শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে

শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে-অনেকেই শুরুতে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে থাকেন। আসলে বিও অ্যাকাউন্ট ছাড়া শেয়ার কেনাবেচার যাত্রা শুরু করা যায় না, তাই আগে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি। নতুনদের জন্য সাধারণ ভুল এড়ানোর পরামর্শ।
শেয়ার-বাজারের-বিও-একাউন্ট-কি-এবং-খুলতে-কি-কি-লাগে
কোন কোন কাগজপত্র লাগবে, কত খরচ হতে পারে, কোথায় আবেদন করবেন এবং পুরো প্রক্রিয়া কতটা সহজ-সবই ধাপে ধাপে জানতে পারবেন। অল্প সময়ে পরিষ্কার ধারণা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেয়ার বাজারে প্রথম পদক্ষেপ রাখতে চাইলে এই লেখাটি আপনার জন্যই। শেষ পর্যন্ত পড়ুন, ভুল সিদ্ধান্ত এড়ান।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে

শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে

শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে, এই প্রশ্নটা প্রথমবার শেয়ার বাজারে পা রাখতে চাওয়া প্রায় সবার মাথায় ঘোরে। আপনি হয়তো বন্ধুবান্ধবের মুখে শুনেছেন শেয়ার বাজারে টাকা লাগালে ভালো লাভ হয়, আর তখনই মনে প্রশ্ন জাগে-শুরুটা করব কীভাবে? আসল কথা হলো, শেয়ার বাজারে ঢোকার প্রথম দরজাই হচ্ছে বিও একাউন্ট। এটা ছাড়া আপনি এক শেয়ারও কিনতে পারবেন না, বিক্রিও করতে পারবেন না। তাই বিষয়টা ঠিকমতো বুঝে নেওয়া জরুরি।

বিও একাউন্ট আসলে কীঃ বিও মানে "বেনিফিশিয়ারি ওনার" একাউন্ট। সহজ বাংলায় বললে, এটা এক ধরনের ডিজিটাল লকার। আপনি যে শেয়ার কিনবেন, সেগুলো কাগজে-কলমে না রেখে এই একাউন্টেই জমা থাকে। আগেকার দিনে শেয়ার সার্টিফিকেট কাগজে হাতে হাতে রাখতে হতো। হারিয়ে যাওয়ার ভয়, নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়-সব ছিল। বিও একাউন্ট এসে সেই ঝামেলাটাই মিটিয়ে দিয়েছে। এখন সবকিছু কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএলের মাধ্যমে ইলেকট্রনিকভাবে জমা থাকে।

বিও একাউন্ট খুলতে যা যা লাগবেঃ  নিচে ধাপে ধাপে বলে দিচ্ছি, কী কী কাগজপত্র হাতের কাছে রাখলে কাজটা ঝামেলাবিহীন হবেঃ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের কপি
  • দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ব্যাংক একাউন্টের তথ্য (একটা সচল ব্যাংক একাউন্ট থাকতেই হবে)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা চেকের পাতার কপি
  • টিআইএন সার্টিফিকেট (থাকলে, বিশেষ করে বড় বিনিয়োগের জন্য)
  • নমিনির তথ্য ও নমিনির ছবি
  • একটি সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা
এই তালিকাটা দেখে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। বেশিরভাগ কাগজ আপনার হাতেই থাকে, শুধু গুছিয়ে রাখলেই চলে।

