বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড
বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড খুঁজছেন? চেইন ঢিলা হলে
শব্দ, কম্পন আর পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার মতো ঝামেলা দেখা দিতে পারে, কিন্তু
সমাধানটা অনেক সময় ভাবার চেয়েও সহজ। ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
কোন টুল লাগবে, কতটা টাইট করবেন, আর কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন-সবই সহজ ভাষায় তুলে
ধরা হয়েছে। অল্প কয়েক মিনিট সময় দিলেই নিজের বাইকের চেইন ঠিক করে অযথা গ্যারেজে
যাওয়ার ঝামেলা কমাতে পারবেন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড
- বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড
- বাইকের চেইন কেন রিলাক্স হয়ে যায়?
- চেইন রিলাক্স হলে কী কী সমস্যা দেখা দেয়?
- কখন বুঝবেন বাইকের চেইন টাইট করা দরকার?
- চেইন টাইট করার আগে যেসব জিনিস প্রস্তুত রাখবেন
- ধাপে ধাপে বাইকের চেইন টাইট করার সহজ নিয়ম
- চেইন টাইট করার সময় যে ভুলগুলো একদম করবেন না
- চেইন কতটা টাইট বা ঢিলা রাখা উচিত?
- চেইনের আয়ু বাড়াতে নিয়মিত কী ধরনের যত্ন নেবেন?
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড
বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড-এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিটা
বাইকারের মনেই একবার না একবার আসে। রাস্তায় হঠাৎ চেইন থেকে "ঠক ঠক" শব্দ শুনে
অনেকেই ঘাবড়ে যান। আসলে ব্যাপারটা তেমন কঠিন কিছু না, একটু বুঝে নিলেই আপনি
নিজেই বাড়িতে বসে এই কাজটা করতে পারবেন। চেইন রিলাক্স হয়ে যাওয়া মানে কী? সহজ
কথায়, চেইনের টানটান ভাব কমে গিয়ে ঢিলে হয়ে যাওয়া। এটা হয় সাধারণত দীর্ঘদিন
ব্যবহারের ফলে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বা রাস্তার ধুলাবালি জমে। ঢিলে চেইন
নিয়ে চালালে বাইকের ইঞ্জিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে আর মাইলেজও কমে যায়।
কীভাবে বুঝবেন চেইন ঢিলে হয়ে গেছে? প্রথমেই খেয়াল করুন চেইন থেকে অস্বাভাবিক
শব্দ আসছে কিনা। বাইক চালানোর সময় যদি হালকা ঝাঁকুনি বা টান অনুভব করেন, সেটাও
একটা লক্ষণ। এছাড়া চেইনে হাত দিয়ে টেনে দেখুন, যদি এক ইঞ্চির বেশি নড়াচড়া করে
তাহলে বুঝবেন সময় হয়ে গেছে। এবার আসল কাজের কথায় আসি। প্রথমে বাইকটাকে সেন্টার
স্ট্যান্ডে তুলে নিন, যাতে পেছনের চাকা মাটি থেকে ফাঁকা থাকে। এরপর রেঞ্চ দিয়ে
পেছনের এক্সেল নাটটা হালকা করে ঢিলে করুন। খুব বেশি ঢিলে করার দরকার নেই, শুধু
নাড়ানোর মতো ফাঁকা রাখুন। চেইনের দুই পাশে চেইন অ্যাডজাস্টার বোল্ট থাকে, সেগুলো
ঘুরিয়ে আপনাকে চেইন টানটান করতে হবে।
দুই পাশের বোল্ট সমান পরিমাণে ঘোরানো জরুরি, নাহলে চাকা বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
প্রতিটা বোল্ট ঘোরানোর পর মাপ নিয়ে দেখুন, চেইনের স্ল্যাক ঠিক আধা ইঞ্চি থেকে এক
ইঞ্চির মধ্যে থাকা উচিত। চাকার দুই পাশে সাধারণত মার্কার বা স্কেল দেওয়া থাকে,
সেটা দেখে নিশ্চিত করুন চাকাটা সোজা আছে কিনা। এই ধাপটা অনেকেই বাদ দিয়ে দেন, আর
তারপর দেখা যায় বাইক একদিকে টেনে যাচ্ছে। একটু ধৈর্য ধরে দুই পাশ মিলিয়ে নিলে
এই সমস্যা এড়ানো যায়। সব ঠিকঠাক মনে হলে এক্সেল নাটটা আবার শক্ত করে বেঁধে দিন।
এরপর চাকাটা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন মসৃণভাবে ঘুরছে কিনা, কোথাও আটকাচ্ছে কিনা।
