দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড খুঁজছেন? তাহলে আপনি
একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত ছোট ছোট অভ্যাস কীভাবে শরীর ও মন ভালো রাখে, তা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
অনেকেই শুধু ওষুধ বা ডায়েটের কথা ভাবেন, অথচ দৈনন্দিন রুটিনই সুস্থ থাকার সবচেয়ে
বড় চাবিকাঠি-এই লেখাটি সেই বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেবে। আজ থেকেই ছোট
পরিবর্তন আনুন, সুস্থতার শুরু হোক প্রতিদিনের অভ্যাসে।
পোস্ট সূচিপত্রঃ দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড
- দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড
- সকালে ঘুম থেকে উঠে কীভাবে দিন শুরু করবেন
- স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
- কাজের ফাঁকে শরীর ও মনকে সতেজ রাখার সহজ উপায়
- পর্যাপ্ত পানি পান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের দৈনিক নিয়ম
- চেয়ারে বসে কাজ করলেও কীভাবে সক্রিয় থাকবেন
- দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখার কার্যকর অভ্যাস
- রাতের খাবার, বিশ্রাম ও ঘুমের সঠিক রুটিন
- যে ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইড আসলে খুব জটিল কিছু
না, শুধু কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের সমষ্টি। আপনি যদি প্রতিদিন কয়েকটা জিনিস ঠিকঠাক
মেনে চলেন, দেখবেন শরীর আর মন দুটোই অনেক হালকা লাগছে। আমরা প্রায়ই ভাবি, সুস্থ
থাকতে হলে অনেক কিছু বদলাতে হবে। কিন্তু সত্যি বলতে, ছোট ছোট পরিবর্তনই সবচেয়ে
বেশি কাজ করে। সকালটা শুরু করুন একটু আগে ঘুম থেকে উঠে। অ্যালার্ম বাজলেই স্নুজ
বাটনে চাপ না দিয়ে সরাসরি উঠে পড়ুন। প্রথম দশ মিনিট মোবাইল না ধরে জানালার
পর্দাটা সরিয়ে দিন, একটু আলো-বাতাস নিন। এই ছোট্ট অভ্যাসটা সারাদিনের মুড ঠিক
করে দেয়।
খালি পেটে এক গ্লাস পানি খাওয়ার অভ্যাসটা একদম বাদ দেবেন না। রাতভর শরীর যে
পানিশূন্যতার মধ্য দিয়ে যায়, সকালের এই এক গ্লাস পানি সেটা পুষিয়ে দেয়। চাইলে
সাথে একটু লেবুও মিশিয়ে নিতে পারেন। ব্যাপারটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর প্রভাব
একদমই সাধারণ না। নাশতা এড়িয়ে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে, আর এটাই সবচেয়ে বড়
ভুলগুলোর একটা। সারাদিনের এনার্জির ভিত্তিটা তৈরি হয় সকালের খাবার থেকেই। ডিম,
ওটস, ফল-যা হাতের কাছে পান তাই দিয়ে শুরু করুন। পেট খালি রেখে দিনের কাজে নামলে
দুপুরের আগেই ক্লান্তি চলে আসবে।
দিনের মাঝামাঝি সময়ে একটু হাঁটাচলা করার চেষ্টা করুন। অফিসে বসে থাকলে প্রতি
ঘণ্টায় দু-এক মিনিট উঠে দাঁড়ান, একটু স্ট্রেচ করুন। শরীরকে একটানা বসিয়ে রাখলে
সেটা ধীরে ধীরে জড়তা তৈরি করে। ছোট ছোট এই বিরতিগুলোই আসলে বড় পার্থক্য গড়ে
দেয়। দুপুরের খাবারে ভারী কিছু না খেয়ে সহজপাচ্য খাবার বেছে নিন। ভাত-তরকারির
সাথে একটু বেশি সবজি রাখুন, ভাজাপোড়া কমান। খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না, একটু
হাঁটুন। এতে হজম ভালো হয় আর বিকেলের দিকে ঝিমুনি ভাবটাও কম আসে।
বিকেলটা রাখুন একটু নিজের জন্য। কাজের ফাঁকে পাঁচ-দশ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসুন,
গভীর শ্বাস নিন। মোবাইলে স্ক্রল করার বদলে এই সময়টা মনকে বিশ্রাম দিতে ব্যবহার