কীভাবে একাউন্ট খুলবেনঃ প্রথমে আপনাকে বেছে নিতে হবে কোন ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে একাউন্ট খুলবেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদিত তালিকা থেকে যে কোনো একটা বেছে নিতে পারেন। ব্রোকারেজ হাউজে গিয়ে বা তাদের অ্যাপ থেকেই এখন আবেদন করা যায়। ফর্ম পূরণ করে সব কাগজপত্র জমা দিলেই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। সাধারণত দুই থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে একাউন্ট চালু হয়ে যায়। একাউন্ট খোলার সময় সামান্য একটা ফি দিতে হয়, যেটা প্রতি বছর নবায়নের সময়ও লাগে। অঙ্কটা খুব বেশি না, তাই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মানেই ঝুঁকি থাকবে, এটা সত্যি। কিন্তু সেই ঝুঁকি নেওয়ার আগে প্রথম ধাপটা-মানে বিও একাউন্ট খোলা-একদম সহজ আর নিরাপদ একটা কাজ। কাগজপত্র গুছিয়ে একটা বিশ্বস্ত ব্রোকারেজ হাউজ বেছে নিলেই আপনি প্রস্তুত। আপনার হাতে একবার বিও একাউন্ট থাকা মানে বাজারের দরজাটা খোলা থাকা। এরপর কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, কতটুকু ঝুঁকি নেবেন-সেই সিদ্ধান্তগুলো আসবে ধীরে ধীরে, অভিজ্ঞতার সাথে সাথে।

বিও (BO) একাউন্ট কী এবং এটি কেন প্রয়োজন


বিও মানে "বেনিফিশিয়ারি ওনার" একাউন্ট। নামটা শুনতে একটু কঠিন লাগলেও কাজটা আসলে খুব সহজ। আপনি একে একটা ডিজিটাল লকার হিসেবে ভাবতে পারেন, যেখানে আপনার কেনা প্রতিটা শেয়ার নিরাপদে জমা থাকে। কাগজের ঝক্কি নেই, শুধু আপনার নামে একটা একাউন্টে সব হিসাব রক্ষিত থাকে। একটু পেছনে ফিরে তাকান তো। আগেকার দিনে মানুষ শেয়ার সার্টিফিকেট কাগজে রাখত, একদম ব্যাংকের এফডিআর রশিদের মতো। সেই কাগজ হারিয়ে গেলে, পুড়ে গেলে বা ইঁদুরে কেটে ফেললে পুরো বিনিয়োগটাই ঝুঁকিতে পড়ে যেত। ভাবুন তো, জীবনের সঞ্চয় একটা কাগজের টুকরোর উপর নির্ভর করছে-কতটা অনিশ্চিত ছিল ব্যাপারটা।
এই সমস্যা সমাধানের জন্যই কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড বা সিডিবিএল এসেছে বিও একাউন্ট ব্যবস্থা নিয়ে। এখন আপনার শেয়ার আর কাগজে নেই, বরং ইলেকট্রনিকভাবে একটা কেন্দ্রীয় সিস্টেমে জমা থাকে। আপনি চাইলেই যে কোনো সময় নিজের অ্যাপ বা পোর্টাল থেকে দেখে নিতে পারেন ঠিক কতটুকু শেয়ার আপনার নামে আছে। আপনি হয়তো ভাবছেন, এই একাউন্টটা কেন এত জরুরি? উত্তরটা সোজা-শেয়ার বাজারে কোনো লেনদেনই বিও একাউন্ট ছাড়া সম্ভব না। শেয়ার কিনতে চান? বিও একাউন্ট লাগবে। বিক্রি করতে চান? তাও বিও একাউন্ট দিয়েই হবে। এমনকি কোম্পানির লভ্যাংশ বা বোনাস শেয়ারও এই একাউন্টের মাধ্যমেই আপনার কাছে পৌঁছায়।

নিরাপত্তার দিক থেকেও এই একাউন্ট আপনাকে অনেকটা স্বস্তি দেয়। প্রতিটা লেনদেনের একটা স্বচ্ছ রেকর্ড থাকে, জালিয়াতির সুযোগ কমে যায় অনেকটাই। তাই বলা যায়, বিও একাউন্ট শুধু একটা নিয়মরক্ষার বিষয় না, বরং আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখার প্রথম ঢাল। আপনার হাতে একবার বিও একাউন্ট থাকা মানে বাজারের দরজাটা খোলা থাকা। এরপর কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, কতটুকু ঝুঁকি নেবেন-সেই সিদ্ধান্তগুলো আসবে ধীরে ধীরে, অভিজ্ঞতার সাথে সাথে।