শেষে চেইনে একটু লুব্রিকেন্ট স্প্রে করে দিলে চেইন আরও মসৃণ হয়ে যাবে এবং
দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। অনেকে ভাবেন এই কাজটা মেকানিকের কাছে নিয়ে গেলেই ভালো, আর
সেটাও ভুল না। তবে জরুরি মুহূর্তে, যেমন হাইওয়েতে হঠাৎ চেইন ঢিলে হয়ে গেলে,
নিজে জানা থাকলে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। আর নিয়মিত এই কাজ নিজে করলে বাইকের
প্রতি একটা অন্যরকম বোঝাপড়াও তৈরি হয়।
চেইন কখনোই খুব বেশি টানটান করে ফেলবেন না। খুব টাইট চেইন স্প্রোকেট আর ইঞ্জিনের
উপর উল্টো চাপ ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। প্রতি সপ্তাহে একবার চেইন চেক করার
অভ্যাস গড়ে তুলুন, তাহলে বড় কোনো সমস্যা আসার আগেই আপনি সেটা ধরতে পারবেন। বাইক
ভালো রাখা আসলে বড় কোনো বিজ্ঞান না, একটু নিয়মিত যত্নই যথেষ্ট।
বাইকের চেইন কেন রিলাক্স হয়ে যায়?
বাইকের চেইন কেন রিলাক্স হয়ে যায়? এই প্রশ্নটা মাথায় আসাটাই স্বাভাবিক, কারণ
আপনি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন নতুন বাইকের চেইন যতটা টানটান থাকে, কিছুদিন পরই
সেটা কেমন যেন ঢিলে হয়ে যায়। আসলে এর পেছনে বেশ কয়েকটা কারণ কাজ করে, চলুন একে
একে দেখে নেওয়া যাক। প্রথম আর সবচেয়ে বড় কারণ হলো স্বাভাবিক ব্যবহার আর ঘর্ষণ।
আপনি যতবার বাইক চালান, চেইনের প্রতিটা লিঙ্ক একে অপরের সাথে ঘষা খায় আর ধীরে
ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। এই ক্ষয়টা চোখে দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু সময়ের সাথে
সাথে চেইনের দৈর্ঘ্য একটু একটু করে বেড়ে যায়, আর সেটাই চেইনকে ঢিলে করে দেয়।
দ্বিতীয় কারণ হলো ধুলাবালি আর ময়লা জমা। আমাদের দেশের রাস্তায় ধুলা তো কম নেই,
আর এই ধুলা চেইনের ভেতরে ঢুকে পড়ে একটা ঘষামাজার মতো কাজ করে। আপনি যদি নিয়মিত
চেইন পরিষ্কার না করেন, তাহলে এই ধুলাই চেইনের লিঙ্কগুলোকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে
ফেলে। লুব্রিকেন্টের অভাবও একটা বড় কারণ। চেইনে পর্যাপ্ত তেল বা লুব না থাকলে
ধাতুর সাথে ধাতুর ঘর্ষণ বেড়ে যায়, আর এই ঘর্ষণই চেইনকে দ্রুত ঢিলে করে দেয়।
অনেকেই মাসের পর মাস চেইনে লুব দেওয়ার কথা ভুলে যান, অথচ এই ছোট্ট কাজটাই চেইনের
আয়ু অনেকখানি বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া আপনার বাইক চালানোর ধরনও প্রভাব ফেলে।
হঠাৎ হঠাৎ জোরে ব্রেক করা, বারবার গিয়ার পরিবর্তন করা কিংবা ভারী লোড নিয়ে
চালানো, এসব কিছুই চেইনের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এই বাড়তি চাপের কারণেই
চেইন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঢিলে হয়ে পড়ে। স্প্রোকেট আর চেইনের বয়সের
অসামঞ্জস্যও একটা কারণ হতে পারে। পুরনো স্প্রোকেটের সাথে নতুন চেইন লাগালে বা তার
উল্টোটা করলে দুটোর মধ্যে ঠিকঠাক সমন্বয় হয় না।
ফলে চেইন দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে আর ঘন ঘন ঢিলে হয়ে যায়। এটা আসলে সময়ের সাথে
ঘটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আপনি যত ভালো যত্নই নিন না কেন, একটা সময় পর
চেইন ঢিলে হবেই। তবে নিয়মিত পরিষ্কার আর লুব্রিকেশন করলে এই সমস্যা অনেকটাই
কমিয়ে আনা সম্ভব, আর আপনার বাইকও থাকবে অনেক বেশি নিরাপদ ও মসৃণ।
চেইন রিলাক্স হলে কী কী সমস্যা দেখা দেয়?
