শবে কদরে কি আমল করা উত্তম

হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম এক রাত-তুমি কি প্রস্তুত? জানো শবে কদরে কি আমল করা উত্তম এবং কীভাবে এই পবিত্র রাতকে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বানাবে। অল্প সময়েও বেশি সওয়াব পাওয়ার দোয়া, নামাজ ও আমলের সহজ গাইড-আজই প্রস্তুতি নাও, সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।
শবে-কদরে-কি-আমল-করা-উত্তম
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব শবে কদরে কি আমল করা উত্তম, এবং কীভাবে সেগুলোকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ করা যায় যাতে সর্বোচ্চ ফলাফল পাওয়া যায়। অনেকে এই রাত্রিকে অবহেলা করেন, কিন্তু যারা সচেতনভাবে আমল করেন, তারা জীবনের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আরও শক্তি পান।

পোস্ট সূচিপত্রঃ শবে কদরে কি আমল করা উত্তম বাংলা আর্টিকেল

শবে কদরের পরিচিতি

শবে কদর, যাকে আরবিতে লায়লাতুল কদর বলা হয়, ইসলামী ধর্মে একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং মাহাত্ম্যপূর্ণ রাত্রি। এই রাত্রির বর্ণনা কুরআন মজিদের সুরা আল-কদরে বিস্তারিতভাবে দেয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাত্রিতে পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর, এবং এটি মুসলিমদের জন্য একটি বিশেষ উপহারের মতো যা তাদের আত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে। আমি যখন প্রথম এই রাত্রি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি, তখন বুঝেছি যে এটি শুধু একটি তারিখ নয়, বরং একটি আধ্যাত্মিক ঘটনা যা মানুষকে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যায়। অনেকে এই রাত্রিকে 'ভাগ্যের রাত্রি' বলে অভিহিত করেন, কারণ এতে ভাগ্য নির্ধারিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এই রাত্রির পরিচয় বুঝলে মনে একটা গভীর শ্রদ্ধা জাগে, এবং এটি রমজান মাসকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে।

এই রাত্রি রমজান মাসের শেষ দশ দিনের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, বিশেষ করে অদ্ভুত তারিখগুলোতে যেমন ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখ। হাদিস শরীফে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন যে এই রাত্রিতে আমল করলে হাজার মাসের আমলের সওয়াব পাওয়া যায়, এবং এটি একটি লুকানো রহস্য যাতে মানুষ সারা দশ দিন আমল করে। অনেক আলিম বলেন যে এই লুকানো থাকার কারণ হলো যাতে মুসলিমরা কোনো একটি রাত্রিতে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো সময়টাকে গুরুত্ব দেয়। আমার অভিজ্ঞতায়, এই অনিশ্চয়তা মানুষকে আরও সতর্ক করে তোলে এবং আমলের পরিমাণ বাড়ায়। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে শবে কদরে কি আমল করা উত্তম, কিন্তু প্রথমে বুঝতে হবে যে এই রাত্রির মূল পরিচয় হলো কুরআনের নাযিল হওয়া এবং ফেরেশতাদের নেমে আসা। এটি সারা রাত্রি জুড়ে চলে, ফজরের আযান পর্যন্ত, এবং এতে রহমতের দরজা খোলা থাকে।

শবে কদরের পরিচয় শুধু ধর্মীয় নয়, এটি মানুষের আত্মিক উন্নয়নের সাথে জড়িত। এই রাত্রিতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এবং এটি মুসলিমদের জন্য একটি সুযোগ যাতে তারা গুনাহ থেকে মুক্তি পান এবং নতুন করে জীবন শুরু করেন। আমি দেখেছি, অনেকে এই রাত্রিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য হলো আমলের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। এই রাত্রি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের মতো, যা তাদেরকে একত্রিত করে এবং ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করে। যদি আপনি এই রাত্রির পরিচয় ভালোভাবে বুঝেন, তাহলে রমজানের শেষ দিনগুলোকে আরও গুরুত্বের সাথে কাটাতে পারবেন। সারাংশে, শবে কদর একটি অনন্য রাত্রি যা আমাদের জীবনকে আলোকিত করে।

