রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি

সারাদিন রোজার পর ইফতারে চাই হালকা কিন্তু পুষ্টিকর কিছু? জেনে নিন রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি যা শরীর ও মন-দুটোকেই স্বস্তি দেবে। কম তেল, কম ক্যালোরি, অথচ স্বাদে ভরপুর-পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ ও তৃপ্তিকর ইফতারের জন্য পারফেক্ট সমাধান।
রমজানে-ইফতারের-সহজ-লো-ক্যালোরি-শুকনো-মাংস-রেসিপি
এই রেসিপিটি তৈরি করতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগবে, এবং ক্যালোরির পরিমাণও খুব নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে যাতে আপনি ইফতারের পর ভারী অনুভব না করেন। চলুন, আমরা ধাপে ধাপে দেখি কীভাবে এটি প্রস্তুত করা যায়, এবং কেন এটি রমজানের জন্য আদর্শ।

পোস্ট সূচিপত্রঃ রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি

পরিচিতি

রমজান মাসে রোজা রাখার পর ইফতারের সময় আমরা সকলে এমন খাবার খুঁজি যা পেট ভরায় কিন্তু শরীরে অতিরিক্ত চাপ না দেয়। অনেক সময় ডিপ ফ্রাইড বা ভারী খাবার খেয়ে পরে অস্বস্তি বোধ হয়, যেমন পেট ফাঁপা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি। তাই আমি ভেবেছি আপনাকে একটি হালকা এবং স্বাস্থ্যকর অপশন দেব। এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি ঠিক সেই উদ্দেশ্যে উপযুক্ত। এতে মাংসকে শুকনো করে রান্না করা হয়, কোনো গ্রেভি বা অতিরিক্ত সস না থাকায় ক্যালোরির পরিমাণ অনেক কম হয়। আমি নিজে এই রেসিপিটি চেষ্টা করে দেখেছি, এবং লক্ষ্য করেছি যে মশলাগুলো মাংসের সাথে ভালোভাবে মিশে গেলে স্বাদটা অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, যেন ঐতিহ্যবাহী রান্নার স্বাদ পাওয়া যায় কিন্তু স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। যদি আপনি গরুর মাংস বা খাসির মাংস পছন্দ করেন, তাহলে সেগুলোও ব্যবহার করতে পারেন, তবে চিকেন ব্যবহার করলে রান্না আরও সহজ এবং দ্রুত হয়।

এই রেসিপিটি চার জনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, এবং প্রতি সার্ভিংয়ে ক্যালোরির পরিমাণ আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০, যা রমজানের রোজায় শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এছাড়া, এটি তৈরি করতে কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির দরকার নেই, শুধুমাত্র ঘরের সাধারণ উপকরণ দিয়েই হয়ে যায়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

