১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে-এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই
অনেকের ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। কেউ বলে একরকম, আবার অন্য কেউ দেয় ভিন্ন
তথ্য। ফলে কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেটাই বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। আবেদনের পূর্ণ গাইড।
অনলাইনে আবেদন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ বাস্তব
অভিজ্ঞতার আলোকে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একবার পড়লেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আবেদন করতে পারবেন।
পোস্ট সুচিপত্রঃ ১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
- ১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
- ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে
- নতুন আবেদনকারীদের জন্য যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত
- অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম
- আবেদন ফরম পূরণ করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
- ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কত
- বায়োমেট্রিক ও এনরোলমেন্টের দিন কী কী সঙ্গে নিতে হবে
- পাসপোর্ট আবেদন করার পর স্ট্যাটাস কীভাবে অনলাইনে দেখবেন
- ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট কত দিনে হাতে পাওয়া যায়
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে-এই প্রশ্নটা মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে,
তাই না? আমিও একবার পাসপোর্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই দিনটা মনে
আছে, কাগজপত্র একটা কম ছিল, ফিরে আসতে হলো। তাই আজ আপনার জন্য একদম হাতে-কলমে
তৈরি একটা গাইড লিখলাম, যাতে আপনার পথটা একটু মসৃণ হয়।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ-এটাই হলো আপনার প্রথম অস্ত্র। NID না থাকলে অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ চলবে। তবে মনে রাখবেন, শুধু কাগজের জন্ম সনদ চলবে না, সেটা অবশ্যই অনলাইনে যাচাই করতে হবে।
- ই-পাসপোর্ট আবেদনের অনলাইন কপি (Application Summary)-আপনি যখন epassport.gov.bd সাইটে ফরম পূরণ করবেন, তখন একটা সামারি পেপার জেনারেট হবে। সেটা প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন। এটা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের দরজায় পা রাখার কোনো মানে হয় না।
- ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল)-আপনি যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়ির বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি লাগবে। এটা দিয়ে আপনার বর্তমান ঠিকানা প্রমাণিত হয়। অনেকেই এটা ভুলে যায়, তারপর হন্যে হয়ে ছুটতে হয়।
- পিতা-মাতার NID কার্ডের কপি (শিশুদের ক্ষেত্রে)-ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে গেলে বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি আবশ্যক। বাচ্চার বয়স ১৮-এর কম হলে এই নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।
- নাগরিক সনদ বা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট-কিছু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস আপনার নাগরিকত্ব যাচাই করতে চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট চাইতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার NID-এ কোনো তথ্য মিল না খায়, তখন এটা কাজে লাগে।
- পুরানো পাসপোর্টের কপি (পুনর্নবীকরণের ক্ষেত্রে)-আগে পাসপোর্ট ছিল? তাহলে সেটার ফটোকপি সাথে নিয়ে যান। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে নতুন করলে প্রক্রিয়াটা আরও সহজ হয়।
- পেশাজীবী প্রমাণপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)-আপনি যদি চাকরিজীবী হন, তাহলে অফিসের প্রমাণপত্র নিয়ে যেতে পারেন। স্টুডেন্ট হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা ভর্তির প্রমাণপত্র। এটা বাধ্যতামূলক নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দরকার পড়ে।
- অনলাইন ফি পরিশোধের রিসিট-১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা, জরুরি ফি ৮,০৫০ টাকা, আর অতি জরুরি ফি ১০,৩৫০ টাকা। সব ফির সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হবে। ফি জমা দেওয়ার রিসিট অবশ্যই প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন।
- নিজের উপস্থিতি (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তোলার জন্য)-এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে নিজে হাজির হতে হবে। ছবি তোলা, দশ আঙুলের ছাপ, আর চোখের আইরিস স্ক্যান-কিছুই বাদ যাবে না। বাচ্চারাও হাজির হবে, কোনো ছাড় নেই।
- অতি জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রতিবেদন-যদি আপনি অতি জরুরি সার্ভিস নেন, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট সাথে নিতে হবে। এটা ছাড়া দুই দিনে পাসপোর্ট হওয়ার কথা ভুলেই যান।
কাগজপত্র একবার গুছিয়ে নিলে, আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আমার এক বন্ধু একবার
তিনবার পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিল, কাগজপত্র কম ছিল বলে। আপনি যেন সেই ভুল না
করেন, তাই এই লিস্টটা একবার ভালো করে দেখে নিন। আর হ্যাঁ, মূল কাগজপত্রগুলো
অবশ্যই সাথে রাখবেন, শুধু কপি দিয়ে কাজ হবে না। সব ঠিক থাকলে, একদিন পাসপোর্ট
হাতে পাবেন আর মনে মনে বলবেন-"বাহ, কী সুন্দর!"