বিও একাউন্ট খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগে

বিও একাউন্ট খোলার কথা শুনলেই অনেকে ভাবেন, এই বুঝি কাগজপত্রের পাহাড় জমাতে হবে। আসলে ব্যাপারটা মোটেও তেমন কঠিন না। আপনার হাতের কাছে থাকা কয়েকটা সাধারণ কাগজ দিয়েই কাজটা হয়ে যায়। সবার আগে লাগবে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডের একটা কপি, সাথে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। এগুলো ছাড়া আবেদনই শুরু করা যায় না, তাই এটা প্রথমে গুছিয়ে রাখুন। এরপর দরকার একটা সচল ব্যাংক একাউন্ট আর তার তথ্য, সাথে ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা চেকের পাতার কপি। শেয়ার কেনাবেচার টাকা এই একাউন্টের মাধ্যমেই আসা-যাওয়া করবে, তাই এটা নির্ভুলভাবে দেওয়া জরুরি।
শেয়ার-বাজারের-বিও-একাউন্ট-কি-এবং-খুলতে-কি-কি-লাগে
বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চাইলে টিআইএন সার্টিফিকেটও চাইতে পারে ব্রোকারেজ হাউজ। এর পাশাপাশি নমিনির নাম, তথ্য ও ছবি জমা দিতে হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা না হয়। শেষে লাগবে আপনার একটা সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা। এই দুটো দিয়ে যাচাই প্রক্রিয়া আর ভবিষ্যতের লেনদেনের আপডেট আপনার কাছে পৌঁছাবে। এতটুকু কাগজপত্র হাতে থাকলেই আপনি একাউন্ট খোলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ মানেই ঝুঁকি থাকবে, এটা সত্যি। কিন্তু সেই ঝুঁকি নেওয়ার আগে প্রথম ধাপটা-মানে বিও একাউন্ট খোলা-একদম সহজ আর নিরাপদ একটা কাজ। কাগজপত্র গুছিয়ে একটা বিশ্বস্ত ব্রোকারেজ হাউজ বেছে নিলেই আপনি প্রস্তুত। আপনার হাতে একবার বিও একাউন্ট থাকা মানে বাজারের দরজাটা খোলা থাকা। এরপর কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করবেন, কতটুকু ঝুঁকি নেবেন-সেই সিদ্ধান্তগুলো আসবে ধীরে ধীরে, অভিজ্ঞতার সাথে সাথে।

বাংলাদেশে বিও একাউন্ট কোথায় খোলা যায়

অনেকেই ভাবেন বিও একাউন্ট খোলার জন্য বুঝি ব্যাংকে যেতে হয়, আসলে তা না। আপনাকে যেতে হবে কোনো অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-দুই জায়গার তালিকাতেই এমন অনেক প্রতিষ্ঠান পাবেন। শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে, সেটা বোঝার পর এই ধাপটাই আপনার সামনে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। ব্রোকারেজ হাউজ বাছাই করার সময় একটু সময় নিন। কমিশনের হার কেমন, গ্রাহকসেবা কতটা দ্রুত সাড়া দেয়, আর তাদের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কতটা সহজবোধ্য-এই তিনটা বিষয় যাচাই করে নিলে পরে ঝামেলায় পড়তে হয় না।

আজকাল অনেক প্রতিষ্ঠান অনলাইনেই আবেদনের সুযোগ দেয়। তাদের নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে কাগজপত্র আপলোড করলেই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। ঘরে বসেই পুরো কাজটা সেরে ফেলা যায়, অফিসে দৌড়াদৌড়ির দরকার পড়ে না। চাইলে সরাসরি অফিসে গিয়েও আবেদন করতে পারেন, বিশেষ করে প্রথমবার হলে সামনাসামনি কথা বলাটা স্বস্তিদায়ক লাগে অনেকের কাছে। যাচাই সম্পন্ন হলে সাধারণত দুই থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আপনার একাউন্ট চালু হয়ে যায়, আর সামান্য একটা ফি প্রতি বছর নবায়নের সময় দিতে হয়।