খন আপনি এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি তৈরি করতে যাবেন, তখন দেখবেন যে প্রয়োজনীয় উপকরণের তালিকা খুবই সংক্ষিপ্ত এবং সহজলভ্য। এটি এই রেসিপির একটা বড় সুবিধা, কারণ আপনাকে জটিল বা দুর্লভ উপাদান খুঁজতে হবে না। বেশিরভাগ জিনিস আপনার রান্নাঘরে থাকতে পারে, অথবা স্থানীয় বাজার থেকে সহজেই কিনে নিতে পারবেন। এই উপকরণগুলো নির্বাচন করা হয়েছে এমনভাবে যাতে স্বাদ বজায় থাকে কিন্তু ক্যালোরির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা লো ফ্যাট অপশন ব্যবহার করেছি যাতে খাবারটা হালকা হয় এবং রোজার পর আপনার শরীরে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। চলুন, এখন বিস্তারিত তালিকা দেখি যাতে আপনি আগে থেকে সবকিছু প্রস্তুত করে রাখতে পারেন এবং রান্না প্রক্রিয়া স্মুথ হয়। আমি প্রত্যেক উপাদানের সাথে একটু ব্যাখ্যা যোগ করেছি যাতে আপনি বুঝতে পারেন কেন এটি দরকার এবং কীভাবে এটি রেসিপিতে কাজ করে।
  • ৫০০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্টঃ এটি রেসিপির মূল উপাদান, যা হাড়হীন এবং চামড়া ছাড়া নেবেন। এতে চর্বির পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে, যা ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং প্রোটিনের একটা ভালো উৎস প্রদান করে। যদি চিকেন না পছন্দ করেন, তাহলে অন্য লীন মাংস ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু চিকেন দিয়ে রান্না দ্রুত হয়।
  • ২ টেবিল চামচ দইঃ লো ফ্যাট বা গ্রিক ইয়োগার্ট বেছে নিন, কারণ এটি মাংসকে নরম করে এবং একটা ক্রিমি টেক্সচার দেয় কিন্তু অতিরিক্ত ক্যালোরি যোগ করে না। এটি মেরিনেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং হজমেও সাহায্য করে।
  • ১ চা চামচ জিরা গুঁড়োঃ এটি রান্নায় একটা উষ্ণ এবং সুগন্ধী স্বাদ যোগ করে, যা মাংসের স্বাদকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। জিরা হজমশক্তি বাড়ায়, যা রমজানের ইফতারের জন্য উপযুক্ত।
  • ১ চা চামচ ধনে গুঁড়োঃ ধনে গুঁড়ো মাংসের স্বাদকে গভীরতা দেয় এবং অন্যান্য মশলার সাথে ভালোভাবে মিশে যায়। এটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • ১/২ চা চামচ মরিচ গুঁড়োঃ আপনার স্বাদ অনুযায়ী পরিমাণ সামঞ্জস্য করুন, কারণ এটি তীক্ষ্ণতা যোগ করে কিন্তু অত্যধিক না হলে ভালো। যদি মশলাদার খাবার পছন্দ না করেন, তাহলে কমিয়ে দিন।
  • ১ চা চামচ গরম মশলাঃ এটি দারচিনি, এলাচ এবং লবঙ্গের মতো মশলার মিশ্রণ, যা ঐতিহ্যবাহী স্বাদ দেয় এবং রেসিপিকে আরও সমৃদ্ধ করে। এটি অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন যাতে স্বাদ ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
  • ১ টেবিল চামচ লেবুর রসঃ লেবুর রস মাংসকে নরম করে এবং একটা সতেজ অ্যাসিডিটি যোগ করে, যা সামগ্রিক স্বাদকে তাজা করে তোলে। এটি ভিটামিন সি প্রদান করে, যা রোজার পর শরীরের জন্য উপকারী।
  • লবণ স্বাদ মতোঃ লবণ অতিরিক্ত না দিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ব্যবহার করুন, কারণ এটি সব উপাদানের স্বাদকে একত্রিত করে। স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে কম লবণ ব্যবহার করা ভালো।
  • ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা অন্য কোনো লো ফ্যাট অয়েলঃ যদি প্যানে রান্না করেন, তাহলে এটি ব্যবহার করুন যাতে মাংস আটকে না যায় কিন্তু চর্বির পরিমাণ কম থাকে। ওভেনে রান্না করলে এটি প্রয়োজন নাও হতে পারে।
  • কয়েকটা ধনে পাতা এবং কাঁচা মরিচ গার্নিশের জন্যঃ এগুলো শেষে যোগ করুন যাতে খাবারের চেহারা আকর্ষণীয় হয় এবং অতিরিক্ত স্বাদ যোগ হয়। ধনে পাতা সতেজতা দেয় এবং কাঁচা মরিচ অল্প তীক্ষ্ণতা যোগ করে।
রমজানে-ইফতারের-সহজ-লো-ক্যালোরি-শুকনো-মাংস-রেসিপি
এই সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মেরিনেশন করলে মাংসটা নরম হয়ে যায় এবং মশলাগুলো ভালোভাবে শোষিত হয়, যাতে রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল বা চর্বির দরকার পড়ে না। যদি আপনার কোনো উপাদান না থাকে, তাহলে সহজ বিকল্প খুঁজে নিন-উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ দইয়ের পরিবর্তে লো ফ্যাট দই ব্যবহার করুন বা গরম মশলা না থাকলে সাধারণ মশলা মিশিয়ে নিন। এভাবে আপনি রেসিপিটা আপনার পছন্দ অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট করতে পারবেন এবং এটি আরও সহজ হয়ে যাবে।