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে
আমি একবার পাসপোর্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই দিনটা মনে আছে,
কাগজপত্র একটা কম ছিল, ফিরে আসতে হলো। তাই আজ আপনার জন্য একদম হাতে-কলমে তৈরি
একটা গাইড লিখলাম, যাতে আপনার পথটা একটু মসৃণ হয়। প্রথমেই বলি, আপনার জাতীয়
পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। এটাই হলো
আপনার প্রথম অস্ত্র। শুধু কাগজের জন্ম সনদ চলবে না, সেটা অবশ্যই অনলাইনে যাচাই
করতে হবে। epassport.gov.bd সাইটে ফরম পূরণ করার পর একটা সামারি পেপার জেনারেট
হবে, সেটা প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন। এটা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের দরজায় পা রাখার
কোনো মানে হয় না।
আপনি যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়ির বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি লাগবে। এটা
দিয়ে আপনার বর্তমান ঠিকানা প্রমাণিত হয়। অনেকেই এটা ভুলে যায়, তারপর হন্যে
হয়ে ছুটতে হয়। ছোট বাচ্চাদের পাসপোর্ট করতে গেলে বাবা-মায়ের জাতীয়
পরিচয়পত্রের ফটোকপি আবশ্যক। বাচ্চার বয়স ১৮-এর কম হলে এই নিয়ম কঠোরভাবে
মানতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিস আপনার নাগরিকত্ব যাচাই করতে
চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট চাইতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনার NID-এ কোনো তথ্য
মিল না খায়, তখন এটা কাজে লাগে।
আগে পাসপোর্ট ছিল? তাহলে সেটার ফটোকপি সাথে নিয়ে যান। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক
বছরের মধ্যে নতুন করলে প্রক্রিয়াটা আরও সহজ হয়। আপনি যদি চাকরিজীবী হন, তাহলে
অফিসের প্রমাণপত্র নিয়ে যেতে পারেন। স্টুডেন্ট হলে স্টুডেন্ট আইডি কার্ড বা
ভর্তির প্রমাণপত্র। এটা বাধ্যতামূলক নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে দরকার পড়ে। ১০ বছর
মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা, জরুরি ফি ৮,০৫০ টাকা, আর
অতি জরুরি ফি ১০,৩৫০ টাকা। সব ফির সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হবে। ফি জমা দেওয়ার
রিসিট অবশ্যই প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন।
এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-আপনাকে নিজে হাজির হতে হবে। ছবি তোলা, দশ আঙুলের ছাপ,
আর চোখের আইরিস স্ক্যান-কিছুই বাদ যাবে না। বাচ্চারাও হাজির হবে, কোনো ছাড়
নেই। যদি আপনি অতি জরুরি সার্ভিস নেন, তাহলে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট সাথে
নিতে হবে। এটা ছাড়া দুই দিনে পাসপোর্ট হওয়ার কথা ভুলেই যান। কাগজপত্র একবার
গুছিয়ে নিলে, আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আমার এক বন্ধু একবার তিনবার
পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিল, কাগজপত্র কম ছিল বলে। আপনি যেন সেই ভুল না করেন, তাই