চেইন রিলাক্স হলে কী কী সমস্যা দেখা দেয়? এই প্রশ্নটা অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে
ভাবেন না, অথচ এটা আপনার বাইক আর নিরাপত্তা দুটোর জন্যই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চলুন দেখি ঢিলে চেইন আসলে কী কী সমস্যা তৈরি করে। প্রথমেই আসে অস্বাভাবিক শব্দের
কথা। চেইন ঢিলে হয়ে গেলে চালানোর সময় "ঠক ঠক" বা "খট খট" শব্দ আসতে শুরু করে,
বিশেষ করে গর্তে বা উঁচু-নিচু রাস্তায়। এই শব্দটা শুধু বিরক্তিকরই না, এটা আসলে
একটা সতর্কবার্তা যে চেইন সময়মতো ঠিক না করলে বড় সমস্যা হতে পারে।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো পাওয়ার ট্রান্সমিশনে ঘাটতি। চেইন ঢিলে থাকলে ইঞ্জিন থেকে
চাকা পর্যন্ত শক্তি ঠিকমতো পৌঁছায় না, ফলে বাইক চালাতে গিয়ে আপনি একটা "টান" বা
"জার্ক" অনুভব করবেন। বিশেষ করে গিয়ার পরিবর্তনের সময় এই সমস্যাটা আরও স্পষ্ট
হয়ে ওঠে। চেইন খুলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিন্তু কম না। অতিরিক্ত ঢিলে চেইন
স্প্রোকেট থেকে লাফিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে, আর সেটা যদি চালানোর সময় হয় তাহলে
দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হয়। রাস্তায় হঠাৎ চেইন খুলে গেলে চাকা লক হয়ে যাওয়ার
মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
স্প্রোকেট আর চেইনের অতিরিক্ত ক্ষয়ও একটা বড় সমস্যা। ঢিলে চেইন ঠিকমতো
স্প্রোকেটের দাঁতের সাথে বসে না, ফলে দুটোই দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। এই কারণেই
বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড জানা এত জরুরি, কারণ সময়মতো
ঠিক না করলে পুরো সেট বদলাতে হতে পারে, যা আপনার পকেটের জন্য বাড়তি চাপ। মাইলেজ
কমে যাওয়াটাও অনেকে খেয়াল করেন না। ঢিলে চেইনের কারণে ইঞ্জিনকে বাড়তি শক্তি
খরচ করতে হয়, আর সেই বাড়তি খরচের প্রভাব পড়ে আপনার তেলের খরচে। মাস শেষে হিসাব
করলে দেখবেন, শুধু একটা ঢিলে চেইনের কারণে বেশ কিছু টাকা বাড়তি খরচ হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো নিরাপত্তার প্রশ্ন। ঢিলে চেইন নিয়ে জোরে বাইক চালানো মানে
নিজের সাথে সাথে রাস্তার অন্য মানুষদেরও ঝুঁকিতে ফেলা। তাই এই সমস্যাগুলো অবহেলা
না করে, লক্ষণ দেখা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কখন বুঝবেন বাইকের চেইন টাইট করা দরকার?
