ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস

ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস জানলে দোকানের রসগোল্লাও ফিকে লাগবে-নরম, স্পঞ্জি আর রসে ভরা পারফেক্ট টেক্সচার। ভেঙে যায় বা শক্ত হয়? এই গোপন ট্রিকগুলো জানলে প্রথমবারেই বানাবেন একদম মিষ্টান্নের দোকান-স্টাইল রসগোল্লা!
ঘরে-মিষ্টি-রসগোল্লা-বানানোর-সিক্রেট-টিপস
আমি আজ আপনার সাথে শেয়ার করব কিছু প্র্যাকটিক্যাল আইডিয়া যা আমি নিজে ট্রাই করে দেখেছি। এই লেখাটা পড়ে আপনি সহজেই বাড়িতে নরম, তুলতুলে রসগোল্লা তৈরি করতে পারবেন। চলুন শুরু করি।

পোস্ট সূচিপত্রঃ ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস

ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস-পরিচিতি

আপনি কি জানেন, রসগোল্লা বাংলার একটা ক্লাসিক মিষ্টি, যা ঘরে বানানো যায় কিন্তু অনেক সময় সফল হয় না? আমি প্রথমবার ট্রাই করেছিলাম তখন বলগুলো ফেটে গিয়েছিল, আর স্বাদটা একদমই দোকানের মতো হয়নি। কিন্তু কয়েকটা ছোট ছোট ট্রিক শিখে এখন এটা আমার ফেভারিট হয়ে গেছে, আর আমি বন্ধুবান্ধবকে বলি যে ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস আসলে খুব সিম্পল, শুধু ধাপগুলো ঠিকমতো ফলো করতে হয়। এই লেখায় আমি আপনাকে বলব সেই টিপসগুলো যা দোকানের মতো স্পঞ্জি করে তুলবে আপনার রসগোল্লা। মনে রাখবেন, ধৈর্য আর সঠিক মাপ খুব জরুরি, কারণ একটা ছোট ভুলেই সবকিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমি নিজে অনেকবার ফেল করে শিখেছি, যেমন দুধের কোয়ালিটি না দেখে শুরু করলে ছানা ভালো হয় না, বা মাখার সময় তাড়াহুড়ো করলে বলগুলো শক্ত হয়ে যায়। তাই এখানে আমি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করব যাতে আপনি প্রথমবারেই সাকসেসফুল হন। এটা শুধু রেসিপি নয়, বরং আমার পার্সোনাল এক্সপিরিয়েন্স শেয়ার করছি যাতে আপনি সহজে বুঝতে পারেন।