এই লিস্টটা একবার ভালো করে দেখে নিন। আর হ্যাঁ, মূল কাগজপত্রগুলো অবশ্যই সাথে
রাখবেন, শুধু কপি দিয়ে কাজ হবে না।
নতুন আবেদনকারীদের জন্য যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত
প্রথম শর্ত হলো, আপনার বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সীরা পাসপোর্ট
পাবে, তবে সেটা বাবা-মায়ের সম্মতিতে। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে
হবে, আর সেটা অবশ্যই বৈধ হতে হবে। NID না থাকলে অনলাইনে যাচাইযোগ্য জন্ম
নিবন্ধন সনদ চলবে, তবে শুধু কাগজের জন্ম সনদ দিয়ে কাজ হবে না। আপনাকে
বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিদেশে থাকলেও আবেদন
করতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে আলাদা প্রক্রিয়া। আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ
লাগবে। বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি দিয়ে এটা দেখাতে হবে। অনেকেই ভাবে, "আমি তো
এখানেই থাকি," কিন্তু কাগজ ছাড়া কেউ বিশ্বাস করে না। আপনাকে নিজে হাজির হতে
হবে।
ছবি, আঙুলের ছাপ, আর আইরিস স্ক্যান-কিছুই বাদ যাবে না। এটা একদম কঠোর নিয়ম।
কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে আবেদনটি বাতিল হতে পারে। পাসপোর্ট অফিস আপনার
ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করে, তাই মনে রাখবেন। আপনি যদি আগে কখনো পাসপোর্ট করেননি,
তাহলে আপনি একদম ফ্রেশ আবেদনকারী। এ ক্ষেত্রে পুরানো পাসপোর্টের কপির দরকার
নেই। তবে NID-এর তথ্য আর আবেদন ফরমের তথ্য একদম মিলিয়ে নিন।
একটা হাতের ছোট ভুলেও সমস্যা হতে পারে। ফি জমা দেওয়ার পর রিসিট অবশ্যই রাখবেন,
এটা ছাড়া আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে না। একবার সব ঠিকঠাক মিলিয়ে
নিলে, আপনার পাসপোর্ট হাতে আসতে বেশি দেরি হবে না। আমার এক আত্মীয় একবার
NID-তে নাম ভুল লিখেছিল, তিন মাস লেগে গিয়েছিল ঠিক করতে। আপনি যেন সেই ভুল না
করেন!
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম-শুনতে জটিল মনে হচ্ছে, তাই না?
কিন্তু একবার হাতে-কলমে শিখে নিলে, আর কোনো সমস্যা হবে না। আমি নিজেও প্রথমবার
ঘাম ঝরিয়েছিলাম, তাই আজ আপনার জন্য একদম সহজ ভাষায় বলছি। প্রথমে ব্রাউজার খুলুন
আর epassport.gov.bd সাইটে ঢুকুন। সাইটটা একটু ধীর চলতে পারে, ধৈর্য ধরুন। "Sign
Up" বোতামে ক্লিক করুন আর আপনার NID নম্বর, মোবাইল নম্বর, আর ইমেইল দিয়ে একটা
অ্যাকাউন্ট খুলুন। OTP আসবে, সেটা দ্রুত দিয়ে দিন, নাহলে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে লগইন করুন, তারপর "New Application" বোতামে চাপ দিন। এখন ফরম
পূরণ শুরু।
নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম-সব একদম NID-এর সাথে মিলিয়ে লিখুন। একটা হাতের