বাইকের চেইন টাইট করা কখুই দরকার? এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে আপনি অনেক বড়
সমস্যা আগে থেকেই এড়াতে পারবেন। আসুন দেখি কোন কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন এবার
চেইনে হাত দেওয়ার সময় এসেছে। সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা হলো হাত দিয়ে চেইন টেনে
দেখা। বাইক স্ট্যান্ডে রেখে চেইনের মাঝামাঝি অংশ ধরে উপর-নিচ করে নাড়ান, যদি
এক ইঞ্চির বেশি নড়ে তাহলে বুঝবেন চেইন ঢিলে হয়ে গেছে। এই ছোট্ট পরীক্ষাটা
আপনি প্রতি সপ্তাহে একবার করলেই যথেষ্ট। শব্দের দিকেও কান খোলা রাখুন। বাইক
চালানোর সময় যদি চেইন থেকে অস্বাভাবিক ঠক ঠক বা খট খট শব্দ আসে, বিশেষ করে
গর্তে পড়লে বা গতি বাড়ালে, তাহলে ধরে নিন চেইন এবার আপনার মনোযোগ চাইছে।
সুস্থ চেইন সাধারণত নিঃশব্দে ঘোরে। চাকার নিচের দিকে তাকিয়েও বোঝা যায়। যদি
দেখেন চেইনটা নিচের দিকে ঝুলে আছে বা স্প্রোকেটের সাথে ঠিকমতো লেগে নেই, সেটাও
একটা স্পষ্ট ইঙ্গিত। সোজা চোখে তাকালেই আপনি এই পার্থক্যটা ধরতে পারবেন, তেমন
কোনো টুলের দরকারও নেই। গিয়ার পরিবর্তনের সময় যদি হঠাৎ ঝাঁকুনি বা টান অনুভব
করেন, সেটাও উপেক্ষা করবেন না। ঢিলে চেইন পাওয়ার ঠিকমতো ট্রান্সমিট করতে পারে
না, তাই এক্সিলারেট করার সময় বাইক যেন একটু দেরিতে সাড়া দেয়। এই অনুভূতিটা
যারা নিয়মিত বাইক চালান তারা খুব সহজেই ধরতে পারবেন।
মাইলেজ কমে যাওয়াটাও একটা পরোক্ষ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। হঠাৎ করে যদি
দেখেন একই রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি তেল খরচ হচ্ছে, চেইন চেক করাটা প্রথম
কাজগুলোর একটা হওয়া উচিত। ছোট এই লক্ষণটা অনেকেই এড়িয়ে যান, অথচ এটা সমস্যা
ধরার সবচেয়ে সহজ উপায়। নিজের অনুভূতিকেও গুরুত্ব দিন। বাইক চালানোর সময় যদি
মনে হয় কিছু একটা ঠিক নেই, তাহলে সেটা যাচাই করে নেওয়াই ভালো। নিয়মিত এই ছোট
ছোট চেক-আপগুলো করলে বড় বিপদ আসার আগেই আপনি সেটা থামাতে পারবেন।
চেইন টাইট করার আগে যেসব জিনিস প্রস্তুত রাখবেন
চেইন টাইট করার আগে যেসব জিনিস প্রস্তুত রাখবেন, তা জেনে নিলে বাইকের চেইন
রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড অনুসরণ করা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে
যাবে। কাজ শুরু করার আগেই সব জিনিস হাতের কাছে গুছিয়ে রাখলে মাঝপথে দৌড়াদৌড়ি
করতে হয় না। প্রথমেই দরকার একটা ভালো মানের রেঞ্চ সেট। এক্সেল নাট আর
অ্যাডজাস্টার বোল্ট খোলার জন্য সঠিক সাইজের রেঞ্চ থাকাটা জরুরি, নাহলে নাট নষ্ট
হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার বাইকের মডেল অনুযায়ী সাইজটা আগে থেকেই জেনে
নিন।
একটা স্কেল বা মেজারিং টেপ সাথে রাখুন। চেইনের স্ল্যাক ঠিকভাবে মাপার জন্য এটা