করুন। আপনি নিজেই টের পাবেন, মাথাটা কতটা পরিষ্কার লাগছে। রাতের খাবার তাড়াতাড়ি
সেরে ফেলার চেষ্টা করুন, ঘুমানোর অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে। ভারী খাবার খেয়ে সাথে
সাথে শুয়ে পড়লে ঘুমের মান খারাপ হয়ে যায়। হালকা কিছু খান, আর খাবারের পর একটু
হাঁটাচলা করুন। এই অভ্যাসটা রপ্ত করতে পারলে ঘুম নিয়ে আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।
ঘুমানোর আগে মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্ককে
জাগিয়ে রাখে, ঘুম আসতে দেরি করায়। বই পড়া বা হালকা গান শোনার মতো অভ্যাস গড়ে
তুলুন। প্রথম কয়েকদিন কষ্ট হবে ঠিকই, কিন্তু ধীরে ধীরে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম
হয়ে দাঁড়াবে। রুটিন মানেই কঠোর নিয়মের বেড়াজাল না। কোনো একদিন একটু
এদিক-সেদিক হলেই নিজেকে দোষারোপ করবেন না। ধারাবাহিকতাই আসল কথা, নিখুঁততা নয়।
আপনি যদি প্রতিদিন ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মেনে চলার চেষ্টা করেন, একটা সময় গিয়ে
দেখবেন-শরীর আর মন দুটোই আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কীভাবে দিন শুরু করবেন
সকালে ঘুম থেকে উঠে কীভাবে দিন শুরু করবেন, সেটা আসলে ঠিক করে দেয় আপনার পুরো
দিনটা কেমন যাবে। অ্যালার্ম বাজার সাথে সাথে চোখ খুলেই যদি স্নুজ বাটনে হাত চলে
যায়, বুঝবেন এখান থেকেই আলসেমির শুরুটা হয়ে গেল। প্রথম যে সিদ্ধান্তটা আপনি নেন
সকালে, সেটাই আসলে বাকি দিনের সুর বেঁধে দেয়। তাই ঘুম ভাঙার প্রথম মুহূর্তটাকেই
একটু গুরুত্ব দিন। চোখ খুলেই মোবাইল হাতে নেওয়ার অভ্যাসটা একটু বদলানোর চেষ্টা
করুন। রাতভর জমে থাকা মেসেজ, নোটিফিকেশন-এসব দেখতে গিয়েই মন অস্থির হয়ে যায়
দিনের শুরুতেই। তার চেয়ে বরং কয়েক মিনিট শুধু শুয়ে থেকে গভীর শ্বাস নিন,
শরীরটাকে একটু সময় দিন জেগে উঠতে। এই ছোট্ট বিরতিটুকুই মনকে শান্ত রাখে।
বিছানা ছেড়ে ওঠার পর সবচেয়ে আগে যেটা করবেন, তা হলো জানালার পর্দা সরিয়ে
দেওয়া। সকালের আলো শরীরে ঢুকলে ঘুমের হরমোন কমে যায়, আপনি নিজেই টের পাবেন
চনমনে ভাবটা ফিরে আসছে। যাদের ঘরে সরাসরি রোদ আসে না, তারা বারান্দায় বা জানালার
কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়াতে পারেন। এতে শরীরের ভেতরের ঘড়িটাও ঠিক থাকে। বিছানা
গুছিয়ে ফেলার অভ্যাসটা ছোট মনে হলেও এর প্রভাব বেশ গভীর। সকালেই একটা কাজ শেষ
করার তৃপ্তি নিয়ে দিন শুরু করলে বাকি কাজগুলোও সহজ মনে হয়। আপনি লক্ষ্য করলে
দেখবেন, যারা সকালটা গোছানোভাবে শুরু করেন, তাদের সারাদিনের কাজেও একটা শৃঙ্খলা
থাকে। ব্যাপারটা মানসিক হলেও প্রভাব বাস্তব।
খালি পেটে এক গ্লাস পানি খাওয়াটা ভুলবেন না কখনো। সারারাত ঘুমানোর সময় শরীর
থেকে যে পানি বেরিয়ে যায়, সেটা পূরণ করা দরকার সবার আগে। চাইলে হালকা গরম
পানিতে একটু লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন, হজমেও সাহায্য করে এটা। এই একটা
অভ্যাসই আপনার সারাদিনের এনার্জি লেভেল অনেকটা ঠিক করে দিতে পারে। সকালে অন্তত
দশ-পনেরো মিনিট শরীরটাকে একটু নাড়াচাড়া করান। ভারী ব্যায়াম না করলেও চলবে,
হালকা স্ট্রেচিং বা কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটিই যথেষ্ট। শরীর একবার জেগে উঠলে মনও
দ্রুত সচল হয়ে যায়। আপনি নিজেই পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন কয়েকদিন করলে।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় এলার্জি হলে কী করবেন