উপাদানের লিস্ট

আপনার জন্য আমি একটা সহজবোধ্য লিস্ট তৈরি করেছি যা মূলত ১০ থেকে ১২টা রসগোল্লা বানানোর জন্য যথেষ্ট হবে, কিন্তু যদি আপনি আরও বেশি পরিমাণে বানাতে চান তাহলে এই মাপগুলোকে সহজেই ডাবল বা ট্রিপল করে নিতে পারেন যাতে অনুপাত ঠিক থাকে। ছানা তৈরির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ২ লিটার ফুল ক্রিম দুধ, যা মার্কেটে খুব সহজেই পাওয়া যায় এবং যাতে ফ্যাটের পরিমাণ যথেষ্ট থাকে কারণ এটাই ছানাকে সেই নরম এবং তুলতুলে টেক্সচার দেয় যা রসগোল্লার জন্য আদর্শ। তার সাথে দরকার ১/৪ কাপ ভিনেগার বা লেবুর রস যা ১/৪ কাপ পানিতে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন, এটা দুধকে ফাটানোর কাজ করে এবং যদি আপনি লেবুর রস বেছে নেন তাহলে একটা হালকা সাইট্রাস ফ্লেভার আসে যা স্বাদকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে, কিন্তু ভিনেগার ব্যবহার করলে নিরপেক্ষ স্বাদ পাবেন যা অনেকের পছন্দ। আমি সবসময় পরামর্শ দিই যে দুধটা তাজা এবং ভালো কোয়ালিটির হওয়া চাই, কারণ খারাপ দুধ ব্যবহার করলে ছানা ঠিকমতো জমবে না এবং সবকিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যেমনটা আমার সাথে একবার হয়েছিল।
ঘরে-মিষ্টি-রসগোল্লা-বানানোর-সিক্রেট-টিপস
বল তৈরির জন্য দরকার ২ চা চামচ সুজি যা ছানাকে ভালো করে বাইন্ড করে এবং টেক্সচারকে মসৃণ রাখে যাতে বলগুলো সিদ্ধ হওয়ার সময় ফেটে না যায়; তার সাথে ২ চা চামচ ময়দা যোগ করুন যা অতিরিক্ত শক্তি দেয় কিন্তু খেয়াল রাখবেন যেন বেশি না হয় কারণ তাহলে রসগোল্লা শক্ত হয়ে যাবে; আর এক চিমটি বেকিং পাউডার যা অপশনাল কিন্তু যোগ করলে বলগুলোকে আরও ফুলিয়ে তোলে, তবে যদি আপনি সবকিছু ন্যাচারাল রাখতে চান তাহলে এটা ছাড়াই চলবে। সিরাপ প্রস্তুতির জন্য লাগবে ২ কাপ সাদা চিনি যা সিরাপকে ক্লিয়ার এবং সুন্দর রাখে; ৬ কাপ পানি যাতে সিরাপ পাতলা হয় এবং রসগোল্লা ভালো করে রস শোষণ করতে পারে; আর ২ থেকে ৩টা এলাচ যা ফ্লেভার যোগ করে এবং সেই অসাধারণ সুবাস দেয় যা রসগোল্লাকে স্পেশাল করে তোলে। এই সব উপাদানগুলো আপনার রান্নাঘরে সাধারণত থাকবেই, তাই শুরু করতে দেরি করবেন না, কিন্তু সবকিছুর কোয়ালিটি চেক করে নিন যাতে ফাইনাল রেজাল্ট দারুণ হয় এবং এগুলো ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস এর অংশ হিসেবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সবসময় বলি যে ভালো উপাদান ছাড়া ভালো রেসিপি সম্ভব নয়, তাই সতর্কতা অবলম্বন করুন। 

ছানা তৈরির ধাপ

ছানা হলো রসগোল্লার মূল ভিত্তি, আর এটা ঠিক না হলে পুরো প্রক্রিয়াটাই বেকার হয়ে যাবে। আমি দেখেছি যে অনেকে এই ধাপে ভুল করে কারণ তারা তাড়াহুড়ো করে বা ছোট ছোট বিষয়গুলোকে অবহেলা করে। তাই আমি এখানে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করব যাতে আপনি সহজে বুঝতে পারেন এবং প্রত্যেক স্টেপে কী কী খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখবেন, ভালো ছানা তৈরি করতে দুধের কোয়ালিটি এবং ধৈর্য দুটোই খুব জরুরি। চলুন শুরু করি।

ধাপ ১ঃ দুধ ফুটানো 

প্রথমে একটা বড় পাত্র নিন যাতে দুধ ফুটলে ওভারফ্লো না হয়। ২ লিটার ফুল ক্রিম দুধ ঢেলে মাঝারি আঁচে ফুটাতে দিন। দুধকে নাড়তে থাকুন যাতে নিচে লেগে না যায় এবং উপরে ক্রিম জমে। যতক্ষণ না দুধ ভালো করে ফুটে উঠে এবং বুদবুদ দেখা যায়, ততক্ষণ অপেক্ষা করুন। এই স্টেপটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুধ ঠিকমতো গরম না হলে পরের ধাপে ফাটবে না। আমি একবার ছোট পাত্র ব্যবহার করে দেখেছি যে দুধ ছড়িয়ে গিয়ে রান্নাঘরটা নোংরা হয়ে গিয়েছিল, তাই বড় পাত্র ব্যবহার করুন।