লাগবে, কারণ শুধু চোখের আন্দাজে কাজ করলে দুই পাশে অসমান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
থাকে। ছোট্ট এই টুলটাই আপনাকে নিখুঁত ফলাফল দেবে। চেইন লুব্রিকেন্ট বা তেল হাতের
কাছে রাখতে ভুলবেন না। চেইন টাইট করার পর লুব দিলে চেইনটা মসৃণভাবে ঘুরবে আর
দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চেইন লুব পাওয়া যায়, যেকোনো
ভালো মানেরটা বেছে নিলেই চলবে।
পরিষ্কার করার জন্য একটা পুরনো কাপড় বা ব্রাশ সাথে রাখুন। চেইনে জমে থাকা
ধুলাবালি আর গ্রিজ পরিষ্কার না করে লুব দিলে সেটা কোনো কাজেই আসবে না। কাজ শুরুর
আগে এই ছোট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ধাপটা বাদ দেবেন না। হাত সুরক্ষার জন্য একজোড়া
গ্লাভস পরে নিন। চেইনে তেল-গ্রিজ লেগে থাকে, আর ধারালো এজ থেকে হাত কেটে যাওয়ার
সম্ভাবনাও থাকে। গ্লাভস পরে কাজ করলে আপনি নিশ্চিন্তে এবং পরিষ্কারভাবে পুরো
কাজটা সারতে পারবেন।
সবশেষে, বাইকটাকে একটা সমতল জায়গায় সেন্টার স্ট্যান্ডে তুলে রাখুন। অসমান
জায়গায় কাজ করলে মাপ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় আর কাজটাও অনিরাপদ হয়ে
ওঠে। এই ছোট ছোট প্রস্তুতিগুলো নিয়ে নিলে আসল কাজটা আপনি অনেক দ্রুত আর
নির্ভুলভাবে শেষ করতে পারবেন।
ধাপে ধাপে বাইকের চেইন টাইট করার সহজ নিয়ম
ধাপে ধাপে বাইকের চেইন টাইট করার সহজ নিয়ম জানা থাকলে আপনাকে আর মেকানিকের
দোকানে লাইন ধরে দাঁড়াতে হবে না। চলুন একদম শুরু থেকে দেখি কীভাবে নিজেই এই
কাজটা সারবেন।
- প্রথম ধাপে বাইকটাকে সমতল জায়গায় সেন্টার স্ট্যান্ডে তুলে নিন, যাতে পেছনের চাকা মাটি থেকে মুক্ত থাকে। এরপর পেছনের এক্সেল নাটটা রেঞ্চ দিয়ে হালকা করে ঢিলে করুন। পুরোপুরি খুলবেন না, শুধু নাট নড়াচড়া করার মতো ফাঁকা রাখুন।
- দ্বিতীয় ধাপে চাকার দুই পাশে থাকা চেইন অ্যাডজাস্টার বোল্ট খুঁজে বের করুন। এই বোল্টগুলো ঘুরিয়েই আসলে চেইনের টান ঠিক করা হয়। দুই পাশে একই সংখ্যক টার্ন দিতে হবে, নাহলে চাকা বাঁকা বসে যাবে।
- তৃতীয় ধাপে অ্যাডজাস্টার বোল্ট আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে চেইন টানটান করুন। প্রতিবার সামান্য ঘুরিয়ে হাত দিয়ে চেইন টেনে চেক করুন, স্ল্যাক ঠিক আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চির মধ্যে আছে কিনা। তাড়াহুড়ো করে একবারে বেশি টাইট করতে যাবেন না।
- চতুর্থ ধাপে চাকার দুই পাশের মার্কার বা স্কেল দেখে নিশ্চিত করুন চাকাটা সোজা বসেছে। এই ধাপটা এড়িয়ে গেলে পরে দেখবেন বাইক একদিকে টেনে যাচ্ছে, যা চালানোর সময় বেশ বিরক্তিকর অনুভূতি তৈরি করে। দুই পাশ মিলিয়ে দেখাটা তাই একদমই বাদ দেওয়া যাবে না।