শবে কদরের গুরুত্ব এবং ফজিলত

শবে কদরের গুরুত্ব কুরআন মজিদ এবং হাদিস শরীফ থেকে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সুরা আল-কদরে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "লায়লাতুল কদর খায়রুম মিন আলফি শাহর" যার অর্থ এই রাত্রি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এর মানে হলো, এই এক রাত্রিতে যে আমল করা হয়, তা সাধারণত ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের আমলের সমতুল্য। হযরত মুহাম্মদ (সা.) হাদিসে বলেছেন যে যে ব্যক্তি এই রাত্রিতে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় আমল করে, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আমার মতে, এই ফজিলতের কারণে মুসলিমরা রমজানের শেষ দশ দিনে বিশেষভাবে সতর্ক এবং সক্রিয় থাকেন। কারণ এটি তাদের জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে, যেখানে তারা নতুন করে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, অনেকে এই সময়ে তাদের পুরনো খারাপ অভ্যাস ছেড়ে দিয়ে ধর্মীয় জীবনের প্রতি আরও মনোযোগী হন, এবং এতে করে তাদের মানসিক শান্তি বাড়ে। এই রাত্রির মাহাত্ম্য এমন যে, এটি শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
শবে-কদরে-কি-আমল-করা-উত্তম
এখানে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে শবে কদরে কি আমল করা উত্তম যাতে এই অসীম ফজিলত লাভ করা যায়। উত্তর হলো, যেকোনো নেক আমলই এই রাত্রিতে উত্তম, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট আমল আছে যা হাদিসে উল্লেখিত এবং যা বেশি সওয়াব প্রদান করে। উদাহরণস্বরূপ, কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, দোয়া এবং দান-সদকা এমন আমল যা এই রাত্রিতে বিশেষভাবে প্রভাবশালী। এই আমলগুলো করলে না শুধু গুনাহ মাফ হয়, বরং আল্লাহর নিকটত্ব লাভ করা যায় যা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। আমি দেখেছি, যারা এই রাত্রিতে আমল করেন, তারা পরবর্তীতে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও সহজে মোকাবিলা করতে পারেন কারণ তাদের মধ্যে একটা আধ্যাত্মিক শক্তি জাগ্রত হয়। এছাড়া, এই ফজিলতের কারণে রমজানের শেষ দশকে মসজিদগুলোতে ভিড় বাড়ে, এবং লোকজন একসাথে ইবাদত করে যা সম্প্রদায়ের বন্ধনকে মজবুত করে। এই রাত্রি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ধর্মীয় জীবন শুধু রুটিন নয়, বরং এতে গভীর অর্থ আছে যা আমাদেরকে উন্নত করে।

এই রাত্রিতে আমল করলে না শুধু ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা যেমন স্বাস্থ্য, পরিবার বা অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য দোয়া করা যায়, বরং এটি একটি আধ্যাত্মিক চার্জের মতো কাজ করে যা পুরো বছর জুড়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত রাখে। আমি দেখেছি, যারা এই রাত্রিকে গুরুত্ব দেন, তারা মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে সহজে মোকাবিলা করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন ব্যক্তি যদি এই রাত্রিতে তার সমস্যার জন্য দোয়া করে, তাহলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, এবং এতে করে তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়। এছাড়া, শবে কদরের ফজিলত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি সামূহিক উপহার যা সবাইকে একত্রিত করে। অনেক আলিম বলেন যে, এই রাত্রিতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং শান্তি বর্ষণ করেন, যা আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তোলে। সারাংশে, শবে কদরের গুরুত্ব এমন যে, এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ধর্মীয় আমলের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে এবং সমাজকে উন্নত করতে পারি।