ধাপ ২ঃ অ্যাসিড যোগ করা 

দুধ ফুটে উঠলে আস্তে আস্তে ভিনেগার বা লেবুর রসের মিশ্রণ ঢালুন-১/৪ কাপ ভিনেগার বা লেবুর রস ১/৪ কাপ পানিতে মিশিয়ে। এটা ঢালার সময় দুধকে নাড়তে থাকুন যাতে সমানভাবে ফেটে যায়। আপনি দেখবেন দুধটা কুড়কুড় করে ফেটে যাবে এবং সবুজাভ পানি (হুয়ে) আলাদা হয়ে যাবে। যদি না ফাটে তাহলে আরেকটু অ্যাসিড যোগ করুন কিন্তু বেশি না, কারণ অতিরিক্ত অ্যাসিড স্বাদ খারাপ করবে। এই ধাপে তাড়াহুড়ো করবেন না, ধীরে ধীরে ঢালুন যাতে দুধটা ভালো করে ফেটে যায়।

ধাপ ৩ঃ বিশ্রাম দেওয়া 

দুধ ফেটে গেলে গ্যাস বন্ধ করে ৫ মিনিট রাখুন। এই সময়টা দরকার যাতে ছানা ঠিকমতো জমে এবং পানি আলাদা হয়। যদি তাড়াতাড়ি ছেঁকে নেন তাহলে ছানা ছোট ছোট হয়ে যাবে এবং নরমতা হারাবে। আমি দেখেছি যে এই ৫ মিনিট অপেক্ষা করলে ছানা অনেক ভালো হয়, তাই ধৈর্য ধরুন।

ধাপ ৪ঃ ছেঁকে নেওয়া এবং ধোয়া 

এখন একটা পরিষ্কার মুসলিন কাপড় বা চিজক্লথ নিন এবং তার উপর দুধের মিশ্রণ ঢেলে ছেঁকে নিন। ছানা কাপড়ে জমবে এবং পানি বেরিয়ে যাবে। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ছানাকে ভালো করে ধুয়ে নিন-অন্তত ২-৩ বার-যাতে অ্যাসিডের কোনো স্বাদ না থাকে। না ধুলে রসগোল্লায় টক স্বাদ আসতে পারে, যা আমার সাথে একবার হয়েছিল এবং পুরো ব্যাচটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে ছানা ঠান্ডা হয়ে যাবে এবং জমাট বাঁধবে, যা পরের ধাপের জন্য ভালো।

ধাপ ৫ঃ পানি নিংড়ানো 

কাপড়টা ভালো করে বেঁধে ৩০ মিনিটের জন্য ঝুলিয়ে রাখুন যাতে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যায়। খুব জোরে নিংড়াবেন না কারণ তাহলে ছানা শুকনো হয়ে যাবে এবং নরমতা হারাবে-শুধু হালকা চাপ দিন যাতে পানি টপটপ করে পড়ে। ৩০ মিনিট পর চেক করুন যেন ছানা নরম থাকে কিন্তু ভেজা না। যদি খুব শুকনো লাগে তাহলে সময় কমান। এই ধাপটা ঠিক করলে আপনার রসগোল্লা তুলতুলে হবে। অনেকে এখানে ভুল করে খুব জোরে নিংড়ায় বা কম সময় দেয়, যার ফলে ছানা ভেঙে যায় বা ভেজা থেকে যায়। তাই প্রত্যেক স্টেপ চেক করুন এবং সব দিক লক্ষ রাখুন।