- পঞ্চম ধাপে সবকিছু ঠিক মনে হলে এক্সেল নাটটা শক্ত করে বেঁধে দিন। এরপর চাকাটা হাত দিয়ে ঘুরিয়ে দেখুন মসৃণভাবে ঘুরছে কিনা, কোথাও আটকাচ্ছে কিনা বা অস্বাভাবিক শব্দ আসছে কিনা। সব ঠিক থাকলে বুঝবেন কাজটা সঠিকভাবে হয়েছে।
শেষ ধাপে চেইনে কিছুটা লুব্রিকেন্ট স্প্রে করে দিন। এতে চেইন আরও মসৃণভাবে ঘুরবে
আর ধুলাবালি থেকেও কিছুটা সুরক্ষা পাবে। এই ছয়টা ধাপ মেনে চললে বাড়িতে বসেই
আপনি নিজের বাইকের চেইন নিখুঁতভাবে টাইট করে ফেলতে পারবেন।
চেইন টাইট করার সময় যে ভুলগুলো একদম করবেন না
চেইন টাইট করার সময় যে ভুলগুলো করবেন না, সেগুলো জানা থাকলে আপনি অনেক বড়
ঝামেলা থেকে বেঁচে যাবেন। অনেকেই তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ছোট ছোট ভুল করে বসেন,
যার ফল পরে ভোগ করতে হয় বেশ ভালোভাবেই। বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন
সম্পূর্ণ গাইড অনুসরণ করার সময় এই ভুলগুলো এড়িয়ে গেলে কাজটা হবে নিখুঁত আর
নিরাপদ। সবচেয়ে বড় ভুল হলো চেইন অতিরিক্ত টাইট করে ফেলা। অনেকে ভাবেন যত টাইট
তত ভালো, কিন্তু বাস্তবে এতে স্প্রোকেট আর ইঞ্জিনের বিয়ারিং-এর উপর উল্টো চাপ
পড়ে। খুব টাইট চেইন ঘোরার সময় নিজেই নিজের ক্ষতি ডেকে আনে, তাই মাঝামাঝি একটা
টান রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
দুই পাশের অ্যাডজাস্টার বোল্ট অসমান পরিমাণে ঘোরানোও একটা সাধারণ কিন্তু মারাত্মক
ভুল। এতে চাকাটা সোজা না বসে একটু বাঁকা হয়ে যায়, যা আপনি হয়তো প্রথমে বুঝতেই
পারবেন না। কিন্তু কিছুদিন চালানোর পর দেখবেন বাইক একদিকে টেনে যাচ্ছে আর টায়ারও
অসমানভাবে ক্ষয় হচ্ছে।
চাকার মার্কার বা স্কেল না দেখে আন্দাজে কাজ সারাটাও ভুল। চোখের আন্দাজ অনেক সময়
ধোঁকা দেয়, বিশেষ করে যখন আলো কম থাকে বা তাড়াহুড়ো করছেন। এই ছোট্ট ধাপটা বাদ
দিলে পরে পুরো কাজটাই আবার নতুন করে করতে হতে পারে।
এক্সেল নাট ঠিকমতো শক্ত না করাও বিপজ্জনক একটা ভুল। চেইন ঠিক করার পর যদি নাটটা
যথেষ্ট টাইট না করেন, তাহলে চালানোর সময় সেটা ঢিলে হয়ে যেতে পারে, আর এতে
দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কাজ শেষে সবসময় হাত দিয়ে চেক করে নিন নাটটা
পুরোপুরি বসেছে কিনা। চেইন পরিষ্কার না করেই লুব্রিকেন্ট স্প্রে করাটাও একটা ভুল
যা অনেকেই করেন। ময়লা আর ধুলার উপর লুব দিলে সেটা আরও বেশি আঠালো ময়লা জমায়,
যা চেইনের ক্ষতিই করে বরং উপকার করে না।
তাই লুব দেওয়ার আগে অবশ্যই একটা কাপড় দিয়ে চেইনটা মুছে নিন। তাড়াহুড়ো করাটাই
আসলে সবচেয়ে বড় ভুল। এই কাজটা খুব বেশি সময় নেয় না, তাই ধৈর্য ধরে প্রতিটা
ধাপ মন দিয়ে করলে ফলাফল অনেক ভালো হবে। একবার সঠিকভাবে শিখে নিলে পরের বার থেকে
কাজটা আপনার কাছে একদম সহজ মনে হবে।
চেইন কতটা টাইট বা ঢিলা রাখা উচিত?