ভুলেও বিপদ। ১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে-এই প্রশ্নটা এখনই মাথায়
রাখুন, কারণ পরের ধাপগুলোতে সব কাগজপত্র লাগবে। ফরম পূরণ শেষ হলে ছবি আপলোড করুন।
সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, মুখ স্পষ্ট দেখা যাবে এমন ছবি দিন। সেলফি চলবে না, স্টুডিওতে
গিয়ে তুলুন। ছবি আপলোড হয়ে গেলে ফি পরিশোধের পাতায় চলে যাবেন। ১০ বছর মেয়াদি
সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা, জরুরি ৮,০৫০ টাকা, আর অতি জরুরি ১০,৩৫০ টাকা। সবার সাথে
১৫% ভ্যাট যোগ হবে। বিকাশ, নগদ, কার্ড-যেকোনো মাধ্যমে দিতে পারবেন। ফি দেওয়ার পর
একটা রিসিট জেনারেট হবে, সেটা প্রিন্ট করে রাখুন। এটা ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট
পাবেন না।
এবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন। আপনার কাছাকাছি কোন পাসপোর্ট অফিস আছে, সেটা
বেছে নিন। তারিখ আর সময় মিলিয়ে নিন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট কনফার্ম হলে একটা স্লিপ
পাবেন, সেটাও প্রিন্ট করে নিন। অফিসে যাওয়ার দিন সব কাগজপত্র-NID, বিলের কপি, ফি
রিসিট, আর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ-একসাথে গুছিয়ে রাখুন। অফিসে গিয়ে কিউতে
দাঁড়ান, আপনার নম্বর আসলে ভেতরে যান। ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিস স্ক্যান-সব একবারে
হয়ে যাবে।
মিনিট দশেক লাগবে, তারপর একটা স্লিপ দেবে। সেই স্লিপে লেখা থাকবে কবে পাসপোর্ট
হাতে পাবেন। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিন লাগে। জরুরি হলে এক সপ্তাহ, অতি জরুরি হলে
দুই দিন। একবার সব ঠিকঠাক মিলিয়ে নিলে, আর কোনো ঝামেলা নেই। আমার এক বন্ধু একবার
ছবি ভুল আপলোড করেছিল, দুইবার অফিসে যেতে হয়েছিল। আপনি যেন সেই ভুল না করেন!
আবেদন ফরম পূরণ করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
আবেদন ফরম পূরণ করার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন-এই বিষয়টা একবার ভালো করে বুঝে
নিলে, আপনার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আমি নিজেও একবার এই ঝামেলায় পড়েছিলাম,
তাই আজ আপনার জন্য একদম সোজাসাপ্টা বলছি। প্রথম ভুল হলো, NID-এর তথ্য আর ফরমের
তথ্য না মিলানো। অনেকেই নামের বানান, জন্ম তারিখ, বা ঠিকানায় ছোটখাটো ভুল করে।
মনে রাখবেন, একটা হাতের ভুলেও আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে। দ্বিতীয় ভুল হলো, ছবি
আপলোডের সময় সেলফি বা পুরানো ছবি দেওয়া। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, মুখ স্পষ্ট দেখা
যাবে এমন ছবি দিন। স্টুডিওতে গিয়ে তুলুন, এতে কোনো লজ্জা নেই। তৃতীয় ভুল হলো,
মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ভুল লেখা।
OTP আসবে না, অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই হবে না, আর আপনি হতাশ হয়ে বসে থাকবেন। চতুর্থ