নাশতা বাদ দেওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটা আজই বদলে ফেলুন। সারাদিনের কাজের জন্য
শরীরের জ্বালানি দরকার, আর সেই জ্বালানিটা আসে সকালের খাবার থেকেই। ভারী কিছু না
হলেও চলবে, একটা ডিম বা কিছু ফলই যথেষ্ট শুরুর জন্য। খালি পেটে দিন শুরু করলে
দুপুরের আগেই মাথা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। দিনের কাজগুলো নিয়ে বসার আগে মনে মনে
একটা ছোট পরিকল্পনা করে নিন। আজ কী কী করতে হবে, কোনটা আগে জরুরি-এই জিনিসগুলো এক
মিনিটেই মাথায় সাজিয়ে নিন। কাগজে লিখলে আরও ভালো হয়, চোখের সামনে থাকলে ভুলে
যাওয়ার সুযোগ কম থাকে। এই ছোট্ট অভ্যাসটা দিনটাকে অনেক গোছানো করে তোলে।
সকালটা কেমন কাটবে সেটা পুরোপুরি আপনার হাতে। আপনি চাইলেই প্রথম আধা ঘণ্টার মধ্যে
এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন, যা সারাদিনের গতিটাই বদলে দেবে। শুরুটা কঠিন
লাগবে প্রথম কয়েকদিন, কিন্তু একবার অভ্যাস হয়ে গেলে এটাই হয়ে উঠবে আপনার
সবচেয়ে প্রিয় সময়টুকু।
স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, এই প্রশ্নটার উত্তর লুকিয়ে আছে
আপনার শরীরের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদার মধ্যে। সারারাত ঘুমানোর সময় আপনার শরীর
একটানা উপবাসে থাকে, খাবার ছাড়া দীর্ঘ একটা সময় পার করে। সকালে উঠে যদি আবার
নাশতা না করে বসে থাকেন, তাহলে এই উপবাসের সময়টা আরও লম্বা হয়ে যায়। আর এখান
থেকেই শুরু হয় দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইডের
সবচেয়ে বড় ভুলটা। অনেকে ভাবেন নাশতা বাদ দিলে বুঝি ওজন কমবে, কিন্তু বাস্তবতা
একদম উল্টো। খালি পেটে থাকলে শরীর বরং ফ্যাট জমিয়ে রাখার মোড অন করে দেয়, কারণ
সে বুঝতে পারে খাবার আসছে না ঠিকমতো।
ফলাফল হয় উলটো-ওজন কমার বদলে বাড়তে থাকে ধীরে ধীরে। শরীরকে বোকা বানানো এত সহজ
না। সকালের নাশতা আসলে মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে জরুরি জ্বালানি। রাতভর গ্লুকোজের
মজুদ প্রায় শেষ হয়ে যায়, আর সকালে সেই ঘাটতি পূরণ না করলে মাথা ঠিকমতো কাজ করে
না। আপনি নিজেই খেয়াল করলে দেখবেন, খালি পেটে থাকলে মনোযোগ ধরে রাখা কতটা কঠিন
হয়ে যায়। কাজে ভুল বেশি হয়, সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি হয়। নাশতা এড়িয়ে গেলে
সারাদিন অতিরিক্ত খাওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। সকালে না খেলে দুপুরের খাবারে
গিয়ে হুট করে বেশি খেয়ে ফেলেন অনেকে, কারণ শরীর ততক্ষণে ক্ষুধায় কাবু হয়ে
যায়।
এই অনিয়মিত খাওয়ার প্যাটার্নটাই ধীরে ধীরে হজমের সমস্যা আর গ্যাস্ট্রিকের কারণ
হয়ে দাঁড়ায়। ছোট্ট একটা বাদ দেওয়া অভ্যাস, কিন্তু প্রভাবটা বেশ বড়।
স্বাস্থ্যকর নাশতা মানে জটিল কিছু রান্না করা না, বরং সহজ কিছু খাবার একসাথে করে
খাওয়া। একটা ডিম, কিছু ফল, এক মুঠো বাদাম-এইটুকুই যথেষ্ট শরীরকে সচল রাখতে।
প্রোটিন আর ফাইবার একসাথে থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, বারবার খিদে লাগে না।
রান্নাঘরে বেশি সময় না দিয়েও এই কাজটা করা যায় সহজেই। মন ভালো রাখার সাথেও
সকালের খাবারের একটা সরাসরি যোগাযোগ আছে। খালি পেটে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা
ওঠানামা করে, আর এর প্রভাব পড়ে মেজাজের ওপর সরাসরি।
