার অভিজ্ঞতা
থেকে বলছি। তার আগে যতই ঘুরে মারা যান, শেষ পর্যন্ত এই দুটোর একটাতেই আসতে হবে।
তাই এখন আর সময় নষ্ট করবেন না, ব্যাকআপ নিয়ে নিন (যদিও Keep my files-এ দরকার
নেই), আর আজই রিসেট বা ক্লিন ইনস্টল করে ফেলুন। কাল সকালে উঠে দেখবেন কম্পিউটারটা
যেন নতুন কেনা।
যদি রিসেট করতে গিয়েও কোনো সমস্যা হয় বা ভয় লাগে, তাহলে একটা স্ক্রিনশট দিয়ে
বলবেন-আমি পুরো প্রক্রিয়াটা ধরে ধরে বলে দিব। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এরপর আর কোনো
টেনশন থাকবে না। শুভকামনা, আর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক আপনার পিসি!






ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url