এই প্রশ্নটা আসলে অনেকের মনেই ঘোরে, কারণ খুব টাইট বা খুব ঢিলা, দুটোই সমস্যার
কারণ হতে পারে। সঠিক মাপটা জানা থাকলে আপনি নিজেই এই ব্যালেন্সটা ধরে ফেলতে
পারবেন। সাধারণভাবে বলতে গেলে, চেইনের স্ল্যাক বা ঢিলে ভাব আধা ইঞ্চি থেকে এক
ইঞ্চির মধ্যে থাকা উচিত। এর মানে হলো চেইনের মাঝামাঝি অংশ ধরে উপর-নিচ নাড়ালে
সেটা এই পরিমাণ নড়বে, তার বেশি বা কম নয়। বেশিরভাগ বাইকের ক্ষেত্রে এই মাপটাই
আদর্শ ধরা হয়। তবে এই মাপটা সব বাইকের জন্য একেবারে হুবহু এক না। আপনার বাইকের
মডেল, ব্র্যান্ড আর চেইনের ধরন অনুযায়ী কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো বাইকের ইউজার ম্যানুয়াল দেখে নেওয়া, সেখানে
প্রস্তুতকারক নিজেই সঠিক মাপটা উল্লেখ করে দেন। খুব বেশি টাইট রাখলে কী হয় সেটাও
একটু বুঝে নেওয়া দরকার। অতিরিক্ত টাইট চেইন ইঞ্জিন আর স্প্রোকেটের উপর সরাসরি
বাড়তি চাপ ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিয়ারিং নষ্ট করে দিতে পারে। এমনকি সাসপেনশনের
মুভমেন্টও বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ চাকা উপর-নিচ হওয়ার সময় চেইনেরও একটু নড়াচড়ার
জায়গা দরকার। আবার অতিরিক্ত ঢিলা রাখলেও বিপদ। খুব ঢিলে চেইন চালানোর সময়
লাফায়, শব্দ করে, আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় স্প্রোকেট থেকে খুলেও যেতে পারে।
তাই দুই দিকের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মাঝামাঝি একটা জায়গায় রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ
সিদ্ধান্ত।
মাপার সময় বাইকটা সবসময় সেন্টার স্ট্যান্ডে রেখে মাপবেন, সাইড স্ট্যান্ডে বা
মাটিতে দাঁড়ানো অবস্থায় নয়। কারণ চাকার অবস্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে চেইনের
টানও কিছুটা বদলে যায়, ফলে ভুল মাপ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক অবস্থানে মেপে
নিলেই আপনি সবচেয়ে নির্ভুল ফলাফল পাবেন। নিয়মিত এই মাপটা চেক করার অভ্যাস গড়ে
তুলুন। প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহে একবার মেপে দেখলে আপনি কখনোই চেইনকে খুব বেশি
ঢিলে বা টাইট হতে দেবেন না। ছোট এই অভ্যাসটাই আপনার বাইককে রাখবে সবসময় নিরাপদ
আর মসৃণ।
চেইনের আয়ু বাড়াতে নিয়মিত কী ধরনের যত্ন নেবেন?