বিরক্তি, খিটখিটে ভাব, অকারণ রাগ-এসবের পেছনে অনেক সময় লুকিয়ে থাকে না খাওয়ার
গল্প। আপনি যদি সকালে ঠিকমতো খান, দেখবেন মেজাজটাও অনেক শান্ত থাকছে সারাদিন।
বাচ্চাদের ক্ষেত্রে তো এই অভ্যাসটা আরও বেশি জরুরি। স্কুলে যাওয়ার আগে পেট ভরে
না খেলে ক্লাসে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয় তাদের, ক্লান্তিও চলে আসে দ্রুত। বাবা-মা
হিসেবে আপনি যদি সকালের নাশতাটা অভ্যাসে পরিণত করে দেন ছোটবেলা থেকেই, এটা
সারাজীবনের একটা ভালো অভ্যাস হয়ে থেকে যাবে তাদের কাছে।
সকালের নাশতা বাদ দেওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। সময়ের অভাব বলে অজুহাত
দেওয়ার চেয়ে বরং আগের রাতে একটু প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন। শরীর আর মন-দুটোকেই
ভালো রাখতে চাইলে এই একটা অভ্যাস বদলেই অনেকটা পথ এগিয়ে যাবেন আপনি।
কাজের ফাঁকে শরীর ও মনকে সতেজ রাখার সহজ উপায়
কাজের ফাঁকে শরীর ও মনকে সতেজ রাখার সহজ উপায় খুঁজতে গিয়ে অনেকেই ভাবেন এর জন্য
আলাদা সময় বের করতে হবে। আসলে ব্যাপারটা এত জটিল না। কাজের মাঝেই ছোট ছোট বিরতি
নিলেই শরীর আর মন দুটোই চাঙা থাকে। একটানা চেয়ারে বসে থাকলে শরীর ধীরে ধীরে জড়
হয়ে যায়। প্রতি এক ঘণ্টা পরপর উঠে দাঁড়ান, হাত-পা একটু ছড়িয়ে নিন। এই ছোট্ট
নড়াচড়াটুকুই রক্ত চলাচল ঠিক রাখে। চোখ দুটোকেও একটু বিশ্রাম দিন মাঝে মাঝে।
স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরের কিছুতে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের
ক্লান্তি কমে, মাথাব্যথাও কম হয়। কাজের ফাঁকে এক গ্লাস পানি খাওয়ার কথা প্রায়ই
ভুলে যান আমরা।
ডেস্কে একটা পানির বোতল রেখে দিন, একটু পর পর চুমুক দিন। শরীর হাইড্রেটেড
থাকলে মনোযোগও বাড়ে অনেকটা। গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাসটা আপনাকে সাহায্য করবে
মানসিক চাপ কমাতে। কাজের মধ্যে যখনই মাথা ভার লাগবে, চোখ বন্ধ করে কয়েকবার লম্বা
শ্বাস নিন। মাত্র এক মিনিটেই মন অনেকটা হালকা লাগবে। জানালার পাশে বা বারান্দায়
গিয়ে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোর অভ্যাসটাও দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে
কাটানোর রুটিন গাইডের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খোলা বাতাস আর একটু আলো মনকে সতেজ
করে দেয় সহজেই। কাজের ফাঁকে এই ছোট বিরতিটুকু নিতে ভুলবেন না। হালকা কিছু
স্ট্রেচিং করে নিন সুযোগ পেলেই।
ঘাড়, কাঁধ আর কোমরের দিকে একটু মনোযোগ দিন, এই জায়গাগুলোতেই চাপ বেশি জমে। শরীর
নমনীয় থাকলে ক্লান্তিও কম আসে। নিজের শরীরের ইশারা বুঝতে শিখুন। ক্লান্তি লাগলে
জোর করে কাজ চালিয়ে না নিয়ে কয়েক মিনিটের বিরতি নিন। এই ছোট ছোট যত্নই আপনাকে
সারাদিন কর্মক্ষম রাখবে, ক্লান্তিহীনভাবে।
পর্যাপ্ত পানি পান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের দৈনিক নিয়ম
পর্যাপ্ত পানি পান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের দৈনিক নিয়ম মেনে চলাটা শুনতে যত সহজ মনে
হয়, বাস্তবে ততটা মানা হয় না আমাদের বেশিরভাগেরই। কাজের চাপে পানি খাওয়ার কথাই
মনে থাকে না অনেক সময়। অথচ শরীরের প্রতিটা কোষ ঠিকমতো কাজ করার জন্য পানির ওপর
নির্ভরশীল। আপনি যদি এই একটা জিনিস ঠিক করে ফেলেন, দেখবেন অনেক সমস্যা এমনিতেই