প্রস্তুতির ধাপসমূহ

যখন আপনি এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি তৈরি করতে যাবেন, তখন দেখবেন যে প্রক্রিয়াটা খুবই সোজা এবং ধাপে ধাপে অনুসরণ করা যায়। আমি এখানে সবকিছু বিস্তারিতভাবে লিখছি যাতে আপনি, এমনকি রান্নায় নতুন হলেও, সহজেই এটাকে বানাতে পারেন। মূলত, এই রেসিপিটা মেরিনেশন এবং রান্নার দুটো প্রধান অংশে বিভক্ত, যা সময় সাশ্রয়ী এবং কোনো জটিল যন্ত্রপাতির দরকার পড়ে না। প্রথমে মেরিনেশন করে মাংসকে স্বাদযুক্ত করা হয়, তারপর রান্না করে শুকনো করে নেয়া হয়। এতে ক্যালোরি কম রাখার জন্য তেলের ব্যবহার ন্যূনতম, এবং স্বাদটা আসে মশলা থেকে। যদি আপনার কাছে ওভেন থাকে, তাহলে আরও সহজ হয়, কিন্তু প্যানেও এটাকে করা যায়। মনে রাখবেন, নিরাপত্তার জন্য সবসময় পরিষ্কার যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন এবং মাংস ভালোভাবে রান্না হয়েছে কি না চেক করুন।
রমজানে-ইফতারের-সহজ-লো-ক্যালোরি-শুকনো-মাংস-রেসিপি
এখন আসুন ধাপগুলো দেখি। আমি প্রত্যেক ধাপকে আলাদা করে লিখেছি যাতে আপনি একটা একটা করে ফলো করতে পারেন। প্রত্যেক ধাপের পর পরবর্তীটা শুরু করুন, এবং যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আগের ধাপটা আবার চেক করুন। এভাবে রান্না করলে আপনার সময় লাগবে মাত্র ৩০-৪০ মিনিট, এবং ফলাফল হবে একটা সুস্বাদু, হালকা খাবার যা ইফতারে পরিবেশন করতে পারেন। যদি আপনি একা রান্না করছেন, তাহলে পরিমাণ অর্ধেক করে নিন, কিন্তু ধাপগুলো একই রাখুন। শেষে, খাবারটা গরম গরম পরিবেশন করুন যাতে স্বাদটা ভালোভাবে ফুটে ওঠে।
  • চিকেন প্রস্তুত করাঃ প্রথমে ৫০০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্টকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, যাতে প্রত্যেক টুকরো প্রায় ১-২ ইঞ্চি আকারের হয়। এতে রান্না সমানভাবে হবে এবং খাওয়া সুবিধাজনক হবে। চিকেনটা ধুয়ে শুকিয়ে নিন যাতে মেরিনেশন ভালোভাবে লাগে। যদি চিকেন ফ্রোজেন থাকে, তাহলে আগে থেকে ডিফ্রস্ট করে নিন।
  • মেরিনেশন মিশ্রণ তৈরি করাঃ একটা বড় বাটিতে ২ টেবিল চামচ দই, ১ চা চামচ জিরা গুঁড়ো, ১ চা চামচ ধনে গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ মরিচ গুঁড়ো, ১ চা চামচ গরম মশলা, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং স্বাদ মতো লবণ মিশিয়ে একটা মসৃণ পেস্ট বানান। সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে কোনো গুটি না থাকে। এই মিশ্রণটা মাংসকে নরম এবং স্বাদযুক্ত করবে।
  • মাংস মেরিনেট করাঃ চিকেনের টুকরোগুলোকে এই মিশ্রণে দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন, যাতে প্রত্যেক টুকরোতে মশলা লাগে। এখন এটাকে কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। যদি সময় থাকে, তাহলে ফ্রিজে ১ ঘণ্টা রাখুন-এতে মশলা মাংসের ভিতরে আরও ভালোভাবে প্রবেশ করবে এবং স্বাদটা আরও ভালো হবে।
  • ওভেন প্রস্তুত করা (যদি ওভেন ব্যবহার করেন): ওভেনকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রিহিট করুন। একটা বেকিং ট্রেয়ে ফয়েল বা বেকিং পেপার লাগিয়ে মেরিনেটেড চিকেনগুলোকে এক লেয়ারে সাজিয়ে নিন, যাতে টুকরোগুলো একটা আরেকটার উপর না পড়ে। এতে রান্না সমান হবে এবং আটকে যাবে না।
  • ওভেনে রান্না করাঃ ট্রেটা ওভেনে দিয়ে ২০-২৫ মিনিট বেক করুন। মাঝখানে, প্রায় ১০-১২ মিনিট পর, টুকরোগুলোকে একবার উল্টিয়ে দিন যাতে সব দিক থেকে সমানভাবে বাদামী হয়। রান্না শেষ হলে মাংসটা শুকনো এবং ক্রিস্পি হয়ে যাবে, কোনো অতিরিক্ত তেল ছাড়াই।
  • প্যানে রান্না করা (যদি ওভেন না থাকে): একটা নন-স্টিক প্যানে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা লো ফ্যাট অয়েল দিয়ে মাঝারি আঁচে গরম করুন। মেরিনেটেড চিকেনগুলোকে প্যানে দিয়ে নেড়েচেড়ে ভাজুন, যতক্ষণ না মাংসের পানি শুকিয়ে যায় এবং এটি শুকনো হয়ে যায়। এতে সময় লাগবে প্রায় ১৫-২০ মিনিট, এবং মাঝে মাঝে নাড়ুন যাতে পুড়ে না যায়।
  • গার্নিশ এবং পরিবেশনঃ রান্না শেষ হলে প্যান বা ওভেন থেকে বের করে নিন। কয়েকটা ধনে পাতা কুচি করে এবং কাঁচা মরিচ টুকরো করে ছড়িয়ে দিন। এতে খাবারটা আরও আকর্ষণীয় দেখাবে এবং স্বাদে একটা সতেজতা যোগ হবে। এখন গরম গরম পরিবেশন করুন।