একটু নিয়মিত যত্ন নিলেই চেইন থাকবে বছরের পর বছর সুস্থ আর সক্রিয় ফলে বার বার
বাইকের চেইন রিলাক্স কিভাবে ঠিক করবেন সম্পূর্ণ গাইড খুঁজতে হবে না। সবচেয়ে
সহজ আর জরুরি অভ্যাস হলো নিয়মিত পরিষ্কার করা। প্রতি এক-দুই সপ্তাহে একবার
একটা কাপড় বা ব্রাশ দিয়ে চেইনে জমে থাকা ধুলা, কাদা আর পুরনো গ্রিজ মুছে
ফেলুন। ময়লা জমে থাকলে সেটা চেইনের ভেতরে ঘষামাজার মতো কাজ করে, আর ধীরে ধীরে
ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়। লুব্রিকেশন দেওয়াটাও সমান জরুরি। পরিষ্কার করার পরপরই
ভালো মানের চেইন লুব স্প্রে করুন, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে বা ধুলাবালি বেশি
রাস্তায় চালানোর পর। লুব চেইনের লিঙ্কগুলোর মধ্যে একটা সুরক্ষা স্তর তৈরি করে,
যা ঘর্ষণ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
চেইনের টান নিয়মিত চেক করাটাও ভুলে যাবেন না। প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহে
একবার হাত দিয়ে টেনে দেখুন ঠিকঠাক আছে কিনা, কারণ ছোট একটা ঢিলে ভাবও সময়মতো
ঠিক না করলে বড় সমস্যায় রূপ নিতে পারে। এই ছোট্ট চেক-আপটাই আপনাকে অনেক বড়
খরচ থেকে বাঁচাবে। স্প্রোকেটের অবস্থার দিকেও নজর রাখুন। স্প্রোকেটের দাঁত যদি
বাঁকা বা ধারালো হয়ে যায়, তাহলে সেটা চেইনের উপর অতিরিক্ত চাপ ফেলে আর দ্রুত
ক্ষয় করে দেয়। চেইন বদলানোর সময় স্প্রোকেটও একসাথে চেক করে নেওয়া ভালো
অভ্যাস। বৃষ্টির পানি বা কাদায় বাইক চালানোর পর চেইনের বাড়তি যত্ন নিন।
পানি লুব ধুয়ে ফেলে আর মরিচা ধরার সম্ভাবনা তৈরি করে, তাই এমন দিনে চালানোর পর
যত দ্রুত সম্ভব চেইন শুকিয়ে লুব দিয়ে দিন। এই ছোট্ট সতর্কতাই চেইনকে দীর্ঘদিন
সুরক্ষিত রাখবে। চেইনের অবস্থা মাঝেমধ্যে চোখ দিয়ে পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে
তুলুন। মরিচা, ফাটল বা অস্বাভাবিক শব্দ দেখলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিন, দেরি
করবেন না। নিয়মিত এই ছোট ছোট যত্নগুলো নিলে আপনার চেইন যেমন বেশিদিন টিকবে,
তেমনি বাইক চালানোর অভিজ্ঞতাও হবে অনেক বেশি নিরাপদ আর আনন্দদায়ক।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
বাইকের চেইন নিয়ে এত কথা বললাম, কিন্তু মূল কথাটা আসলে খুব সহজ। নিয়মিত একটু
নজর দিলেই এই ঝামেলা থেকে আপনি সবসময় মুক্ত থাকতে পারবেন। বড় কোনো বিজ্ঞান
নেই এখানে, শুধু একটু সচেতনতা আর নিয়মিত অভ্যাসই যথেষ্ট।
আপনি হয়তো প্রথমবার একটু আনাড়ি হাতে কাজ করবেন, হয়তো একটু সময়ও বেশি লাগবে।
কিন্তু একবার নিজে হাতে করে ফেললে দেখবেন, পরের বার থেকে এটা আপনার কাছে একদম
পানির মতো সহজ মনে হচ্ছে। আর নিজের বাইক নিজে যত্ন নেওয়ার মধ্যে একটা আলাদা
তৃপ্তিও আছে, সেটা বলে বোঝানো যাবে না।
শেষে একটাই অনুরোধ, চেইনকে অবহেলা করবেন না। ছোট এই একটা যন্ত্রাংশের উপরই
নির্ভর করে আপনার প্রতিদিনের যাতায়াতের নিরাপত্তা আর স্বস্তি। তাই সময় বের
করে মাসে অন্তত একবার চেক করুন, দরকার হলে টাইট করুন, লুব দিন-আপনার বাইকও
আপনাকে বহুদিন নির্ভরযোগ্য সঙ্গ দেবে।





ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url