বল তৈরির কৌশল

এখন ছানাটা একটা প্লেটে নিয়ে ভালো করে মাখুন, কারণ এই ধাপটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাতে বলগুলো ফেটে না যায় এবং নরম থাকে। প্রথমে ছানাকে হাত দিয়ে চাপ দিয়ে ভেঙে নিন, তারপর সুজি এবং ময়দা যোগ করে মাখতে শুরু করুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে মাখুন যতক্ষণ না মিশ্রণটা মসৃণ হয়ে যায় এবং হাতে লেগে না থাকে, কারণ সুজি ছানাকে বাইন্ড করে রাখে আর ময়দা অতিরিক্ত শক্তি দেয়। যদি মিশ্রণটা খুব শুকনো লাগে তাহলে মাত্র এক ফোঁটা পানি যোগ করুন, কিন্তু বেশি না কারণ অতিরিক্ত পানি বলগুলোকে দুর্বল করে ফেলবে এবং সিদ্ধ করার সময় সমস্যা হবে। আমি নিজে প্রথমবার মাখার সময় কম দিয়ে দেখেছি যে বলগুলো শক্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই ধৈর্য ধরে মাখুন এবং হাতে একটু তেল লাগিয়ে নিন যাতে স্টিক না হয়। এই কৌশলটা অনুসরণ করলে আপনার বলগুলো পারফেক্ট হবে।
ঘরে-মিষ্টি-রসগোল্লা-বানানোর-সিক্রেট-টিপস

এখন মিশ্রণটা থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করুন, মনে রাখবেন যে সিদ্ধ হলে এগুলো দ্বিগুণ ফুলে উঠবে তাই খুব বড় করে নেবেন না। প্রত্যেক বলকে গোল করে নিন এবং চেক করুন যেন কোনো ক্র্যাক বা ফাটল না থাকে, কারণ ফাটল থাকলে সিরাপে সিদ্ধ হওয়ার সময় ভেঙে যেতে পারে। যদি বেকিং পাউডার যোগ করেন তাহলে বলগুলো আরও ফুলবে, কিন্তু না যোগ করলেও চলবে যদি আপনি ন্যাচারাল রাখতে চান। আমার একটা টিপ হলো যে বল তৈরির পর সবগুলোকে একটা প্লেটে রেখে ৫ মিনিট বিশ্রাম দিন যাতে মিশ্রণটা সেট হয়। এটা ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস এর একটা বড় অংশ, কারণ অনেকে এখানে তাড়াহুড়ো করে ভুল করে এবং পরে অভিযোগ করে যে রসগোল্লা ভালো হয়নি। তাই সময় নিন এবং প্রত্যেক বল চেক করুন যেন সবকিছু ঠিক থাকে।

চিনির সিরাপ প্রস্তুতি

সিরাপটা পাতলা রাখা খুব জরুরি, কারণ ঘন সিরাপে রসগোল্লা ভালো করে রস শোষণ করবে না এবং স্বাদটা একদমই ঢোকবে না। একটা বড় পাত্র নিন যাতে সিরাপ ফুটলে ওভারফ্লো না হয়, তারপর ২ কাপ চিনি এবং ৬ কাপ পানি মিশিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটাতে দিন। চিনি গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়ুন যাতে দানা না থাকে এবং সিরাপটা ক্লিয়ার হয়, কারণ চিনির দানা থাকলে সিরাপ খারাপ লাগবে এবং রসগোল্লার স্বাদ প্রভাবিত হবে। ২ থেকে ৩টা এলাচ যোগ করুন যাতে একটা সুন্দর সুবাস আসে, এবং ৫ মিনিট ফুটান যেন ফ্লেভারটা ভালো করে মিশে যায়। যদি সিরাপটা ঘন লাগে তাহলে একটু পানি যোগ করুন, কিন্তু অনুপাতটা ঠিক রাখুন যেন খুব পাতলাও না হয়। আমি দেখেছি যে অনেকে চিনির পরিমাণ কম করে সিরাপকে কম মিষ্টি করে ফেলে, কিন্তু রসগোল্লার জন্য একটা ভালো ব্যালেন্স দরকার যাতে মিষ্টি ঠিকঠাক থাকে।
ঘরে-মিষ্টি-রসগোল্লা-বানানোর-সিক্রেট-টিপস
এই স্টেপটা শেষ করার পর সিরাপকে ফুটতে দিন কিন্তু খুব বেশি ফুটাবেন না, কারণ অতিরিক্ত ফুটলে ঘন হয়ে যাবে এবং রসগোল্লা শক্ত হয়ে যেতে পারে। মাঝে মাঝে চেক করুন যেন সিরাপটা হালকা থাকে এবং বল ঢালার জন্য প্রস্তুত হয়। যদি আপনি চান তাহলে এক চিমটি কেশর যোগ করতে পারেন যাতে সিরাপটা একটা সুন্দর রঙ পায়, কিন্তু এটা অপশনাল। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে সিরাপটা ঠিক করলে রসগোল্লা রস ভর্তি হবে এবং খেতে দারুণ লাগবে। এটা ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস এর আরেকটা অংশ যা স্বাদকে পারফেক্ট করে তোলে, তাই নজর রাখুন এবং ফুটানোর সময় সতর্ক থাকুন যেন ওভারবয়েল না হয়। শেষে গ্যাস কমিয়ে রাখুন যতক্ষণ না বলগুলো ঢালবেন।