ভুল হলো, ফি পরিশোধের পর রিসিট প্রিন্ট না করা। অনেকেই ভাবে, "আমি তো অনলাইনে
দিয়েছি," কিন্তু অফিসে গেলে রিসিট চাইবে। পঞ্চম ভুল হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক
না করে সরাসরি অফিসে যাওয়া। এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন পাওয়া যায় না, সব
অনলাইনেই হয়। ষষ্ঠ ভুল হলো, কাগজপত্র গুছিয়ে না নেওয়া। ১০ বছর মেয়াদি ই
পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে-এই প্রশ্নটা একবার মাথায় রাখুন, নাহলে অফিসে গিয়ে
হন্যে হয়ে ছুটতে হবে। সপ্তম ভুল হলো, অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন নিজে না যাওয়া।
ছবি, আঙুলের ছাপ, আইরিস স্ক্যান-কিছুই বাদ যাবে না। কেউ বদলি দিয়ে যেতে পারবে
না।
অষ্টম ভুল হলো, পুরানো পাসপোর্টের তথ্য না দেওয়া। আগে পাসপোর্ট ছিল? তাহলে সেটার
নম্বর আর মেয়াদ শেষের তারিখ ঠিকঠাক লিখুন। নবম ভুল হলো, জরুরি সার্ভিস নিয়ে
পুলিশ রিপোর্ট না আনা। অতি জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে এটা বাধ্যতামূলক। দশম ভুল হলো,
ফরম সাবমিট করার পর আর কিছু না দেখা। একবার প্রিন্ট করে সব মিলিয়ে নিন, তারপর
সাবমিট করুন। একবার সব ঠিকঠাক মিলিয়ে নিলে, আর কোনো ঝামেলা নেই। আমার এক আত্মীয়
একবার নামের বানান ভুল লিখেছিল, তিন মাস লেগে গিয়েছিল ঠিক করতে। আপনি যেন সেই
ভুল না করেন!
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কত
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কত-এই প্রশ্নটা মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে,
তাই না? আমিও একবার বাজেট বুঝতে গিয়ে মাথা ঘামিয়েছিলাম, তাই আজ আপনার জন্য একদম
সোজাসাপ্টা বলছি। ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সাধারণ ফি ৫,৭৫০ টাকা।
এটাই সবচেয়ে সাধারণ অপশন, যেটা বেশিরভাগ মানুষ নেয়। সময় লাগে ১৫ থেকে ৩০ দিন।
জরুরি সার্ভিস নিলে ফি দাঁড়ায় ৮,০৫০ টাকায়। সময় লাগে সাত দিনের মতো। আর অতি
জরুরি সার্ভিস নিলে ফি ১০,৩৫০ টাকা। দুই দিনের মধ্যে হাতে পাবেন, তবে এ ক্ষেত্রে
পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট আগে থেকে নিয়ে যেতে হবে।
এখন একটা কথা মাথায় রাখবেন-এই ফির সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হবে। তাই সাধারণ ফির
ক্ষেত্রে মোট দাঁড়ায় প্রায় ৬,৬১৩ টাকা। অনলাইনে ফি দেওয়ার সময় বিকাশ, নগদ,
কার্ড-যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পর রিসিট অবশ্যই
প্রিন্ট করে রাখবেন, এটা ছাড়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাবেন না। একবার ফি পরিশোধ হয়ে
গেলে, ফেরত পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ভেবে-চিন্তে সার্ভিস বেছে নিন। আমার
এক বন্ধু একবার ভুলে জরুরি সার্ভিস নিয়েছিল, পরে সাধারণেই যথেষ্ট ছিল। টাকা গেল,
ফেরত আসলো না। আপনি যেন সেই ভুল না করেন!