বিও একাউন্ট খোলার ধাপে ধাপে সহজ নিয়ম

প্রথম ধাপে আপনাকে একটা ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংক বেছে নিতে হবে। এরপর তাদের কাছ থেকে আবেদন ফর্মটা সংগ্রহ করুন, অনলাইনে বা সরাসরি অফিসে গিয়ে-দুইভাবেই সুযোগ আছে। শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে, সেটা আগেই জেনে নিলে এই ধাপে সময় কম লাগবে। দ্বিতীয় ধাপে ফর্মের প্রতিটা ঘর সঠিকভাবে পূরণ করুন। নাম, ঠিকানা, ব্যাংকের তথ্য-সব জায়গায় ভুল এড়িয়ে চলুন, কারণ ছোট একটা ভুলও পরে প্রক্রিয়া আটকে দিতে পারে। তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দিন।
এনআইডি, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, নমিনির তথ্য-সবকিছু একসাথে গুছিয়ে দিলে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয়। চতুর্থ ধাপে ব্রোকারেজ হাউজ আপনার কাগজপত্র যাচাই করবে। এতে সাধারণত দুই থেকে তিন কর্মদিবস সময় লাগে, ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। শেষ ধাপে একাউন্ট সক্রিয় হয়ে গেলে আপনার কাছে একটা বিও নম্বর আসবে, আর সেই মুহূর্ত থেকেই আপনি শেয়ার কেনাবেচার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

বিও একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে

খরচের কথা শুনলেই মনে প্রশ্ন আসে, তাই না? স্বস্তির খবর হলো, বিও একাউন্ট খোলার খরচটা খুব বেশি না। সাধারণত ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যেই একাউন্ট খোলার কাজটা সেরে ফেলতে পারবেন, ব্রোকারেজ হাউজভেদে এই অঙ্কটা একটু কমবেশি হতে পারে। শুধু একবার খুললেই কিন্তু কাজ শেষ না। প্রতি বছর একাউন্ট নবায়নের জন্যও একটা ফি দিতে হয়, যেটা সাধারণত ৪৫০ টাকার আশেপাশে থাকে। এই ফিটা না দিলে একাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে, তাই ভুলে গেলে চলবে না।
শেয়ার-বাজারের-বিও-একাউন্ট-কি-এবং-খুলতে-কি-কি-লাগে
যৌথ একাউন্ট বা কোম্পানির নামে একাউন্ট খুললে খরচটা কিছুটা বেশি হয়। তাই আবেদনের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজের কাছ থেকে সঠিক ফির তালিকাটা জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। মোট কথা, এই খরচ নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই। কয়েকশ টাকার এই বিনিয়োগ আপনাকে সারাজীবনের জন্য শেয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, যেটার তুলনায় খরচটা আসলেই নগণ্য।

বিও একাউন্ট খোলার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে অনেকেই ছোটখাটো ভুল করে বসেন, যেগুলো পরে বড় ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে, সেটা জানার পাশাপাশি এই ভুলগুলো এড়ানোটাও ঠিক ততটাই জরুরি। সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো ফর্মে নাম বা ঠিকানার বানান ভুল করা। এনআইডি কার্ডের সাথে হুবহু মিল না রাখলে যাচাই প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে, তাই প্রতিটা অক্ষর মিলিয়ে দেখুন। নমিনির তথ্য দিতে অনেকে গুরুত্ব দেন না, অথচ এটা ভবিষ্যতের জন্য খুব জরুরি একটা বিষয়। নমিনির সঠিক তথ্য না দিলে পরবর্তীতে উত্তরাধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

একের অধিক ব্রোকারেজ হাউজে একসাথে আবেদন করাও একটা সাধারণ ভুল। এতে যাচাই প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তাই একটা প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েই এগোন। শেষে বলি, ব্যাংক একাউন্টের তথ্য ভুল দিলে টাকা লেনদেনে সমস্যা হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটা তথ্য একবার নিজে চোখ বুলিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন।