কমে যাচ্ছে। দিনে অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি খাওয়ার কথা বলা হয়, তবে এটা সবার
জন্য একরকম না। আপনার ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম-এসবের ওপর নির্ভর করে পানির
চাহিদা বাড়ে-কমে। তবে একটা সহজ নিয়ম মনে রাখুন-প্রস্রাবের রং হালকা হলুদ থাকলে
বুঝবেন পানি ঠিকমতো খাচ্ছেন।
রং গাঢ় হলে বুঝবেন ঘাটতি হচ্ছে কোথাও। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি
খাওয়ার অভ্যাসটা প্রতিদিন রাখুন। এরপর প্রতি ঘণ্টায় ছোট ছোট চুমুকে পানি খেতে
থাকুন, একসাথে অনেকটা খাওয়ার দরকার নেই। ডেস্কে বা কাছাকাছি একটা বোতল রাখলে
ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় অনেকটা। ছোট এই অভ্যাসটাই সারাদিনের এনার্জি ধরে
রাখে। খাবারের ক্ষেত্রে সময়টা মেনে চলা যতটা জরুরি, খাবারের ধরনও ঠিক ততটাই
গুরুত্বপূর্ণ। তিনবেলার মূল খাবারের মাঝে দুই-তিন ঘণ্টা পরপর হালকা কিছু খেলে
রক্তে শর্করার মাত্রা স্থির থাকে। বাদাম, ফল বা দই-এই ধরনের হালকা নাশতা বেছে নিন
এই সময়গুলোতে। পেট বেশিক্ষণ খালি রাখলে পরের বেলায় বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা
তৈরি হয়।
আরো পড়ুনঃ বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন
প্রতিদিনের খাবারে সবজি আর ফলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন ধীরে ধীরে। পাতে রঙিন সবজি
যত বেশি থাকবে, শরীর তত বেশি পুষ্টি উপাদান পাবে। ভাত বা রুটির পরিমাণ একটু
কমিয়ে সেই জায়গায় সবজি বাড়িয়ে দিলে হজমও ভালো হয়। ব্যাপারটা কঠিন কিছু না,
শুধু প্লেটের অনুপাতটা একটু বদলে ফেলুন। তেল-চর্বিযুক্ত আর অতিরিক্ত চিনিযুক্ত
খাবার একদম বাদ দেওয়ার দরকার নেই, তবে পরিমাণে লাগাম টানুন। মাঝেমধ্যে মিষ্টি বা
ভাজাপোড়া খেলে সমস্যা নেই, কিন্তু সেটা যেন প্রতিদিনের অভ্যাস না হয়ে যায়।
শরীর নিজেই বুঝিয়ে দেয় কখন বেশি হয়ে যাচ্ছে, শুধু সেই ইশারাটা খেয়াল করুন।
রাতে ঘুমানোর আগে বেশি পানি খাওয়ার অভ্যাসটা একটু নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
ঘুমের মাঝে বারবার ওঠার ঝামেলা এড়াতে সন্ধ্যার পর পানি খাওয়ার পরিমাণ একটু
কমিয়ে দিন। তবে দিনের বাকি সময়টায় পানি খাওয়ায় কোনো কার্পণ্য করবেন না। পানি
আর খাবার-এই দুটো জিনিস ঠিক রাখলেই শরীরের অর্ধেক যত্ন হয়ে যায় এমনিতেই। জটিল
কোনো ডায়েট প্ল্যান লাগে না এর জন্য, শুধু নিয়মিত হওয়াটাই আসল কথা। আপনি যদি
এই ছোট অভ্যাসগুলো ধরে রাখতে পারেন, শরীর নিজেই আপনাকে বলে দেবে পার্থক্যটা কতটা।
চেয়ারে বসে কাজ করলেও কীভাবে সক্রিয় থাকবেন
সারাদিন ডেস্কে বসে কাজ করতে করতে শরীরটা যেন জমে যায় ধীরে ধীরে। অথচ একটু
চেষ্টা করলেই এই বসে থাকা জীবনের মধ্যেও সক্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব। শুধু কিছু ছোট
অভ্যাস রপ্ত করে নিতে হবে আপনাকে। প্রথমেই খেয়াল রাখুন বসার ভঙ্গিটার দিকে।
মেরুদণ্ড সোজা রেখে বসুন, ঘাড় সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রাখবেন না বেশিক্ষণ। ভুল
ভঙ্গিতে বসলে কোমর আর ঘাড়ের ব্যথা পিছু ছাড়ে না সহজে। চেয়ারের উচ্চতা এমনভাবে
ঠিক করুন যেন পা মাটিতে সমান্তরালে থাকে। প্রতি চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট পরপর একবার
উঠে দাঁড়ানোর নিয়ম করে নিন। মোবাইলে একটা রিমাইন্ডার সেট করে রাখলে ভুলে
যাওয়ার সমস্যাটা থাকবে না।