বায়োমেট্রিক ও এনরোলমেন্টের দিন কী কী সঙ্গে নিতে হবে
বায়োমেট্রিক ও এনরোলমেন্টের দিন কী কী সঙ্গে নিতে হবে-এই প্রশ্নটা অনেকের মনে
আসে, তাই না? ১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে-এটা একবার ভালো করে বুঝে
নিলে, আপনার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। আমি নিজেও একবার কাগজপত্র কম নিয়ে
গিয়েছিলাম, তাই আজ আপনার জন্য একদম হাতে-কলমে তৈরি একটা লিস্ট লিখলাম। প্রথমেই
আপনার মূল NID কার্ড আর তার ফটোকপি নিয়ে যান। এটা ছাড়া অফিসের দরজায় পা রাখার
কোনো মানে হয় না। অনলাইনে ফরম পূরণ করার পর যে সামারি পেপার জেনারেট হয়েছিল,
সেটার প্রিন্ট কপি অবশ্যই সাথে রাখবেন। এটা আপনার আবেদনের প্রমাণ। ফি পরিশোধের
রিসিটটাও প্রিন্ট করে নিয়ে যান।
অনলাইনে দিয়েছেন বলে কেউ শুনবে না, কাগজ দেখাতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপটা
মোবাইলে রাখবেন না, প্রিন্ট করে নিন। অফিসে নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, নাও থাকতে
পারে। বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি সাথে রাখুন, ঠিকানা প্রমাণের জন্য লাগতে পারে।
ছোট বাচ্চা থাকলে বাবা-মায়ের NID-এর কপিও নিয়ে যান। আর হ্যাঁ, নিজেকে অবশ্যই
সাথে নিয়ে যাবেন। ছবি, দশ আঙুলের ছাপ, আর চোখের আইরিস স্ক্যান-কিছুই বাদ যাবে
না। বাচ্চারাও হাজির হবে, কোনো ছাড় নেই।
পুরানো পাসপোর্ট থাকলে সেটার কপিও সাথে রাখুন। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে
নতুন করলে কাজটা আরও সহজ হয়। অতি জরুরি সার্ভিস নিলে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট
অবশ্যই সাথে নিতে হবে। এটা ছাড়া দুই দিনে পাসপোর্ট হওয়ার কথা ভুলেই যান। একবার
সব গুছিয়ে নিলে, অফিসে গিয়ে মিনিট দশেকেই কাজ শেষ। আমার এক বন্ধু একবার
অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ ভুলে বাসায় রেখেছিল, ফিরে আসতে হলো। আপনি যেন সেই ভুল না
করেন!
পাসপোর্ট আবেদন করার পর স্ট্যাটাস কীভাবে অনলাইনে দেখবেন
১০ বছর মেয়াদি ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে। সকলেই জানতে চান এমনকি আমি নিজেও
জানতাম না। আমিও একবার পাসপোর্ট অফিসের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সেই দিনটা
মনে আছে, কাগজপত্র একটা কম ছিল, ফিরে আসতে হলো। তাই আজ আপনার জন্য একদম হাতে-কলমে
তৈরি একটা গাইড লিখলাম, যাতে আপনার পথটা একটু মসৃণ হয়। পাসপোর্ট আবেদন করার পর
স্ট্যাটাস কীভাবে অনলাইনে দেখবেন-এই বিষয়টা একবার ভালো করে বুঝে নিলে, আপনার মন
অনেকটাই শান্ত হয়ে যাবে। আমি নিজেও প্রথমবার ঘাম ঝরিয়েছিলাম, তাই আজ আপনার জন্য
একদম সহজ ভাষায় বলছি।
প্রথমে ব্রাউজার খুলুন আর
epassport.gov.bd
সাইটে ঢুকুন। সাইটটা একটু ধীর চলতে পারে, ধৈর্য ধরুন। "Track Application" বা
"Application Status" নামে একটা অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন। এখন আপনার আবেদন
নম্বর আর জন্ম তারিখ দিন। আবেদন নম্বরটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপে লেখা আছে, একবার
ভালো করে দেখে নিন। সব ঠিক দিলে স্ট্যাটাস দেখা যাবে-"Application Received",
"Under Verification", "Printing", "Ready for Delivery"-এমন কিছু লেখা থাকবে।
কখনো কখনো স্ট্যাটাস আপডেট হতে দেরি হয়। দুই-তিন দিন একই জায়গায় থাকলে
ঘাবড়াবেন না।
এটা স্বাভাবিক। তবে দুই সপ্তাহের বেশি একই স্ট্যাটাসে থাকলে, পাসপোর্ট অফিসে ফোন
করে জেনে নিন। ফোন নম্বর সাইটেই পাবেন। আর একটা কথা-পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে গেলে
SMS আসতে পারে, তবে সবসময় আসে না। তাই নিজে নিজে চেক করাই ভালো। একবার সব ঠিকঠাক
মিলিয়ে নিলে, আর কোনো ঝামেলা নেই। আমার এক বন্ধু একবার আবেদন নম্বর ভুল লিখেছিল,
স্ট্যাটাস দেখা গেলো না। আপনি যেন সেই ভুল না করেন!