শবে কদরে কি আমল করা উত্তমঃ প্রধান আমলসমূহ

এখন আসুন আসল বিষয়ে, অর্থাৎ শবে কদরের রাত। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কুরআন তিলাওয়াত। এই রাত্রিতে কুরআন পড়লে সওয়াবের পরিমাণ অসীম হয়ে যায়, কারণ এটি সেই রাত্রি যখন কুরআন নাযিল হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে এই রাত্রিতে বেশি করে কুরআন পড়তেন এবং সাহাবীদেরও উৎসাহিত করতেন। আপনি যদি সম্ভব হয় তাহলে পুরো কুরআন খতম করার চেষ্টা করুন, অথবা অন্তত কয়েকটি সুরা বারবার পড়ুন। দ্বিতীয়ত, নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ বা নফল নামাজ, যাতে দীর্ঘ কিয়াম এবং সিজদা থাকে। আমি দেখেছি, অনেকে এই সময়ে সুরা ইখলাসকে বারবার পড়েন, কারণ হাদিসে বলা হয়েছে যে এটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। এটি করলে সময় কম লাগে কিন্তু সওয়াব অনেক বেশি। তৃতীয়ত, দোয়া করা। এই রাত্রিতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, এবং রাসুল (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেনঃ

"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্না"
যার অর্থ আল্লাহ, তুমি ক্ষমাকারী, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, তাই আমাকে ক্ষমা করো।

এটি পড়লে গুনাহ মাফ হয় এবং মন হালকা হয়। চতুর্থত, ইতিকাফ করা। যদি সম্ভব হয় তাহলে মসজিদে থেকে ইবাদত করুন, কারণ এটি এই রাত্রির জন্য আদর্শ এবং রাসুল (সা.) নিজে ইতিকাফ করতেন। পঞ্চমত, দান-সদকা দেয়া। এমনকি ছোটখাটো দানও এই রাত্রিতে হাজার গুণ বেড়ে যায়, যেমন কোনো গরিবকে সাহায্য করা বা অনলাইনে দান করা। শবে কদরে কি আমল করা উত্তম এই প্রশ্নের উত্তরে বলব, এই সব আমলগুলোকে মিলিয়ে করলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আমার এক বন্ধু বলেছিল যে সে এই রাত্রিতে কুরআন খতম করে এবং দোয়া করে, আর পরের দিন তার মনে একটা অসাধারণ শান্তি অনুভব করে যা তাকে পুরো বছর অনুপ্রাণিত রাখে। এছাড়া, যদি আপনি একা থাকেন তাহলে এই আমলগুলোকে পরিকল্পনা করে করুন, যাতে কোনো অংশ মিস না হয়।

শবে কদর চিহ্নিত করার উপায়

শবে কদর কোন নির্দিষ্ট রাত্রি তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, কারণ আল্লাহ তায়ালা ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে লুকিয়ে রেখেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে মানুষ রমজানের শেষ দশ দিনের প্রত্যেক রাত্রিতে আমল করে এবং সতর্ক থাকে। হাদিস শরীফে হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন যে এই রাত্রি শেষ দশকের অদ্ভুত রাত্রিগুলোর মধ্যে থাকে, এবং বিশেষ করে ২৭ তারিখের রাত্রিকে অনেকে সম্ভাব্য বলে মনে করেন। কিন্তু এটি নির্ধারণ করা কঠিন, তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পুরো দশ দিন জুড়ে আমল চালিয়ে যাওয়া। আমি যখন এই বিষয় নিয়ে আলিমদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছেন যে এই লুকোয়া থাকার কারণে মানুষের আমলের পরিমাণ বাড়ে এবং তারা আরও নিষ্ঠাবান হয়। এখানে মনে রাখবেন, শবে কদরে কি আমল করা উত্তম এই চিন্তা করে না, বরং প্রত্যেক রাত্রিকে সম্ভাব্য শবে কদর মনে করে আমল করলে সবচেয়ে নিরাপদ।
শবে-কদরে-কি-আমল-করা-উত্তম
চিহ্নিত করার জন্য হাদিসে কিছু লক্ষণ উল্লেখ আছে, যেমন সেই রাত্রিতে আকাশ খুব পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল থাকে, না খুব গরম না খুব ঠান্ডা, এবং সকালে সূর্য উঠে কিন্তু তার রশ্মি দুর্বল হয় যাতে চোখে না লাগে। কিছু হাদিসে বলা হয়েছে যে সেই রাত্রিতে একটা বিশেষ শান্তি এবং স্থিরতা অনুভূত হয়, এবং চারপাশের পরিবেশও শান্ত থাকে, যেমন কুকুরের ঘেউ ঘেউ বা অন্যান্য শব্দ কম শোনা যায়। অনেকে বলেন যে সেই রাত্রিতে স্বপ্নে কিছু চিহ্ন দেখা যায় বা মনে একটা অন্যরকম অনুভূতি হয়। কিন্তু এই চিহ্নগুলো সবসময় স্পষ্ট নয়, এবং বিভিন্ন লোকের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে। আমার এক বন্ধু বলেছিল যে সে একবার ২৭ তারিখের রাত্রিতে এমন একটা শান্তি অনুভব করেছে যা অন্য রাত্রিতে হয়নি, কিন্তু এটি নিশ্চিত করা যায় না। তাই, এই চিহ্নগুলোকে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করুন, কিন্তু সম্পূর্ণ নির্ভর করবেন না।