পুষ্টিগুণ এবং লো ক্যালোরি টিপস

এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি শুধুমাত্র সুস্বাদু নয়, বরং পুষ্টিকরও, যা রমজানের রোজায় শরীরের চাহিদা পূরণ করে। চিকেন ব্রেস্টে প্রোটিনের পরিমাণ প্রচুর, যা রোজার পর শরীরকে দ্রুত এনার্জি প্রদান করে এবং পেশীগুলোকে রক্ষা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম চিকেনে আনুমানিক ১৬৫ ক্যালোরি থাকে, এবং চর্বির পরিমাণ মাত্র ৩.৫ গ্রাম, যা অন্যান্য মাংসের তুলনায় অনেক কম। দই এবং লেবু যোগ করে আপনি ভিটামিন সি এবং প্রোবায়োটিক্স পান, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, বিশেষ করে রমজানে যখন শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মশলাগুলো যেমন জিরা এবং ধনে, এগুলো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ, যা শরীরের প্রদাহ কমায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করে। লো ক্যালোরি রাখার জন্য কয়েকটি টিপসঃ তেলের ব্যবহার একদম ন্যূনতম রাখুন, বা ওভেনে রান্না করুন যাতে চর্বি না যোগ হয়।

মশলার পরিমাণ একটু বাড়িয়ে দিন যাতে স্বাদ কম না হয় কিন্তু ক্যালোরি না বাড়ে। যদি গরুর মাংস ব্যবহার করেন, তাহলে লীন কাট নির্বাচন করুন যাতে চর্বি কম থাকে। এছাড়া, রান্নার সময় পানি না যোগ করে শুকনো করে রান্না করুন, যাতে এটি রমজানের ইফতারের জন্য আরও উপযুক্ত হয়। এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে আপনি দেখবেন যে খাবার স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় কোনো স্বাদের ক্ষতি ছাড়াই।