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট কত দিনে হাতে পাওয়া যায়
আমিও একবার পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দিন গুনেছিলাম। সেই সময়টা মনে
আছে, প্রতিদিন সাইটে ঢুকে স্ট্যাটাস দেখতাম। তাই আজ আপনার জন্য একদম সোজাসাপ্টা
বলছি। সাধারণ সার্ভিস নিলে সময় লাগে ১৫ থেকে ৩০ দিন। এটাই সবচেয়ে সাধারণ অপশন,
যেটা বেশিরভাগ মানুষ নেয়। ফি কম, তবে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। জরুরি সার্ভিস নিলে
সময় লাগে সাত দিনের মতো। ফি একটু বেশি, তবে কাজটা দ্রুত হয়। আর অতি জরুরি
সার্ভিস নিলে দুই দিনের মধ্যে হাতে পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন
রিপোর্ট আগে থেকে নিয়ে যেতে হবে, নাহলে দুই দিনের কথা ভুলেই যান।
আরো পড়ুনঃ ই-পাসপোর্ট পেমেন্ট পেন্ডিং হলে করণীয়
কখনো কখনো সময় একটু বেশি লাগতে পারে। বিশেষ করে ঈদের আগে বা ছুটির মৌসুমে। তখন
অফিসে চাপ বেশি, কাজ একটু ধীর হয়। আবার কখনো কখনো NID-এ তথ্য মিল না খেলে বা
পুলিশ ভেরিফিকেশনে সমস্যা হলে বিলম্ব হয়। তাই একবার সব ঠিকঠাক মিলিয়ে নিলে, আর
কোনো ঝামেলা নেই। আমার এক আত্মীয় একবার ঈদের আগে আবেদন করেছিল, এক মাস লেগে
গিয়েছিল। আপনি যেন সেই ভুল না করেন!
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
পাসপোর্ট করাটা আসলে কঠিন না, যদি একবার সব ঠিকঠাক মিলিয়ে নিতে পারেন। কাগজপত্র
গুছিয়ে নিন, ফরম ভালো করে পূরণ করুন, আর অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন সময়মতো হাজির
হন। এতেই কাজ শেষ। অনেকেই ভাবে, "আমি তো অনলাইনে সব দিয়েছি," কিন্তু অফিসে গিয়ে
দেখা যায় কাগজপত্র একটা কম। তাই একবার লিস্ট দেখে নিন, তারপর যান।
আর একটা কথা-ধৈর্য ধরুন। পাসপোর্ট অফিসে লোকের ভিড় থাকে, কখনো কখনো সিস্টেম ধীর
চলে। রেগে গিয়ে কিছু হবে না, শান্ত থাকলেই কাজ হয়। আমার এক বন্ধু একবার
অফিসারের সাথে তর্ক করেছিল, পরে আরও দেরি হলো। আপনি যেন সেই ভুল না করেন।
শেষে বলি-পাসপোর্ট হাতে পেলে একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। মনে হয়, এখন পৃথিবীটা
একটু ছোট হয়ে এলো। আপনিও সেই অনুভূতি পাবেন, আমি বিশ্বাস করি। সব ঠিক থাকলে,
একদিন পাসপোর্ট হাতে পাবেন আর মনে মনে বলবেন-"বাহ, কী সুন্দর!" সুখে থাকবেন, ভালো
থাকবেন। আর হ্যাঁ, বিদেশে গেলে একটা ছবি পাঠাবেন, তাই না?




ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।
comment url