সবচেয়ে নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত উপায় হলো রমজানের শেষ দশ দিনের প্রত্যেক অদ্ভুত রাত্রিতে একই রুটিন অনুসরণ করা, যেমন ২১, ২৩, ২৫, ২৭ এবং ২৯ তারিখ। এতে করে যদি কোনো রাত্রি শবে কদর হয়, তাহলে আপনি তা মিস করবেন না। আমি নিজে এই পদ্ধতি অনুসরণ করি, যেমন রাত ১০টা থেকে শুরু করে কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ এবং দোয়া করি, এবং এতে মনে একটা সন্তুষ্টি আসে যে আমি চেষ্টা করেছি। যদি আপনি নতুন হন বা আরও জানতে চান, তাহলে আলিমদের সাথে কথা বলুন বা ইসলামী বই পড়ুন, যেমন সহীহ বুখারী বা মুসলিমের হাদিস সংকলন। এছাড়া, কিছু অ্যাপ বা ক্যালেন্ডার আছে যা এই রাত্রিগুলোকে মনে করিয়ে দেয়। মনে রাখবেন, শবে কদরে কি আমল করা উত্তম এই প্রশ্নের উত্তরে ধারাবাহিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার নিয়তকে শক্তিশালী করে।

শবে কদরে আমল করার কিছু টিপস

শবে কদরে আমল করতে চাইলে আগে থেকে ভালো প্রস্তুতি নেয়া খুব দরকারি, কারণ এই রাত্রিতে জাগরণ করে ইবাদত করতে হলে শরীর এবং মনকে সঠিকভাবে তৈরি রাখতে হবে। প্রথমে দিনের বেলা যতটা সম্ভব ঘুমিয়ে নিন, বিশেষ করে দুপুরে বা বিকেলে, যাতে রাত্রিতে ঘুম না আসে এবং আপনি পুরোপুরি সতর্ক থাকতে পারেন। আমি দেখেছি, যারা দিনে ঘুম না নেয় তারা রাত্রির মাঝামাঝি সময়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং আমল ঠিকমতো করতে পারে না। এছাড়া, খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন-সেহরি এবং ইফতারে হালকা খাবার খান, যেমন ফলমূল, সালাদ বা হালকা প্রোটিন, যাতে পেট ভারী না হয় এবং ইবাদতে মনোযোগ থাকে। ভারী খাবার খেলে ঘুম চলে আসে বা অস্বস্তি হয়, যা আমলকে বাধাগ্রস্ত করে। আর যদি সম্ভব হয়, দিনের বেলা একটু হালকা ব্যায়াম করুন যাতে শরীর চাঙ্গা থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত না যেন ক্লান্তি না আসে। এই প্রস্তুতিগুলো করলে রাত্রির আমল অনেক সহজ এবং ফলপ্রসূ হয়।
শবে-কদরে-কি-আমল-করা-উত্তম
এখন মানসিক প্রস্তুতির কথা বলি, কারণ কি আমল করা উত্তম এই চিন্তায় না পড়ে, আপনার নিয়তকে সঠিক রাখুন-সব আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করুন, না কোনো দেখানো বা বাধ্যতামূলক ভাবে। নিয়ত যদি খাঁটি হয়, তাহলে আমলের মূল্য অনেক বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের জড়ান এই আমলে, যেমন সবাই মিলে কুরআন পড়া, নামাজ বা দোয়া করা-এতে করে পরিবেশ আরও আনন্দময় হয় এবং একা একা করার