সিদ্ধ করার প্রক্রিয়া

সিরাপটা ভালো করে ফুটে উঠলে বলগুলো আস্তে আস্তে ঢেলে দিন, কারণ যদি জোরে ঢালেন তাহলে বলগুলো ভেঙে যেতে পারে এবং পুরো প্রক্রিয়াটা নষ্ট হয়ে যাবে। পাত্রটা যেন বড় হয় সেটা খেয়াল রাখুন, না হলে বলগুলো একসাথে লেগে যেতে পারে এবং সমানভাবে রান্না হবে না। ঢাকনা দিয়ে মাঝারি আঁচে ২০ মিনিট সিদ্ধ করুন, যাতে বলগুলো ধীরে ধীরে ফুলে উঠে এবং ভিতর বাইরে সমান রান্না হয়। খুব উঁচু আঁচে করলে বাইরে শক্ত হয়ে যাবে কিন্তু ভিতরটা কাঁচা থেকে যেতে পারে, যা আমি নিজে একবার করে শিখেছি। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে চেক করুন যেন বলগুলো ফুলে উঠেছে কিন্তু ফেটে না যায়, আর যদি কোনো বল ফেটে যায় তাহলে সেটা তুলে ফেলুন যাতে অন্যগুলো প্রভাবিত না হয়। এই স্টেপে ধৈর্য খুব দরকার, কারণ তাড়াহুড়ো করলে সবকিছু খারাপ হয়ে যেতে পারে।
ঘরে-মিষ্টি-রসগোল্লা-বানানোর-সিক্রেট-টিপস
গ্যাস বন্ধ করার পর আরও ১০ মিনিট ঢাকনা দিয়ে রাখুন, যাতে সিরাপটা বলগুলোর ভিতরে ভালো করে ঢোকে এবং রসগোল্লা নরম এবং রসালো হয়। এই সময়টা দিলে বলগুলো শান্তভাবে সিরাপ শোষণ করবে, যা ফাইনাল টেক্সচারকে দারুণ করে তোলে। তারপর ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং আস্তে করে সিরাপ থেকে তুলে নিন, কিন্তু গরম অবস্থায় তুলবেন না কারণ তাহলে আকার হারাতে পারে বা ভেঙে যেতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে এই ধাপে সময় না দিলে রসগোল্লা শক্ত হয়ে যায় এবং স্বাদটা হারায়। তাই প্রত্যেকটা চেক করুন যেন সবকিছু ঠিকমতো হয়েছে, আর যদি প্রথমবার না হয় তাহলে পরেরবার অ্যাডজাস্ট করুন। এটা ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস এর ফাইনাল অংশ যা পুরো রেসিপির সাকসেস নির্ধারণ করে।