সার্ভিং আইডিয়া এবং ভ্যারিয়েশন

ইফতারের টেবিলে এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি পরিবেশন করার জন্য অনেক সৃজনশীল উপায় আছে, যা খাবারকে আরও আকর্ষণীয় এবং সুস্বাদু করে তোলে। আপনি এটাকে একটা সতেজ সালাদের সাথে সার্ভ করতে পারেন, যেমন শসা, টমেটো, লেটুস এবং অল্প লেবুর রস মিশিয়ে-এতে খাবার হালকা থাকে এবং পুষ্টির পরিমাণ বাড়ে, যা রোজার পর শরীরকে সতেজ রাখে। অথবা যদি আপনি ঐতিহ্যবাহী স্টাইলে চান, তাহলে পুরো গমের রুটি বা চাপাতির সাথে পরিবেশন করুন, কিন্তু ক্যালোরি কম রাখার জন্য অল্প পরিমাণে নিন। এছাড়া, এটাকে একটা প্লেটে সাজিয়ে রাখুন যাতে ধনে পাতা এবং লেবুর ওয়েজ থাকে, যা চেহারা উন্নত করে এবং খাওয়ার সময় অতিরিক্ত স্বাদ যোগ করে। যদি আপনার পরিবারে বাচ্চা থাকে, তাহলে ছোট ছোট পোর্শনে সার্ভ করুন যাতে তারা সহজেই খেতে পারে, এবং পাশে কিছু ফল যোগ করুন যাতে খাবারটা ব্যালেন্সড হয়। এভাবে সার্ভ করলে ইফতারটা আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে এবং সবাই সন্তুষ্ট হয়।
রমজানে-ইফতারের-সহজ-লো-ক্যালোরি-শুকনো-মাংস-রেসিপি
ভ্যারিয়েশনের কথা বললে, এই রেসিপিটা খুব ফ্লেক্সিবল, তাই আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী চেঞ্জ করে নিতে পারেন যাতে এটি বারবার একই রকম না লাগে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি চিকেনের পরিবর্তে খাসির মাংস ব্যবহার করেন, তাহলে রান্নার সময় একটু বাড়িয়ে নিন যাতে মাংস নরম হয়, এবং মশলায় অতিরিক্ত আদা যোগ করুন যাতে স্বাদটা আরও গভীর হয়। অথবা যদি ভেজিটেরিয়ান অপশন চান, তাহলে চিকেনের জায়গায় পনীর বা টোফু নিন, যা প্রোটিন দেয় এবং একই মশলায় রান্না করলে স্বাদ অনেকটা একই রকম হয়। যদি আপনি মশলাদার খাবার পছন্দ করেন, তাহলে মরিচ গুঁড়োর পরিমাণ বাড়ান বা কাঁচা মরিচ যোগ করুন, কিন্তু লো ক্যালোরি রাখার জন্য তেল কম রাখুন। এছাড়া, যদি আপনি একটা ফিউশন টুইস্ট দিতে চান, তাহলে ইটালিয়ান হার্বস যোগ করে দেখুন, যা স্বাদকে নতুন করে তোলে কিন্তু রেসিপির মূল সারাংশ বজায় রাখে। এভাবে ভ্যারিয়েশন করে নিলে রেসিপিটা আপনার পরিবারের জন্য সবসময় নতুন লাগবে এবং রমজানের ইফতারে বৈচিত্র্য আনবে।
  • সালাদের সাথে সার্ভঃ শুকনো মাংসকে একটা বড় বাটিতে সাজান এবং চারপাশে কাটা শসা, টমেটো, পেঁয়াজ এবং লেটুস ছড়িয়ে দিন। উপরে অল্প দইয়ের ড্রেসিং দিন যাতে এটি একটা সম্পূর্ণ মিল হয়। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং ফাইবার বাড়ে, যা হজমে সাহায্য করে।
  • রুটির সাথেঃ পুরো গমের রুটি বা নান গরম করে নিন এবং মাংসকে তার উপর রাখুন। পাশে চাটনি বা টমেটো সস দিন, কিন্তু লো ফ্যাট ভার্সন নিন। এটা ঐতিহ্যবাহী ইফতারের জন্য পারফেক্ট এবং সহজে খাওয়া যায়।
  • সাইড ডিশ হিসেবেঃ মাংসকে ছোট প্লেটে সার্ভ করুন এবং পাশে স্টিমড সবজি যেমন গাজর বা ব্রকোলি যোগ করুন। এতে খাবারটা লো ক্যালোরি থাকে এবং ভিটামিন যোগ হয়, যা রোজার পর শরীরকে এনার্জি দেয়।
  • ভেজিটেরিয়ান ভ্যারিয়েশনঃ চিকেনের জায়গায় পনীর কিউব নিন এবং একই মশলায় মেরিনেট করুন। ওভেনে বেক করে নিন যাতে এটি শুকনো হয়। এটা নিরামিষাশীদের জন্য আদর্শ এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ।
  • মশলাদার ভ্যারিয়েশনঃ মরিচ গুঁড়ো বাড়ান এবং অতিরিক্ত আদা-রসুন পেস্ট যোগ করুন। রান্নার শেষে কাঁচা মরিচ ছড়ান। এতে স্বাদ তীক্ষ্ণ হয় কিন্তু ক্যালোরি একই রাখুন।
  • ফিউশন ভ্যারিয়েশনঃ গরম মশলার সাথে ওরেগানো বা বাসিল যোগ করুন। এটা একটা ইটালিয়ান টুইস্ট দেয় এবং নতুন স্বাদ আনে, যা রমজানের ইফতারে বৈচিত্র্য যোগ করে।


উপসংহার

সারাংশে বলা যায় যে এই রমজানে ইফতারের সহজ লো ক্যালোরি শুকনো মাংস রেসিপি আপনার ইফতারের টেবিলকে আরও বিশেষ করে তুলবে, কারণ এটি তৈরি করা সহজ, স্বাস্থ্যকর এবং সকলের পছন্দ হবে। রমজানের এই পবিত্র মাসে যখন আমরা স্বাস্থ্য এবং আধ্যাত্মিকতা উভয়কেই গুরুত্ব দেই, তখন এমন খাবার যা শরীরকে পুষ্টি দেয় কিন্তু অতিরিক্ত ভার না দেয়, তা খুবই মূল্যবান। যদি আপনি এটি চেষ্টা করে দেখেন, তাহলে অবশ্যই জানাবেন কেমন লেগেছে এবং কোনো পরিবর্তন করেছেন কি না। রমজান মোবারক!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।