উঠে কয়েক পা হাঁটুন, হাত-পা একটু ঝাঁকিয়ে নিন। এই ছোট্ট বিরতিটুকুই শরীরের
জড়তা কাটিয়ে দেয় অনেকখানি। বসে থাকা অবস্থাতেই কিছু সহজ ব্যায়াম করা যায়
অনায়াসে। পায়ের পাতা ঘোরানো, কাঁধ ওপরে-নিচে করা, ঘাড় ডানে-বামে ঘোরানো-এই ছোট
ছোট নড়াচড়াগুলো রক্ত চলাচল সচল রাখে। কাজের ফাঁকে এক-দুই মিনিট সময় বের করে
নিলেই যথেষ্ট। ফোনে কথা বলার সময়টা কাজে লাগাতে পারেন দারুণভাবে। বসে না থেকে
হাঁটতে হাঁটতে কথা বলুন, সুযোগ থাকলে। এতে যেমন কথাও বলা হলো, শরীরটাও একটু
নড়াচড়া পেল। ছোট ছোট এই মুহূর্তগুলো জমতে জমতেই দিনশেষে বড় পার্থক্য তৈরি করে।
দুপুরের খাবারের বিরতিটা শুধু খাওয়ার জন্য না রেখে একটু হাঁটার জন্যও ব্যবহার
করুন।
খাওয়ার পর অফিসের আশেপাশে পাঁচ-দশ মিনিট হেঁটে আসুন। এতে হজম ভালো হয়, আর
বিকেলের কাজেও মনোযোগ ফিরে আসে দ্রুত। সিঁড়ি ব্যবহারের অভ্যাসটা ফিরিয়ে আনুন
জীবনে। লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করলে দিনের মধ্যেই একটা ভালো ব্যায়াম
হয়ে যায় বিনা পরিশ্রমে। প্রথমে একটু কষ্ট লাগবে, কিন্তু কিছুদিন পরই এটা
অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। ডেস্কে বসে কাজ করা মানেই নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করতে হবে
এমন কোনো কথা নেই। ছোট ছোট নড়াচড়া আর সচেতনতাই আপনাকে সুস্থ আর সতেজ রাখতে পারে
সারাদিন। আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো একটু একটু করে শুরু করুন, দেখবেন শরীর নিজেই
আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখার কার্যকর অভ্যাস
দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শক্তি ধরে রাখার কার্যকর অভ্যাস অনেকের কাছেই একটা
চ্যালেঞ্জ মনে হয়। দুপুরের খাবারের পর একটা ঝিমুনি ভাব চলে আসে প্রায় সবার
মধ্যেই। কিছু ছোট অভ্যাস মেনে চললেই দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে
কাটানোর রুটিন গাইডের এই কঠিন সময়টাও সহজে পার করা যায়। দুপুরের খাবারে বেশি
ভারী কিছু না খাওয়াই ভালো। ভাত-তরকারি একটু কম পরিমাণে খেয়ে সবজি বেশি রাখুন
পাতে। ভারী খাবার খেলে শরীর হজমে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, আর তখনই ঘুম ঘুম ভাবটা চলে
আসে বেশি। খাওয়ার পরপরই বসে না থেকে একটু হাঁটাহাঁটি করুন। পাঁচ-দশ মিনিট
হাঁটলেই শরীরে রক্ত চলাচল বেড়ে যায়, ঘুমঘুম ভাবটাও কমে আসে।
এই ছোট্ট অভ্যাসটা বিকেলের কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে দারুণ কাজে দেয়। বিকেলের দিকে
চা-কফির বদলে একটু ফল বা বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন। চিনিযুক্ত খাবার সাময়িক
এনার্জি দিলেও একটু পরেই আবার ক্লান্তি ফিরে আসে দ্বিগুণ হয়ে। ফল বা বাদাম এই
ঝুঁকিটা এড়িয়ে দীর্ঘ সময় এনার্জি ধরে রাখে। কাজের ফাঁকে পানি খাওয়ার কথাটা
ভুলে যাবেন না একদমই। ডিহাইড্রেশন হলে ক্লান্তি আর মাথাব্যথা দুটোই বেড়ে যায়
অনেকটা। ডেস্কে বোতল রেখে মাঝে মাঝে চুমুক দিলে এই সমস্যাটা এড়ানো যায় সহজেই।
বিকেল গড়ানোর আগে দুই-তিন মিনিটের একটা ছোট বিরতি নিন নিজের জন্য। চোখ বন্ধ করে
বসে থাকুন, গভীর শ্বাস নিন কয়েকবার।
এই ছোট্ট বিশ্রামটুকু মনকে চাঙা করে দেয়, বাকি কাজগুলোতেও গতি ফিরিয়ে আনে।
সন্ধ্যার দিকে শরীর একটু ক্লান্ত লাগলেও পুরোপুরি বসে না থেকে হালকা কিছু
নড়াচড়া করুন। কাজ শেষে কিছুক্ষণ হাঁটতে বের হন, বা বাসায় হালকা স্ট্রেচিং করে