সাধারণ ভুল এড়ানোর উপায়

অনেকে বলেন রসগোল্লা ফেটে যায় বা শক্ত হয়, আর এটা হয় কারণ কয়েকটা কমন মিসটেক। এড়াতে: ছানা ভালো করে নিংড়ান কিন্তু খুব জোরে না, কারণ অতিরিক্ত পানি থাকলে বলগুলো ফেটে যায় আর খুব শুকনো হলে শক্ত হয়; মাখার সময় তেল লাগান হাতে যাতে স্টিক না হয় এবং মসৃণ হয়। সিরাপ খুব গরম না হলে বল ঢালবেন না, কারণ ঠান্ডা সিরাপে বলগুলো রান্না হবে না এবং কাঁচা থেকে যাবে। আর যদি প্রথমবার না হয়, চিন্তা করবেন না-প্র্যাকটিস করুন, কারণ আমি নিজে কয়েকবার ফেল করে শিখেছি যে ছোট ছোট অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার। উদাহরণস্বরূপ, দুধের কোয়ালিটি খারাপ হলে ছানা ভালো হয় না, বা সিরাপের অনুপাত ভুল হলে স্বাদটা ব্যালেন্স হয় না। এগুলো ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস যা আমি নিজে অ্যাপ্লাই করেছি, তাই আপনাকে বলছি যেন এই ভুলগুলো এড়ান এবং সাকসেসফুল হন।

সার্ভিং এবং স্টোরেজ

রসগোল্লা ঠান্ডা করে খান, কারণ ঠান্ডা হলে স্বাদটা আরও ভালো হয় এবং রসটা ভিতরে থেকে বেরিয়ে আসে যখন কামড় দেন। ফ্রিজে রাখলে স্বাদ আরও ভালো হয়, কিন্তু ২-৩ দিনের বেশি না রাখুন কারণ তারপর শক্ত হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি গেস্টদের সার্ভ করেন, একটু কেশর যোগ করে স্পেশাল করে তুলুন বা পিস্তা ছড়িয়ে দিন যাতে লুকটা অসাধারণ হয়। স্টোরেজের জন্য সিরাপ সহ একটা এয়ারটাইট কনটেইনারে রাখুন, কারণ সিরাপ ছাড়া রাখলে শুকিয়ে যাবে। আমি দেখেছি যে ফ্রিজে রাখলে দ্বিতীয় দিন আরও স্বাদিষ্ট হয়, তাই আপনি যদি অ্যাডভান্সে বানান তাহলে ভালো।

উপসংহার

যখন আপনি নিজের হাতে রসগোল্লা বানিয়ে প্রথম কামড় দেবেন, সেই নরমতা আর মিষ্টি রসের স্বাদটা আপনাকে একটা আলাদা আনন্দ দেবে যা দোকানের মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। এই রেসিপিটা শুধু খাবার বানানো নয়, বরং আপনার কিচেনে কিছু স্মৃতি তৈরি করার সুযোগ- হয়তো পরিবারের সাথে শেয়ার করে বা একা একা উপভোগ করে। আমি নিজে যখন এই ঘরে মিষ্টি রসগোল্লা বানানোর সিক্রেট টিপস ফলো করে বানিয়েছি, তখন বুঝেছি যে ধাপগুলো ঠিকমতো অনুসরণ করলে কতটা সহজ আর সফল হয়। আশা করি আপনিও ট্রাই করবেন, এবং যদি কোনো সমস্যা হয় বা আরও টিপস চান, আমাকে বলুন। শুরু করুন এই রেসিপি দিয়ে, ধৈর্য ধরুন, আর উপভোগ করুন প্রত্যেক মুহূর্ত। শুভকামনা আপনার রান্নার যাত্রায়!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোনেস্টইনের শর্তাবলী মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট পর্যাবেক্ষন করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Akther Hossain

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোনেস্টইন লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।