চেয়ে মোটিভেশন বাড়ে। আমার অভিজ্ঞতায়, যখন পরিবার মিলে করি তখন সময় কেটে যায় দ্রুত এবং সবাই উৎসাহিত থাকে। এছাড়া, মোবাইল ফোন, টিভি বা অন্যান্য ডিসট্রাকশন থেকে দূরে থাকুন-রাত্রি শুরু হওয়ার আগে ফোন সাইলেন্ট করে রাখুন বা অন্য ঘরে রেখে দিন, যাতে নোটিফিকেশন না আসে এবং মন পুরোপুরি ইবাদতে থাকে। যদি আপনি একা থাকেন, তাহলে একটা শান্ত জায়গা বেছে নিন যেখানে কোনো ব্যাঘাত নেই।

আরও কিছু প্র্যাকটিক্যাল টিপস দেই যা আমলকে আরও কার্যকর করে। যদি সম্ভব হয় তাহলে মসজিদে গিয়ে আমল করুন, কারণ সেখানকার পরিবেশ আপনাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে এবং অন্যদের সাথে মিলে ইবাদত করলে মনোযোগ বাড়ে। আমি নিজে চেষ্টা করি মসজিদে ইতিকাফের মতো থাকতে, যাতে বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। একটা রুটিন তৈরি করুন, যেমন রাত ১০টা থেকে কুরআন তিলাওয়াত, তারপর তাহাজ্জুদ নামাজ, তারপর দোয়া-এই রুটিন অনুসরণ করলে সময় নষ্ট হয় না। যদি মাঝে ক্লান্তি আসে, তাহলে হালকা চা বা পানি খেয়ে ফ্রেশ হোন, কিন্তু ক্যাফেইন অতিরিক্ত না যেন ঘুমের সমস্যা না হয়। আমার অভিজ্ঞতায়, এই টিপসগুলো অনুসরণ করলে রাত্রি সহজে কাটে এবং পরের দিনও খুব বেশি ক্লান্তি লাগে না, বরং একটা সন্তুষ্টি থাকে যে আমি চেষ্টা করেছি। যদি আপনি নতুন হন, তাহলে ছোট থেকে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে বাড়ান।

উপসংহার

শবে কদর একটি অনন্য এবং অমূল্য সুযোগ যা আমাদের জীবনকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিতে পারে, যদি আমরা এটিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাই। এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে দেখলাম শবে কদরে কি আমল করা উত্তম, এবং কীভাবে সেগুলোকে প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ ফজিলত লাভ করা যায়। মনে রাখবেন, আমলের মূল চাবিকাঠি হলো ইখলাস বা নিষ্ঠা, কারণ আল্লাহ তায়ালা আমাদের হৃদয় দেখেন। যদি আপনি এই রাত্রিতে সঠিক আমল করেন এবং দোয়া করেন, তাহলে আল্লাহর রহমত এবং বরকত নিশ্চিতভাবে পাবেন, যা আপনার জীবনের সকল ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে। আমি আশা করি এই লেখাটি আপনার জন্য সহায়ক হবে এবং আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে এই রাত্রিকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য। যদি আপনি এই আমলগুলো প্রয়োগ করেন, তাহলে নিজের জীবনে পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।