নিন। এতে সারাদিনের জমে থাকা ক্লান্তি অনেকটাই কমে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যার এই
সময়টা সবচেয়ে বেশি ক্লান্তি নিয়ে আসে, কিন্তু সঠিক অভ্যাসে সেটা সামলানো একদম
কঠিন কিছু না। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো নিয়মিত করতে পারলে সন্ধ্যার পরও কাজ করার
এনার্জি ধরে রাখতে পারবেন আপনি।
রাতের খাবার, বিশ্রাম ও ঘুমের সঠিক রুটিন
রাতের খাবার, বিশ্রাম ও ঘুমের সঠিক রুটিন মেনে চলাটা দিনের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ।
সারাদিন কাজের চাপে আমরা রাতের এই সময়টাকে গুরুত্বই দিই না ঠিকমতো। অথচ দিনের
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবে কাটানোর রুটিন গাইডের সবচেয়ে জরুরি অংশটাই
লুকিয়ে আছে এই রাতের অভ্যাসগুলোর মধ্যে। রাতের খাবারটা যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি
সেরে ফেলার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করলে হজম
প্রক্রিয়াটা ঠিকঠাক শেষ হয়ে যায়। খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে পড়লে গ্যাস্ট্রিক
আর বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা লেগেই থাকে। খাবারের পরিমাণ আর ধরনের দিকেও একটু নজর
দিন। রাতে ভারী মসলাদার খাবার এড়িয়ে হালকা কিছু খান, যা সহজে হজম হয়ে
যায়।
আরো পড়ুনঃ ঘুমের সমস্যা সমাধানের লাইফস্টাইল হ্যাকস
ভাতের বদলে রুটি বা হালকা সবজি-স্যুপ জাতীয় খাবার বেছে নিতে পারেন কেউ কেউ। পেট
বেশি ভরিয়ে ফেললে ঘুমের মানটাই খারাপ হয়ে যায়। রাতের খাবারের পর একটু
হাঁটাহাঁটি করার অভ্যাসটা রাখুন। দশ-পনেরো মিনিট হাঁটলে হজম ভালো হয়, শরীরও একটু
হালকা লাগে। এই ছোট্ট অভ্যাসটাই রাতের ঘুমকে অনেকটা গভীর করে তোলে। ঘুমাতে
যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের নীল আলো
মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে, ঘুম আসতে দেরি করিয়ে দেয় অনেকটা। এই সময়টায় বই পড়া
বা হালকা গান শোনার মতো অভ্যাস গড়ে তুলুন বরং। ঘরের পরিবেশটাও ঘুমের মানে বড়
ভূমিকা রাখে। আলো কমিয়ে, ঘরটা একটু ঠান্ডা রেখে ঘুমাতে যান।
বিছানা আর বালিশ আরামদায়ক কিনা সেটাও একবার দেখে নিন, ছোট এই জিনিসগুলোই ঘুমের
গভীরতা ঠিক করে দেয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর একই সময়ে ওঠার
অভ্যাসটা তৈরি করুন। শরীরের নিজস্ব একটা ঘড়ি আছে, সেটা নিয়ম মেনে চললেই
ভালোভাবে কাজ করে। সপ্তাহান্তেও এই সময়টা খুব বেশি এদিক-সেদিক না করাই ভালো।
রাতের এই কয়েক ঘণ্টার যত্নই ঠিক করে দেয় পরদিন আপনি কেমন অনুভব করবেন। খাওয়া,
বিশ্রাম আর ঘুম-এই তিনটে জিনিস ঠিকঠাক মেনে চললে শরীর নিজেই আপনাকে সুস্থ রাখার
পথ দেখিয়ে দেবে।
যে ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে
যে ছোট ছোট অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে, সেগুলো আসলে একদিনে
চোখে পড়ে না। বড় কোনো পরিবর্তন হুট করে দেখা যায় না শরীরে। কিন্তু বছরের পর
বছর ধরে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই জমতে জমতে বড় একটা পার্থক্য তৈরি করে দেয়।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া আর ওঠার অভ্যাসটা প্রথমেই মনে রাখুন। শরীরের
ভেতরের ঘড়িটা নিয়ম মেনে চললে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে দীর্ঘদিন। এলোমেলো