অনলাইনে বিও একাউন্ট খোলা যায় কি না

হ্যাঁ, একদম যায়। আজকাল অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দিন প্রায় শেষ। বেশিরভাগ ব্রোকারেজ হাউজই এখন তাদের নিজস্ব অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা রেখেছে। প্রক্রিয়াটাও বেশ সহজ। আপনি শুধু অ্যাপে গিয়ে ফর্ম পূরণ করবেন, তারপর এনআইডি, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্টের মতো কাগজপত্র স্ক্যান করে বা ছবি তুলে আপলোড করে দিলেই আবেদন জমা হয়ে যায়।
কিছু প্রতিষ্ঠান আবার ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করে, একে বলে ই-কেওয়াইসি পদ্ধতি। এতে ঘরে বসেই আপনার সম্পূর্ণ যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়, ব্যাংকে বা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজনই পড়ে না। তবে একটা কথা মাথায় রাখুন, ইন্টারনেট সংযোগ ভালো থাকা আর কাগজপত্রের স্পষ্ট ছবি তোলাটা জরুরি। এই দুটো ঠিকঠাক থাকলে ঘরে বসেই কয়েক দিনের মধ্যে আপনার বিও একাউন্ট চালু হয়ে যাবে।

বিও একাউন্ট খুললে কী কী সুবিধা পাওয়া যায়

শেয়ার বাজারের বিও একাউন্ট কি এবং খুলতে কি কি লাগে, শুধু এটুকু জানলেই তো চলবে না-এই একাউন্ট আপনাকে ঠিক কী দেয়, সেটাও জেনে রাখা দরকার। প্রথম আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিরাপত্তা। শেয়ার এখন আর কাগজে না থেকে ইলেকট্রনিকভাবে জমা থাকে, তাই হারানো বা নষ্ট হওয়ার ভয় একদমই নেই। দ্বিতীয় সুবিধা হলো সহজে লেনদেনের সুযোগ। ঘরে বসে অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেই শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন, ব্যাংকের মতো লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই।
শেয়ার-বাজারের-বিও-একাউন্ট-কি-এবং-খুলতে-কি-কি-লাগে
তৃতীয়ত, আপনার সব বিনিয়োগের হিসাব এক জায়গায় স্বচ্ছভাবে দেখতে পারবেন। কোন কোম্পানির কতটা শেয়ার আপনার কাছে আছে, লাভ-ক্ষতি কেমন হচ্ছে-সবকিছু নিমিষেই চোখের সামনে চলে আসে। এর পাশাপাশি লভ্যাংশ ও বোনাস শেয়ার সরাসরি আপনার একাউন্টে জমা হয়ে যায়, আলাদা করে সংগ্রহ করতে হয় না। আর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, একবার একাউন্ট খুললে আপনি দেশের যে কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতেই বিনিয়োগের দরজা খুলে ফেলেন।

বিও একাউন্ট খোলার আগে জরুরি পরামর্শ

আবেদন করার আগে একটু থামুন, তাড়াহুড়ো করবেন না। ব্রোকারেজ হাউজটা ভালোভাবে যাচাই করে নিন-তাদের লাইসেন্স আছে কিনা, বাজারে সুনাম কেমন, এসব একটু ঘেঁটে দেখুন। কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে নিজের এনআইডি কার্ডের সাথে সব তথ্য মিলিয়ে নিন। 

ছোট একটা বানান ভুলও পুরো প্রক্রিয়াটা পিছিয়ে দিতে পারে, তাই এই ধাপে সময় নিন। নমিনি বাছাইয়ের বিষয়টা হালকাভাবে নেবেন না। আপনার বিশ্বস্ত কাউকে বেছে নিন এবং তার তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিন, কারণ এটা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটা সিদ্ধান্ত।

সবশেষে বলি, একাউন্ট চালু হওয়ার পর নিয়মিত আপনার পোর্টফোলিও দেখুন। শুধু একাউন্ট খুললেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বাজারের খোঁজখবর রাখাটাও সমান জরুরি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।