ঘুমের রুটিন ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা
শরীরচর্চার জন্য বের করুন। জিমে যাওয়ার দরকার নেই, হাঁটাহাঁটি বা হালকা
ব্যায়ামই যথেষ্ট নিয়মিত করলে।
এই অভ্যাসটা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে, হাড়-মাংসপেশিও মজবুত থাকে বয়স বাড়ার সাথে
সাথে। খাবারের প্লেটে ভারসাম্য রাখার অভ্যাসটা গড়ে তুলুন ধীরে ধীরে। শাকসবজি,
ফল, প্রোটিন-সবকিছু একসাথে রাখার চেষ্টা করুন প্রতিদিনের খাবারে। একবেলা এলোমেলো
হলে সমস্যা নেই, কিন্তু সামগ্রিক প্যাটার্নটা ঠিক রাখাই আসল কথা। মানসিক চাপ
সামলানোর একটা নিজস্ব পদ্ধতি তৈরি করে নিন নিজের জন্য। কারো জন্য এটা মেডিটেশন,
কারো জন্য গান শোনা বা বই পড়া। যেটাই হোক, প্রতিদিন কিছুটা সময় মনকে শান্ত করার
জন্য আলাদা রাখুন। কাছের মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখার অভ্যাসটাও অবহেলা করবেন
না।
পরিবার, বন্ধু-এদের সাথে সময় কাটানো শুধু মনের জন্যই না, শারীরিক সুস্থতার জন্যও
দরকারি। একাকীত্ব ধীরে ধীরে শরীর আর মন দুটোতেই প্রভাব ফেলে। নিয়মিত স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করানোর অভ্যাসটা গড়ে তুলুন, শরীরে কোনো সমস্যা না থাকলেও। বছরে অন্তত
একবার সাধারণ চেকআপ করালে বড় কোনো সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়ে যায়। প্রতিরোধ
সবসময় চিকিৎসার চেয়ে সহজ আর কম কষ্টের। সুস্থ থাকাটা কোনো একদিনের সিদ্ধান্ত
না, এটা একটা চলমান যাত্রা। প্রতিদিন এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ধরে রাখতে পারলে, বছর
ঘুরতে ঘুরতে দেখবেন-শরীর আর মন দুটোই আপনাকে সঙ্গ দিচ্ছে অনেক বেশি শক্তি নিয়ে।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
লেখাটা এখানে শেষ করছি, কিন্তু আসল কাজটা এখনো শুরুই হয়নি আপনার জন্য। এতক্ষণ যা
যা পড়লেন, সেগুলো কাগজে-কলমেই থেকে যাবে যদি না বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করেন। জানা
আর মানার মধ্যে একটা বিশাল ফারাক আছে, সেটা আমরা সবাই জানি অথচ মানি না। সব
অভ্যাস একসাথে বদলাতে যাবেন না, এটাই সবচেয়ে বড় ভুল হয় বেশিরভাগ মানুষের।
একটা-দুটো অভ্যাস দিয়ে শুরু করুন, সেটা রপ্ত হয়ে গেলে পরেরটায় হাত দিন।
তাড়াহুড়ো করে সব বদলাতে গেলে কয়েকদিনেই হাল ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।
কোনো একদিন রুটিন থেকে সরে গেলে নিজেকে দোষারোপ করবেন না একদম। জীবন তো আর সোজা
রাস্তা না, এখানে উনিশ-বিশ হবেই মাঝে মাঝে। পরের দিন আবার শুরু করলেই হলো, এটাই
আসল কথা। শরীরের কথা মন দিয়ে শুনতে শিখুন, এটাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। ক্লান্তি,
খিদে, ঘুম-এই সংকেতগুলো উপেক্ষা না করে সাড়া দিন। আপনার শরীর নিজেই আপনাকে বলে
দেয় কী দরকার, শুধু শুনতে জানতে হয়।
সুস্থতা কোনো গন্তব্য না, এটা একটা অভ্যাস। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তই ঠিক
করে দেয় আপনি আগামী দশ বছর পর কেমন থাকবেন। আজকের এই যত্নটুকুই আসলে ভবিষ্যতের
জন্য একটা বিনিয়োগ। লেখাটা পড়ে যদি একটা অভ্যাসও বদলাতে ইচ্ছে করে আপনার,
তাহলেই আমার লেখাটা সার্থক। ধন্যবাদ এতক্ষণ সময় দিয়ে পুরো লেখাটা পড়ার জন্য।
সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন-এই কামনাই রইল।



ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url